স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

পানাজিতে গোয়া পুলিশকে ‘প্রেসিডেন্টস কালার’ প্রদান করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ

প্রকাশিত: 07 SEP 2026 7:19PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 


কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ গোয়ার রাজধানী পানাজিতে গোয়া পুলিশকে 'প্রেসিডেন্টস কালার' প্রদান করেছেন। অনুষ্ঠানে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ড. প্রমোদ সাওয়ান্ত, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী শ্রীপাদ ইয়েসো নায়েক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, গোয়ার মুখ্য সচিব, গোয়া পুলিশের মহানির্দেশক সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, গোয়া পুলিশকে 'প্রেসিডেন্টস কালার' প্রদান করা তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের সেবা করার পর গোয়া পুলিশ ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রদত্ত এই সম্মান গর্বের সঙ্গে বহন করছে। যেসব রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে 'প্রেসিডেন্টস কালার' প্রদান করা হয়েছে, তারা তাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, পেশাগত উৎকর্ষ, সাহস, শৃঙ্খলা এবং নিষ্ঠার সুবাদে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান অর্জন করেছে। গোয়া ছোট হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। রাজ্য গঠনের সময় থেকেই গোয়া পুলিশের ওপর নিরাপদ শহর, নিরাপদ সমাজ এবং সুরক্ষিত সামুদ্রিক সীমান্ত নিশ্চিত করার দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল। গোয়া পুলিশ সফলভাবে এই তিনটি দায়িত্ব পালন করেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, একটি উন্নত জাতির প্রধান পূর্বশর্ত হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গোয়া পুলিশ এই দুটি কাজই করছে। গোয়ার বিশাল সামুদ্রিক সীমানা রক্ষার দায়িত্ব গোয়া পুলিশের কাঁধেই ন্যস্ত। এই দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করে গোয়া পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি শক্তিশালী অর্থনীতি গঠনে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ উৎসর্গকারী অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বিশেষ করে পুলিশ কর্মী বলরাম শিন্ডে, অভিষেক শের, শৈলেশ গাওঙ্কর এবং বিশ্বাস বি. ডেকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, গোয়া পুলিশের এই সম্মান অর্জনে তাঁদের নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

শ্রী শাহ বলেন, বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের প্রভাব ও যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। গত এক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-সংশ্লিষ্ট সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এক বছরে ২২টি দেশ সফর করেছেন এবং প্রায় ১৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ভারত সফর করেছেন। শ্রী শাহ বলেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতার কারণে যখন সমগ্র বিশ্ব অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিকাশের ধারা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছিল, তখন ভারত ধারাবাহিক আলোচনা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তার অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রেখেছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে ভারত নয়টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ৩৮টি দেশের সঙ্গে কার্যকর বাণিজ্য ব্যবস্থা হিসেবে এই চুক্তিগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ওমান, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলি ভারতের বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বিকাশের হার ৭.৮ শতাংশ হওয়ার মধ্যে এর প্রতিফলন ঘটেছে। ভারত কেবল অর্থনৈতিক বিকাশই অর্জন করেনি, বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্যও নানাভাবে অবদান রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ কর্মসূচি, বিশ্বের সঙ্গে নিজস্ব ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর সাফল্য ভাগ করে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা প্রদান।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের কূটনীতি আজ বিশ্বমঞ্চে এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার সংকল্প জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। ‘বিকশিত ভারত’-এর এই লক্ষ্য শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ ও সংশয়ের মুখে পড়লেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তা ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মিলিত সংকল্পে পরিণত হয়েছে। 

শ্রী শাহ বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সাইবার জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং ভারতও এর ব্যতিক্রম নয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছেন। ‘১৯৩০’ হেল্পলাইন নম্বরটি সব ধরনের সাইবার জালিয়াতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। ১৯৩০ হেল্পলাইনের জন্য এআই ভিত্তিক কল এজেন্ট চালু করার মাধ্যমে গোয়া পুলিশ এক ধাপ এগিয়ে গেছে। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে কোঙ্কনি, মারাঠি এবং হিন্দি ভাষায় অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, এই পরিষেবাটি অন্যান্য ভারতীয় ভাষাতেও অভিযোগ দায়েরের সুবিধা দেবে এবং সেগুলিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবে। 

শ্রী অমিত শাহ বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গোয়া পুলিশ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় কাজ করে আসছে। খেলাধুলার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন গোয়া পুলিশের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তিনি জানান, ২০২৯ সালে ভারতে 'আন্তর্জাতিক পুলিশ স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ' অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীদের জন্যও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থাকবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়া পুলিশকে এই প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, আট দশকেরও বেশি সময় ধরে গোয়া পুলিশের নিষ্ঠা এবং 'শান্তি, সেবা ও ন্যায়বিচার'-এর মূলমন্ত্র গোয়াকে আরও নিরাপদ করে তুলেছে। এ কারণেই গোয়া পুলিশ কেবল গোয়ার জনগণের কাছেই নয়, সারা দেশেই প্রশংসা অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, জরুরি পরিষেবা '১১২'-এর আওতায় পুলিশের সাড়া দেওয়ার সময় আগে ১৮ মিনিট ছিল, যা এখন কমিয়ে মাত্র ৮ মিনিটে আনা হয়েছে। তিনি একে জনসেবার ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, প্রায় ২০,০০০ কলের ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আরও গাড়ি ও দু-চাকার যানবাহন যুক্ত হলে এই সাড়া দেওয়ার সময় ছয় মিনিটেরও কমে নেমে আসবে। শ্রী শাহ বলেন, পর্যটন-প্রধান অন্যান্য রাজ্যের জন্য 'ট্যুরিস্ট পুলিশ উইং' একটি আদর্শ বা মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

শ্রী অমিত শাহ বলেন, সমগ্র ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তিনটি নতুন 'ন্যায় সংহিতা' কার্যকর করা হয়েছে। এই আইনগুলোতে প্রযুক্তি, সংবেদনশীলতা, অগ্রাধিকার এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সক্ষমতার মতো বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি একে পুলিশি ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের আধুনিকীকরণ বা উন্নয়ন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কারাগার, ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল), আদালত, আইনজীবী, থানা এবং হাসপাতালের মতো সমগ্র ব্যবস্থাকে একীভূত করা এবং তার ভিত্তিতে বিচার প্রদান করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন ফৌজদারি আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গোয়া পুলিশ বেশ কয়েক মাস ধরে দেশে প্রথম স্থান ধরে রেখেছিল। বর্তমানে ৯৩.৩৮ শতাংশ অগ্রগতি নিয়ে তারা দেশে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নয়টি মাপকাঠিতেই গোয়া পুলিশ অসাধারণ কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। শ্রী শাহ জানান, মাত্র এক বছরের মধ্যে গোয়া পুলিশ তাদের দোষী সাব্যস্ত করার হার ৩০ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি করেছে। আগে এই হার ছিল ২৩ শতাংশ; বর্তমানে দায়ের করা এফআইআর-এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যা একটি বড় সাফল্য।

শ্রী অমিত শাহ জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আগামী দিনগুলিতে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনার আওতায়, সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও রাজ্য সরকারের অংশগ্রহণে ভারতের প্রতিটি গ্রাম ও শহরকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মাদকবিরোধী লড়াইয়েও গোয়া পুলিশ একটি অগ্রণী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

SC/SD/AS


(রিলিজ আইডি: 2307807) ভিজিটরের কাউন্টার : 8
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , Marathi , हिन्दी , Assamese , Punjabi , Gujarati , Telugu