শিল্পওবাণিজ্যমন্ত্রক
ভারত-যুক্তরাজ্য সিইটিএ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি কার্যকর হলো
प्रविष्टि तिथि:
15 JUL 2026 7:54PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১৫ জুলাই, ২০২৬
ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে 'কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট' এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি—যা 'ডাবল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন' নামেও পরিচিত—আজ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো। এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
সিইটিএ কার্যকর হওয়া উপলক্ষে নয়াদিল্লির বাণিজ্য ভবনে একটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের উচ্চ আয়ুক্ত শ্রীমতী লিন্ডি ক্যামেরন, বাণিজ্য সচিব শ্রী রাজেশ আগরওয়াল, বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক মহানির্দেশক, শিল্প রপ্তানি উন্নয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের সদস্য এবং একাধিক রপ্তানিকারক।
এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল বলেন যে, ভারত-যুক্তরাজ্য সিইটিএ এবং সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তি কার্যকর হওয়া ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্ণায়ক মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই চুক্তিগুলি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে এবং মোট বাণিজ্য মূল্যের প্রায় ১০০ শতাংশই এর আওতাভুক্ত হয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তিটি বস্ত্র, চামড়া, রত্ন ও গয়না, কারিগরি পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য, রাসায়নিক এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মতো ক্ষেত্রগুলির জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং একইসঙ্গে এমএসএমই, কৃষক ও উৎপাদনকারীদের উপকৃত করবে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি, পেশাগত পরিষেবা, আর্থিক পরিষেবা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভারতীয় মেধাবীদের যাতায়াতের বা কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।
শ্রী গোয়েল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তিটি অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এর আওতায় যুক্তরাজ্যে সাময়িক কাজের জন্য যাওয়া ভারতীয় পেশাজীবীদের পাঁচ বছর পর্যন্ত দ্বৈত সামাজিক নিরাপত্তা অবদান প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে, যা ভারতীয় কর্মীবাহিনীর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। তিনি এই যুগান্তকারী চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিষ্ঠা প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং উভয় দেশের আলোচনা-প্রস্তুতকারী দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও যৌথ সমৃদ্ধি ত্বরান্বিতকারী একটি শক্তিশালী ও উদ্ভাবন-চালিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উভয় দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বাণিজ্য সচিব শ্রী রাজেশ আগরওয়াল সিইটিএ কার্যকর হওয়াকে ভারত-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক গভীর করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং বাণিজ্য বিভাগের যাত্রাপথে অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত-যুক্তরাজ্য অংশীদারিত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর যে লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, এই চুক্তিটি তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি, আলোচনা প্রক্রিয়াকে সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েলের নেতৃত্বের তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাণিজ্য সচিব এই আলোচনার বিশাল ব্যাপ্তি ও জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং জানান যে, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার আগে আলোচনার ১৪টি আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে ৮০০টিরও বেশি কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ফলাফল অর্জনে উভয় পক্ষের আলোচনা-সংশ্লিষ্ট দলগুলো যে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তিনি তার জন্য তাদের প্রশংসা করেন।
শ্রী আগরওয়াল উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তিটি দুটি বৃহৎ ও একে অপরের পরিপূরক অর্থনীতির মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে এবং এর আওতা ও গভীরতার দিক থেকে এটি ভারতের পূর্ববর্তী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলির তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত। তিনি বলেন, পণ্য বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাজার-প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি এই চুক্তিটি পরিষেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করবে। ভারতের জিডিপির ৫০ শতাংশেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের জিডিপির ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ পরিষেবা ক্ষেত্র থেকে আসে, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিনি বলেন, চুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতি ও নিশ্চয়তা আগামী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক পরিষেবা বাণিজ্যে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে।
বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে শ্রী আগরওয়াল বলেন, কর্মসংস্থান, জীবিকা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে উভয় দেশের মানুষের জীবনে যে প্রভাব পড়বে, তার ভিত্তিতেই এই চুক্তির প্রকৃত সাফল্য পরিমাপ করা হবে। তিনি শিল্প-সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন চুক্তির ফলে সৃষ্ট সুযোগগুলিকে বাস্তবায়িত করা যায়। তিনি আশ্বাস দেন, বাণিজ্য বিভাগ সারা দেশের রপ্তানি উন্নয়ন পরিষদ এবং শিল্পগুচ্ছগুলির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে যাতে ক্ষেত্রীয়, পণ্য ও গুচ্ছ পর্যায়ে এই চুক্তির সুফলগুলি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা যায়।
বাণিজ্য সচিব জানান যে, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে চুক্তিটি কার্যকর করার সিদ্ধান্তটি উভয় দেশের নেতারা ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের অবসরে আয়োজিত বৈঠকে নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত অমীমাংসিত বিষয় সমাধান করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ থেকেই প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা যাতে প্রথম দিন থেকেই চুক্তির সুবিধা গ্রহণ শুরু করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য 'রুলস অফ অরিজিন' সনদ ও কাস্টমস প্রস্তুতির ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় বাণিজ্য-সহায়ক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত-যুক্তরাজ্য সিইটিএ-এর আওতায় বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই যুক্তরাজ্যে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে আশাপ্রকাশ করে বলেন যে, এই চুক্তির ধারাবাহিক ব্যবহার ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্যকে শক্তিশালী করবে এবং বর্তমানে বিবেচনাধীন অন্যান্য বাণিজ্য উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ জোগাবে।
চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি উদযাপনের লক্ষ্যে সারা দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ভারত-যুক্তরাজ্য সিইটিএ-এর বিশেষ শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় প্রথম রপ্তানি চালানগুলির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। দিনভর ভারতজুড়ে ২০টিরও বেশি বন্দর, বিমানবন্দর, অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং কারখানা থেকে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের ৫০টিরও বেশি রপ্তানি শুরু করা হয়। এই চালানগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ এবং রত্ন ও গহনার মতো বিবিধ পণ্য; মুন্দ্রা, নাভা শেভা ও চেন্নাইয়ের সমুদ্রবন্দর এবং মুম্বাই, কলকাতা ও হায়দ্রাবাদের এয়ার কার্গো কমপ্লেক্সের মতো বিভিন্ন স্থান থেকে এগুলো পাঠানো হয়।
এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত উচ্চ আয়ুক্ত শ্রীমতী লিন্ডি ক্যামেরন এই চুক্তি কার্যকর হওয়াকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক এবং যুক্তরাজ্য ও ভারতের মধ্যকার উন্নত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাজ্য ও ভারতের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ভারত যুক্তরাজ্যের একাদশ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উভয় দেশের মধ্যকার বিনিয়োগ সম্পর্ক ৭ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করছে।
শ্রীমতী ক্যামেরন বলেন, এই চুক্তি এমন একটি কাঠামো প্রদান করবে যা উভয় দেশের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং যৌথভাবে বৃদ্ধির সুযোগ করে দেবে। তিনি এটিকে একটি বৃহত্তর, অধিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক অংশীদারিত্বের পথে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তির ফলে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৫ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং এটি যুক্তরাজ্য ও ভারতের জিডিপিতে প্রতি বছর প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি উভয় দেশের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য বাণিজ্যকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৯৯ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যা যুক্তরাজ্যে ভারতের প্রায় সমস্ত রপ্তানি পণ্যকে আওতাভুক্ত করবে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলি ৯০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্ক হ্রাস বা বাতিলের সুবিধা পাবে, যা ভারতে যুক্তরাজ্যের বর্তমান রপ্তানির ৯২ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।
শ্রীমতী ক্যামেরন জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তিটি কেবল পণ্য বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শুল্ক প্রক্রিয়া, ডিজিটাল বাণিজ্য, আর্থিক পরিষেবা, টেলিযোগাযোগ, মেধা সম্পদ, পেশাগত পরিষেবা, স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তিটি উন্নত উৎপাদন, খাদ্য ও পানীয়, জীবন বিজ্ঞান, জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য, বস্ত্র ও পোশাক, কারিগরি পণ্য, সামুদ্রিক পণ্য এবং রাসায়নিকের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং উপভোক্তাদের জন্য এর সুফলের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি এসএমই-গুলিকে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে উপভোক্তাদের জন্য অধিকতর পছন্দ, জোরালো প্রতিযোগিতা এবং উন্নত মানের পণ্য ও পরিষেবা নিশ্চিত করবে।
চুক্তিটি এখন আলোচনা ও স্বাক্ষরের পর বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে শ্রীমতী ক্যামেরন জানান, নতুন কাঠামোর আওতায় ইতিমধ্যেই উভয় দেশের মধ্যে পণ্য চলাচল শুরু হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক এবং উপভোক্তারা যাতে এর পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চুক্তিটির সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সিইটিএ কার্যকর হওয়ার অংশ হিসেবে, এই চুক্তির আওতায় রপ্তানিকারকদের কাছে প্রথম ‘সার্টিফিকেট অফ অরিজিন’ বা পণ্যের উৎপত্তিস্থল বিষয়ক সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। ‘eCoO 2.0’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্ব-প্রত্যয়ন পদ্ধতিতে এই সনদপত্রগুলি ইস্যু করা হয়েছে। কার্যক্রম শুরুর দিনেই ডিজিটাল ও স্ব-প্রত্যয়ন-ভিত্তিক পদ্ধতিতে এই সনদপত্র প্রদানের বিষয়টি বিশেষ করে এমএসএমই-গুলির জন্য কমপ্লায়েন্স বা বিধিনিয়ম পালনের বোঝা ও লেনদেন-সংক্রান্ত খরচ কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শিল্প সংগঠন, রপ্তানি উন্নয়ন পরিষদ এবং রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিরা এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, শুল্কমুক্ত সুবিধা, সেই সঙ্গে সনদপত্র সংগ্রহের সহজ প্রক্রিয়া এবং ব্যবসা-বান্ধব ‘রুলস অফ অরিজিন’ বা উৎপত্তিস্থল-সংক্রান্ত নিয়মাবলী—এসবের সমন্বয়ে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
শিল্প ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তিটি ভারতীয় পণ্যকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত বাজারে প্রবেশের অধিকতর সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তিটি অন্যান্য দেশের প্রতিযোগীদের তুলনায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য একটি সম-সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
শিল্প ক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দ আরও তুলে ধরেন যে, শ্রম-নিবিড় খাতগুলোকে চাঙ্গা করার মাধ্যমে এই চুক্তিটি নারী উদ্যোক্তা, এমএসএমই, তরুণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে; যার ফলে মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
মুম্বাইতে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উপস্থিতিতে মহারাষ্ট্র সরকার ‘ইন্ডিয়া-ইউকে সিইটিএ’-র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আয়োজন করে। এই চুক্তির আওতায় অগ্রাধিকারভিত্তিক বাণিজ্য শুরুর বিষয়টি উদযাপনের লক্ষ্যে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যের ডেপুটি হাই কমিশনার প্রতীকীভাবে পণ্যবাহী ট্রলি বিনিময় করেন। এই ট্রলিগুলিতে ভারত ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন পণ্যের বিশেষ বাক্স সাজানো ছিল।
SC/AP/SKD
(रिलीज़ आईडी: 2285317)
आगंतुक पटल : 4