স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ কলকাতায় 'মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড'-এর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করেছেন
प्रविष्टि तिथि:
19 JUL 2026 7:36PM by PIB Agartala
নতুন দিল্লি, ১৯ জুলাই, ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় 'মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড'-এর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করেছেন। এই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী শ্রী স্বপন দাসগুপ্ত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সচিব, আইবি-র অধিকর্তা এবং একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, আজ সমগ্র দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য একটি বিরল মুহূর্ত। আজ এই 'মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড' দেশের সাংস্কৃতিক নবজাগরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজীর সংকল্পকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। শ্রী শাহ বলেন, যে কোনো দেশ অথবা অঞ্চলের বহিঃপ্রকাশ অসম্ভব ভাষা ছাড়া এবং ভাষা নিজেও অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে না মানবিক অনুভূতি ও অভিব্যক্তি থেকে প্রাপ্ত শব্দ ব্যতীত। তিনি বলেন যে, ভাষা তৈরি হয় শব্দ দিয়ে, শব্দ আসে আবেগ থেকে, সংস্কৃতি রূপ পায় ভাষার মাধ্যমে, সংস্কৃতি প্রকাশ পায় ভাষার মাধ্যমে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এটা না বুঝলে দেশের সাংস্কৃতিক নবজাগরণ সম্ভব নয়। শ্রী শাহ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, এই 'মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড' ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভারতের ভাষা, সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক নবজাগরণকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই 'মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড' পাণিনির ব্যাকরণ রচনার সমগ্র যাত্রা পথটিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন যে, ঋগ্বেদে বলেছে, মহৎ এবং পবিত্র ভাবনা আমাদের কাছে আসা উচিত সব দিক থেকে – সেই ভাবনা যা দমিত নয়, যা কখনও বাধিত নয়, যার ভিত্তিতে আমরা আমাদের সামাজিক জীবনকে রূপ দেবো এবং এগিয়ে নিয়ে যাবো। শ্রী শাহ বলেন যে, আমাদের সভ্যতায় সংকীর্ণতা কখনও মাথা তুলতে পারেনি, কারণ, ভারতীয় ভাবনার গোড়ার কথা হল, সংকীর্ণতার কোনো স্থান নেই। তিনি আরও বলেন, যখনই আমরা ভূমি পূজো করি অথবা শান্তি মন্ত্র আবৃত্তি করি, তখন আমরা শুধুমাত্র মানুষের জন্য নয়, সকল প্রাণী, গাছপালা এবং সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শান্তির জন্য প্রার্থনা করি। সেইজন্য, সংকীর্ণতা কখনও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতীক হতে পারে না।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’ ভারতের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের ভাষা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা দেবে, দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় ঘটাবে এবং ঐতিহ্যে প্রোথিত জীবনের যাত্রায় পথ প্রদর্শন করবে। তিনি বলেন যে, ভারত কখনও কোনো ভাবনা অথবা ধারণার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় না। শ্রী শাহ বলেন, এই মিউজিয়ামে লিখিত শব্দের সমগ্র যাত্রাপথটি অঙ্কিত করা হয়েছে — পবিত্র ‘ওঙ্কার’ থেকে শব্দের উৎস এবং ব্যাকরণ তৈরি, ‘শ্রুতি’ এবং ‘স্মৃতি’ থেকে পাণ্ডুলিপি এবং শিলালিপি; এবং প্রিন্টিং প্রেস থেকে আধুনিক যুগ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’-কে সম্প্রসারিত করতে হবে ডিজিটাল টেকনোলজি এবং আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-কে একাত্মও করে নিতে যাতে ভারতীয় ভাষাগুলি ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিবর্তিত হতে পারে। তিনি বলেন যে, ভারত কখনও উদ্ভাবন থেকে নিয়েকে আড়াল করেনি, যা কিছু মহান এবং পবিত্র তাকে আপন করে নিয়েছে। সেই কারণেই, অগণিত সমস্যা এবং আক্রমণ সত্ত্বেও, দেশের সাংস্কৃতিক যাত্রা হিমালয়ের মতো দৃঢ়। তিনি আরও বলেন, ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ একটি উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ ভারতের বহুভাষিক চেতনা, জ্ঞানের প্রবহমান ধারা এবং সম্মিলিত স্মৃতির সংরক্ষণ দৃশ্য, শ্রাব্য এবং স্পর্শযোগ্য অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গে অনেক মিউজিয়াম আছে এবং তাঁর বিশ্বাস এই ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ অল্প কিছু দিনের মধ্যেই একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে নেবে। তিনি বলেন যে, ভাষা এবং শব্দ নিয়ে আগ্রহী যে কেউ এই মিউজিয়ামে এলে অমূল্য জ্ঞান এবং অনুপ্রেরণা নিয়ে যেতে পারবেন। শ্রী শাহ বলেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শব্দ এবং ভাষাত্তত্বের বিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং কঠিন কাজ, কিন্তু সংস্কৃতি মন্ত্রক সফলভাবে সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন যে, শব্দ নিজেরাই বন্দী থাকতে চায় না, ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ সফলভাবে তাকে বন্দী করেছে এবং তার পেছনের বিজ্ঞানকে উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, শব্দকে শোনা যায়, বলা যায়, শব্দের সঙ্গে জীবনযাপন করা যায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাকে পৌঁছে দেওয়া যায়, এবং এই মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড সেই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও ছড়িয়ে দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শ্রী অমিত শাহ আরও বলেন, ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রক ভারতের অহস্তান্তরযোগ্য ঐতিহ্যকে রূপান্তরিত করেছে এমন এক অভিজ্ঞতায় যাকে ছোঁয়া যায়, দেখা যায়, শোনা যায় এবং যাতে অবগাহন করা যায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, যখন 'মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড' বিশ্বের প্রথম ব্যক্ত শব্দটি কী এই প্রশ্ন তোলে, তখন তার একটাই উত্তর হয় 'ওঙ্কার'। স্বাভাবিকভাবে সকলেই বুঝবেন যে, বিশ্বের প্রথম শব্দটি নিশ্চিত ভাবে ওঙ্কার। তিনি বলেন যে, নিজের ভাষায় মায়ের থেকে শোনা ঘুমপাড়ানি গান তৎক্ষণাৎ একজনের মায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। শ্রী শাহ বলেন, এই মিউজিয়ামে থাকবে বিভিন্ন ধরনের প্রত্নবস্তু ও পাণ্ডুলিপি, যা দর্শকদের দেবে স্পর্শযোগ্য ও অবগাহনযোগ্য অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন যে, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের বিভিন্ন ধরনের উপভাষা, ভাষা এবং লোক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করছে, যাতে বর্ণিত হয়েছে শব্দের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক যাত্রা। এই মিউজিয়ামে আরও আছে শিলালিপি, তাম্রফলক, ভূর্জপত্রে পাণ্ডুলিপি, হাতেলেখা পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, ডিজিটাল টেক্সট থেকে অডিও আর্কাইভ পর্যন্ত যাত্রার পর, পরবর্তী মাইলফলক হবে এই ঐতিহ্যকে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে নিয়ে যাওয়া।
শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড-এর প্রতেকটি গ্যালারি অত্যন্ত উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভাষার উৎস দিয়ে শেখানোর কাজ শুরু হয়ে লোক কথা, ঘুমপাড়ানি গান এবং সংবেদী অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তার বিবর্তন ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শ্রী শাহ বলেন, প্রত্যেক মানুষের মাতৃভাষার নিবিড় সংযোগ আছে। একজনের মাতৃভাষার এই সম্পর্ক তার চরিত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, ভাষাবিজ্ঞান এমন একটি বিজ্ঞান যা স্বাভাবিকভাবেই বিবর্তিত হয়। তিনি বলেন যে, ভাষা প্রকৃতিগতভাবেই বিজ্ঞান হলেও এটি মানুষের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে তৈরি হয়েছে। সময়ান্তরে জৈবভাবে রূপ পেয়েছে ভাষাগুলি এবং এই প্রাকৃতিক বিবর্তন তাকে সমগ্র সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, একাধিক মহান ব্যক্তি, কবি এবং লেখক দেশের প্রতেকটি ভাষার সংরক্ষণ এবং সমৃদ্ধিকরণে অবদান রেখেছেন। তাঁদের অমূল্য অবদানকে সম্মান জানাতে মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড-এ একটি নির্দিষ্ট গ্যালারি তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কত ভিড় তার উপর নির্ভর করে না। বরং, এটা নির্ভর করে কত তরুণ ও কিশোর গ্রন্থাগারে যাচ্ছে তার ওপর। তিনি যুব সমাজের কাছে আবেদন করেন, ব্যক্তিত্ব এবং বৌদ্ধিক বিকাশে গ্রন্থাগারকে অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করে নেওয়ার।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সভ্যতার চেতনায় এক বিশ্বব্যাপী আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তিনি বলেন যে, একটা দীর্ঘ সময় গেছে যখন বাংলাকে ভারতের সভ্যতার চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছে এবং সংকীর্ণ এবং বিদেশী চিন্তাধারা দেশ এবং বিশ্বের জন্য বাংলার ক্ষমতাকে খর্ব করেছে। শ্রী শাহ বলেন যে, বাংলা মহর্ষি অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর দেশ। তিনি আরও বলেন যে, বাংলা দেশের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক এবং ভারতের অন্যতম মহান বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুরও জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন যে, বাংলা চিরাচরিতভাবে দেশের বাকি অংশের থেকে কয়েক দশক এগিয়ে, বৌদ্ধিক এবং সাংস্কৃতিক নেতৃত্বদানের মাধ্যমে দেশকে পথ দেখিয়েছে। বাংলার ভবিষ্যত নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে শ্রী অমিত শাহ বলেন, ভারতের সভ্যতার চেতনার বৌদ্ধিক আলোকদিশা আবার একবার বিশ্বকে জাগরূপ করবে সর্ব শক্তি দিয়ে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় চলতি রূপান্তর তাকে আশা যোগাচ্ছে যে এই রাজ্য খুব দ্রুত ভারতীয় চেতনার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন যে ভারতকে পুরোপুরি বোঝা যাবে না মহর্ষি অরবিন্দকে অধ্যয়ন না করে। তিনি বলেন, মহর্ষি অরবিন্দ ভারতের অতীতকে ব্যাখ্যা করেছিলেন, বর্তমানকে তুলে ধরেছিলেন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যৎ দর্শন করেছিলেন। মহর্ষি অরবিন্দকে উদ্ধৃত করে শ্রী শাহ বলেন যে একদিন ভারত মাতা নিঃসন্দেহে বিশ্বগুরু হিসেবে তার স্থান করে নেবে এবং মানবতাকে তার সর্বোত্তম সেবা প্রদানের জন্য সচেষ্ট হবে।
শ্রী অমিত শাহ তরুণ প্রজন্মের কাছে আবেদন রাখেন শব্দ এবং ভাষার শক্তিকে বোঝার, উচ্চারণকে সূক্ষ্ম করার, ব্যাকরণের নীতিগুলিকে আত্মস্থ করার, তাদের অভিব্যক্তিকে আরও কার্যকর এবং প্রভাবশালী করে তুলতে। তিনি বলেন যে এটা করতে পারবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সমাজের উপর প্রভাব অনেক বৃদ্ধি পাবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, সমগ্র দেশ ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উদযাপন করছে এবং এটি এই কারণেই আরও উল্লেখযোগ্য যে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’-এর উদ্বোধন হলো। তিনি বলেন যে, যখন কেউ মঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ সঙ্গীতটি শোনেন, তখন তিনি প্রকৃত বুঝতে পারেন ভারত মাতার প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের ভক্তি এবং শ্রদ্ধার গভীরতা কতটা হওয়া উচিত। শ্রী শাহ বলেন যে, এই গানে বর্ণিত প্রকট বার্তা সত্ত্বেও, স্বাধীনতার পরে প্রায় ৭৬-৭৭ বছর ধরে দেশ এর পূর্ণ তাৎপর্য সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন যে আজ সারা দেশের বিদ্যালয়গুলিতে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গীত হচ্ছে, এ এক অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।
শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে ২০২৪-এ বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা অর্পণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আরও বলেন যে দেশ সম্প্রতি ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করলো। শ্রী শাহ বলেন যে ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীই গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষায় সমাবর্তন ভাষণ দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন যে ব্রিটিশ শাসনের সময়ে সেই প্রথম দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ভারতীয় ভাষায় সমাবর্তন ভাষণ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন যে বাংলা আরও একবার দ্রুত গতিতে 'সোনার বাংলা' হওয়ার পথে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, মানুষের সাধারণ ধারণা যে তারাই ভাষা তৈরি করেছে, সে বিশ্বাস করে ভাষাই মানবতাকে রূপ দিয়েছে। তিনি বলেন যে একজন ব্যক্তি তখনই প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠেন যখন তার আবেগ পূর্ণ জাগরূক হয় এবং ভাষাই সেই আবেগকে জাগরূক করে। প্রতেক ভাষার ভিত্তি রয়েছে তার শব্দগুলিতে—বিশেষ করে একজনের নিজের ভাষার শব্দে— মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড সেই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শ্রী শাহ বলেন যে, ভাষার সংরক্ষণ এবং উন্নতিতে পাঁচটি নীতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি হল, বাড়িতে যে ভাষায় কথা বলা হয় সেটাই শিশুর প্রথম স্কুল হওয়া উচিত। দ্বিতীয়, একজন শিশুর শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত মাতৃভাষায়। তৃতীয়, স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে মৌলিক চিন্তাভাবনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে, কারণ একমাত্র তখনই সমাজ উদ্ভাবন এবং সৃজনশীলতায় অর্থবহ অবদান রাখতে পারবে। তিনি বলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে মৌলিক চিন্তাভাবনা লালনে পথ দেখাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রত্যেক ভারতীয় ভাষাকে ডিজিটাল এবং এআই-সক্ষম করা উচিত, যতে সেটি আরও হাজার বছর ধরে তার প্রাণপ্রাচুর্য এবং প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, গ্রন্থাগার এবং মিউজিয়াম বাড়িতে বদ্ধ থাকলে চলবে না, পরিবর্তে চেষ্টা করতে হবে যাতে তাদের মূল্য, জ্ঞান এবং আবেগ যেন যথাযথ প্রচারের মাধ্যমে দেশের তরুণ ও কিশোর সমাজের কাছে পৌঁছায়। শ্রী অমিত শাহ আরও বলেন যে প্রত্যেক যুবক-যুবতীর উচিত মাতৃভাষা ছাড়াও অন্তত আরও একটি ভারতীয় ভাষা শিক্ষা করে। তিনি বলেন যে, এতে শুধু তার নিজের মাতৃভাষা রক্ষিত হবে তা নয়, সব ভারতীয় ভাষারই দীর্ঘজীবন নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন যে, যদি সরকার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সবার উপরে দেশের মানুষ এই পাঁচটি নীতিকে আপন করে নেয় এবং প্রসার ঘটায় তাহলে ভারতীয় ভাষাগুলির সংরক্ষণ, প্রচার এবং সেবায় এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে এটি।
শ্রী অমিত শাহ বলেন যে, ভারতীয় সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা এই বাংলার মাটি থেকে দেশকে সংকল্প নিতে হবে শব্দের শক্তির মাধ্যমে তার সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করার। তিনি বলেন যে, শক্তিশালী সংস্কৃতি আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে এবং সেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভারত ২০৪৭-এর মধ্যে 'বিকশিত ভারত'-এর লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে এবং বিশ্বগুরু হিসেবে ভারত মাতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রত্যাশা পূরণ হবে। শ্রী শাহ বলেন যে, মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড এই লক্ষ্য পূরণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
*****
PS/Agt
(रिलीज़ आईडी: 2286632)
आगंतुक पटल : 6