জল শক্তি মন্ত্রক
শিল্পজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ : নমামি গঙ্গে কর্মসূচির আওতায় বিধিনিষেধের মাধ্যমে স্থিতিশীল উন্নয়ন
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
13 OCT 2026 12:44PM by PIB Agartala
নতুন দিল্লি, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিল্প দূষণ হ্রাস নদী পুনরুজ্জীবনের একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রচলিত প্রয়োগ ব্যবস্থা থেকে ক্রমশ ধারাবাহিকভাবে বলবৎ করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন, দক্ষভাবে সম্পদের ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির দিকে তা প্রসারিত হচ্ছে।
নমামি গঙ্গে কর্মসূচির অধীন দূষণকারী শিল্পগুলির পদ্ধতিগত তালিকা তৈরি ও বার্ষিক ভিত্তিতে পরিদর্শন, স্বাধীন প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, ক্ষেত্র-ভিত্তিক সনদ বাস্তবায়ন, সাধারণ বর্জ্য শোধন কেন্দ্রগুলির পর্যবেক্ষণ, লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো দূষণকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে বার্ষিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু যা ২০১৭ সালে জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (সিপিসিবি)-এর সহায়তায় শুরু হয়। ২০২৬ সালের পরিদর্শন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ৪০টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে এই পর্যবেক্ষণ কাঠামোর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের পরিদর্শন চক্রে ৩,৭০৩টি দূষণকারী সংস্থার মূল্যায়ন করা হয় (এর মধ্যে গঙ্গা অববাহিকায় ১,২৯৬টি এবং যমুনা অববাহিকায় ২,৪০৭টি জিপিআই অন্তর্ভুক্ত ছিল)। এই কর্মসূচিটি ছয়টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ১১৩টি জেলা জুড়ে পরিচালিত হয়। এর আওতায় এমন সব দূষণকারী সংস্থা ছিল যেগুলির বর্জ্য গঙ্গা ও যমুনার ৪৬টি উপনদী ও শাখানদীতে পড়ার সম্ভাবনা ছিল।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত কার্যপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শর্তাবলি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করা।
নিয়মকানুন মেনে চলার হার ২০১৭ সালের ৩৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। গঙ্গা অববাহিকা অঞ্চলটিতেও ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ক্রমোন্নতির ধারা পরিলক্ষিত হয়েছে। সেখানে নিয়মকানুন মেনে চলার হার ২০১৭ সালের ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে। নির্ধারিত পরিদর্শক দলে একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের অন্তত দুজন বিশেষজ্ঞ এবং একজন রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (এসপিসিবি) আধিকারিক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি এতে স্টেট মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা বা ডিস্ট্রিক্ট গঙ্গা কমিটি -র প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করবেন।
নিয়ন্ত্রক কাঠামোটি দূষিত জল শোধন থেকে শুরু করে উৎসস্থলে দূষণ প্রতিরোধ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। পাল্প ও পেপার, চিনি, ডিস্টিলারি, বস্ত্র এবং ট্যানারির জন্য ক্ষেত্র-ভিত্তিক সনদ তৈরি করা হয়েছে। এই পাঁচটি ক্ষেত্র সম্মিলিতভাবে গঙ্গা অববাহিকার মোট দূষণকারী শিল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ। মিষ্টি জলের ব্যবহার ও বর্জ্য জলের উৎপাদন কমানো, বর্জ্য জল শোধনের উন্নতি করা এবং পুনর্ব্যবহার ও পুনর্ব্যবহারকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অপরিশোধিত বর্জ্য জলকে নদীধারায় নিঃসরণ প্রতিরোধ করা।
মূল্যায়নে দেখা গেছে যে পাল্প ও পেপার মিল থেকে কোনো কালো জল নিষ্কাশন, ডিস্টিলারি থেকে কোনো বর্জ্য নিষ্কাশন, রঙিন জলের নিঃসরণ এবং মাছের মৃত্যুর কোনো ঘটনার রেকর্ড নেই। প্রতিদিন আনুমানিক ৭১৯ মিলিয়ন লিটার ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষিত হচ্ছে এবং রামগঙ্গা, কোসি, ধেলা এবং বাহেলা সহ উপ-নদীতে জলের গুণমান উন্নত হওয়া লক্ষ্য করা গেছে।
এই হস্তক্ষেপের ফলে প্রায় প্রতি বছর ১,২৭৭.৬ মেগাওয়াট শক্তি সঞ্চয় এবং কার্বন নিঃসরণ আনুমানিক ১,১২৬৩.৬ টন হ্রাস পেয়েছে। তাই শিল্পকারখানাগুলির নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করার মধ্যে এখন লক্ষ্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং দায়িত্বশীল উৎপাদন, জল সংরক্ষণ, দূষণ প্রতিরোধ এবং পুনর্ব্যবহারের মতো বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
দূষণ নিয়ন্ত্রক নানাবিধ ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্ম সম্পাদনে নিশ্চয়তার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে শিল্পজনিত দূষণ হ্রাস করে নদীগুলোকে আরও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর করে তোলার যাত্রায় একটি অবিচ্ছেদ্য ও ধারাবাহিক অংশে পরিণত হচ্ছে।
*****
PS/AL
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2322871)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 3