প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উজবেকিস্তান সফরের সময় জারি হওয়া যৌথ বিবৃতি

প্রকাশিত: 30 AUG 2026 5:56PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

উজবেকিস্তান সাধারণতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাভাকাত মিরজিইয়োওয়েভ-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২৯-৩০ অগাস্ট ওই দেশে রাষ্ট্রীয় সফর করেন।

 

প্রেসিডেন্ট মিরজিইয়োওয়েভ এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা হয়। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার কথা বলেছেন তাঁরা। 

 

জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একটি আইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠা বিশেষভাবে দরকার বলে দুই নেতাই মনে করেন। বাণিজ্য, অর্থনীতি ও লগ্নি, পরিবহণ, ডিজিটাল রূপান্তর (তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ, সাইবার নিরাপত্তা), পরিবেশ বান্ধব শক্তির প্রসার, ক্রিটিক্যাল মিনারেল্স, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং শিক্ষার মতো বিষয়ে অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার ডাক দিয়েছেন তাঁরা। 

 

দুই নেতা প্রাতিষ্ঠানিক এবং সরকারি স্তরে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ে একটি সমন্বয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথা বলেছেন তাঁরা। সংসদীয় স্তরে আদান-প্রদান নিবিড়তর করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট মিরজিইয়োওয়েভ। আইনি ক্ষেত্রেও বর্তমানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলবে দুই দেশ। 

 

যে কোনও ধরনের সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে দুই দেশ। ভারত এবং উজবেকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দু-দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আদান-প্রদান নিবিড়তর হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক বলে দুই নেতা মনে করেন। এ বছর এপ্রিলে উজবেকিস্তানে যৌথ সামরিক মহড়া “দুস্তলিক” সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

 

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসর বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে দুই পক্ষ। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বিঘ্নহীন করতে একটি যৌথ কর্মীগোষ্ঠী গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ই-কমার্স, বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলিকে সহায়তা প্রদানের মতো বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসে। 

 

পরিবেশবান্ধব শক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিবিড়তর করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণ এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলবে দুই দেশ। 

 

কৃষি ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন দুই নেতা। পরিবহণ এবং লজিস্টিক্স ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিসর বাড়ানো হবে। ২০১৯-এ ভারতের সহায়তায় তাসখন্দে গড়ে ওঠা আইটি পার্কের সাফল্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয় বলে দু-পক্ষ মনে করে। 

 

শিক্ষা, মানব সম্পদ বিকাশ, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং পর্যটন ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিবিড়তর করা হবে। 

 

উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ২,৭০০-র বেশি উজবেক নাগরিক। আয়ুষের আওতায় আইসিসিআর বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ৪০০-র বেশি উজবেক শিক্ষার্থী। ওই দেশে হিন্দি শিক্ষার প্রসারে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বৃত্তি কর্মসূচি চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই নেতা। ক্রীড়া ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। যোগ চর্চার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রাসঙ্গিকতা উঠে আসে তাঁদের আলোচনায়। বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিবিড়তর করবে দুই দেশ। 

 

উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  

 

 

SC/AC/NS


(রিলিজ আইডি: 2304910) ভিজিটরের কাউন্টার : 4