রেলমন্ত্রক
ভারতীয় রেল ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে যাত্রী যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে; পণ্য পরিবহনের পরিমাণ (ফ্রেইট লোডিং) ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ৫.৪% বেড়েছে
প্রকাশিত:
13 SEP 2026 12:06PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০২৬ সালের আগস্ট মাসে সারা দেশে রেল যোগাযোগ ও পরিষেবার উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে; এ সময় যাত্রী পরিবহন এবং পণ্য পরিবহনের পরিমাণ - উভয় ক্ষেত্রেই ভারতীয় রেল প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই মাসে ১৪টি 'অমৃত ভারত' পরিষেবা নিয়মিত করা হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, শিল্পখাতে পণ্য পরিবহনের শেষ ধাপের (লাস্ট-মাইল) সংযোগ উন্নত করতে ৫টি নতুন 'গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল' (জিসিটি) চালু করা হয়েছে।
ভারতীয় রেল পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ৫.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে, যা অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোর অব্যাহত চাহিদাকে প্রতিফলিত করে। যাত্রী পরিবহনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে; উৎসবের মরসুমে যাত্রীদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়েছিল।
অধিক পণ্য পরিবহন, শিল্প ও অর্থনীতির সহায়ক
২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় রেল ১৩৭.৯ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন করেছে, যেখানে ২০২৫ সালের আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ১৩০.৯ মিলিয়ন টন; অর্থাৎ বছরে ৫.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
পণ্য পরিবহন বৃদ্ধির এই প্রবণতা কয়লা, আকরিক লোহা, ইস্পাত, সার এবং অন্যান্য পণ্যের মতো প্রধান খাতগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে তুলে ধরে। রেলপথে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ভরযোগ্য পরিবহনের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চলাচলেও সহায়তা করে।
২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে পণ্য পরিবহন থেকে আয় ৬.২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতীয় রেলের পণ্য পরিবহন ব্যবসার ক্রমাগত শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে।
প্রধান পণ্যসামগ্রীর অধিকতর পরিবহন শিল্প ও অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ ব্যবস্থাকে সহায়তা করছে।
২০২৬ সালের আগস্ট মাসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বিভাগে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। আকরিক লোহা পরিবহনে ১২.১ শতাংশ, ক্লিংকারে ১০.৪ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ কন্টেইনারে ৯.২ শতাংশ এবং কয়লা পরিবহনে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুতকৃত ইস্পাত পরিবহনে ৪.৯ শতাংশ, খনিজ তেলে ৩.১ শতাংশ, সারে ১.৬ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
এই খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি শিল্পখাতের জন্য রেল-ভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং সারা দেশে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত পণ্য পরিবহনে সহায়তা জোগায়। বিশেষ করে, কন্টেইনার পরিবহন বৃদ্ধি রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আরও দক্ষ পরিবহনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
পণ্য পরিবহণ সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ৫টি নতুন ‘গতি শক্তি’ কার্গো টার্মিনাল চালু
২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ৫টি নতুন ‘গতি শক্তি’ কার্গো টার্মিনাল চালু করা হয়; এর ফলে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চালু হওয়া মোট কার্গো টার্মিনালের (GCT) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৯-এ।নতুন চালু হওয়া টার্মিনালগুলি হলো -
• শিবলাখা, গুজরাট
• নাল্লি, তামিলনাড়ু
• শক্তিনগর, উত্তরপ্রদেশ
• দেওরাগ্রাম, মধ্যপ্রদেশ
• ব্রজরাজনগর, ওড়িশা
'গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল' (জিসিটি) নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ পণ্য ওঠানামা ও ব্যবস্থাপনার সুবিধাকে উৎপাদন ও ব্যবহারকারী কেন্দ্রগুলোর আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রত্যক্ষ ও দক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে, এই টার্মিনালগুলো অপ্রয়োজনীয় পরিবহন বা ঘোরাঘুরি কমায়, লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ায় এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা থেকে দ্রুত পণ্য সরিয়ে নেওয়া সহজতর করে।
ক্রমবর্ধমান জিসিটি নেটওয়ার্ক ভারতের সামগ্রিক লজিস্টিকস পরিকাঠামোর সঙ্গে রেলওয়ের সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে, যার ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো রেল-ভিত্তিক পণ্য পরিবহনের সুবিধা আরও বেশি করে পাচ্ছে।
সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৪টি 'অমৃত ভারত' পরিষেবাকে নিয়মিত পরিষেবায় উন্নীত করা হয়েছে
যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সংযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে; এই মাসে ১৪টি 'অমৃত ভারত' পরিষেবাকে বিশেষ ট্রেন থেকে নিয়মিত ট্রেনে উন্নীত করা হয়েছে, যার ফলে মোট 'অমৃত ভারত' পরিষেবার সংখ্যা বেড়ে ৮৬-তে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিষেবাগুলো উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি বড় শহর ও এলাকাকে সংযুক্ত করে।
পরিষেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে :-
• সুবেদারগঞ্জ - লোকমান্য তিলক টার্মিনাস
• গোরক্ষপুর - বান্দ্রা টার্মিনাস
• গোরক্ষপুর - দিল্লি জংশন
• আহমেদাবাদ - ভাগলপুর
• লোকমান্য তিলক টার্মিনাস - প্রয়াগরাজ জংশন
• প্রয়াগরাজ জংশন - উধনা জংশন
• ধানবাদ - কোয়েম্বাটোর ইত্যাদি।
নতুন এই পরিষেবাগুলো যাত্রীদের ভ্রমণের জন্য আরও বিকল্প প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে; এর ফলে বড় শহর ও আঞ্চলিক গন্তব্যগুলোর মধ্যে উন্নত সংযোগ এবং সাশ্রয়ী দীর্ঘ-দূরত্বের রেল ভ্রমণের সুবিধা পাওয়া যাবে।
পূর্বাঞ্চল এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রে, গোরক্ষপুর থেকে বান্দ্রা টার্মিনাস এবং দিল্লি পর্যন্ত পরিষেবাগুলো দুটি বড় মহানগর অঞ্চলের সাথে অতিরিক্ত সংযোগ প্রদান করে। এর ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ব্যবসা এবং পারিবারিক প্রয়োজনে ভ্রমণকারী যাত্রীরা উপকৃত হবেন।
একইভাবে, আহমেদাবাদ-ভাগলপুর সংযোগটি গুজরাট ও বিহারের মধ্যে রেল যোগাযোগকে শক্তিশালী করে এবং উভয় অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের আরও একটি সরাসরি বিকল্প প্রদান করে। ধানবাদ-কোয়েম্বাটোর পরিষেবাটি পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে দীর্ঘ-দূরত্বের সংযোগ উন্নত করে, যা বিশেষ করে শিল্প ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক।
প্রয়াগরাজ ও উধনা এবং প্রয়াগরাজ ও মুম্বাইয়ের মধ্যে সংযোগ ব্যবস্থা উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিম ভারতের দিকে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের বিকল্প আরও বাড়িয়ে তোলে। অমৃত ভারত পরিষেবার সম্প্রসারণ হলো আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য দূরপাল্লার রেল ভ্রমণের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতীয় রেলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ—বিশেষ করে বড় শহর এবং বিকাশমান আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য।
যাত্রী সংখ্যায় ধারাবাহিক বৃদ্ধি
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ৬৪.৪৩ কোটি যাত্রীর তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় রেল ৬৭.২৭ কোটি যাত্রী পরিবহন করেছে।
বিশেষ করে শহরতলি বা সাব-আরবান যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা ৯.০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ৩৪.৮৯ কোটি যাত্রীর তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে মোট ৩৮.০১ কোটি শহরতলি যাত্রী রেলপথে যাতায়াত করেছেন।
এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে ও শহরতলি এলাকায় লক্ষ লক্ষ যাত্রীর সাশ্রয়ী ও নিত্যদিনের যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের গুরুত্ব অপরিসীম।
উৎসবের মরসুমে যাত্রীদের সহায়তায় অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন
উৎসবের মরসুমে যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে, ভারতীয় রেল ২০২৬ সালের ২৫ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ১৪৪টি 'রক্ষাবন্ধন স্পেশাল' ট্রেনের ট্রিপ পরিচালনা করেছে; তুলনায় ২০২৫ সালের ৮ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল ৪৮টি ট্রিপ।
বিশেষ ট্রেন পরিষেবার এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি উৎসবের চরম ব্যস্ততার সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা জুগিয়েছে এবং অত্যধিক চাহিদার সময়ে যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য আরও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
উৎসবের সময় নিজের শহর ও পরিবারের কাছে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এই ধরনের অতিরিক্ত পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এটি নিয়মিত পরিষেবার ওপর চাপ কমায় এবং ব্যস্ততম সময়ে যাতায়াতের সুযোগ বাড়ায়।
রেল সংযোগের সম্প্রসারণ ও নিত্যদিনের যাতায়াত ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ
২০২৬ সালের আগস্ট মাসের এই অগ্রগতি ভারতীয় রেলের যাত্রী সংযোগ সম্প্রসারণ, যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থার উন্নয়ন, পণ্য পরিবহনের পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অব্যাহত প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
নতুন 'অমৃত ভারত' পরিষেবা চালুর ফলে বড় শহর ও আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সাশ্রয়ী দূরপাল্লার সংযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং উৎসবকালীন অতিরিক্ত পরিষেবা যাত্রীদের মরসুমি যাতায়াতের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে, 'গতি শক্তি কার্গো টার্মিনাল'-এর সম্প্রসারণ লজিস্টিকস নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করছে এবং শিল্পখাতের জন্য রেল পরিষেবার সুযোগ বাড়াচ্ছে।
পরিষেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালনগত দক্ষতার উন্নয়ন এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভারতীয় রেল তার মূল লক্ষ্যে অবিচল রয়েছে - রেল ভ্রমণকে আরও সহজলভ্য করা এবং সারা দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আঞ্চলিক সংযোগের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে রেলওয়ে নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা।
SC/SB/AS
(রিলিজ আইডি: 2309821)
ভিজিটরের কাউন্টার : 6