স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ নতুন দিল্লিতে জয়প্রকাশ নারায়ণ লাইব্রেরির উদ্বোধন করেছেন

प्रविष्टि तिथि: 11 JUL 2026 3:31PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১১ জুলাই ২০২৬

 

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ নতুন দিল্লিতে জয়প্রকাশ নারায়ণ গ্রন্থাগারের উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি রেখা গুপ্তা, দিল্লি সরকারের মন্ত্রী শ্রী পরবেশ বর্মা, নতুন দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) চেয়ারম্যান শ্রী কেশব চন্দ্র এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, এক মহান চিন্তাবিদ বলেছিলেন যে, কোনো জাতির ভবিষ্যৎ তার বাজারের ভিড় কিংবা শিল্পকারখানার সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না; বরং তার গ্রন্থাগারগুলোতে কতজন তরুণ পড়াশোনা করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই তা পরিমাপ করা হয়। তিনি বলেন, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাই হলো সেই সব কর্মকাণ্ডের ভিত্তি যা একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, জাতি গঠনে অবদান রাখে এবং সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করে। তিনি আরও বলেন, গ্রন্থাগারের মাধ্যমেই কেবল এমন জ্ঞান প্রকৃত অর্থে প্রদান করা সম্ভব।

 

শ্রী অমিত শাহ তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা অন্তত একবার হলেও কোনো গ্রন্থাগারের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে। তিনি বলেন, গ্রন্থাগারের সংস্পর্শ মানুষের ব্যক্তিত্বে এক অসাধারণ পরিশীলন ও উৎকর্ষ সাধন করে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যে ছোট শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং শৈশব অতিবাহিত করেছিলেন, সেখানে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই গ্রন্থাগারের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁর জীবনে এক গভীর পরিবর্তন এনেছিল। তিনি বলেন, বই পড়তে পড়তে তিনি কখন যে অলক্ষ্যে বেদ ও উপনিষদ অধ্যয়নের পথে অগ্রসর হয়েছিলেন, তা তিনি নিজেও টের পাননি।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, আজ তিনি মিলনায়তনে একটি লেখা লক্ষ্য করেছেন: "কথা বলার আগে ভাবা উচিত, কারণ কথা একবার বেরিয়ে গেলে আর ফিরে আসে না।" তিনি বলেন, কথা বলার আগে যেমন ভাবা প্রয়োজন, তেমনই কী ভাবতে হবে তা জানার জন্য আগে পড়াশোনা করা জরুরি - আর এই বোধ বা জ্ঞান কেবল গ্রন্থাগারের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

 

শ্রী অমিত শাহ জানান, তাঁর নিজের জীবন গঠনে গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি তাঁর সংসদীয় এলাকায় একটি ছোট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন, যার আওতায় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই একটি করে গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিটিতে গড়ে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ বই রয়েছে। এই গ্রন্থাগারগুলো একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সঙ্গে সংযুক্ত, যেখানে ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়া, চারটি ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার ভ্যানও চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামের শিশুরা গ্রন্থাগারে তাদের পছন্দের বইয়ের নাম লিখে অনুরোধ জানাতে পারে এবং প্রতি শুক্রবার সেই বইগুলো তাদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান যে, প্রতিটি গ্রন্থাগারকে স্থানীয় স্কুলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করারও প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন শহরের সমস্ত গ্রন্থাগারকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় এবং সেগুলোকে স্কুলগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, বইপ্রেমীদের গ্রন্থাগারের প্রতি আকৃষ্ট ও সম্পৃক্ত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। তিনি জয়প্রকাশ নারায়ণ পাবলিক লাইব্রেরির কর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান যেন তাঁরা নতুন দিল্লির আশেপাশের দশটি বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন, তরুণদের গ্রন্থাগারের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং তাদের সেখানে যেতে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, একবার তরুণদের মধ্যে পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে তারা নিজেরাই তা চালিয়ে যাবে।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেন, গ্রন্থাগার মানুষকে জ্ঞানের বিশাল সমুদ্রে ডুব দেওয়ার সাহস জোগায় এবং সেই গভীরতায় লুকিয়ে থাকা মুক্তা ও রত্নরাজি খুঁজে বের করতে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে আবিষ্কৃত জ্ঞানের এই মুক্তা ও রত্নরাজি মানুষের ব্যক্তিত্বকে পরিশীলিত করে, জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং দেশকে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, সংস্কৃতিবান, শিক্ষিত ও নিরাপদ করে তুলতে সহায়তা করে। তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজ যদি সাহিত্যিক রামধারী সিং 'দিনকর'-এর রচনা না পড়ে, তবে তারা ভারতকে প্রকৃত অর্থে বুঝতে পারবে না; আর এমন সব মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানার প্রবেশদ্বার হিসেবে গ্রন্থাগারগুলো কাজ করে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন যে, জয়প্রকাশ নারায়ণ পাবলিক লাইব্রেরিতে ৩২,০০০-এরও বেশি বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে। এই গ্রন্থাগারে গবেষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা, একটি আধুনিক বহুমুখী প্রেক্ষাগৃহ, সমসাময়িক ধাঁচের পড়ার জায়গা, শিশুদের জন্য একটি বিশেষ অঞ্চল (চিলড্রেনস জোন), একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং এক কোটি অনলাইন বই পড়ার সুবিধাযুক্ত একটি ই-লাইব্রেরি রয়েছে। পুরো গ্রন্থাগার চত্বরে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি মনিটরও বসানো হয়েছে, যার ফলে দর্শনার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নোট নেওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্য ডাউনলোড করা এবং নিজেদের চিন্তাভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গ্রন্থাগারটিতে অত্যাধুনিক আরএফআইডি-ভিত্তিক বই ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ওপ্যাক (OPAC বা অনলাইন পাবলিক অ্যাক্সেস ক্যাটালগ)-এর মাধ্যমে এটি ভারতের জাতীয় ডিজিটাল লাইব্রেরির সঙ্গেও সংযুক্ত থাকবে। শ্রী অমিত শাহ তরুণদের তাদের আগ্রহের বিষয়গুলো বেছে নিতে এবং সেই সব ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের কাজ সম্পর্কে পড়াশোনা করতে উৎসাহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখানে এক কোটি ই-বুক পড়ার সুযোগ রয়েছে; ফলে দিল্লির তরুণ-তরুণীদের জন্য বিনামূল্যে এক কোটি ই-বুক এবং ৩২,০০০-এরও বেশি মুদ্রিত বই ব্যবহারের এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

শ্রী অমিত শাহ বলেন, জয়প্রকাশ নারায়ণ (জেপি) ছিলেন একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ ও বিপ্লবী, যিনি সারা জীবন বিভিন্ন মতাদর্শকে আপন করে নিয়েছিলেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তিনি 'ভারত ছাড়ো আন্দোলন'-এর অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি সরকারি পদে যোগ দিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীকালে তিনি সমাজতন্ত্রের আদর্শ গ্রহণ করেন, 'সোশ্যালিস্ট কংগ্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন এবং সারা দেশের গ্রামগুলিতে বিনোবা ভাবের 'ভূদান আন্দোলন' ও 'সর্বোদয়' দর্শনের প্রসারে কাজ করেন। এছাড়া তিনি চম্বল অঞ্চলের ২০০-রও বেশি ডাকাতকে আত্মসমর্পণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

 

শ্রী শাহ বলেন যে জরুরি অবস্থার সময় জেপি (জয়প্রকাশ নারায়ণ) তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, বিহার ও গুজরাটে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’-এর ডাক দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জরুরি অবস্থার সময় জেপি, অটল জি, আডবাণী জি এবং আরও হাজার হাজার নেতাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই সময়েই রামধারী সিং ‘দিনকর’-এর দেওয়া স্লোগান -"অন্ধকারে এক প্রকাশ, জয়প্রকাশ"- সারা দেশজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। ১৯৭৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রায়বেরিলি কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন এবং প্রথমবারের মতো একটি অ-কংগ্রেসি সরকার ক্ষমতায় আসে।

 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লির সমস্ত কিশোর-কিশোরী ও যুবকদের প্রতি ‘জয়প্রকাশ নারায়ণ লাইব্রেরি’র পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান; জ্ঞানপিপাসা মেটানোর লক্ষ্যেই এই লাইব্রেরিটি গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি তরুণদের এই লাইব্রেরির মাধ্যমে নিজেদের জীবন সমৃদ্ধ করতে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে আহ্বান জানান।

 

 

 

SC/SB/AS


(रिलीज़ आईडी: 2283871) आगंतुक पटल : 10
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Bengali-TR , Punjabi , Gujarati , Odia , Tamil , Kannada