প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
মুম্বাই-এ ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট(জিএফএফ)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
প্রকাশিত:
08 SEP 2026 8:14PM by PIB Kolkata
নতুনদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আরবিআই-এর গভর্নর শ্রী সঞ্জয় মালহোত্রাজি, গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টের চেয়ারম্যান ক্রিস গোপালকৃষ্ণনজি, ফিনটেক জগতের সঙ্গে যুক্ত উদ্ভাবক, নেতৃবৃন্দ ও বিনিয়োগকারী এবং ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ!
গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে দেশ-বিদেশের প্রত্যেক অতিথি ও প্রতিনিধিদের আমি স্বাগত জানাই। আমি আনন্দিত, আজ আরও একটি 'হ্যাটট্রিক' সম্পন্ন হলো। একটি হ্যাটট্রিক ছিল ২০২৪ সালে যখন সরকার তৃতীয়বারের মতো গঠিত হয়েছিল, আর অন্য হ্যাটট্রিকটি হলো আপনাদের মধ্যে আমার উপস্থিতি। গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে এই নিয়ে পরপর তিন বছর আমি এলাম। এই হ্যাটট্রিক প্রমাণ করে উন্নত এক ভারতের জন্য আপনারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনাদের কাজ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ।
বন্ধুগণ,
প্রতিবার এখানে এলে আমি আগের থেকে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে দেখি, আরও বেশি উৎসাহ পাই। আমি সম্ভাবনার সুযোগ প্রসারিত হতে দেখি। একটি জিনিষ স্পষ্ট, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা যেহেতু বাড়ছে, তাই স্বপ্নগুলি আরও সাহসী হয়ে উঠছে। সে কারণে, উন্নত ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
বন্ধুগণ,
ফিনটেকের এই উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি মুম্বাইয়ে এই মুহূর্তে সাংস্কৃতিক উদ্দীপনাও তুঙ্গে। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মহারাষ্ট্র এবং সারা দেশে গণেশোৎসব শুরু হতে চলেছে। আমাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী, যেকোনো শুভ কাজের আগে ভগবান গণেশকে স্মরণ করা হয়। গণপতি বাপ্পাকে প্রণাম জানিয়ে, ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট -এর জন্য আমি আপনাদের সকলকে আমার শুভেচ্ছা জানাই।
বন্ধুগণ,
বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সকলেই ভালোভাবেই অবগত। সমগ্র বিশ্ব এখন সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। জ্বালানী ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের সম্মুখীন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও উত্তেজনা রয়েছে। বেশ লম্বা সময় ধরেই এই পরিস্থিতি চলছে। এপ্রিল থেকে জুন—এই ত্রৈমাসিকের সময়কাল ছিল সবচেয়ে সংকটময়। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও ভারতের বৃদ্ধি যখন ৭.৮ শতাংশ হারে হয়, তখন বিশ্ব নতুন করে আস্থা অর্জন করে। আর সেই আস্থার প্রতিফলন আমি আপনাদের সবার মুখে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।
বন্ধুগণ,
ভারতের প্রতি এই ক্রমবর্ধমান আস্থার আরেকটি উদাহরণ হলো আমাদের 'সোভেরিন রেটিং' বা রাষ্ট্রীয়স্তরে ঋণ পরিশোধের মান নির্ধারণ। সম্প্রতি জাপানের একটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ভারতের মান নির্ধারণকে উন্নীত করে 'এ' ক্যাটাগরিতে নিয়ে এসেছে। মান নির্ধারণের বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়, তবে খুব কম মানুষই জানেন যে তিন দশক—অর্থাৎ ত্রিশ বছর—পর এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত, ভারতের বিকাশ হার, আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গৃহীত কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে পৃথিবী কতটা আস্থাশীল। আমি আবারও বলছি, ভারতের সংস্কারের এই অগ্রগতির যাত্রা আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।
বন্ধুগণ,
ভারতের আর্থিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রের যাত্রা অসাধারণ। আর এর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো আমাদের ইউপিআই । গত বছরও আমি এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। কিন্তু এই পরিবর্তন এত বিপুল যে, যখনই ফিনটেক নিয়ে আলোচনা হবে, ইউপিআই-এর উল্লেখ ছাড়া তা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।
বন্ধুগণ,
মাত্র কয়েক দিন আগে, ২৫শে আগস্ট, ইউপিআই তার যাত্রার ১০ বছর পূর্ণ করেছে। দশ বছর আগে যখন আমি বলেছিলাম আপনার ব্যাঙ্ক আপনার হাতের মুঠোয় চলে আসবে, তখন অনেকেই বিষয়টিকে অসম্ভব বলে ভেবেছিলেন। আমি কিন্তু বেশ সচেতন মানুষদের কথাই বলছি, যাদের মুখগুলো হয়তো আপনাদের মনে আছে। আমি সেই কোটি কোটি ভারতীয়র কথা বলছি না যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তখন সবেমাত্র খোলা হয়েছিল; যাদের পূর্বপুরুষরা কখনো ব্যাঙ্ক-এর দরজাও মাড়াননি। কিন্তু আজ, দশ বছর পর দেখুন—সেই কোটি কোটি মানুষ, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন, তারাই আজ ভারতে ফিনটেক ক্ষেত্রের বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
বন্ধুগণ,
আজ, শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২৪০০ কোটিরও বেশি লেনদেন হয়েছে। এর অর্থ হলো, আমরা এখানে বসে থাকার এই ১০ মিনিটের মধ্যেই সারা দেশে গড়ে ৫০ লক্ষেরও বেশি লেনদেন ইউপিআই-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই কারণেই ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন—ইউপিআই শুধু প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নয়, এটি এক সভ্যতার পর্ব।
এবং বন্ধুগণ,
ইউপিআই এখন আর শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কয়েক বছর আগে যদি কেউ বলত ভারতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি বিদেশে পেমেন্ট করা সম্ভব, তবে খুব কম মানুষই সেটি বিশ্বাস করতেন। কিন্তু আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ভারতের ইউপিআই এখন ১১টি দেশে ব্যবহার করা যায়। এই পরিসংখ্যানগুলি অসাধারণ এবং তা আমাদের দীর্ঘ চলার পথের সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই টুকুতেই সন্তুষ্ট থাকব? ভারতে ফিনটেকের এই সাফল্যকেই কি আমরা চূড়ান্ত বলে ধরে নেব?
বন্ধুগণ,
নীতি-নির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার জগতে আমার ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। যারা এই সময়ে আমাকে দেখেছেন, তারা জানেন—মোদী সেই মানুষ নন যিনি কোনো একটি মাইলফলক স্পর্শ করে সেখানেই থেমে যাবেন, সাফল্য উদযাপন করবেন এবং সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকবেন। একটি লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আরও বড় কোনো লক্ষ্যের প্রস্তুতি শুরু করে দিই।
বন্ধুগণ,
এখন আমাদের ইউপিআই অনেক দেশে পৌঁছে গেছে। কিন্তু এটি হল প্রথম পদক্ষেপ। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই সব দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গ যুক্ত হওয়া। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে আমরা ইতিমধ্যেই সেই কাজটি করেছি। এর ফলে, ভারত ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ঠিক একই শহরের দুটি অঞ্চলের মধ্যে লেনদেনের মতোই সহজ হয়ে গেছে। অন্যান্য দেশ ও বাজারের সঙ্গেও আমাদের ঠিক এই সংযোগই গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যেখানে অনেক ভারতীয় বসবাস করেন, যেখানে ভারত বড় পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে এবং যে দেশই আমাদের সঙ্গে চলতে প্রস্তুত—সেই সব অঞ্চলকে যুক্ত করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।
বন্ধুগণ,
এটি খুব প্রয়োজন। কারণ প্রচুর ভারতীয় বিদেশে কাজ করেন এবং দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ভারতীয়রা বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে সেই অর্থের একটি অংশ লেনদেন সংক্রান্ত খরচের কারণে নষ্ট হয়। ইউপিআই এক্ষেত্রেও ভারতীয়দের অর্থ সাশ্রয় করতে পারে এবং এর মাধ্যমে ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে দ্রুত অর্থ পৌঁছানো সম্ভব।
বন্ধুগণ,
বর্তমানে ভারতে আপনারা কার্ডের মাধ্যমে কীভাবে আর্থিক লেনদেন করেন? এই ব্যবস্থাটি এমন সব নিয়ম মেনে চলে যেগুলি অন্য কোথাও তৈরি করা হয়েছিল। আমরা অন্যদের তৈরি সেই নিয়মগুলিই গ্রহণ করেছিলাম। সেই সময় আমাদের নিজস্ব কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু এখন আমাদের নিজস্ব বিকল্প রয়েছে। এখন আমরা নিজেরাই নিয়ম ও মানদণ্ড তৈরি করতে পারি এবং সেগুলিকে পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত করতে পারি। আপনাদের সবার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে, আমি জানি আপনারা এগুলি করতে পারবেন।
বন্ধুগণ,
প্রযুক্তি হলো অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। আর ইউপিআই তা প্রমাণ করে দিয়েছে। ফিনটেক-এর অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর সাহায্যে এমন সব জায়গায় পৌঁছানো যায় যেখানে প্রথাগত মডেলগুলো পৌঁছাতে পারেনি। প্রথাগত ব্যাঙ্ক বা ব্যাঙ্কের শাখাগুলো যেখানে পৌঁছাতে পারেনি, ইউপিআই সেই সব জায়গায় এবং সেই সব মানুষের কাছে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে পৌঁছে দিয়েছে।
বন্ধুগণ,
বর্তমানে আর্থিক প্রযুক্তি বাজারের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শুধু লেনদেন ব্যবস্থা। এবার আমাদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে হবে এবং তা দ্রুত করতে হবে। ফিনটেক বাজারে পেমেন্টের পাশাপাশি ঋণ লেনদেন, বীমা, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং পেনশনের মতো বিষয়গুলিতেও অংশীদারিত্ব বাড়াতে হবে।
বন্ধুগণ,
আমি বিশ্বাস করি, ফিনটেক দেশের এমন এক শক্তিকে সামনে নিয়ে আসতে পারে যা প্রথাগত আর্থিক মডেলগুলির বাইরে রয়েছে, কিংবা যে বিষয়গুলির ওপর যথাযথভাবে নজর দেওয়া হয়নি। উন্নত এক ভারত গড়ার লক্ষ্যে এই শক্তিকে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি।
বন্ধুগণ,
পিএম স্বনিধি-র সাফল্যের মধ্যেই আমরা এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। আমাদের রাস্তার হকাররা শহরের মেরুদণ্ড। কিন্তু এতদিন তারা দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং প্রথাগত ঋণ ব্যবস্থার বাইরে ছিলেন। 'পিএম স্বনিধি' লক্ষ লক্ষ হকারকে এই প্রথাগত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এখন এই বন্ধুদের কাছে 'স্বনিধি ক্রেডিট কার্ড' রয়েছে। অর্থাৎ, প্রথাগতভাবে ঋণ পাওয়ার একটি মাধ্যম তাদের হাতে এসেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই সুবিধাভোগীদের গড় বার্ষিক আয় ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের পরিবারগুলির আবাসন, পুষ্টি, স্বাস্থ্য পরিসেবা এবং সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে। আর তাই সরকার এই প্রকল্পটিকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বন্ধুগণ,
ইউপিআই না থাকলে 'পিএম স্বনিধি' হয়তো এই সাফল্য অর্জন করতে পারত না। এই প্রকল্পের সাফল্যে ইউপিআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, আর্থিক কর্মকান্ডের প্রসার ঘটাতে আমাদের ফিনটেক-এর শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। পুঁজি ও ঋণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থা থেকে একটি উদাহরণ দিই। ধরুন, একজন মহিলা ছোট একটি দোকান চালান। তিনি প্রতিদিন ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন গ্রহণ করেন। এখন তার আয় ও ব্যয়ের একটি স্পষ্ট ধরন বোঝা যাচ্ছে। তার ব্যবসা ভালো চলছে। তিনি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে শুধু সামান্য পুঁজিই আর যথেষ্ট নয়। ব্যবসার পরিধি বাড়াতে এখন তার আরও পণ্য ও সরঞ্জামের প্রয়োজন, আর সেজন্য তার আরও কিছু টাকা পয়সার দরকার। এটি খুব বড় অঙ্কের কোনো ঋণের বিষয় নয়। কিন্তু তার ব্যবসাটি এখনও এতটাই ছোট যে, প্রথাগত ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলি তাকে কার্যকরভাবে পরিষেবা দিতে পারে না। এমন অনেক ব্যবসা রয়েছে যাদের প্রয়োজন ফিনটেক বিশ্লেষণ করতে পারে, আগে থেকে বুঝতে পারে এবং চাহিদা পূরণ করতে পারে। আর এমন ব্যবসার সংখ্যাও অনেক।
বন্ধুগণ,
প্রযুক্তি আমাদের এই ধরনের ব্যবসার অর্থনৈতিক কার্যকলাপ পর্যালোচনা করতে এবং তাদের জন্য বিশেষ ধরণের মডেল তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, ফিনটেকের পরবর্তী অধ্যায় এখানেই রচিত হবে। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আমরা গতি ও ব্যাপ্তি দেখিয়েছি। এখন আমাদের আর্থিক ব্যবস্থার-বহির্ভূত লেনদেনের ক্ষেত্রেও অংশীদারিত্ব বাড়াতে সহায়তা করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন ডেলিভারি পার্টনার বা যারা ছোটখাটো কাজ করেন—তারা প্রতি মাসে আয় করেন, কিন্তু তারও সঞ্চয় ও পেনশনের প্রয়োজন রয়েছে। ফিনটেক এ ধরনের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারে। একইভাবে, ফিনটেক বীমা এবং অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা পাওয়ার বিষয়টিও সহজ করে তুলতে পারে। আজ যেমন কিউআর কোড ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করা অত্যন্ত সহজ, ঠিক একইভাবে এই সব পরিষেবাকেও সহজেই সবার আয়ত্তের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব।
বন্ধুগণ,
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ২৫ বছর আমরা পেরিয়ে এসেছি। এখন আমরা ২০২৬ সালে রয়েছি। শতাব্দীর দ্বিতীয় ২৫ বছরের পর্বে আমাদের জন্য আরও নতুন সব সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। এজেন্টিক এআই , টোকেনাইজেশন এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলি আর্থিক ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন সুযোগ নিয়ে আসছে। এখন আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে এই সম্ভাবনাগুলিকে প্রকৃত কার্যকর ফলাফলে পরিণত করা যায়। আর এর জন্য, আমি চাই আমাদের ফিনটেক সংস্থাগুলি নিজেদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুক। পাশাপাশি, আমি আপনাদের সামনে কিছু প্রস্তাব রাখতে চাই। প্রথমটি হল—ভারতে সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানের করে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত—আমাদের এই শিল্পের তথ্য সুরক্ষার নিজস্ব একটি নীতিগত মানদণ্ড থাকতে হবে। তৃতীয়টি হল—আমাদের একটি শক্তিশালী 'ফিনটেক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্প-উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনা' গড়ে তুলতে হবে। এবং চতুর্থত—আমাদের একটি 'ফিনটেক উপভোক্তা সুরক্ষা সূচক' থাকতে হবে, যার ভিত্তিতে প্রতিটি কোম্পানির সম্পর্কে স্বচ্ছভাবে মূল্যায়ন করা যায়। এই মানদণ্ডগুলোর নিরিখে যদি আমরা নিজেদের যাচাই করি, তবে ভারতের ফিনটেক ক্ষেত্রের প্রচুর সম্ভাবনা দেখা দেবে। আমাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করার পদ্ধতিও আমাদের জানা আছে। তাই, দ্রুততার সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে।
বন্ধুরা,
'ডিজিটাল ইন্ডিয়া'-র সাফল্যের কাহিনী এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশের অপেক্ষায়। আমাদের ফিনটেক ক্ষেত্রের এ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো—প্রচুর সুযোগ, নিরাপদ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিকে যাতে সকলে ব্যবহার করতে পারে সেই পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জনগণের আস্থা। এই মূল বিষয়গুলিকে বিবেচনায় রেখে ফিনটেক ক্ষেত্রকে এখন পরবর্তী প্রজন্মের উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এই আবেদন জানিয়ে, আমি আবারও আপনাদের সকলকে আমার শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
SC/CB/DM
(রিলিজ আইডি: 2308182)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4