প্রতিরক্ষা মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

অপারেশন সিঁদুর, বালাকোট বিমান হামলা ও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সক্রিয় পদক্ষেপের প্রতিফলন : প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 15 OCT 2026 1:08PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

 

অপারেশন সিঁদুর, বালাকোট বিমান হামলা এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করেছে। কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে সন্ত্রাসবাদের উৎস নির্মূলে ভারত এখন সক্রিয় ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও তা বজায় রাখার জন্য শক্তি এবং যথাযথ প্রস্তুতি অপরিহার্য। ভারত শান্তির পক্ষে, তবে দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় প্রস্তুত। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল যুগে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। হাইব্রিড যুদ্ধ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বহুমাত্রিক হুমকির মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকা জরুরি। তিনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পাঁচ ধরনের হুমকির কথা উল্লেখ করেন—ভুল তথ্য প্রচার, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা, প্রতারণা এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ। তিনি এই হুমকিগুলিকে ‘ফাইভ-ডি সিকিউরিটি থ্রেট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য প্রচারের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপের পরিসর ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। অধিকাংশ সন্ত্রাসবাদী অস্ত্র হাতে নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিকেশ হয়েছে।

রাজনাথ সিং বলেন, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির পাশাপাশি তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার টেররিজম’ বা ভদ্রবেশী সন্ত্রাসবাদের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে একক ব্যক্তির দ্বারা পরিচালিত ‘লোন-উলফ’ হামলার আশঙ্কা যুক্ত হওয়ায় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই ধরনের ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন। তাই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ প্রতিরোধে নাগরিকদের সতর্কতা, সাহস ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে একজন সচেতন নাগরিকও সন্ত্রাসবাদীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৌশলগত দক্ষতা ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভুল নিশানাভেদী অস্ত্র, দীর্ঘক্ষণ আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র এবং স্বল্পমূল্যের কার্যকর সরঞ্জামের মধ্যে যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে মানব গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং দ্রুত অভিযোজনক্ষম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সালে উরি সন্ত্রাসবাদী হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর বালাকোটে বিমান হামলা চালানো হয়। ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে নিরীহ নাগরিকদের উপর সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানে অবস্থিত সন্ত্রাসবাদীদের পরিকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এই অভিযানগুলি ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পরিচায়ক। অতীতে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারতের প্রতিক্রিয়া মূলত কূটনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। বর্তমানে ভারত সন্ত্রাসবাদের উৎসস্থলে পৌঁছে তার পরিকাঠামো ধ্বংস করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। পাকিস্তানের দিক থেকে ভবিষ্যতে কোনও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানো হলে ভারত আরও কঠোর জবাব দেবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

রাজনাথ সিং বলেন, গত সাড়ে বারো বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক সংস্কার, কর্মপদ্ধতির পরিবর্তন এবং নতুন কৌশল গ্রহণের ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণে সীমাবদ্ধ নয়; আত্মনির্ভর, আধুনিক ও ভবিষ্যতের চাহিদার উপযোগী প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির পথে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক বাধা দূর করা হয়েছে। একাধিক প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে, লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সরল করা হয়েছে এবং অনুমোদনকারী সংস্থার সংখ্যা কমানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা বৃদ্ধি করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

এর ফলে দেশে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের একটি বিস্তৃত শিল্পভিত্তি গড়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগেও এই ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক সংস্থা কাজ করত। বর্তমানে ৫০০-রও বেশি সংস্থা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি, শতাধিক নতুন শিল্প-লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এই অগ্রগতির নেপথ্যে নীতিগত সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের সুফল যাতে দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলি পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের নীতিতে ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ নির্দেশিকা এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ‘বাই ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম’ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ বাজেটের ৭৫ শতাংশ দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির কাছ থেকে সরঞ্জাম কেনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। নতুন প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ নীতিতেও একাধিক সংস্কার আনা হচ্ছে, যা দেশীয় উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। বৃহৎ শিল্প সংস্থা, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং ব্যক্তিগত উদ্ভাবকেরা সম্মিলিতভাবে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন। এর ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদন সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিসর ছাড়িয়ে জাতীয় উদ্যোগের রূপ নিয়েছে।

অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই অভিযান একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। অভিযানে আকাশতীর, আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং ব্রহ্মসের মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পরিবর্তিত যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে এবং আধুনিক প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম।

তিনি জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই পাঁচটি ইতিবাচক স্বদেশীকরণ তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকাগুলিতে ৫০৯টি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, অস্ত্রব্যবস্থা ও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকাভুক্ত পণ্যগুলি দেশেই উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ষষ্ঠ তালিকাটিও প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে।

একইভাবে, প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির পক্ষ থেকেও পাঁচটি স্বদেশীকরণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে লাইন রিপ্লেসমেন্ট ইউনিট, উপ-ব্যবস্থা, যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-সহ মোট ৫,০১২টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৩,২৫৫টি পণ্যের স্বদেশীকরণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

রাজনাথ সিং জানান, ২০১৪ সালের কাছাকাছি সময়ে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে রেকর্ড ১ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। চলতি বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই পরিমাণ ৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৬৮৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০০টি দেশে ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করা হচ্ছে। গত বছর ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রপ্তানির লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়েছে। ভারতীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদিত সরঞ্জামের উপরও বিশ্বের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানি প্রক্রিয়া সরলীকরণ, প্রতিরক্ষা আমদানি-রপ্তানি পোর্টাল চালু, অনলাইনে অনুমোদনের ব্যবস্থা, ওপেন জেনারেল এক্সপোর্ট লাইসেন্স প্রবর্তন এবং গুণমান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সহজ করার মতো পদক্ষেপ এই অগ্রগতিতে সহায়ক হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রিন চ্যানেল নীতি ও স্ব-প্রত্যয়ন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এই সংস্কারগুলি দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য বৃহৎ শিল্প সংস্থাগুলির পাশাপাশি গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। এই লক্ষ্যে তরুণ উদ্ভাবকদের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ও সমাধান উদ্ভাবনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ‘ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সেলেন্স’ বা আইডেক্স কর্মসূচির মাধ্যমে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত স্টার্টআপগুলিকে ১.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আইডেক্স প্রাইম চালু করে এই সহায়তার সর্বোচ্চ পরিমাণ ১০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ‘এডিটি’ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণ উদ্ভাবক ও স্টার্টআপগুলিকে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির কাছ থেকে ২,৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দিয়েছে। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আইডেক্স কর্মসূচির মাধ্যমে ৬৭৬টি স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে এবং ৫৫১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্টার্টআপ ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিক্স এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল কয়েক ডজন; বর্তমানে তা বেড়ে ২,০০০ ছাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতীয় তরুণরা এখন শুধু কর্মসংস্থানের সন্ধানেই সীমাবদ্ধ নন, বরং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা—ডিআরডিও এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে ডিআরডিও গবেষণা ও উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ এবং বিজ্ঞানীদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশজুড়ে উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন এবং তরুণ বিজ্ঞানীদের গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশিক্ষণার্থী ডিআরডিও-র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারতের উদ্যোগী মানসিকতা প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে প্রতিরক্ষা উৎপাদন শুধু সরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কর্পোরেট কাঠামোয় রূপান্তরের পর একাধিক প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা লোকসান থেকে লাভের মুখ দেখেছে। পাশাপাশি, বেসরকারি শিল্প সংস্থা, ১৬ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং হাজার হাজার সরবরাহকারী সংস্থা এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে দেশে একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ১৭৫ ধরনের গোলাবারুদের মধ্যে ১৫৯ ধরনের গোলাবারুদ দেশেই উৎপাদিত হয়। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশেরও বেশি স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে ভারত।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার সাধিত হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হয়েছে, উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় হয়েছে। একসময় প্রতিরক্ষার ছোট-বড় বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে বিদেশের উপর নির্ভর করতে হত। বর্তমানে সাধারণ সরঞ্জাম থেকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যন্ত দেশেই উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে উঠছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ভারত ১০০টিরও বেশি দেশে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট রপ্তানি করছে। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় মান নির্ধারণ করেছে, এমন দেশের মধ্যে ভারত বিশ্বে চতুর্থ।

বর্তমানে ভারতে কামান, বিমানবাহী রণতরী, উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন ট্রাক, ট্যাঙ্ক, বুলেটপ্রুফ যান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রেডিও, রাডার এবং যুদ্ধজাহাজ তৈরি হচ্ছে। এই প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিকাঠামো দেশের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা শুধু সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির প্রতিফলন নয়, বরং জাতীয় সংকল্প ও সক্ষমতারও পরিচায়ক। শান্তির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার অটুট। একই সঙ্গে, যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারত এমন একটি দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়, যে দেশ শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম। সম্মেলনটি আয়োজনের জন্য তিনি টাইমস নাউ-এর আয়োজকদের অভিনন্দন জানান।

*****

PS/AL


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2323979) ভিজিটরদের কাউন্টার : 3
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: English , Marathi , हिन्दी , Bengali , Assamese , Gujarati , Tamil