প্রতিরক্ষামন্ত্রক
কার্গিল বিজয় দিবস ২০২৬: জাতীয় যুদ্ধ স্মারক থেকে কার্গিল যুদ্ধ স্মারক পর্যন্ত মোটরসাইকেল অভিযানের সূচনা করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
प्रविष्टि तिथि:
14 JUL 2026 1:00PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই, ২০২৬
এবছর দেশজুড়ে ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ উদযাপনের অংশ হিসেবে, ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং নতুনদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মারক থেকে লাদাখের দ্রাসে অবস্থিত কার্গিল যুদ্ধ স্মারক পর্যন্ত ১৩ দিনব্যাপী ‘শৌর্য বিজয় যাত্রা’র সূচনা করেন। এটি একটি স্মারক মোটরসাইকেল অভিযান। এই অভিযানে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্য এমন ২৮ জন আরোহী অংশ নিচ্ছেন। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে জয়লাভকারী ভারতীয় বীরদের সাহস, দৃঢ় সংকল্প ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা উত্তর হিমালয়ের দুর্গম ভূখণ্ড পাড়ি দিয়ে ১,৯০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবেন। এই অভিযানের মূলমন্ত্র হলো—‘এক রাইড, এক দেশ, এক স্যালুট’।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের বীর সৈনিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, তাঁরা সাহস, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও অতুলনীয় দেশপ্রেমের এমন এক সোনালী অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, “প্রায় ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় এবং হিমাঙ্কের নিচে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আমাদের সৈনিকরা সাহস ও অদম্য মনোবল নিয়ে তাঁদের লক্ষ্য অর্জন করেছেন। তাঁরা শত্রুর কবল থেকে প্রতিটি শৃঙ্গ, পাহাড় ও বাঙ্কার পুনরুদ্ধার করেছেন এবং ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এই বিজয় ভারতের সেই অটুট সংকল্পেরই প্রতিফলন। এ হল আমাদের ভূমি, পরিচিতি ও সম্মানের দিকে ধেয়ে আসা যেকোনো শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টির মোকাবিলায় পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়ার সংকল্প।”
শ্রী রাজনাথ সিং যুদ্ধের বিজয়ে অমূল্য অবদান রাখার জন্য পরম বীর চক্র বিজয়ী ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা, লেফটেন্যান্ট মনোজ কুমার পান্ডে, সুবেদার মেজর যোগেন্দ্র সিং যাদব (অবসরপ্রাপ্ত) এবং সুবেদার মেজর সঞ্জয় কুমার (অবসরপ্রাপ্ত)-সহ ভারতের সকল বীর যোদ্ধার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে, এই বীর সৈনিকরা যুবসমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস এবং তাঁরা ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবেন।
বাইক আরোহীরা যাত্রাপথে চণ্ডীমন্দির যুদ্ধ স্মারক, রেজাং লা যুদ্ধ স্মারক এবং লেহ যুদ্ধ স্মারকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্মৃতিসৌধগুলিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়াও, তাঁরা ‘বীর নারী’দের (শহীদ সৈনিকদের পত্নী)সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং তাঁদের সাহস ও অদম্য মনোবলকে সম্মান জানাবেন। ২৬ জুলাই, ২০২৬ তারিখে কার্গিল বিজয় দিবসে কার্গিল যুদ্ধ স্মারকে এই অভিযানের শেষ হবে।
এই অভিযানের সময় অংশগ্রহণকারী বাইক-আরোহীরা 'ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল' বা জাতীয় যুদ্ধ স্মারক থেকে সংগৃহীত পবিত্র মাটি বহন করবেন। কারগিলে শহীদ বীরদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই মাটি উৎসর্গ করা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "এখানকার মাটি যখন কারগিলের মাটির সঙ্গে মিশে যাবে, তখন তা দেশের বর্তমান প্রজন্মের শ্রদ্ধা এবং জাতীয় বীরদের বীরত্বের এক অপূর্ব সংমিশ্রণকে তুলে ধরবে।"
'শৌর্য বিজয় যাত্রা'-র একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে শ্রী রাজনাথ সিং বলেন যে, এই অভিযান দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মরত সেনা আধিকারিক, প্রবীণ সৈনিক এবং সাধারণ নাগরিকদের একত্রিত করছে। তিনি বলেন, "ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি, ভাষা ও ঐতিহ্য তবুও একটিই ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা, একটিই দেশ এবং আমাদের বীরদের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা, এটাই আমাদের দেশের প্রকৃত পরিচয়।"
পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে যাত্রার সূচনা অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এনসিসি)-এর ক্যাডেটদের উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন যে, এই অভিযান জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে দেশপ্রেমের এক নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলবে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেবে যে, দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার বিষয়টি কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আমাদের স্মৃতি ও মূল্যবোধের মধ্যেও নিহিত।
অনুষ্ঠানে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রামানি, সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। 'শৌর্য বিজয় যাত্রা' 'অপারেশন বিজয়'-এর সময় প্রদর্শিত মূল্যবোধগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতিকেই প্রতিফলিত করে। সাহসিকতার এই যাত্রাপথকে পুনরায় অনুসরণ করার মাধ্যমে, এই অভিযান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্তব্যবোধ, সম্মান এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে।
SC/PM/SB
(रिलीज़ आईडी: 2284418)
आगंतुक पटल : 8