জলশক্তি মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

জলশক্তি মন্ত্রী শ্রী সি. আর. পাটিলের সভাপতিত্বে গঙ্গা পুনরুজ্জীবন সংক্রান্ত এমপাওয়ার্ড টাস্ক ফোর্সের (ETF) ১৯তম বৈঠক

নমামি গঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কিত পর্যালোচনা; প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, পরিশোধিত তরল বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার, ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর জোর

प्रविष्टि तिथि: 02 JUL 2026 7:38PM by PIB Kolkata

গঙ্গা নদীর সার্বিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করতে ২০২৬ সালের ২ জুলাই ভারত সরকারের  জলশক্তি মন্ত্রী শ্রী সি. আর. পাটিলের সভাপতিত্বে গঙ্গা বিষয়ক এমপাওয়ার্ড টাস্ক ফোর্স (ETF)-এর ১৯তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নমামি গঙ্গে কর্মসূচির অগ্রগতি প্রসঙ্গে পর্যালোচনা করা হয় এবং উন্নত পরিকাঠামো, বৈজ্ঞানিক জল ব্যবস্থাপনা, নীতিগত সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে গঙ্গা পুনরুজ্জীবনের গতি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

 

 

বৈঠকে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জলসম্পদ বিভাগের সচিব শ্রী ভি. এল. কান্থা রাও, পানীয় জল ও স্যানিটেশন দফতরের সচিব শ্রী অশোক কে. কে. মীনা, ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা (NMCG)-এর মহাপরিচালক তথা ডিরেক্টর জেনারেল শ্রী রাজীব কুমার মিত্তল, জলসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব ও আর্থিক উপদেষ্টা শ্রী গৌরব মাসালদান, এনএমসিজির উপ-মহাপরিচালক তথা ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শ্রী নলিন শ্রীবাস্তব, নির্বাহী পরিচালক তথা এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (প্রকল্প) শ্রী ব্রিজেন্দ্র স্বরূপ, নির্বাহী পরিচালক তথা এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (প্রযুক্তি) শ্রী অনুপ কুমার শ্রীবাস্তব, নির্বাহী পরিচালক তথা এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অর্থ) শ্রী ভাস্কর দাশগুপ্ত, পানীয় জল ও স্যানিটেশন দফতরের যুগ্মসচিব শ্রীমতি ঐশ্বর্য সিং, উত্তরপ্রদেশের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী অনুরাগ শ্রীবাস্তব, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব শ্রী খলিল আহমেদ, স্টেট মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা- পশ্চিমবঙ্গের প্রকল্প অধিকর্তা শ্রীমতি নন্দিনী ঘোষ, ঝাড়খণ্ডের স্টেট মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা-র প্রকল্প অধিকর্তা শ্রী সুরজ-সহ এনএমসিজি ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা। এছাড়াও ভারত সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রক, আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

নমামি গঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত মোট ৫২৪টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ৪৩,০৩১ কোটি। এর মধ্যে ৩৬৩টি প্রকল্প ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তরল বর্জ্য ও নিকাশি পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ২১৮টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ৬,৬১০ এমএলডি (মিলিয়ন লিটার প্রতিদিন) তরল বর্জ্য পরিশোধিত হবে এবং ৫,২৩৩ কিলোমিটার তরল বর্জ্যের নিকাশি নেটওয়ার্ক তথা পাইপলাইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪৫টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে ৪,২৬৩ এমএলডি তরল বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন পরিকাকাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং ৪,৬১১ কিলোমিটারেরও বেশি নিকাশি নালা তথা নেটওয়ার্ক নির্মিত হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ২১,৫৫০ কোটিরও বেশি মূল্য ব্যয় হয়েছে, যার ফলে গঙ্গা অববাহিকার রাজ্যগুলিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে নমামি গঙ্গে কর্মসূচির বাস্তবায়নের অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এই অর্থবর্ষের সময়কালে ৫৩৮ এমএলডি নতুন তরল বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে, যার ফলে সর্বমোট পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৪,২৬০ এমএলডি-তে পৌঁছেছে। বৈঠকে মন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে ধারাবাহিক উন্নতির প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে চলমান প্রকল্পগুলিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন।

 

১৮তম এমপাওয়ার্ড টাস্ক ফোর্স (ETF) বৈঠকের পরবর্তী সময়কালীন এনএমসিজির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড এই বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। আগ্রার ১০০ এমএলডি ধান্ধুপুরা স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পরীক্ষামূলক পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই প্ল্যান্টটি চালু হলে যমুনা নদীতে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য যাওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তিনি বারাণসীর ৫৫ এমএলডি ভগবানপুরা স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ শুরুরও প্রশংসা করেন, যা সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেছিলেন। এই প্ল্যান্টে ৭৫০ কিলোওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে, যা প্ল্যান্টের পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য শক্তির চাহিদা পূরণ করবে।

 

শহরাঞ্চলে নদী দূষণ রোধের ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions বা NbS)-এর গুরুত্ব তুলে ধরে দিল্লির শাস্ত্রী পার্ক ও কৈলাশ নগরে অবস্থিত নিকাশি নালার ইন-সিটু পরিশোধনের জন্য নির্মিত কৃত্রিম জলাভূমি (Constructed Wetland System)-র অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পলি অপসারণ, বাঁধ নির্মাণ, জলজ উদ্ভিদ রোপণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাথর প্রতিস্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপগুলির প্রশংসা করে মন্ত্রী নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেন।

 

বৈঠকে এনএমসিজির ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গঙ্গা অববাহিকার প্রায় ১২৫টি জেলায় বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা-সহ নানা স্থানীয় কর্মসূচি, যা নদী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী পদক্ষেপ- সেগুলি আয়োজনের প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে নমামি গঙ্গে কর্মসূচির মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগেরও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ছিল আইসিএআর-সিআইএফআরআই-এর (ICAR-CIFRI) দেশীয় মাছের প্রজনন ও নদীতে পুনঃস্থাপন কর্মসূচি, বিহারের বয়া নদীর স্থানীয় জনসাধারণকৃত সফল পুনরুজ্জীবন এবং ভারতের প্রথম ডলফিন অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে আটকে পড়া গাঙ্গেয় শুশুক উদ্ধারের উদ্যোগ, যা প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয়স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি এই বৈঠকে আরও জানানো হয়, গঙ্গা অববাহিকায় রামসার স্বীকৃত জলাভূমির সংখ্যা বেড়ে ৩৫- পৌঁছেছে, যা জলাভূমি ও জলজ জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের সংকেতবাহী।

ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও ভূগর্ভস্থ জলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে নদী অববাহিকা পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গঙ্গার মূল প্রবাহে কৃত্রিম ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ (Groundwater Recharge)-এর জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরির অগ্রগতি এবং ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণের জন্য সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড ওয়াটার বোর্ড (CGWB)-কর্তৃক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জেলাগুলির চিহ্নিতকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সমগ্র গঙ্গা অববাহিকায় দীর্ঘমেয়াদি জলনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ (Groundwater Recharge) সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলির বাস্তবায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল পরিশোধিত তরল বর্জ্যের নিরাপদ পুনর্ব্যবহার (Safe Reuse of Treated Wastewater বা SRTW)। আগ্রা, প্রয়াগরাজ ও বারাণসীর জন্য সিটি-লেভেল রিইউজ অ্যাকশন প্ল্যান (CLRAP) পর্যালোচনা করা হয়, যেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেলওয়ে, নগর সৌন্দর্যায়ন এবং সেচের কাজে পরিশোধিত জল ব্যবহারের সুযোগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রী শ্রী সি. আর. পাটিল নির্দেশ দেন যে, সেচ বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত পরিশোধিত বর্জ্য জল যেন অবশ্যই নির্ধারিত গুণগত মান পূরণ করে এবং নিয়মিত এর পরীক্ষা করা হয়, যাতে জনস্বাস্থ্য ও কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকে। তিনি সংশ্লিষ্ট পৌরসংস্থা ও রাজ্য সরকারের দফতরগুলিকে চিহ্নিত পুনর্ব্যবহার সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি তার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সুদৃঢ় করারও নির্দেশ দেন।

এছাড়াও পরিবেশগত প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, তরল বর্জ্য পরিশোধন ও নিকাশি পরিকাঠামো, জমি অধিগ্রহণ, ডিপিআর প্রস্তুতি, পরিশোধিত তরল বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার, আকাশপথে ড্রেনেজ মানচিত্রায়ন, ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ, বালি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ এবং সিটি স্যানিটেশন অ্যাকশন প্ল্যানের বাস্তাবায়নেরও পর্যালোচনা করা হয়। এমপাওয়ার্ড টাস্ক ফোর্সের সিদ্ধান্তসমূহের যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সমস্ত কার্যনির্বাহী সংস্থা ও রাজ্য সরকারকে বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

বৈঠকের শেষে শ্রী সি. আর. পাটিল বলেন, গঙ্গা পুনরুজ্জীবন একটি জাতীয় দায়িত্ব এবং এর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, পৌরসংস্থা, বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি বলেন, নিকাশি পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, পরিশোধিত তরল বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান গ্রহণ এবং নদী সংরক্ষণের সঙ্গে ভূগর্ভস্থ জল ব্যবস্থাপনাকে একত্রিত করলেই অবিরল ও নির্মল গঙ্গা গড়ে তোলার লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং গঙ্গা অববাহিকায় দীর্ঘমেয়াদি জলনিরাপত্তা ও বাস্তুতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

****

এনডি/এইচএম


(रिलीज़ आईडी: 2280773) आगंतुक पटल : 11
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati