PIB Backgrounder
বিক্রম-১ (Vikram-1): ভারতের মহাকাশে নতুন দিগন্ত (Charting India’s Cosmic Future)
प्रविष्टि तिथि:
18 JUL 2026 10:09AM by PIB Kolkata
১৮ জুলাই, ২০২৬
এক নতুন যুগ: আন্তর্জাতিক মহাকাশ শক্তি হিসাবে ভারতের অভ্যুথ্থান (A New Era: India Emerging as a Global Space Hub)
ভারত সরকারের দূরদর্শী সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটেছে। স্কাইরুট এরোস্পেস (Skyroot Aerospace) যখন ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি অরবিটাল রকেট 'বিক্রম-১' উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই সংস্কারের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 'ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি ২০২৩' মহাকাশের সমগ্র শৃঙ্খলকে বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করেছে, যার ফলে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়েছে। ভারতীয় শিল্প এখন উপগ্রহ তৈরি, উৎক্ষেপণ পরিষেবা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে সফলভাবে অংশগ্রহণ করছে।
এই সংস্কারের প্রভাব পরিসংখ্যানেও দৃশ্যমান। ভারতের মহাকাশ স্টার্টআপ বাস্তুতন্ত্র ২০১৪ সালের মাত্র একটি স্টার্টআপ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ৪০০টিরও বেশি হযেছে। বর্তমানে, ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০-৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মিশন আগমন: বিক্রম-১ (Mission Aagaman: Vikram-1)
* **সক্ষমতা:** স্কাইরুট এরোস্পেস দ্বারা তৈরি বিক্রম-১ ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি উৎক্ষেপণ যান, যেটি নিম্ন কক্ষপথে (LEO) ৩৫০ কেজি ওজন স্থাপন করতে সক্ষম। এটি কার্বন কম্পোজিট কাঠামো, নির্ভরযোগ্য কঠিন জ্বালানি অতিরিক্ত শক্তি প্রদানকারী এবং একটি থ্রিডি-প্রিন্টেড তরল জ্বালানির ইঞ্জিন দ্বারা নির্মিত।
* **উৎক্ষেপণের সময়সূচী:** মিশন আগমনের অধীনে এবছর ১২ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট-এর মধ্যে বিক্রম-১ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উৎক্ষেপণ সফল হলে দেশের নিজস্ব বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ সক্ষমতা প্রমাণিত হবে।
* **পেলোডসমূহ:** এই মিশনটি ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় কক্ষপথে একাধিক পেলোড স্থাপন করতে সমর্থ হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্কাইরুটের 'স্কোপ' (SCOPE) স্যাটেলাইট, ডিসিউবিইডি-র প্রযুক্তি প্রদর্শন পেলোড, গ্রাহা স্পেসের 'সোলারাস এস৩' স্যাটেলাইট এবং কসমোসার্ভ স্পেসের 'এম্ব্রেস' (মহাজাগতিক বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নকশা করা একটি রোবোটিক বাহু)। প্রথম ফ্লাইটে প্রতীকী পেলোড হিসাবে একটি পুষ্পাকৃতির শিল্পকর্ম "কসমিক ব্লুম" এবং একটি ১৮-ক্যারেট সোনার মাইক্রো-রকেট থাকবে, যেটিতে সি. ভি. রমন, বিক্রম সারাভাই এবং এ. পি. জে. আবদুল কালামের ক্ষুদ্র ভাস্কর্য খোদিত।
ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণে মূল সংস্কারসমূহ (Key Reforms Enabling Private Participation)
বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ উন্মোচন করতে ভারত সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রবর্তন করেছে।
ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি ২০২৩ (Indian Space Policy 2023)
এই নীতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে (NGEs) মহাকাশ শৃঙ্খলে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। এটি প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন এবং শান্তিপূর্ণ অনুসন্ধানের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উৎসাহিত করে।
সিঙ্গল-উইন্ডো স্পেস রেগুলেটর (Single-Window Space Regulator)
'ইন-স্পেস' (IN-SPACe) সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মহাকাশ কার্যক্রমের অনুমোদন ও প্রচারের জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত সিঙ্গল-উইন্ডো সংস্থা হিসাবে কাজ করছে। এটি ইসরোর (ISRO) সুযোগ-সুবিধা, প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। এবছর জুন পর্যন্ত, ইন-স্পেস ৪,৫০০টিরও বেশি সংস্থাকে নিবন্ধিত করেছে, ১৩৩টিতে অনুমোদন দিয়েছে এবং ১০৬টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া, ২০২৫-এ এটি ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলিতে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সুবিধা করে দেয়। এবছর জুন মাসের মধ্যে এটি ১১৮টি প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি রূপায়ণের ব্যবস্থা সহজতর করেছে।
বেসরকারি বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করা (Catalysing Private Investment)
* **ইন-স্পেস সিড ফান্ড স্কিম (IN-SPACe Seed Fund Scheme):** এটি মহাকাশ-কেন্দ্রিক স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলিকে প্রাথমিক পর্যায়ের আর্থিক সহায়তা করবে এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে। এটি কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নগর উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযুক্তিতে কাজ করা স্টার্টআপগুলিকে অর্থায়ন করবে।
* **১,০০০ কোটি টাকার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (VC) ফান্ড:** ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের মেয়াদে এই তহবিল গঠিত হবে। এর বার্ষিক বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ১০০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি টাকার মধ্যে, যেটি দেশীয় স্টার্টআপ উৎপাদনে সহায়তা করবে।
* **৫০০ কোটি টাকার টেকনোলজি অ্যাডপশন ফান্ড (TAF) বা প্রযুক্তি গ্রহণ তহবিল:** বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা সৃষ্ট দেশীয় মহাকাশ প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ দ্রুততর করতে ইন-স্পেস এটি চালু করেছে। এটি স্টার্টআপ ও এমএসএমই-র জন্য প্রকল্পের খরচের ৬০% পর্যন্ত এবং বড় শিল্পের জন্য প্রকল্পের খরচের ৪০% পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা প্রতি প্রকল্প) অর্থায়ন করে।
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির বাণিজ্যিকীকরণ (Commercialisation of India's Space Programme)
ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি ২০২৩-তে ইসরোর বাণিজ্যিক শাখা হিসাবে 'নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড' (NSIL)-এর ভূমিকা ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে। এনএসআইএল বাণিজ্যিক নীতি মহাকাশ ব্যবস্থা সৃষ্টি ও এ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে। বিগত বছরগুলিতে এনএসআইএল-এর রাজস্ব ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির সাহায্যে ইসরো উন্নত প্রযুক্তি শিল্প স্থানান্তরিত করতে পেরেছে। এ বছর জুলাই পর্যন্ত, এনএসআইএল মোট ১৪১টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে, যার মধ্যে ১৩৮টি আন্তর্জাতিক/গ্রাহক উপগ্রহ এবং তিনটি ভারতীয়।
মহাকাশ ক্ষেত্রের জন্য উদারীকৃত এফডিআই নীতি (Liberalised FDI Policy for Space)
মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) নীতিকে আরও বিনিয়োগকারী-বান্ধব করার প্রয়াসে উদারীকরণের পথ গ্রহণ করা হয়েছে:
| ক্ষেত্র/কার্যক্রম (Sector/Activity) | ক্ষেত্রভিত্তিক সীমা (Sectoral Cap) | প্রবেশের নির্দিষ্ট পথ (Entry Route) |
|---|---|---|
| উপগ্রহ উৎপাদন ও পরিচালনা, স্যাটেলাইট ডেটা, গ্রাউন্ড সেগমেন্ট এবং ইউজার সেগমেন্ট | ১০০% | ৭৪% পর্যন্ত: স্বয়ংক্রিয় (Automatic)
৭৪%-এর বেশি: সরকারি রুট |
| উৎক্ষেপণ যান এবং সংশ্লিষ্ট সিস্টেম বা সাবসিস্টেম, মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ও গ্রহণের জন্য স্পেসপোর্ট তৈরি | ১০০% | ৪৯% পর্যন্ত: স্বয়ংক্রিয় (Automatic)
৪৯%-এর বেশি: সরকারি রুট |
| উপগ্রহ, গ্রাউন্ড সেগমেন্ট এবং ইউজার সেগমেন্টের উপাদান এবং সিস্টেম/সাবসিস্টেম উৎপাদন | ১০০% | ১০০% পর্যন্ত: স্বয়ংক্রিয় (Automatic) |
নীতি থেকে অগ্রগতি (From Policy to Progress)
সরকারি সংস্কারগুলি উৎক্ষেপণ পরিষেবা, দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে
* **LVM3 মিশন:** ২০২২ সালের অক্টোবরে এনএসআইএল ভারতের প্রথম নিবেদিত বাণিজ্যিক LVM3 মিশন সম্পন্ন করে ৩৬টি ওয়ানওয়েব (OneWeb) স্যাটেলাইট নিম্ন কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করে।
* **বিক্রম-এস (Vikram-S):** ২০২২ সালের নভেম্বরে 'মিশন প্রারম্ভ'-এর অধীন বিক্রম-এস রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ছিল ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি রকেট এবং ইন-স্পেস দ্বারা অনুমোদিত দেশের প্রথম বেসরকারি উৎক্ষেপণ।
* **অগ্নিকুল কসমস (Agnikul Cosmos):** ২০২৪ সালের মে মাসে শ্রীহরিকোটার প্রথম বেসরকারি উৎক্ষেপণ প্যাড ('ধনুশ') থেকে রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি প্রথম বেসরকারি উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। এই মিশনের আওতায় বিশ্বে প্রথম একক থ্রিডি-প্রিন্টেড সেমি-ক্রায়োজেনিক রকেট ইঞ্জিন প্রদর্শিত হয়।
* **আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কনসর্টিয়াম:** ইন-স্পেস একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যেটি নক্ষত্রমণ্ডলীর প্রয়োজনে একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে পিক্সেল (Pixxel), ধ্রুব স্পেস, স্যাটসিওর অ্যানালিটিক্স ইন্ডিয়া এবং পিয়ারসাইট স্পেস।
* **প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ:** ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ইন-স্পেস হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেডের (HAL) কাছে ১০ বছরের জন্য ৫১১ কোটি টাকা মূল্যের এসএসএলভি (SSLV) প্রযুক্তি হস্তান্তর করার ব্যবস্থা সরল করেছে। এছাড়া, বেলাট্রিক্স এরোস্পেস ডিআরডিও-র প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিলের অধীনে একটি অভ্যন্তরীণ গ্রীন প্রোপালশন সিস্টেম তৈরী করে সফলভাবে সেটির কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে পেরেছে।
আগামী দিনের পথ (The Road Ahead)
ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি ২০২৩, উদারীকৃত এফডিআই নীতি এবং সাফল্যমন্ডিত উদ্যোগের সাহায্যে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্র আজ এক নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। মিশন আগমনের অধীনে বিক্রম-১-এর উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি, ভারত আগামী দিনে বিশ্বের এক শীর্ষস্থানীয় মহাশক্তিধর দেশ হিসাবে এবং আগামী মহাকাশ অর্থনীতির এক প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়ার জন্য প্রস্তুত।
তথ্যবিবরণী
Department of Space
Lok Sabha Secretariat
Indian Space Research Organization
In-SPACe
NewSpace India Ltd (NSIL)
Skyroot Aerospace (X)
The European Space Agency
Click here to see pdf
SSS/PK..
(रिलीज़ आईडी: 2286215)
आगंतुक पटल : 17