স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের 'জিরো টলারেন্স নীতি'র আওতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও ২৩ জন ব্যক্তিকে 'সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে ঘোষণা করেছে

प्रविष्टि तिथि: 04 JUL 2026 12:38PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই ২০২৬

 

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের 'জিরো টলারেন্স নীতি' বা 'শূন্য সহনশীলতা নীতি'-র আওতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী অমিত শাহের নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও ২৩ জন ব্যক্তিকে 'সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ বলেছেন যে, ভারত ও এর জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সন্ত্রাসবাদী মডিউল বা চক্রকে নির্মূল করতে মোদী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

'এক্স'-এ এক পোস্টে শ্রী অমিত শাহ বলেন, "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির 'জিরো টলারেন্স' বা শূন্য সহনশীলতার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আজ নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ২৩ জন কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীকে 'বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন'-এর বিধান অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করেছে। চিহ্নিত এই সন্ত্রাসবাদীরা ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ, সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানো, সন্ত্রাসবাদে উসকানি দেওয়া, অস্ত্র পাচার, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সহায়তা করা, তহবিল সংগ্রহ এবং নতুন সন্ত্রাসবাদী নিয়োগের মতো কাজের সঙ্গে জড়িত। আজ ঘোষিত ২৩ জন সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে ১৭ জন পাকিস্তানি নাগরিক এবং ৬ জন ভারতীয় নাগরিক। তবে, বর্তমানে তারা সকলেই পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করছে।"

 

এই ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা কেবল তাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক, চলাফেরা, নিয়োগের সক্ষমতা এবং সন্ত্রাস-সম্পর্কিত কার্যকলাপকে দমন করে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো বা 'ইকোসিস্টেম' ভেঙে দিতেই সাহায্য করবে না, বরং দেশবিরোধী ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের বার্তাও দেবে। এছাড়া, এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে সমন্বিত আইনি, তদন্তমূলক এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

 

কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ২০১৯ সালে 'বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৬৭'-তে সংশোধনী আনার পর থেকে, এখন পর্যন্ত মোট ৫৭ জন ব্যক্তিকে উক্ত আইনের ৩৫ নম্বর ধারার অধীনে 'সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আইনের চতুর্থ তফসিলে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় সরকার এখন অতিরিক্ত আরও ২৩ জন ব্যক্তিকে 'সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের নামও উক্ত চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করেছে :

 

১. মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি (যিনি মুফতি মাসুদ ইলিয়াস, মাসুদ ইলিয়াস, আবু মোহাম্মদ বা এম. মাসুদ ইলিয়াস নামেও পরিচিত) হলেন জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে মওলানা মাসুদ আজহারের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের মূল সমন্বয়কারী। সে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণদের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীতে নিয়োগ এবং সন্ত্রাসবাদের জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ২০২২ সালের এপ্রিলে জম্মুর সুঞ্জওয়ানে পিডিপি অফিসের কাছে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সে মূল ভূমিকা পালন করেছিল।

 

২. মোহাম্মদ মুসাদ্দিক (সে ডাক্তার, আব্দুল মান্নান, সাজ্জাদ, হামজা, ওয়াহিদ খান নামেও পরিচিত) হলেন জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে লাসিয়াকোট সেক্টরের 'লঞ্চিং কমান্ডার' হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং সুড়ঙ্গের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশে সহায়তা করে। সে ড্রোন ব্যবহার করে ভারতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর কাজে জড়িত ছিল। এ ছাড়াও, সে অযোধ্যার আরজেবি কমপ্লেক্স, নাগপুরের আরএসএস সদর দপ্তর এবং পানিপথের আইওসিএল শোধনাগারের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর রেকি বা নজরদারি চালানোর কাজেও যুক্ত ছিল।

 

৩. মুফতি মোহাম্মদ আসগর খান (সে আবু সাদ বা সাদ জিমিকি নামেও পরিচিত) হল জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জেইএম-এর 'আমির' (প্রধান) এবং এর সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। জম্মুর নাগ্রোটাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার পেছনে সে অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী। সে সন্ত্রাসীদের জিহাদি ও সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য মুজাফফরাবাদে বিভিন্ন ক্যাম্প পরিচালনা করেছে।

 

৪. হাফিজ আব্দুল শাকুর (সে কারি জাররার নামেও পরিচিত) হল একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবংসে জইশ-ই-মোহাম্মদ ও হরকত-উল-মুজাহিদিন-এর সঙ্গে যুক্ত। নাগ্রোটা সেনা ক্যাম্পে হামলার উদ্দেশ্যে সাম্বা-কাঠুয়া সেক্টর দিয়ে তিনজন পাকিস্তানি সন্ত্রাসীর অনুপ্রবেশে তিনি সহায়তা করেছিল। সে ১৯৯৫-৯৬ সালে আফগান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এবং আইএসআই-এর সহায়তায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করেছে। সে জেইএম-এর পরিচালনা পর্ষদ বা 'শুরা'-র একজন সদস্য। 

৫. আবদুল্লাহ জিহাদি (ওরফে শাহনাওয়াজ, ওরফে আল-হিজামা) একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং সে জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত। তিনি মুফতি আসগর খানের একজন সহযোগী এবং উত্তর কাশ্মীর অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের বিষয়টি তদারকি করেন। সে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অসন্তোষ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সে কুপওয়ারা ও বারামুল্লা জেলায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি 'লঞ্চিং ক্যাম্প' (অনুপ্রবেশের প্রস্তুতি কেন্দ্র) পরিচালনা করতো।

 

৬. ফিরদৌস আহমেদ ভাট একজন ভারতীয় নাগরিক (বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থানরত) এবং তিনি লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত। সে এই সংগঠনের একজন 'লঞ্চিং কমান্ডার' হিসেবে কাজ করে; ২০১৮ সালে বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহার করে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে সে পাকিস্তানে গিয়েছিল। সে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে বিদেশি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয়। এছাড়া, সে 'ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার' বা ওজিডব্লিউ-দের কাছে অস্ত্র সরবরাহ এবং দক্ষিণ কাশ্মীরের যুবকদের উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত করার কাজে জড়িত।

 

৭. গোলাম ফরিদ (ওরফে গুলশান কুমার) একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং সে জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে যুক্ত। সে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিল। পরবর্তীতে, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে সে বাংলাদেশ হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জম্মুতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।

 

৮. হারুন রশিদ গনাই (ওরফে শুনু) একজন ভারতীয় নাগরিক (বর্তমানে পাকিস্তানে বসবাসরত) এবং তিনি লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত। সে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে বৈধ নথিপত্র নিয়ে পাকিস্তানে যায় এবং সেখানে লস্কর-ই-তৈয়বায় যোগ দেয়। সে কাশ্মীর উপত্যকার যুবকদের সন্ত্রাসী দলে যোগ দিতে উসকানি দেয় এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর জন্য 'ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার'-দের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে।

 

৯. বিলাল আহমেদ মীর (ওরফে 'আহমেদ ভাই') একজন ভারতীয় নাগরিক (বর্তমানে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে বসবাসরত) এবং লস্কর-ই-তৈয়বা ও দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর সঙ্গে যুক্ত। সীমান্তের ওপার থেকে কার্যক্রম চালিয়ে তিনি স্থানীয় কাশ্মীরি যুবকদের জিহাদে লিপ্ত হতে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। তাছাড়া, কাশ্মীর উপত্যকায় অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং রসদ সরবরাহের অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনার সঙ্গে সে সরাসরি জড়িত।

 

১০. আবিদ কাইয়ুম লোন একজন ভারতীয় নাগরিক (বর্তমানে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বসবাসরত) এবং লস্কর-এ-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত। সে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আটারি চেক পোস্ট দিয়ে পাকিস্তানে যান এবং আর ফিরে আসেননি। জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা এবং লস্কর-এ-তৈয়বার জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজে সে জড়িত। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সে পাকিস্তান থেকে ভারতে বিপুল পরিমাণে মাদক পাচার করেন এবং সেই অর্থ দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা হয়।

 

১১. নাজির আহমেদ গুজ্জর ওরফে আবু মানাজিল একজন ভারতীয় নাগরিক (বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বসবাসরত) এবং লস্কর-এ-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত। সে ২০০৬ সালে নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলে যান। ডোডা ও কিশতওয়ার অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সে স্থানীয় যুবকদের দলে ভেড়ায়। সাম্বা ও আর.এস. পুরা সেক্টর দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনি একজন মূল হোতা হিসেবে কাজ করেছে।

 

১২. আব্দুল রউফ (সে হাফিজ আব্দুল রউফ বা হাফিজ আব্দুর রউফ নামেও পরিচিত) একজন পাকিস্তানি নাগরিক, সে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৯ সাল থেকে সে লস্করের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং সন্ত্রাসী হাফিজ সাঈদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় কাজ করে। সে 'ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন' এবং 'আল-মদিনা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট'-এর মতো দাতব্য সংস্থার আড়ালে আন্তর্জাতিক স্তরে লস্করের জন্য তহবিল ও জনসমর্থন সংগ্রহের কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র তাকে 'স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট' বা 'বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে ঘোষণা করেছে।

 

১৩. আশফাক আহমেদ (ওরফে ইশফাক আহমেদ) একজন পাকিস্তানি নাগরিক, সে জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত। সে ২০০০ সালে জইশ-ই-মোহাম্মদ-এ যোগ দেয় এবং বর্তমানে বাহাওয়ালপুরে সংগঠনটির 'শুবা-এ-হাদিস' ও 'আল-রহমত ট্রাস্ট' (জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর দাতব্য শাখা)-এর দায়িত্বে রয়েছে। সে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে জিহাদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠানকোট বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে হামলার সময় ব্যবহৃত পাকিস্তানি মোবাইল নম্বরগুলোর গ্রাহকদের একজন হিসেবে তাকে শনাক্ত করা হয়েছিল।

 

১৪. হাফিজ খালিদ ওয়ালিদ (ওরফে হাফিজ খালিদ নায়েক/খালিদ ওয়ালিদ) একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে লস্কর-ই-তৈবা এবং জামাত-উদ-দাওয়া-এর সঙ্গে যুক্ত। সে লস্কর প্রধান হাফিজ মোহাম্মদ সাঈদের জামাতা এবং ২০০৩ সাল থেকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ২০১৬ সালের জুনে পাম্পোর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল সে; ওই হামলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স-এর আটজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

 

১৫. মওলানা ইমদাদ উল্লাহ মাক্কি (সে মওলানা ইমদাদ, ইমদাদ ভাই বা মওলানা ইমদাদুল্লাহ নামেও পরিচিত) একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং সে জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত। সে জইশের বন্দি বিষয়ক শাখার (শোবা-এ-আসিরান) প্রধান বা 'আমির' হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং সংগঠনটির আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করে। সে মওলানা মাসুদ আজহার এবং তাঁর ডেপুটি মুফতি আব্দুল রউফ আসগরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলাকারী সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয়ের কাজে সে যুক্ত ছিল।

 

১৬. মওলানা সাইফুল্লাহ খালিদ (ওরফে ওয়ালিউল, মোহাম্মদ সেলিম, ওয়াজিদ) একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবংসে লস্কর-এ-তৈবা ও পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের সঙ্গে যুক্ত। সে পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এবং এর আগে মিল্লি মুসলিম লিগের সভাপতি ছিল। সে লস্কর ও জামাত-উদ-দাওয়ার বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব দিয়েছে, যেমন—প্রচার বিভাগ এবং নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার শাখা। ২০১৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে 'স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট' বা 'বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে ঘোষণা করে।

 

১৭. মোহাম্মদ ইয়াকুব (ওরফে আবু সুমামাহ, সামামাহ ইলিয়াস, ওয়ারিস আলি) একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে লস্কর-এ-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে সে ইসলামাবাদ (ছাট্টা বখতাওয়ার) থেকে লস্করের একজন অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভারতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর লক্ষ্যে কাশ্মীর উপত্যকায় সক্রিয় লস্করের অন্যান্য ক্যাডারদের জন্য সে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয় করে। শ্রীনগরের সিআই কাশ্মীর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে 'আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট' বা ইউএপিএ-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

১৮. মওলানা ইউসুফ তাইবি (ওরফে মোহাম্মদ ইউসুফ) একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে লস্কর-এ-তৈয়বা ও জামাত-উদ-দাওয়ার সঙ্গে যুক্ত। সে লস্কর/জামাত-উদ-দাওয়ার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং বর্তমানে সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার (দাওয়াত-ও-ইসলাহ) শাখার সাথে যুক্ত আছে। এর আগে সে করাচি-ভিত্তিক 'জামিয়া আল-দিরাসাত আল-ইসলামিয়া ট্রাস্ট'-এর প্রধান ছিল; এই প্রতিষ্ঠানটি লস্কর/জামাত-উদ-দাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে সে লাহোরের 'আল-কাদসিয়া ইসলামিক সেন্টার'-এর সঙ্গে যুক্ত এবং পাঞ্জাবের সরগোধা 'মারকাজ'-এ জুমার ধর্মীয় খুতবা প্রদান করে।

 

১৯. ওয়াইস ফিরোজ (ওরফে ওয়াইস আহমেদ মির / ওয়াইস ফিরোজ মির) একজন ভারতীয় নাগরিক। সে লস্কর-ই-তৈয়বা-র সঙ্গে যুক্ত। সে ২০১৮ সালের এপ্রিলে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে যায় এবং লস্কর-ই-তৈয়বা-র সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে, তাঁর ভাই ফারজান ফিরোজকে ৪৫০ গ্রাম হেরোইন (যার মূল্য প্রায় ৯.৯৫ লক্ষ টাকা) এবং লস্কর-ই-তৈয়বা-র একটি লেটারহেড-সহ শ্রীনগর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলওয়ামার এনআইএ আদালত সিআরপিসি-র ৮২ ধারার অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ঘোষণা-আদেশ (proclamation order) জারি করেছে।

 

২০. কারি ইয়াকুব শেখ (সে কারি মোহাম্মদ ইয়াকুব শেখ, ইয়াকুব শেখ, কারি শেখ মুহাম্মদ ইয়াকুব এবং মোহাম্মদ ইয়াকুব নামেও পরিচিত) একজন পাকিস্তানি নাগরিক এবং সে পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ ও জামাত-উদ-দাওয়া-র সাথে যুক্ত। সে জামাত-উদ-দাওয়া-র একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং এর কেন্দ্রীয় 'দাওয়াতি দল'-এর (ধর্ম প্রচারকারী দল) সদস্য। সে ২০১৮ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে মিল্লি মুসলিম লিগ-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। সৌদি আরবে লস্কর এবং জামাত-উদ-দাওয়া-র জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিযানে সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০১২ সালের আগস্ট মাসে, যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে 'আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে চিহ্নিত করে।

 

২১. রানা ইফতিখার (সে রানা ওয়ালিদ আতিফ, রানা ইফতিখার হায়দার, রানা ইফতিখার আহমেদ বা হায়দার খান নামেও পরিচিত) একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জামায়াত-উদ-দাওয়া-র সঙ্গে যুক্ত। সে লস্কর-ই-তৈয়বা প্রধানের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সে হাফিজ সঈদের সহযোগী এবং সংগঠনটির কাশ্মীর-কেন্দ্রিক কার্যক্রমের অর্থ ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন। সে 'শোবা-এ-আসীরান' নামক শাখাটির প্রধান; এই শাখাটি ভারতীয় কারাগারে বন্দী বা সেখানে নিহত সন্ত্রাসীদের পরিবারের কল্যাণের বিষয়টি দেখাশোনা করে। জম্মু ও কাশ্মীরের মেন্ধার সেক্টরে এক সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত সে ভারতীয় কারাগারে বন্দী ছিল।

 

২২. ওয়াসিম নূর জাট ওরফে কারি ওয়াসিম একজন পাকিস্তানি নাগরিক। সে জইশ-এ-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে যুক্ত। সে জেএম-এর একজন 'লঞ্চিং কমান্ডার' হিসেবে কোটলি এলাকায় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। ২০২১-২২ সময়কালে,সে ড্রোনের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলার কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ছিল। এর আগে ২০০৮ সালের অক্টোবরে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সে জম্মুর কোট ভালওয়াল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।

 

২৩. মোহাম্মদ শহীদ ফয়সাল (ওরফে ওস্তাদ, মুহান্দিস, জাকির) একজন পাকিস্তানি নাগরিক (মূলত ভারতীয়, বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডিতে সক্রিয়) এবং সে লস্কর-এ-তৈয়বা, আল-কায়দা ও আইএসআইএস-এর সঙ্গে যুক্ত। সে ২০১২ সালের বেঙ্গালুরু লস্কর-এ-তৈয়বা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ২০১৩ সালের নানদেড় লস্কর-এ-তৈয়বা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নিয়ন্ত্রক (হ্যান্ডলার)। এসব মামলায় ডানপন্থী রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্টভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে সন্ত্রাসী ফারহাতুল্লাহ ঘোরির সহায়তায় সে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। তদন্তে রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণ মামলা (২০২৪), ম্যাঙ্গালুরু কুকার বিস্ফোরণ এবং আল-হিন্দ আইএসআইএস মডিউল মামলায় তাঁর 'অনলাইন হ্যান্ডলার' হিসেবে জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। সে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউব/টেলিগ্রাম চ্যানেলের (যেমন 'সাওয়াত-আল-হক') মাধ্যমে দেশবিরোধী ও জিহাদি ভিডিও প্রচার করে তরুণদের দলে ভেড়ায়।

https://x.com/HMOIndia/status/2073287695892353463?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E2073287695892353463%7Ctwgr%5E7000991e0ff23c99fed39132f9589bb583518a71%7Ctwcon%5Es1_&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.pib.gov.in%2FPressReleasePage.aspx%3FPRID%3D2280998reg%3D48lang%3D1

 

 

 

SC/SB/DM


(रिलीज़ आईडी: 2281118) आगंतुक पटल : 5
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: Odia , English , हिन्दी , Assamese , Gujarati , Tamil