অর্থ মন্ত্রক
সিবিএন-এর ‘অপারেশন ব্ল্যাক হক’-এ আন্তঃরাজ্য হেরোইন পাচার চক্রের হদিস, ১৮.৬ কেজিরও বেশি অপরিশোধিত হেরোইন বাজেয়াপ্ত
আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার
प्रविष्टि तिथि:
24 AUG 2026 10:03AM by PIB Agartala
নয়াদিল্লী, ২৪ আগস্ট ২০২৬: মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব নারকোটিক্স (সিবিএন)-এর মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ ইউনিট। ‘অপারেশন ব্ল্যাক হক’-এর আওতায় পরপর চালানো অভিযানে উত্তরপ্রদেশের লখনৌ-এর কাছে মোট ১৮.৬৪ কেজি অপরিশোধিত হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের তিন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিবিএন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত মাদক উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য থেকে আনা হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই ওই মাদক পাচার করা হচ্ছিল।
সিবিএন-এর মধ্যপ্রদেশ ইউনিট উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে লখনৌ-এ মাদক পাচারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর অভিযান শুরু হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিবিএন-এর মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ ইউনিটের যৌথ দল ২০-২১ আগস্টের মধ্য রাতে সুলতানপুর-লখনৌ হাইওয়ের উপর কৌশলগতভাবে নজরদারি ও নাকা তল্লাশি চালায়।

টোল প্লাজাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে নজরদারি চালানোর পর অভিযানে নামে সিবিএন-এর বিশেষ দল। ২১ আগস্ট লখনৌ-এর কাছে অসমের নম্বরযুক্ত একটি হুন্ডাই ক্রেটা গাড়িকে আটক করা হয়। গাড়িটি বাইরে থেকে সম্পূর্ণ খালি ছিল এবং গাড়ির আরোহীরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁদের বক্তব্যে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। তাঁরা জানান, মাত্র ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে চারবার গাড়িতে জ্বালানি ভরেছিলেন। এরপর গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্কে শারীরিকভাবে ট্যাপিং পরীক্ষা চালানো হলে ভিতরে ফাঁপা অংশ থাকার অস্বাভাবিক শব্দ ধরা পড়ে। পরে লখনৌ-এ দপ্তরের প্রযুক্তিগত সহায়তায় গাড়িটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক খুলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন কুঠুরি উদ্ধার করা হয়। ওই কুঠুরির ভিতরে জলরোধী ২৫টি প্যাকেটের মধ্যে মোট ১৬.৪৬ কেজি অপরিশোধিত হেরোইন লুকিয়ে রাখা ছিল। ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিবিএন-এর উত্তরপ্রদেশ ইউনিটের তৈরি করা দ্বিতীয় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিলিগুড়ি-লখনৌ করিডোরে মাদক পাচারের একটি বড় চালানের সন্ধান মেলে। তথ্যের ভিত্তিতে সিবিএন-এর একটি দল একাধিক টোল প্লাজায় ট্রাকটির গতিবিধির উপর নজর রাখে। পরে বারাবাঙ্কির কাছে ট্রাকটিকে আটক করা হয়। ট্রাকটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভিতরে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন জায়গা থেকে ২.১৬ কেজি অপরিশোধিত হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইন, ১৯৮৫-এর কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক পরিবহণে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি এবং উদ্ধার হওয়া সম্পূর্ণ মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক সরবরাহের মূল উৎসের সন্ধান এবং এর সঙ্গে যুক্ত পরবর্তী পর্যায়ের পাচার ও বণ্টন চক্র ভেঙে দিতে আর্থিক লেনদেন ও পাচারের নেটওয়ার্কের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী এবং এই আন্তঃরাজ্য চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এক নজরে বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রী:
- মোট বাজেয়াপ্ত মাদক: ১৮.৬৪ কেজি — একটি গাড়ি থেকে ১৬.৪৮ কেজি এবং একটি অন্য একটি গাড়ি থেকে ২.১৬ কেজি।
- বাজেয়াপ্ত যানবাহন: অসমের নম্বরযুক্ত একটি হুন্ডাই ক্রেটা এবং একটি বাণিজ্যিক ট্রাক।
- মোট গ্রেপ্তার: ৩ জন সন্দেহভাজন — এনডিপিএস আইন, ১৯৮৫-এর অধীনে গ্রেপ্তার।
- মাদক লুকানোর কৌশল: গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্কে বিশেষভাবে তৈরি গোপন কুঠুরি এবং ট্রাকের বডি ফ্রেমের ভিতরে গোপন চেম্বার।
*****
PS/SG
(रिलीज़ आईडी: 2302662)
आगंतुक पटल : 9