রেল মন্ত্রক
ভারতে প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল ট্রেন রেল পরিবহনে সবুজ বিপ্লবের সূচনা
ধোঁয়াবিহীন প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত, ২,৬০০ যাত্রী ধারণক্ষম হাইড্রোজেন ট্রেন প্রস্তুত
জিন্দ-সোনিপত রুটে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন, বহুস্তরীয় সুরক্ষা
प्रविष्टि तिथि:
16 JUL 2026 11:14AM by PIB Agartala
নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই,২০২৬: ভারতীয় রেল দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল চালিত ট্রেন চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রায় ২,৬০০ যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ১০ কোচের এই ট্রেনটি সুস্হায়ী ও পরিবেশবান্ধব। রেল পরিবহনের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। রেল মন্ত্রকের মতে, হাইড্রোজেন ব্যবহার করে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে চলবে এই ট্রেন।বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলক বা সীমিত পরিসরে হাইড্রোজেন ট্রেন চালু থাকলেও সেগুলির অধিকাংশই দুই থেকে চার কোচের। সেই তুলনায় ভারতীয় রেলের ১০ কোচের এই ট্রেন উচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতার কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ট্রেনটি প্রাথমিকভাবে উত্তর রেলের জিন্দ-সোনিপত সেকশনে চলবে। ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে ট্রেনটির পরিচালন গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার এবং নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। ট্রেনটিতে দুটি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি ট্রেলার কোচ রয়েছে। প্রতিটি পাওয়ার কারে ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণ সিলিন্ডার স্থাপন করা হয়েছে। প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের সিলিন্ডারে সঞ্চিত হাইড্রোজেন বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধোঁয়া বা কার্বন নির্গমন হবে না, একমাত্র উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হবে জলীয় বাষ্প। ফলে এটি ভারতীয় রেলের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হাইড্রোজেনের দাহ্য বৈশিষ্ট্যের কারণে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেন ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোতে হাইড্রোজেন লিকেজ, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা, আগুন ও ধোঁয়া শনাক্তকরণের জন্য অত্যাধুনিক সেন্সর বসানো হয়েছে। তাছাড়া রয়েছে স্বয়ংক্রিয় শাটডাউন ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বায়ুচলাচল, জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং লোকো পাইলটের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ করে দিতে সক্ষম।


এই প্রকল্পকে সমর্থন করার জন্য হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে ইলেক্ট্রোলাইসিস পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন উৎপাদন, সংরক্ষণ, সংকোচন এবং ট্রেনে সরবরাহের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে। একবারে প্রায় ৩,০০০ কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে এই কেন্দ্রে।

রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, হাইড্রোজেন ইকোসিস্টেমটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এন.এফ.পি.এ - ২ এবং আই.এস.ও ১৯৮৮০ অনুসারে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি জার্মানির স্বনামধন্য সংস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা মূল্যায়নও সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করার পরই ট্রেনটিকে পরিচালন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত ঘোষণা করা হয়েছে।

ভারতীয় রেল জানিয়েছে, জিন্দ-সোনিপত প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কালকা-শিমলা সহ আরও কয়েকটি রুটে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। জাতীয় সবুজ হাইড্রোজেন মিশন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি নেট-জিরো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই উদ্যোগ ভারতকে সুস্হায়ী রেল পরিবহনে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
*****
PS/PKS/KMD
(रिलीज़ आईडी: 2285330)
आगंतुक पटल : 6