PIB Backgrounder
পোষণ ট্র্যাকার- পুষ্টি যাচাইকরণের নতুন দিশা
प्रविष्टि तिथि:
08 JUL 2026 3:18PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই, ২০২৬
ভারতের তাৎক্ষণিক পুষ্টি পর্যবেক্ষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্রযুক্তিনির্ভর পুষ্টি যাচাইকরণের নতুন দিশা পোষণ ট্র্যাকার
পোষণ অভিযান (প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক পুষ্টি কর্মসূচি) দেশের জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি। সমন্বিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে পুষ্টির মানোন্নয়নই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। ২০১৮ সালের ৮ মার্চ এই কর্মসূচির সূচনা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের এই বহুমন্ত্রকভিত্তিক কর্মসূচি নির্দিষ্ট সময়সীমা, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ এবং জন আন্দোলনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়। পুষ্টিকে শুধুমাত্র জনকল্যাণমূলক বিষয় হিসাবে না দেখে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে এই কর্মসূচি।
২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেটে পোষণ অভিযান, অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবা এবং কিশোরী মেয়েদের জন্য প্রকল্পকে একত্রিত করে মিশন পোষণ ২.০ (মিশন সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০) গঠন করা হয়। পোষণ ট্র্যাকার একটি মোবাইলভিত্তিক প্রশাসনিক অ্যাপ্লিকেশন। এটি পোষণ অভিযানের ডিজিটাল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কর্মসূচির ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করতে এই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০২১ সালের মার্চ মাসে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এবং ন্যাশনাল ই-গভর্ন্যান্স ডিভিশনের যৌথ উদ্যোগে এই অ্যাপ্লিকেশন শুরু হয়। সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০ কর্মসূচির আওতায় এটি কার্যকর হয়েছে। একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার পুষ্টি এবং পরিষেবা প্রদানের অগ্রগতি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামো, পরিষেবা প্রদান, ভোক্তার সংখ্যা এবং শিশুদের বৃদ্ধির তথ্য এই অ্যাপ্লিকেশনে নথিভুক্ত হয়। স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের সাহায্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সহজেই তথ্য আপলোড করতে পারেন।
তাৎক্ষণিক ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কাজেও এই অ্যাপ্লিকেশন গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসাবে কাজ করছে। শিশুদের খর্বাকৃতি বৃদ্ধি, তীব্র অপুষ্টি, কম ওজন এবং পুষ্টি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
জানেন কি?
কেন্দ্রীয় সরকারের সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০ কর্মসূচির লক্ষ্য অপুষ্টি দূর করা। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করাও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এই পুনর্গঠিত কর্মসূচির আওতায় শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, স্তন্যদায়ী মা এবং কিশোরীদের পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বলা বাহুল্য, ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের প্রাক্-শৈশব পরিচর্যা ও শিক্ষা এবং ০ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উন্নয়নও এই কর্মসূচির অন্যতম অংশ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিদ্যমান কেন্দ্রগুলিকে সক্ষম অঙ্গনওয়াড়িতে উন্নীত করা হচ্ছে।
এলইডি স্ক্রিন, জল পরিশোধক, স্মার্ট শিক্ষাসামগ্রী এবং পোষণ বাটিকা এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।
পোষণ ট্র্যাকারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
পোষণ ট্র্যাকার শুরু হওয়ার আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ১১টি হাতে লেখা রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হতো। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরী হতো। পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও ঘাটতি দেখা দিত।
বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করতে হতো। মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও একরূপতা ছিল না।
গ্যাহকের পরিচয় যাচাইয়ের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্যও একত্রে পাওয়া যেত না। ফলে অপুষ্টি মোকাবিলায় প্রশাসনিক দক্ষতা কমে যেত।
পোষণ ট্র্যাকার এই সমস্যাগুলির সমাধানে একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা যুক্ত করেছে।
আধারভিত্তিক যাচাইকরণ: ভুয়ো নথিভুক্তি রোধ হচ্ছে। তথ্য ফাঁস কমছে। প্রকৃত নথিভুক্ত উপভোক্তার কাছেই সুবিধা পৌঁছাচ্ছে।
ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবস্থা (এফআরএস): শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছেছে কি না তা যাচাই করা সহজ হয়েছে। পরিষেবা প্রদানের স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বাড়ি পরিদর্শন সূচি: নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী মোট ২৩টি বাড়ি পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। বয়সভিত্তিক পরামর্শও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়।
এর মধ্যে রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চারটি, সন্তান জন্মের পর প্রথম মাসে চারটি, ২ মাস থেকে ১ বছর বয়স পর্যন্ত সাতটি, ১ থেকে ২ বছর বয়সে পাঁচটি এবং ২ থেকে ৩ বছর বয়সে তিনবার পর্যবেক্ষণ।
ইসিসিই শিক্ষাসামগ্রী: প্রসঙ্গত, ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আধারশিলা কর্মসূচির ভিত্তিতে ২৪৯টি ভিডিও, ১৯০টি ভয়েস নোট এবং ১৫৯টি পিডিএফ কার্যক্রম উপলব্ধ রয়েছে।
জানেন কি?
আধারশিলা ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এটি জাতীয় প্রাক্-শৈশব পরিচর্যা ও শিক্ষার পাঠক্রম। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে এই পাঠক্রম কার্যকর করা হচ্ছে। খেলাধুলা, শিল্পচর্চা, সংগীত এবং গল্প বলার মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হয়।জ্ঞানার্জন, সামাজিক বিকাশ, আবেগগত বিকাশ এবং শারীরিক বিকাশে এই পাঠক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথম শ্রেণীতে প্রবেশের প্রস্তুতিও গড়ে ওঠে।
পোষণ ক্যালকুলেটর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শিশু বৃদ্ধির মানদণ্ড অনুসারে উচ্চতা, ওজন, বয়স এবং লিঙ্গ বিশ্লেষণ করা হয়। খর্বাকৃতি, কম ওজন, তীব্র অপুষ্টি, মাঝারি অপুষ্টি এবং অতিরিক্ত ওজনের মূল্যায়নও করা হয়।
পোষণ হেল্পলাইন: অভিযোগ জানানোর জন্য টোল-ফ্রি নম্বর ১৫১৫ চালু রয়েছে।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ: সব অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে স্মার্টফোন দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কর্মীর জন্য বছরে ২,০০০ টাকা ইন্টারনেট খরচও দেওয়া হয়। প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের বৃদ্ধি মাপার যন্ত্রও সরবরাহ করা হয়েছে। এই সমস্ত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা তৃণমূল স্তরে পুষ্টি পরিষেবার গতি, নির্ভুলতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেছে।
সুপুষ্ট ভারতের লক্ষ্যে অগ্রগতি
পর্যায়ক্রমে পোষণ ট্র্যাকার সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়। পরে দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা হয়।
ক্লাউডভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ এবং একসঙ্গে বহু ব্যবহারকারীর পরিষেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
তাৎক্ষণিক ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে পুষ্টি-সংক্রান্ত ঘাটতি দ্রুত চিহ্নিত করা যায়।
'ট্রেন দ্য ট্রেনার' পদ্ধতিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যস্তরের সমন্বয়কারী এবং ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়।
নিয়মিত তদারকি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার নির্দেশিকা কার্যকর রয়েছে।
এ বছর মে মাস পর্যন্ত দেশের ২৮টি রাজ্য এবং আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পোষণ ট্র্যাকার কার্যকর হয়েছে।
একই সময় পর্যন্ত মোট ৮.৯৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক নথিভুক্তি হয়েছেন।
শৈশব, কৈশোর, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা এবং মাতৃত্ব-সহ জীবনের ছয়টি পর্যায়ের উপভোক্তারা এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় রয়েছেন।
অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার সম্পূরক পুষ্টি কর্মসূচির অগ্রগতিও পোষণ ট্র্যাকারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ বছর মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ দিন বা তার বেশি সময় সম্পূরক পুষ্টি পেয়েছেন ৫.৫ কোটিরও বেশি উপভোক্তা।
প্রসঙ্গত, ২১ দিন বা তার বেশি সময় সম্পূরক পুষ্টি পেয়েছেন ৫.১৭ কোটি ভোক্তা।
জানেন কি?
সমন্বিত শিশু বিকাশ পরিষেবা কর্মসূচির আওতায় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক সম্পূরক পুষ্টি কর্মসূচি কার্যকর করে। উল্লেখ্য, ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, স্তন্যদানকারী মা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ও উচ্চাভিলাসী জেলার ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরীরা এই কর্মসূচির সুবিধা পান। এবছর মে মাস পর্যন্ত আধার-যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে ৭.৭ কোটিরও বেশি শিশুর পুষ্টির সূচক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ড্যাশবোর্ড, হিট ম্যাপ এবং তথ্যভিত্তিক নীতি নির্ধারণে এই তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বস্তুত, ০ থেকে ৫ বছর বয়সী ৬.৩ কোটিরও বেশি শিশুর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নথিভুক্ত উপভোক্তাদের প্রায় ৯৪ শতাংশ এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। খর্বাকৃতি, কম ওজন, তীব্র অপুষ্টি, মাঝারি অপুষ্টি এবং অতিরিক্ত ওজনের তথ্যও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডিজিটাল ভারতের সাফল্যের অন্যতম দৃষ্টান্ত
পোষণ ট্র্যাকার বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিনির্ভর জনপরিষেবা প্রদানের সফল উদাহরণ।
কাগজভিত্তিক নথি সংরক্ষণের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক তথ্যভিত্তিক পুষ্টি প্রশাসন গড়ে উঠেছে।
তৃণমূল স্তরের তথ্যের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পোষণ ট্র্যাকারকে পুষ্টি তথ্য ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ইউনিসেফ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য এর সহজ ব্যবহার এবং গ্রাহক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রশংসা করেছে।
২০২৩ সালে জি-২০ মহিলা ক্ষমতায়ন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে পোষণ ট্র্যাকার উপস্থাপন করা হয়।
সভাপতির বিবৃতিতে পুষ্টি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাক্-শৈশব পরিচর্যা ও শিক্ষায় এর ভূমিকার উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পোষণ ট্র্যাকার জনপ্রশাসনে উৎকর্ষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার লাভ করে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২৭তম জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স সম্মেলনে জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কারে সোনার সম্মানও অর্জন করে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন পোষণ ট্র্যাকার। সুপুষ্ট বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তথ্যবিবরণী
Ministry of Women and Child Development
Poshan Tracker
Digital India Corporation
DD News
Click here to see pdf
*******
SSS/SS...KOL/8.7.26
(रिलीज़ आईडी: 2282756)
आगंतुक पटल : 10