শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
বিশ্বজুড়ে ভারতের বাণিজ্য প্রসারে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ব্যবহার নিয়ে দেশব্যাপী প্রচার অভিযানের ডাক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর
প্রকাশিত:
03 SEP 2026 1:56PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ভারতের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বর্ধিত বাজার-সুবিধার সুফল যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে থাকা ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর ব্যবহারিক দিক নিয়ে দেশব্যাপী প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল। আজ নতুন দিল্লিতে আয়োজিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সদ্ব্যবহার ও প্রচার কর্মসূচি বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় ভারতের ক্রমপ্রসারিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বৃহত্তর রপ্তানির সুযোগ গড়ে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।
শ্রী গোয়েল বলেন, উদ্যোগটি দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া উচিত। দেশের ৭৮০টি ছোট-বড় জেলার একেবারে প্রান্তিক ব্যক্তি, ক্ষুদ্রতম ব্যবসায়ী, সাধারণ বিক্রেতা, উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং নারী উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর ওপরও তিনি জোর দেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, রপ্তানি উন্নয়ন পরিষদ এবং শিল্প সংগঠনগুলোর বরিষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরাট অংশীদার হিসেবে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে দেশজুড়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টা নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যেও ৭.৮ শতাংশ জিডিপির বিকাশ হার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বিভ্রান্তিকারীদের কথায় প্ররোচিত না হতে মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শ্রী গোয়েল বলেন, কানাডা, মেক্সিকো, চিলি, মারকোসুর, সাকু, জিসিসি এবং ইসরায়েলের মতো দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে আগামী কয়েক মাস বা বছরে যে নতুন চুক্তিগুলো সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, এবং সেই সঙ্গে আসিয়ান, কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে চুক্তির পর্যালোচনা বা বাজার সুবিধা বৃদ্ধির অন্যান্য পদক্ষেপের ফলে ভারত বিশ্ব বাণিজ্যের ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তার প্রতিযোগীদের তুলনায় সুবিধাজনক শুল্ক হারে অগ্রাধিকার পাবে।
শ্রী গোয়েল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য কাঠামো ভিন্ন এবং তাদের পরিচালন ব্যবস্থা ও শ্রম মূল্য ভিন্ন। অন্যান্য বাজারে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো কী হারে শুল্ক দিচ্ছে, তা ভারতের মূল্যায়ন করা জরুরি।
বস্ত্র শিল্পের উদাহরণ দিয়ে শ্রী গোয়েল বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভারতকে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হতে হত। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে এবং ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবাদে উন্নত দেশগুলোর বাজারে শূন্য বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেত, যেখানে ভারতকে উচ্চ শুল্ক দিতে হত। তিনি বলেন, পরিস্থিতির এখন পরিবর্তন হয়েছে; প্রায় সব উন্নত বাজারে ভারত এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় ভালো শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে। ফলে এখন কেবল কর্মদক্ষতাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রী গোয়েল জানান, এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। পর্যায়ক্রমে আলোচনার মাধ্যমে বস্ত্র, ওষুধ, রাসায়নিক এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রককেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ১৫ই জুলাই থেকে ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হয়। মরিশাস, ওমান, সংযুক্ত আরব আমির শাহী, অস্ট্রেলিয়ার পর ব্রিটেনও এবার এফটিএ-র অন্তর্ভুক্ত হল।
তিনি বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় অগ্রাধিকারমূলক হার দিতে রাজি হলে বিটিএ চূড়ান্ত করা হবে এবং এর খুঁটিনাটি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, 'অমৃত কাল'-এর এই সময়ে ভারত একটি উন্নয়নশীল দেশ থেকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ হিসেবে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা সৃষ্টি হলে, ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকদের সহায়তা করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
শ্রী গোয়েল স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের মানের সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রেখে বিভিন্ন পণ্য গুণগত মান নিশ্চিত করতে বলেছিলেন, যাতে বিশ্ব বাজারে সেগুলি জায়গা করে নিতে পারে। বিশ্ব বাজারে কেবল জায়গা করে নেওয়াই নয়, বরং বিশ্বমানকেও যাতে ছাপিয়ে যাওয়া যায় শিল্প সংস্থাগুলিকে তা নিশ্চিত করতে বলে।
তিনি বলেন, এটাই অগ্রগতির পথ এবং দেশকে মিশন মোডে এই প্রচেষ্টা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
SC/AB/SG
(রিলিজ আইডি: 2306378)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4