নিতি আয়োগ
azadi ka amrit mahotsav

ভারতের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে অটল ইনোভেশন মিশন সুমবাদ - উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শাখা ২০২৬

प्रविष्टि तिथि: 15 JUL 2026 12:36PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ১৫ জুলাই ২০২৬: ভারতের উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল। আর এই উপলক্ষে নীতি আয়োগের ‘অটল ইনোভেশন মিশন’ (এআইএম) গুয়াহাটিতে আয়োজন করেছে ‘রিজিওনাল এইম সুমবাদ –নর্থ ইস্ট চ্যাপ্টার ২০২৬’ -এর। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নীতি-নির্ধারক সহ রাজ্য সরকার, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ইনকিউবেটর এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে। আলোচনার লক্ষ্য ছিল অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও ত্রিপুরা- এই আটটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে উদ্ভাবন-চালিত প্রবৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরি করা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্রমবিকাশমান ভূমিকা এবং সেই সাথে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বাঁশ-সম্পদ, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও দ্রুত বর্ধনশীল উদ্যোক্তা-পরিবেশের মতো বিষয়গুলোর কারণে এই সম্মেলনটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। এই অনন্য শক্তিগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে, এআইএম -এর আঞ্চলিক কার্যক্রম ভারতের উদ্ভাবন-চালিত প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’ -এর লক্ষ্য অর্জনের এক অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে এই অঞ্চলের অবস্থানকে পুনরায় সুদৃঢ় করেছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের সদস্য ড. জোরাম আনিয়া। এছাড়াও আসাম সরকারের কমিশনার ও সচিব সেখানে বিশেষ ভাষণ প্রদান করেছেন। এখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. আনিয়া ভারতের অগ্রযাত্রায় অনন্য শক্তি ও বিপুল সম্ভাবনাময় আটটি রাজ্যকে নিয়ে গঠিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ‘অষ্ট লক্ষ্মী’ অভিধাটির কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। এই অঞ্চলের প্রতি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের অভূতপূর্ব মনোযোগ প্রদান করার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি, যার প্রতিফলন দেখা যায় নীতি আয়োগের সাথে এই আটটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা এবং পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গৃহীত উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের মধ্যে দিয়ে। ‘অ্যাক্ট ইস্ট টু অ্যাক্ট ফাস্ট’ -এর মতো দৃষ্টিভঙ্গি যে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলেছে, তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল আজ ভারতের উন্নয়ন কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে এবং উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা-সংস্কৃতি ও সুস্থায়ী প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলটি একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে ওঠতে পারে।

অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে নীতি আয়োগের ‘অটল ইনোভেশন মিশন’ (এআইএম)-এর অর্থ বিভাগের প্রধান সুমিত গখর এই অঞ্চলের উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার, উদ্ভাবন-সহায়ক প্রতিষ্ঠান, ইনকিউবেটর এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে এআইএম-এর অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

নীতি আয়োগের ‘অটল ইনোভেশন মিশন’-এর মিশন ডিরেক্টর দীপক বাগলা বলেছেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘অষ্ট লক্ষ্মী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এটি এমন একটি অঞ্চল যার বিপুল প্রতিভা, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উদ্যোক্তা-সুলভ মানসিকতা ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর পথে ভারতের যাত্রায় এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।‘ ‘অটল ইনোভেশন মিশন’-এ উদ্ভাবকদের সহায়তা প্রদান, ইনকিউবেশন ইকোসিস্টেম বা উদ্ভাবন-সহায়ক পরিবেশকে শক্তিশালী করা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের এমন সব সমাধান উদ্ভাবনে সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  শ্রী বাগলা বলেন, যখন উদ্ভাবন স্থানীয় শক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং ‘সবকা প্রয়াস’ বা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার দ্বারা চালিত হয়, তখন উত্তর-পূর্বাঞ্চল কেবল ভারতের অগ্রগতির যাত্রায় অংশগ্রহণই করবে না, বরং সেই যাত্রাকে নেতৃত্ব দিতেও সহায়তা করবে।"

"এই অঞ্চলের উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্রের অংশীজনদের সক্রিয় করার" বিষয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্য পরিষদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ (ডিএসটি), জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ (ডিবিটি), অটল ইনকিউবেশন সেন্টার (এআইসিএস) এবং অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টার (এসিআইসিএস-এর প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই আলোচনাগুলোতে যৌথ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গতিশীলতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে এবং আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষার সাথে জাতীয় উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্য বিধানের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে রাজ্যের উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে বিশেষ অধিবেশন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল যেসব ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ভোগ করে, সেসব খাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নর্থ ইস্ট কেইন অ্যান্ড ব্যাম্বু ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনইসিবিডিসি) বরিষ্ট বিজ্ঞানী ও পরামর্শক ড. তিলক চন্দ্র ভূঁইয়া বাঁশ ও জৈব-সম্পদভিত্তিক ভ্যালু চেইন বা মূল্য-শৃঙ্খলকে বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন। এমবিএমএ -এর ‘প্রাইম মেঘালয়’)-এর প্রকল্প প্রধান মিনহা রিয়াজ খান প্রযুক্তি-নির্ভর ও সুস্থায়ী পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। অন্যদিকে, রয়্যাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ‘এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিভাগের অধিকর্তা, ‘মার্গদর্শক অ্যাডভাইজরি’-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং এনইএইচএইচডিসি (এনইএইচডিসি)-র প্রাক্তন পরামর্শক ড. শ্রীপর্ণা ভূঁইয়া বড়ুয়া ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও হস্তশিল্প ক্লাস্টারগুলোতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের জীবিকা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

এই অঞ্চলের ইনকিউবেশন ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা সম্মেলনের আরেকটি প্রধান লক্ষ্য ছিল। এআইসি-সেলকো ফাউন্ডেশনের সহযোগী পরিচালক রচিতা মিশ্রের সঞ্চালনায় একটি প্যানেলে একত্রিত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন আইআইটি গুয়াহাটির গ্রুপ সিইও কর্নেল প্রবীর সেনগুপ্ত; মায়ারিয়াডএআই এবং গোবিলিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রোশন ফারহান; এসএনএল এনার্জি সলিউশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৈরাংথেম শেঠ; এবং অটল ইনোভেশন মিশনের প্রোগ্রাম লিড প্রতীক দেশমুখ। ধারণা পর্যায় থেকে শুরু করে স্টার্টআপগুলোকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সহায়তা করতে সক্ষম একটি স্থিতিস্থাপক ইনকিউবেশন ইকোসিস্টেম তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন তাঁরা।

এআইসি এসএমইউ টিবিআই-এর সিইও ড. তেজ চিংথাম-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত আরেকটি প্যানেল আলোচনায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্টার্টআপগুলোর জন্য অর্থায়ন, করপোরেট অংশীদারিত্ব এবং বাজার সংযোগের সুযোগ সৃষ্টির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় অংশ নেন এইচডিএফসি ব্যাংকের ‘নিউ ইকোনমি গ্রুপ’-এর প্রধান ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আশিস আগরওয়াল; নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের করপোরেট পরিকল্পনা ও কৌশল বিভাগের প্রধান প্রান্ত প্রতিম সিংহ; নেডফি-এর পরিচালক সিদ্ধার্থ পি. লাহকর এবং টাটা ফাউন্ডেশনের ‘সেন্টার ফর মাইক্রোফাইন্যান্স অ্যান্ড লাইভলিহুড’-এর জেনারেল ম্যানেজার কৌটিল্য বসুমাতারি। তাঁরা এই অঞ্চলের উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ব্যবস্থা বা ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

উদ্যোগ ও স্থানীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়। এই পর্বটি সঞ্চালনা করেছিলেন রচিতা মিশ্র এবং এতে অংশ নেন ‘ইআরইএস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ফজলে এলাহি এবং ‘এডুসেন্টার’ -এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সেইয়েলেজো পুটসুরে। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নীতি আয়োগের ‘অটল ইনোভেশন মিশন’-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রতীক দেশমুখ।

উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে সফল কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায়, 'রিজিওনাল এআইএম সুমবাদ – উত্তর-পূর্বাঞ্চল অধ্যায় ২০২৬' ছিল ' সুমবাদ' সিরিজের অন্যতম কৌশলগত ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি আয়োজন। নীতি-নির্ধারক, রাজ্য সরকার, ইনকিউবেটর, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্যোক্তাদের একটি অভিন্ন মঞ্চে একত্রিত করার মাধ্যমে এই সম্মেলনটি এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে 'অটল ইনোভেশন মিশন'-এর প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে, যা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনন্য শক্তির ওপর ভিত্তি করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা-মনস্কতার চালিকাশক্তিতে পরিচালিত এই উদ্যোগটি 'বিকশিত ভারত @২০৪৭'-এর লক্ষ্যে ভারতের অগ্রযাত্রায় এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

*****

PS/DM/KMD


(रिलीज़ आईडी: 2284922) आगंतुक पटल : 6
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Tamil , Telugu