প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
प्रविष्टि तिथि:
09 JUL 2026 6:36PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, জুলাই ২০২৬
আমি এই ভূমির পরম্পরাগত মালিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমার বক্তব্য শুরু করতে চাই, যেখানে আমরা একত্রিত হয়েছি, আমি তাঁদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
নমস্কার বন্ধুরা!
আপনারা সবাই কেমন আছেন?
কেমন আছেন?
এই শো হাউসফুল, এটি একটি ব্লকবাস্টার।
আমার বক্তব্য শুরু করার আগে, আমি আপনাদের সকলকে আপনাদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার এবং আমার বন্ধু, প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানাতে আমার সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
বন্ধুরা,
এর আগে সিডনিতে আপনাদের সাথে দুবার আমার দেখা হয়েছে। মেলবোর্নের মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্যও আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। তাই ভেবেছিলাম, এবার মেলবোর্নের মানুষের সাথে এক কাপ 'ফ্ল্যাট হোয়াইট' কফি উপভোগ করব।
বন্ধুরা,
আপনারা এবং আমাদের অস্ট্রেলীয় বন্ধুরা যে উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে আমাদের স্বাগত জানিয়েছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। এক অর্থে, মেলবোর্ন যেন সবার মন জয় করে নিয়েছে।
বন্ধুরা,
আমি আমার বন্ধু এবং ভারতের অকৃত্রিম সুহৃদ, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সিডনিতে আপনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন এবং আজ মেলবোর্নেও ভারতীয় সম্প্রদায়ের মাঝে আপনি আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। একভাবে দেখলে মনে হচ্ছে, আমাদের এই যাত্রাপথ যেন একটি পূর্ণ বৃত্ত সম্পন্ন করল।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামের শহর আহমেদাবাদ এবং আইকনিক স্টেডিয়ামের শহর মেলবোর্ন – আমরা নানাভাবে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। বন্ধুরা, আমরা সবাই দেখেছি যে, প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ যখনই কথা বলেন, তিনি ভারতীয়দের মন জয় করে নেন। সিডনিতে আপনারা ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলেন এবং মেলবোর্নেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন।
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ারকেও তাঁর প্রাণবন্ত বক্তব্যের জন্য এবং ভারতের প্রতি তাঁর উষ্ণতা ও ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বন্ধুরা,
২০১৪ সালে যখন আমি অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলাম, তখন তা ছিল দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবধানে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, আমি তখন বলেছিলাম যে, এমন সফরের জন্য আপনাদের আর কখনও ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে না।
গত ১২ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় এটি আমার তৃতীয় সফর। সহজ কথায়, এবার আমি ‘হ্যাটট্রিক’ করলাম। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক যে অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছেছে, এটি তারই প্রতিফলন। আর জানেন কি, এর জন্য সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব কার? মোদীর নয়। এই কৃতিত্ব আপনাদের সকলের, আমার বন্ধুস্থানীয় ভারতীয় প্রবাসীদের।
বন্ধুরা,
বলা হয়ে থাকে যে, মেলবোর্নে একদিনেই চার ঋতুর অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। তবে ভারতীয় সম্প্রদায় তাঁদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিয়ে এই শহরকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
মেলবোর্ন ও এর আশেপাশের এলাকায় এমন অনেক জায়গা ও বাজার রয়েছে, যা ভারতীয় আমেজে ভরা। কেউ কেউ এগুলিকে ‘লিটল ইন্ডিয়া’ বলেন, আবার কেউ বলেন ‘মিনি ইন্ডিয়া’। নাম যা-ই হোক না কেন, এগুলির প্রতিটিই ভারতীয় সংস্কৃতির রঙে রাঙানো।
সম্প্রতি কেউ একজন আমাকে এমন একটি বাজারের ভিডিও দেখিয়েছিলেন। ভিডিওটিতে বলা হয়েছিল যে, সেখানে সবসময়ই দারুণ সব ছাড় বা ‘সেল’ চলতে থাকে। আর মানুষ কেনাকাটার এমন উন্মাদনায় মেতে ওঠেন যে, কেনাকাটার কোনো ইচ্ছা না থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা ঠিকই কিছু না কিছু কিনে ফেলেন। আমি কি ঠিক বলছি?
বন্ধুরা,
আপনাদের মধ্যে অনেকেই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন, আবার অনেকের জন্ম এখানেই। প্রজন্ম হয়তো বদলেছে, কিন্তু আপনাদের অন্তরের ‘ভারতীয় সত্তা’ সব সময়ই জীবন্ত রয়েছে। আমি নিশ্চিত, আপনাদের অনেকের বাড়িতেই অন্তত দুটি ভিন্ন সময় বা ‘টাইম জোন’ মেনে চলতে হয়। এখানে শিশুরা অস্ট্রেলিয়ার সময় অনুযায়ী স্কুল থেকে ফেরে, আর ভারতে থাকা দাদা-দাদি বা নানা-নানি ভিডিও কলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। এখানে হয়তো উইক-এন্ড, আর আপনারা ভারতে কোনো পারিবারিক বিয়ের লাইভ-স্ট্রিম দেখছেন। দূরত্ব হয়তো হাজার হাজার কিলোমিটার, কিন্তু আপনাদের দৈনন্দিন জীবনধারা ভারতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। আর সেই বন্ধন অটুট রেখেই আপনারা প্রত্যেকে অস্ট্রেলিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রগতির যাত্রায় সর্বান্তকরণে অবদান রেখে চলেছেন। আপনাদের প্রত্যেকের জন্য আমি গর্বিত।
বন্ধুরা,
আমরা ভারতীয়রা এমনই। ঠিক যেমন দুধের সাথে মিশে চিনি তাকে আরও মিষ্টি করে তোলে, তেমনই আমরা ভারতীয়রা যেখানেই যাই, সেখানেই ভালোবাসা ছড়িয়ে দিই।
বাড়ির দুধ হয়তো অস্ট্রেলিয়ার, কিন্তু চা-টা ভারতীয়। শাকসবজি বা ডাল হয়তো অস্ট্রেলিয়া থেকেই এসেছে, কিন্তু সেগুলো রান্না হয় ভারতীয় মশলা দিয়েই।
বন্ধুরা,
আপনারা হয়তো শুনেছেন যে, আজকাল ভারতে 'ভজন ক্লাবিং'-এর মতো একটি নতুন ধারা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আমাদের 'জেন-জি' বা তরুণ প্রজন্মই এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর আমি শুনেছি যে, এখানে অস্ট্রেলিয়াতেও আপনাদের সপ্তাহান্তগুলো ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতায় পরিপূর্ণ থাকে।
কোথাও হয়তো কোনও পরিবার সত্যনারায়ণ কথা বা পূজার আয়োজন করছে; কোথাও গুরুদ্বারে প্রার্থনা চলছে; অন্য কোথাও শিশুরা ভাঙড়া বা ভরতনাট্যম পরিবেশন করছে; আবার কোথাও হয়তো পুরোদমে চলছে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।
আর এখন তো 'ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল'-ও মেলবোর্নের সাংস্কৃতিক কর্মসূচির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই মেলবোর্নে শুরু হতে চলেছে এই ভারতীয় চলচ্চিত্রউৎসব। এর সফল আয়োজনের জন্য আমি আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় উন্নয়নে অবদান রাখছেন। কিন্তু আমি জানি, আপনাদের এক নজর সবসময় ভারতের দিকেই থাকে। ভারতে কী ঘটছে, তার অগ্রগতি, তার গতি এবং তার অর্জন, সবকিছুর ওপরই আপনারা গভীর দৃষ্টি রাখেন।
বন্ধুরা,
একবিংশ শতাব্দীর ভারত একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে, আর তা হল, একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া। এই যাত্রার বিশেষত্ব হল, একটি স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সাথে সাথেই আরেকটি নতুন স্বপ্নের জন্ম হয়।
একটা সময় আমরা বলতাম, "একটি প্রদীপ থেকে আরেকটি প্রদীপ জ্বলে ওঠে, যতক্ষণ না হাজারো প্রদীপ একসাথে আলো ছড়ায়।" আজ আমি বলি: "একটি স্বপ্ন আরেকটি স্বপ্নের পথ দেখায় এবং শীঘ্রই হাজারো স্বপ্নের জন্ম হয়।" প্রতিবার কোনও লক্ষ্য অর্জনের পর, আমরা আরও বড় কোনও লক্ষ্য স্থির করি।
এটিই সেই ভারত যা বিশ্বাস করে: আরও অগ্রগতি, আরও অর্জন।
আমরা ১৪০ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষায় সমৃদ্ধ একটি দেশ। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং আরও বেশি কিছু অর্জনের জন্য উদগ্রীব। আমরা ইতিমধ্যেই বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছি; তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির একটি হয়ে উঠতে চাই। কারণ আমাদের অনুপ্রেরণা অত্যন্ত সহজ: আরও অগ্রগতি, আরও অর্জন।
বন্ধুরা,
আপনারা নিজেরাই দেখেছেন, ভারত সফলভাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে 'চন্দ্রযান' অবতরণ করিয়েছে, যা অন্য কোনও দেশ আগে করতে পারেনি। কিন্তু ভারত সেখানেই থেমে থাকেনি, কারণ ভারত বিশ্বাস করে: আরও অগ্রগতি, আরও অর্জন।
ঠিক এই কারণেই, বন্ধুরা, ভারত এখন মহাকাশে তার 'গগনযান' মিশন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েও আমরা এগিয়ে চলেছি।
বন্ধুরা,
মাত্র কয়েক বছর আগেও ভারতে ৫জি প্রযুক্তি নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। এটি কবে চালু হবে? কীভাবে এর বাস্তবায়ন হবে? এতে কত সময় লাগবে? ২০২২ সালের শেষের দিকে আমরা ৫জি পরিষেবা চালু করি এবং আজ ভারতের ৯৯ শতাংশ জেলায় বিস্তার ঘটেছে। আর বন্ধুরা, আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, বিশ্বের যে সব দেশে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ৫জি পরিষেবা চালু হয়েছে, ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম।
আজ ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ৫জি বাজারে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারত এখন দ্রুতগতিতে 'মেড-ইন-ইন্ডিয়া' ৬জি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে চলেছে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি: আরও অগ্রগতি, আরও অর্জন।
বন্ধুরা,
গত ১২ বছরে ভারতের দুই ডজনেরও বেশি শহরে মেট্রো রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ঘটেছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১ কোটি ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ মেট্রোয় যাতায়াত করেন। ভারতের মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম। কিন্তু আমরা ভারতীয়রা এতেই সন্তুষ্ট নই। আমরা বিশ্বাস করি: আরও অগ্রগতি, আরও অর্জন।
আর তাই আমরা সারা দেশে 'নমো ভারত রেপিড রেল'-এর মত দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা এবং 'বন্দে ভারত'-এর মত সেমি-হাই-স্পিড ট্রেনের পরিসর দ্রুত বৃদ্ধি করছি।
'মেক ইন ইন্ডিয়া' কর্মসূচির সাফল্য এর আরেকটি উদাহরণ। গত ১২ বছরে 'মেক ইন ইন্ডিয়া' একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ভারতে তৈরি মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। আমাদের অটোমোবাইল এবং ওষুধ শিল্পের পণ্যগুলো বিশ্বজুড়ে তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আর আজ বিশ্ব ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রত্যক্ষ করছে।
'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় আপনারা এর নিদর্শন দেখেছেন। বিস্ফোরণগুলি ঘটেছিল সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানায়, কিন্তু তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বিশ্বে। সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিগুলির ওপর চালানো সেই নির্ণায়ক হামলা কি আপনাদের গর্বিত করেছে?
বন্ধুরা,
ভারত কেবল এখানেই থেমে থাকতে চায় না; ভারত বলছে, "আরও উৎপাদন করুন, আরও সাফল্য অর্জন করুন।" তাই আজ ভারতে চিপ থেকে শুরু করে জাহাজ – সবকিছুর জন্য এক নতুন উৎপাদন পরিমণ্ডল বা 'ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম' গড়ে তোলা হচ্ছে।
বন্ধুরা,
ভারতের বিশাল স্বপ্ন ও সাহসী আকাঙ্ক্ষার মূল ভিত্তি হল, এর জনগণ। ভারতের নাগরিকরাই, অর্থাৎ 'আমরা জনগণ', এই স্বপ্নগুলিতে প্রাণশক্তি জোগায়। 'জনগণই সর্বাগ্রে' বা 'নাগরিক দেব ভব'—অর্থাৎ 'নাগরিকই সবার উপরে' – আজকের ভারতের শাসনব্যবস্থার মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে।
একটি উদাহরণ দিই। কয়েক বছর আগেও নথিপত্র বা দলিলা প্রত্যয়িত করানো ছিল একটি সাধারণ নিয়ম। কোনও কিছুর জন্য আবেদন করা বা কোনও সরকারি নথি জমা দেওয়ার আগে আপনাকে প্রথমে একজন সরকারি কর্তার কাছ থেকে তা প্রত্যয়িত করিয়ে নিতে হত।
মানুষকে কেবল নিজেদের পরিচয় প্রমাণ করার জন্য ভোরবেলা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত। কিন্তু আমাদের কাছে নাগরিকই সবার আগে। সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। আজ অধিকাংশ কাজের ক্ষেত্রেই 'স্ব-প্রত্যয়ন'ই যথেষ্ট।
বিশ্বাসের সেই যাত্রাপথ এখন 'ডিজি-লকার'-এর রূপ নিয়েছে; এটি এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভারতীয়রা তাঁদের নথিপত্র নিরাপদে ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণ করতে পারেন। মাত্র এক ক্লিকেই নথিপত্র ভাগ করে নেওয়া, যাচাই এবং গ্রহণ করা সম্ভব।
বন্ধুরা,
সিস্টেম তৈরি করা এক জিনিস। নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতার সাথে এটিকে একটি মাত্রায় নিয়ে যাওয়া একটি বড় অর্জন। আপনি কি জানেন আজ ভারতে কতজন মানুষ ডিজি-লকার ব্যবহার করেন? আমি জানি এটা মনে রাখার মত সহজ সংখ্যা নয়।
আজ পর্যন্ত, ডিজি-লকারের ৭০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছেন। এবং একসঙ্গে, তাঁরা প্ল্যাটফর্মে 850 কোটিরও বেশি নথির সংরক্ষণ করছেন, অর্থাৎ ৮.৫ বিলিয়নেরও বেশি নথি।
বন্ধুরা,
আমাদের 'নাগরিক দেব ভাব' দর্শনের আরেকটি উদাহরণ হল, ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা। আজ, লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের একটি নিরাপদ ডিজিটাল স্বাস্থ্য আইডি রয়েছে, যেখানে তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হয়। এটি রোগ নির্ণয়ের উন্নতি ঘটাতে এবং সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকে আরও দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করছে।
টেলিপরামর্শও দ্রুত বাড়ছে। সরকারের ই-সঞ্জীবনী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, এখন পর্যন্ত ৪৮০ মিলিয়নেরও বেশি টেলিপরামর্শ পরিচালিত হয়েছে। ২২৫,০০০-এরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত।
বন্ধুরা,
এক সময়, আপনারা সবাই অবশ্যই পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। মনে আছে, পাসপোর্ট পেতে কত সপ্তাহ লাগতো? কিন্তু আজ গড়ে মাত্র কয়েক দিনে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এটি নাগরিক-সর্বাগ্রে শাসন। এটি 'নাগরিক দেবো ভব' মন্ত্রের সাফল্য।
বন্ধুরা,
আমি প্রায়ই বলে থাকি যে, ভারত যত শক্তিশালী হবে, সমগ্র মানবজাতির জন্য ততই মঙ্গল বয়ে আসবে। আমাদের চিরন্তন আদর্শ হল—'সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ', যার অর্থ হলো 'সকলেই সুখী ও সমৃদ্ধ হোন'। এই শাশ্বত মূল্যবোধই আজও ভারতের নীতি ও কার্যক্রমকে পরিচালিত করে চলেছে।
বন্ধুরা,
ঠিক গত মাসেই ভেনেজুয়েলায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ভৌগোলিক দূরত্ব আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার মানুষের এই দুর্দশাকে আমরা নিজেদেরই দুর্দশা বলে মনে করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ভারত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছিল।
আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সহায়তা পাঠিয়েছিলাম, আমাদের বিশেষজ্ঞদের সেখানে পাঠিয়েছিলাম এবং আমাদের চিকিৎসকদল কোনও বিলম্ব ছাড়াই কাজ শুরু করে। আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট যে, আমাদের এই প্রচেষ্টার ফলে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল।
বন্ধুরা,
একইভাবে, তুরস্ক ও সিরিয়ায় যখন ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, তখনও ভারত দ্রুত সাড়া দিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পাঠিয়েছিল। এমন আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। গত বছর মায়ানমারকে সহায়তা করার জন্য আমরা 'অপারেশন ব্রহ্ম' শুরু করেছিলাম। আর শ্রীলঙ্কায় যখন এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল, তখন ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা 'অপারেশন সাগর বন্ধু' পরিচালনা করেছিলাম।
বন্ধুরা,
কোভিড-১৯ মহামারীর স্মৃতি এখনও আমাদের মনে তাজা। সেই কঠিন সময়ে, ভারত কেবল নিজের নাগরিকদেরই দেশে ফিরিয়ে আনেনি, বরং অন্যান্য অনেক দেশের নাগরিকদেরও নিরাপদে তাঁদের দেশে ফিরতে সহায়তা করেছে। আমরা ব্যাপক পরিসরে উদ্ধারকাজ চালিয়েছি, প্রয়োজনে ওষুধ পৌঁছে দিয়েছি এবং ১০০টিরও বেশি দেশে টিকা সরবরাহ করেছি। এমনকি সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও, সঙ্কটে আটকা পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য ভারত সর্বদা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
বন্ধুরা,
ভারত যখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তখন পাসপোর্ট বা জাতীয়তার কথা বিবেচনা করে না। ভারত যখন সহায়তা পাঠায়, তখন পাসপোর্টের রঙের দিকে তাকায় না। আর ঠিক এ কারণেই বিশ্ব ভারতের ওপর গভীর আস্থা রাখে।
বন্ধুরা,
আমি জানি যে অস্ট্রেলিয়াও মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই অভিন্ন অঙ্গীকার আমাদের দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
আরেকটি ক্ষেত্র যা আমাদের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে, তা হলো খেলাধুলা। ক্রীড়াজগতে অস্ট্রেলিয়া নিজেই একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড। আর ভারতেও ক্রীড়া-পরিবেশে এক অসাধারণ পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।
বন্ধুরা,
আপনারা হয়তো 'খেলো ইন্ডিয়া মিশন'-এর কথা শুনেছেন। এটি কেবল একটি ক্রীড়া-নীতি নয়, এটি একটি দেশব্যাপী আন্দোলন, যা একেবারে স্কুল পর্যায় থেকে তরুণ ক্রীড়াবিদদের একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলছে। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় পর্যায়ে 'খেলো ইন্ডিয়া গেমস' আয়োজিত হয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেন।
এই অভিযানের আওতায় ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে ক্রীড়াবিদদের জন্য, বিশেষ করে আমাদের কন্যাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আর এই প্রচেষ্টা কেবল শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। 'সংসদ খেল মহাকুম্ভ'-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশের গ্রামগুলিতে খেলাধুলা ও শারীরিক সুস্থতার প্রসার ঘটানো হচ্ছে এবং সেগুলিকে কর্মজীবনের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
বন্ধুরা,
এই আত্মবিশ্বাসই ভারতকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে এবং আমরা ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্যও দাবি জানিয়েছি। আমি নিশ্চিত যে, ক্রীড়া ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
বন্ধুরা,
ভারত ও অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে যা কিছু করে, তা আমাদের উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। এর একটি বড় উদাহরণ হল, ভারত-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্য চুক্তি। ভারত-অস্ট্রেলিয়া চুক্তিটি হল শুধুমাত্র একটি সূচনা। আজ সেই যাত্রা প্রসারিত হয়ে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বন্ধুরা,
আমরা কেবল একটি বাণিজ্য-নির্ভর দেশ নই। আমরা উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। অস্ট্রেলিয়ার ঝুলিতে রয়েছে অনেক উল্লেখযোগ্য সাফল্য। শ্রবণশক্তি সহায়ক যন্ত্র, ওয়াই-ফাই, জরায়ু মুখের ক্যানসার বা সার্ভিক্যাল ক্যানসারের টিকা, বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ এবং গোপন ব্যালট ভোটিং পদ্ধতির মত উদ্ভাবনগুলোর পেছনে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আজ এই উদ্ভাবনগুলো বিশ্বকে আরও ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে সহায়তা করছে।
বন্ধুরা,
ভারতও তার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক পরিমণ্ডলকে আমূল বদলে দিচ্ছে। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, বর্তমানে ভারতের ১০,০০০-এরও বেশি স্কুলে ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ রয়েছে। এই ল্যাবগুলি একেবারে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তুলছে।
গত ১২ বছরে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে। তবে আমি যদি আপনাদের পরিসংখ্যানগুলি বলি, তবে আপনারাও অবাক হবেন। আপনারা কি সেই তথ্যগুলি জানতে চান?
বর্তমানে ভারতে ২ লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্ট-আপ রয়েছে। প্রতি মাসে দেশে ৪,০০০-এরও বেশি নতুন স্টার্ট-আপ নথিভুক্ত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা ও মহাকাশের মত ক্ষেত্রগুলিতেও শত শত স্টার্ট-আপ কাজ করছে। আমি এই উদাহরণগুলি তুলে ধরছি। কারণ একসময় ভারতে এই ক্ষেত্রগুলি ছিল সম্পূর্ণ রুদ্ধ। মাত্র কয়েক বছর আগেই এগুলিকে বেসরকারি উদ্যোগের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আর এখন, ভারতের একটি মহাকাশ-বিষয়ক স্টার্ট-আপ প্রথমবারের মতো নিজস্ব রকেটের মাধ্যমে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতে চলেছে।
বন্ধুরা,
আমি আনন্দিত যে, শিক্ষা, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আজ হাজার হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছে। আর এখন, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও ভারতে তাদের ক্যাম্পাস খুলছে।
ডিকিন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অফ ওলংগং-এর ক্যাম্পাসগুলি ইতিমধ্যেই তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আরও অনেক অস্ট্রেলীয় বিশ্ববিদ্যালয় একই পথে অগ্রসর হচ্ছে। আর এটি কেবল নতুন ক্যাম্পাস খোলার বিষয় নয়; এটি বিশ্বমানের নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং বিশ্বের জন্য দক্ষ ও উদ্ভাবনী মেধার ভাণ্ডার তৈরির একটি উদ্যোগও বটে।
বন্ধুরা,
আমি আপনাদের সঙ্গে ভারত সম্পর্কে অনেক কিছুই ভাগ করে নিয়েছি। এখন আমি একটি অনুরোধও করতে চাই। কিছুদিন আগে, আমরা প্রবাসী ভারতীয়দের সন্তানদের জন্য ‘ভারত কো জানিয়ে’ ক্যুইজ প্রতিযোগিতা চালু করেছিলাম। এই ক্যুইজটি বিশ্বের কাছে ভারতের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরছে এবং একই সাথে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য ও তাঁদের পরিবারকে তাঁদের নিজস্ব ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে সহায়তা করে। আমি জেনে আনন্দিত যে, এ বছর অস্ট্রেলিয়ার অনেক তরুণ বন্ধু এই কর্মসূচির প্রারম্ভিক আয়োজনে অংশ নিয়েছিল। প্রতিযোগিতাটির ষষ্ঠ সংস্করণ এখন শুরু হতে চলেছে। এবার এতে গেম-ভিত্তিক ফর্ম্যাটে একাধিক প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমি অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত ভারতীয় পরিবারকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে, আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আপনারা যেন আপনাদের অস্ট্রেলীয় বন্ধু, স্কুলের বন্ধু এবং কলেজের বন্ধুদেরও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কিন্তু আপনাদের ভূমিকা এখানেই শেষ নয়; বরং আপনাদের দায়িত্ব এখন আরও বেড়েছে। ভারত-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
তাই, একই উদ্দীপনা নিয়ে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যান। এভাবেই ‘চার-ছক্কা’ হাঁকাতে থাকুন। আপনাদের সাফল্য মানেই ভারত ও অস্ট্রেলিয়া, উভয় দেশেরই সাফল্য।
বন্ধুরা,
আজকের এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ এবং আমার সকল বন্ধুকে আমি আবারও আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ভারত মাতা কি জয়
বন্দে মাতরম!
প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি দিয়েছেন হিন্দিতে
SC/MP/NS….
(रिलीज़ आईडी: 2283244)
आगंतुक पटल : 7