উপ-রাষ্ট্রপতির সচিবালয়
‘জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আইসিডব্লিউএ-র ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন
পোস্ট করার দিনক্ষণ:
15 SEP 2026 2:34PM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স (আইসিডব্লিউএ)-এর সভাপতি উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আজ নতুন দিল্লির সাপ্রু হাউসে ‘জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আইসিডব্লিউএ - এর ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, এই রজতজয়ন্তী উদযাপন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আত্মসমীক্ষার একটি উপলক্ষ। তিনি কাউন্সিলের গৌরবময় ঐতিহ্যে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠাতা, প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ, মহাপরিচালক, বিদ্বজ্জন, কূটনীতিক, গবেষক ও কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উপ-রাষ্ট্রপতি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সফল আয়োজনের জন্য বিদেশমন্ত্রী এবং আইসিডব্লিউএ - এর সহ-সভাপতি ডঃ এস. জয়শঙ্কর, বিদেশ সচিব শ্রী বিক্রম মিশ্রি এবং বিদেশ মন্ত্রকের সমগ্র দলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সংঘাত ও বৈপরীত্যে জর্জরিত বিশ্বে ‘নতুন দিল্লি নেতাদের ঘোষণা’-র সর্বসম্মত গ্রহণ একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কূটনীতির প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। মানব প্রগতি ও বিশ্ব শান্তিকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এটি তখনই সম্ভব যখন দেশগুলি একে অপরের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে স্বীকৃতি দেয় এবং পারস্পরিক কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির পক্ষে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ (বিশ্ব একটি পরিবার)-এর দর্শনের ওপর আলোকপাত করেন এবং এই দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে কোভিড সংকটের সময় ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের প্রচেষ্টা, ‘লাইফ’ কর্মসূচি এবং ‘আন্তর্জাতিক সৌর জোট’ ও ‘আন্তর্জাতিক জৈব জ্বালানি জোট’-এর মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
উপরাষ্ট্রপতি ইউপিআই এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন যে, “স্বচ্ছ পেমেন্ট ব্যবস্থা স্বচ্ছ সুশাসনের পথ প্রশস্ত করে।” তিনি বলেন, ভারত ‘আইটেক’ এবং বিভিন্ন শিক্ষাগত সহযোগিতার মাধ্যমে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর (উন্নয়নশীল দেশগুলির) সঙ্গে তার প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ভাগ করে নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের বাইরে জাঞ্জিবারে প্রথম আইআইটি ক্যাম্পাস স্থাপন। ভারতের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ক্রমবর্ধমান আস্থা ও বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গ্লোবাল সাউথ-এর নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে ভারত বিশ্বমঞ্চে উঠে আসছে।”
শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন যে, পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আইসিডব্লিউএ - এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি কাউন্সিলের জন্য চারটি অগ্রাধিকারমূলক কাজের কথা উল্লেখ করেন। ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ (প্রতিবেশী-প্রথম), ‘অ্যাক্ট ইস্ট’, ‘গ্লোবাল সাউথ’ এবং ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ সংক্রান্ত অগ্রাধিকারের বিষয়ে গবেষণা জোরদার করা, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন নিয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ গবেষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা, এবং বিশ্ব বিষয়ক তথ্যের এমন এক নির্ভরযোগ্য ভাণ্ডার হয়ে ওঠা যা প্রকৃত ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর লক্ষ্য অর্জনে আইসিডব্লিউএ-কে বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের আগেই কাউন্সিল ভারত এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও বড় অবদান রাখবে বলে তিনি তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন।
উপ-রাষ্ট্রপতি আইসিডব্লিউএ - এর যাত্রা ও বিবর্তনের ওপর আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীও পরিদর্শন করেন এবং কাউন্সিলের প্রতি অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাক্তন মহানির্দেশকদের হাতে স্মারক তুলে দেন।
*****
PS/AL
(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2310564)
ভিজিটরদের কাউন্টার : 3