PIB Backgrounder
প্ৰতিরক্ষা উন্নয়নের দশক
प्रविष्टि तिथि:
17 JUN 2026 11:43AM by PIB Kolkata
১৭ জুন, ২০২৬
২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এটি ছিল এমন একটি দশক যেখানে দেশ তার সক্ষমতা, উৎপাদন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্যতা যথেষ্ট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। সংস্কার, উচ্চতর বিনিয়োগ এবং আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোরালো গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাজেট ২০১৩-১৪ সালের ২.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ সালে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ২০১৪-১৫ সালের ৪৬,৪২৯ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ সালে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত রপ্তানি ২০১৩-১৪ সালের ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ সালে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যার ফলে, বর্তমানে ৮০টিরও বেশি দেশে ভারতের প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া (DAP) ২০২০, পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট বা ইতিবাচক দেশীয়করণ তালিকা (২০২০), এবং ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সেলেন্স (iDEX)-এর মতো সংস্কারগুলি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করেছে। দেশীয়করণ এবং আধুনিকীকরণের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই সময়কালে প্রতিরক্ষা কূটনীতিও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
** প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের রূপান্তর**
বিগত ১২ বছরে ভারত এক সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি এবং দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। 'আত্মনির্ভর ভারত' এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া' মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকার বিস্তারিত নীতিগত সংস্কার সাধন করেছে, অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবনকে ক্ষমতায়িত করেছে এবং একটি গতিশীল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৃষ্টির
পরিবেশ গড়ে তুলেছে।
প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া (DAP) ২০২০ এবং ডিফেন্স প্রকিওরমেন্ট ম্যানুয়াল (DPM) ২০২৫-এর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার প্রক্রিয়াগুলিকে সহজতর করেছে, দেশীয় উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে এবং বেসরকারি ক্ষেত্র ও এমএসএমই (MSME)-এর অংশগ্রহণের জন্য দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ডিআরডিও (DRDO) অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করে এবং যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী ব্যবস্থা নির্মাণ করতে শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে অংশীদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে চলেছে।
আধুনিকীকরণ এবং দেশীয় উৎপাদনকে সহায়তা করতে প্রতিরক্ষা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিল্প, স্টার্টআপ বা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) তহবিল দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। 'সৃজন দীপ' (SRIJAN DEEP), পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট এবং উদারীকৃত এফডিআই (FDI) নীতিগুলির মতো যুগান্তকারী উদ্যোগগুলি বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
আজ প্রতিরক্ষা রপ্তানি জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৮০টিরও বেশি দেশে পৌঁছেছে। কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং দেশীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভারত তার যুদ্ধপ্রস্তুতি বৃদ্ধি করছে এবং একটি দায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে।
মনোনিবেশকৃত প্রচেষ্টার এই দশকটি 'ভিশন ২০৪৭'-এর লক্ষ্যপূরণে একটি আত্মনির্ভরশীল এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত প্রতিরক্ষা ব্বস্থার জন্য শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।
বিভাগ ক: প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দশক: সামরিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের বিকাশ
ভারত দেশীয় উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং কৌশলগত সংস্কারের মাধ্যমে তার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে ক্রমাগত রূপান্তরিত করেছে। দেশীয় উৎপাদন ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, দেশ সামরিক প্রস্তুতিকে সুদৃঢ় করেছে। এই রূপান্তর ভারতকে আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল, প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ এবং বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা শক্তিতে পরিণত করছে।
ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা বাজেট
সামরিক প্রস্তুতি, আধুনিকীকরণ এবং দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা জোরদার করতে ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বাজেট ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষের ২.৫৩ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। এটি জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত আত্মনির্ভরশীলতার প্রতি সরকারের ধারাবাহিক মনোযোগকে প্রতিফলিত করে। মূলধনী ব্যয়ও (Capital Expenditure) ২০১৪-১৫ সালের ৯৪,৫৮৭.৯৫ কোটি টাকা থেকে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ সালে ২.১৯ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাজেটে মূলধনী ব্যয় বলতে প্রধান সামরিক সম্পদগুলির দীর্ঘমেয়াদী অধিগ্রহণ, আধুনিকীকরণ এবং নতুন সম্পদ তৈরির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলকে বোঝায়। এটি মূলত ভবিষ্যতের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য বাজেটের বিনিয়োগ অংশ।
এটি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের ওপর জোরালো গুরুত্বকে নির্দেশ করে। আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের অধীনে নীতিগত সংস্কার, বৃহত্তর বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ এবং ব্যবসা করার সহজলভ্যতার (Ease of Doing Business) উন্নতি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে, যা ভারতকে একটি উদীয়মান আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানি হাব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
গবেষণা, উদ্ভাবন এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুদৃঢ়করণ
প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) বরাদ্দ ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের ১৩,৭১৬.১৪ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২৯,১০০.২৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা ১১২%-এরও বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০২২-২৩ সালে সরকার প্রতিরক্ষা বাজেটের ২৫% শিল্প, স্টার্টআপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির জন্য উন্মুক্ত করে দেয় যাতে উদ্ভাবনে ব্যাপক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা যায়। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা বিভাগ এই খাতে ১,৭৫৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
এছাড়া, একটি স্বচ্ছ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিআরডিও ল্যাবগুলির বেশ কয়েকটি বিশ্বমানের সুবিধা বেসরকারি শিল্পের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি সহজতর করতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (MoD) প্রয়োজনীয় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOPs) তৈরি করেছে এবং ২৪টি ডিআরডিও ল্যাবের টেস্টিং বা পরীক্ষা পরিকাঠামোর বিবরণ 'ডিফেন্স টেস্টিং পোর্টাল'-এ আপলোড করেছে।
ইনোভেশনস ফর ডিফেন্স এক্সেলেন্স (iDEX)
ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতার এক অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে আইডেক্স (iDEX)। এই উদ্যোগটি দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে এমএসএমই, স্টার্টআপ, একক উদ্ভাবক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সহ বিভিন্ন শিল্পকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত করে। এই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে, ডিআরডিও ডিফেন্স টেস্টিং পোর্টালের মাধ্যমে বেসরকারি শিল্পের জন্য তার উন্নত পরীক্ষা পরিকাঠামো উন্মুক্ত করেছে, যা উদ্ভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং যাচাইকরণের সুবিধাগুলি ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়।
আইডেক্স (iDEX) প্রকল্পটি ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালের জন্য ৪৯৮.৭৮ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের সাথে অনুমোদিত হয়েছিল। এর পাশাপাশি, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ সালের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'অদিতি' (ADITI - Acing Development of Innovative Technologies with iDEX) প্রকল্প অনুমোদিত হয়। উভয় প্রকল্পই ডিফেন্স ইনোভেশন অর্গানাইজেশন (DIO)-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, যা উদ্ভাবকদের প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে সহায়তা করে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে আইডেক্স ৬৭৬টি স্টার্টআপ, এমএসএমই এবং উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, এবং ৫৫১টি নকশা ও উন্নয়ন (design and development) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সাফল্যগুলি ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমের দ্রুত বৃদ্ধি এবং পরিপক্কতাকে প্রতিফলিত করে।
ডেভেলপমেন্ট কাম প্রোডাকশন পার্টনার (DcPP) মডেল
ডিসিপিপি (DcPP) মডেল হলো প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎপাদনে ভারতীয় শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করার জন্য ডিআরডিও-র একটি বিশেষ কাঠামো। এই মডেলের অধীনে, ডিআরডিও একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে সক্ষম উৎপাদন অংশীদারদের চিহ্নিত করে এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর করে। সাব-সিস্টেম, সিস্টেম এবং সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষম ২,২০০-রও বেশি শিল্পের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দ্বারা সমর্থিত এই মডেলটি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে, ১৩৪টি সংস্থা ডিসিপিপি বা প্রোডাকশন এজেন্সি হিসাবে ডিআরডিও-র সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে, ২,১৮০টি প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ২,৭৮০টিরও বেশি মেধা সম্পত্তি অধিকার (IPRs) ভারতীয় শিল্পের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (TDF) বা প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল
টিডিএফ (TDF) ডিআরডিও দ্বারা বাস্তবায়িত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য, দেশীয় প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা এবং সরকারি ও বেসরকারি শিল্পের, বিশেষ করে স্টার্টআপ ও এমএসএমই-গুলির অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা। এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদান করে। এটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল এনে দিয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি সফলভাবে তৈরি হয়েছে এবং পিএসএলভি (PSLV) মিশনের অংশ হিসাবে দুটি প্রকল্প ব্যবস্থা মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। ভারতের ডিপ-টেক (deep-tech) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে, অত্যাধুনিক এবং উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে এই প্রকল্পের অধীনে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত, টিডিএফ স্কিমের অধীনে ৩৩৪ কোটি টাকা মোট ব্যয়ে ৮০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছিল।
ডিআরডিও ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া – সেন্টার অফ এক্সেলেন্স (DIA-CoE)
ডিআরডিও ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমিয়া – সেন্টার অফ এক্সেলেন্স (DIA-CoE)-এর একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং দূরদর্শী প্রযুক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে ডিআরডিও একটি নীতি ও নির্দেশিত যৌথ গবেষণা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। মোট ১৫টি ডিআইএ-সিওই (DIA-CoE) স্থাপন করা হয়েছে যা প্রায় ৮২টি চিহ্নিত গবেষণা ভার্টিক্যালে অনুবাদমূলক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিল্প সংস্থাগুলিকে সহায়তা করার জন্য ডিআরডিও তার গবেষণাগারগুলিতে ইন্ডাস্ট্রি ইন্টারঅ্যাকশন গ্রুপ (IIGs) গঠন করেছে।
প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতার জন্য মানব সক্ষমতা বৃদ্ধি
প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য প্রতিভা, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। ডিআরডিও ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পাঁচটি ইয়ং সায়েন্টিস্ট ল্যাবরেটরি (DYSLs) স্থাপন করেছিল, এবং ষষ্ঠ গবেষণাগারটি ২০২৬ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিআরডিও তার গবেষণা নেটওয়ার্ককে সুবিন্যস্ত করতে গবেষণাগারের সংখ্যা ৩৬-এ সীমাবদ্ধ রেখেছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণাগারে যোগ দেওয়ার আগে ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড টেকনোলজিতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর দুই বছরের এম.টেক (M.Tech) প্রোগ্রামে অংশ নেন। উচ্চ-মূল্যের প্রকল্পগুলিতে 'প্রজেক্ট-ভিত্তিক ম্যানপাওয়ার' বা প্রকল্প-ভিত্তিক জনবল চালুর ফলে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জুড়ে দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগও সম্প্রসারিত করেছে। প্রতি বছর ৩,৫০০-রও বেশি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ বেতনভুক শিক্ষানবিশ (paid apprentices) হিসাবে ডিআরডিও গবেষণাগারে যোগ দেন। একটি পেইড ইন্টার্নশিপ স্কিম এখন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের প্রতিরক্ষা গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। মোট ১৫টি ডিআরডিও ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাধ্যমে ৫২টি প্রতিষ্ঠানে ৯৬৭ কোটি টাকার ২৮১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের পিলখুয়ায় অবস্থিত ডিআরডিও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার অগ্নি নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং অগ্নিনির্বাপণ কৌশলে কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগগুলি ভবিষ্যত ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার জন্য দক্ষ প্রতিভার একটি শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরি করছে।
আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ
ভারতের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ক্রয় সংস্থা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC), প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভর ভারতের এক অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ডিএপি (DAP) ২০২০ সংস্কারের মাধ্যমে এটি দেশীয় সংগ্রহ, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং উচ্চতর দেশীয় উপাদানের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ডিএসি (DAC) ডিআরডিও দ্বারা ডিজাইনকৃত এবং ভারতীয় শিল্প দ্বারা উৎপাদিত ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ব্যবস্থার জন্য অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি প্রদান করেছে, যার মধ্যে অনেকগুলিই ইতিমধ্যেই সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বা অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রধান অনুমোদনের মধ্যে রয়েছে ৬২,০০০ কোটি টাকা মূল্যের ৯৭টি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট তেজস (Tejas Mk-1A) ফাইটার জেট, প্রায় ৬২,৭০০ কোটি টাকা মূল্যের ১৫৬টি লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার (LCH) প্রচণ্ড, এবং ২৬টি রাফাল মেরিন (Rafale Marine) উড়ান ইত্যাদি।
ক্রয়ের ক্ষেত্রে সংস্কার: দ্রুততর, সহজতর এবং আরও দেশীয়
প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণকে আধুনিকীকরণ এবং আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করতে ভারত ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বড় ধরনের ক্রয় সংস্কার সাধন করেছে। নীতিগত পদক্ষেপগুলি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উচ্চতর দেশীয় উপাদান এবং দেশীয় শিল্পের বৃহত্তর অংশগ্রহণের ওপর আলোকপাত করেছে।
* **ডিফেন্স প্রকিওরমেন্ট প্রসিডিওর (DPP) ২০১৬:**
এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিচালনাকারী প্রধান কাঠামো হিসাবে কাজ করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ক্রয় প্রক্রিয়াগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, সুবিন্যস্ত ও সহজ করা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগের প্রচার করা।
* **ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিওর (DAP) ২০২০:**
এটি দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করতে এবং মূলধনী অধিগ্রহণকে সহজ করতে বড় ধরনের সংস্কার প্রবর্তন করে। এটি ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য সুযোগ বৃদ্ধি করে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দেশীয় নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে।
* **ডিফেন্স প্রকিওরমেন্ট ম্যানুয়াল (DPM) XXV:**
ডিপিএম রাজস্ব ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার উন্নতি ঘটিয়েছে। এটি দ্রুত অনুমোদন, দেশীয় প্রকল্পগুলির জন্য শিথিল জরিমানা এবং দীর্ঘমেয়াদী আদেশের নিশ্চয়তার মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার ক্রয় প্রক্রিয়াকে সুবিন্যস্ত করেছে।
* **ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিওর (DAP) ২০২৬ (খসড়া):**
খসড়াটিতে সহজতর অধিগ্রহণ বিভাগ এবং দেশীয় নকশা ও উন্নয়নের জন্য জোরালো সমর্থনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে এটি ৬০% পর্যন্ত উচ্চতর দেশীয় উপাদানের প্রয়োজনীয়তার সুপারিশ করে।
গত এক দশকে ভারত উচ্চতর বিনিয়োগ, দেশীয় উদ্ভাবন এবং প্রধান নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। বর্ধিত প্রতিরক্ষা ব্যয়, ক্রমবর্ধমান শিল্পের অংশগ্রহণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর জোরালো মনোযোগ আত্মনির্ভরশীলতার যাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছে। আইডেক্স (iDEX), টিডিএফ (TDF) এবং ডিআরডিও-শিল্প অংশীদারিত্বের মতো উদ্যোগগুলি একটি প্রাণবন্ত প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। মূল প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ এবং ক্রয় সংস্কারের সাথে যুক্ত হয়ে এই প্রচেষ্টাগুলি একটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র গড়ে তুলছে।
পার্ট বি: ধারণক্ষমতার রূপান্তর: স্কেল এবং শিল্প অগ্রগতির এক দশক
উন্নত নীতি এবং শিল্প সংস্কারের মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা ধারণক্ষমতা বা উৎপাদন ক্ষমতা প্রসারিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হল, স্কেল, স্থিতিস্থাপকতা এবং দেশীয় সক্ষমতা। একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ব্যমস্থায় আমদানির ওপর নির্ভরশীলতাকে সপ্রতিস্থাপন করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রতিরক্ষা ক্রয় ত্বরান্বিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২,০৯,০৫০ কোটি টাকা মূল্যের মোট ১৯৩টি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে, এখনও পর্যন্ত ১.৮২ লক্ষ কোটি টাকার এই জাতীয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিবর্তন উৎপাদনের গভীরতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন উভয়কেই শক্তিশালী করে।
ক্রেতা থেকে নির্মাতার কাঠামোগত রূপান্তর
২০২৫-২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ১,৭৮,০০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই মাইলফলকটি পূর্ববর্তী অর্থবর্ষের ১,৫৪,০৭১ কোটি টাকার উৎপাদনের তুলনায় ১৫.৬% প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এটি ২০২০-২১ অর্থবর্ষের তুলনায় চমকপ্রদ ১১০% বৃদ্ধি। এটি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি 'আত্মনির্ভর ভারত' দর্শনের অধীনে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান শক্তিকে তুলে ধরে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে, ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSUs) এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬% অবদান রেখেছে, অন্যদিকে বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪% হয়েছে, যা বৃহত্তর শিল্পের অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।
এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির রূপান্তর
ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষের ৬৮৬ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা হয়েছে। এটি ১২ বছরে ৫৫০০%-এরও বেশি প্রবৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে। এই রূপান্তরটি 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরশীলতার তাগিদ দ্বারা চালিত হয়েছে। ভারত ধীরে ধীরে একটি বৃহৎ আমদানিকারক দেশ থেকে প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। আগে যেখানে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা ছিল ৬৫-৭০%, আজ প্রায় ৬৫% প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য এখন বিশ্বব্যাপী ৮০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক ভিত্তি ১৪৫টি সংস্থায় প্রসারিত হয়েছে, যা ব্যাপক শিল্প অংশগ্রহণকে প্রতিফলিত করে। ক্রমবর্ধমান রপ্তানি ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির ওপর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থা প্রদর্শন করে। সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে ৫০,০০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা একটি উদীয়মান বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক হিসেবে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
প্রতিরক্ষা শিল্প ক্ষমতার সম্প্রসারণ
নীতিগত সংস্কার এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের বর্ধিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত ক্রমাগত তার প্রতিরক্ষা উৎপাদন ভিত্তি সম্প্রসারিত করেছে। গত এক দশকে, দেশ একটি শক্তিশালী দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে যার মধ্যে আজ ১৬টি ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSUs), প্রায় ৫০০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং প্রায় ১৭,০০০ অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মধ্যমানের উদ্যোগ (MSMEs) রয়েছে। ক্রমবর্ধমান শিল্প ক্ষমতা এবং এই ক্ষেত্রে ব্যবসা করার সহজলভ্যতার প্রতিফলন ঘটিয়ে, প্রতিরক্ষা শিল্প লাইসেন্সের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে - ২০১৫ সালের ২৫৮টি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তা ৮৩৪-এ পৌঁছেছে। এই সম্প্রসারিত ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতাকে শক্তিশালী করছে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এই তীব্র বৃদ্ধি বর্ধিত বিনিয়োগকারী আস্থা এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে প্রসারিত বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণকে প্রতিফলিত করে। এই সময়কালে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিও রপ্তানিতে ১৫১% বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ধারাবাহিক বৃদ্ধি এই ক্ষেত্র জুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি শোষণ এবং শিল্প প্রতিদ্বন্দিতাকে শক্তিশালী করেছে।
**আপনি কি জানেন?**
২০২১ সালের অক্টোবরে, ভারত সরকার ২০০ বছরের পুরানো অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড (OFB) বিলুপ্ত করে এবং এর ৪১টি অর্ডন্যান্স কারখানাকে সাতটি নতুন ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSUs)-এ পুনর্গঠিত করে। এই সংস্কারের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দক্ষতা, জবাবদিহিতা, প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার উন্নতি ঘটানো। এই পুনর্গঠন ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং আত্মনির্ভর ভারত দর্শনের অধীনে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের উৎপাদন ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
আঞ্চলিক উৎপাদন চালনাকারী ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর
ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর বা প্রতিরক্ষা সংক্যান্ত শিল্প অলিন্দগুলি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য প্রধান প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যা আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনকে শক্তিশালী করছে এবং সমন্বিত শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে, উত্তরপ্রদেশ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ৪২,০৫৭ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আকর্ষণ করেছিল, যার মধ্যে ৪,৪০৯ কোটি টাকার বাস্তবায়িত বিনিয়োগ রয়েছে; এবং এটি পরীক্ষা ও উদ্ভাবন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডিফেন্স টেকনোলজি & টেস্ট সেন্টার (DTTC) প্রতিষ্ঠার দ্বারা সমর্থিত। একই সময়কালে, তামিলনাড়ু ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর ৩২,৬৯৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, যার মধ্যে প্রকৃত বিনিয়োগ ৬,৪৪৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে, এই করিডোরগুলি শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা প্রসারিত করছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
আত্মনির্ভর ভারতের অধীনে প্রধান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সংস্কার
* **প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহজে ব্যবসা করার সুযোগ (Ease of Doing Business):**
২০১৫ সালের আগে, একটি শিল্প লাইসেন্সের প্রাথমিক বৈধতা ছিল সাত বছর, যা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেত। ২০১৫ সালে সরকার এটিকে সংশোধন করে ১৫ বছরের প্রাথমিক বৈধতা প্রদান করে, যা আরও ১৮ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এই পরিবর্তন নতুন এবং বিদ্যমান উভয় লাইসেন্সের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অতিরিক্তভাবে, আর্মস অ্যাক্টের অধীনে, সংস্থাগুলিকে দেওয়া লাইসেন্স এখন সংস্থার আজীবন বৈধ, যদি সংস্থাটি অনুমোদনের তারিখ থেকে সাত বছরের মধ্যে উৎপাদন সুবিধা স্থাপন করে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করে (যা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে, অর্থাৎ মোট ১০ বছর)।
* **পুনর্গঠিত ডিফেন্স এক্সিম (Exim) পোর্টাল:**
এই পোর্টালটি এন্ড-টু-এন্ড অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসিং, স্বয়ংক্রিয় সংস্থা যাচাইকরণ, সরলীকৃত নিবন্ধন, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং নিরাপদ পেমেন্ট ইন্টিগ্রেশন সক্ষম করে। এটি স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং নিয়ন্ত্রক আনুগত্য বৃদ্ধি করে, পাশাপাশি, আত্মনির্ভর ভারত এবং মেক ইন ইন্ডিয়া লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করে ভারতকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানির একটি বৈশ্বিক হাব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
শিল্পের মাধ্যমে দেশীয়করণ (Indigenisation):
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ২০২০ সালের আগস্টে 'সৃজন ডিফেন্স পোর্টাল' চালু করে। এই পোর্টালে, ডিপিএসইউ এবং সার্ভিস হেডকোয়ার্টার্স (SHQs) দেশীয়করণের জন্য এমএসএমই এবং স্টার্টআপ সহ শিল্পগুলির কাছে প্রতিরক্ষা সামগ্রী প্রদর্শন করে। দেশীয়করণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য, ২০২১ সালে আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের অধীনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দ্বারা পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট বা ইতিবাচক দেশীয়করণের তালিকা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এই উদ্যোগটি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করেছে, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করেছে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রসারিত করেছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত, ডিপিএসইউ-গুলির ৫,০১২টি সামগ্রীর পাঁচটি পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করা হয়েছে। সৃজন পোর্টালে, গত পাঁচ বছরে পিআইএল (PILs)-এর ৩,২০৪টি সামগ্রী সহ ১৫,৭০০-রও বেশি প্রতিরক্ষা সামগ্রীর দেশীয়করণ করা হয়েছে। ডিপিএসইউগুলি ৯,৭৮২ কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ অর্ডার দিয়েছে, যা এমএসএমই, স্টার্টআপ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতাকে চাঙ্গা করেছে।
সৃজন দীপ (Srijan DEEP):
প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিভাগ 'সৃজন দীপ' (Defence Establishments and Entrepreneurs Platform) তৈরি করেছে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পগুলির একটি ডিজিটাল ডাটাবেস। এই পোর্টালটি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী, এমএসএমই, পরিষেবা এবং প্রযুক্তি প্রদানকারীদের একটি ব্যাপক ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে যারা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখছে। প্রতিটি শিল্প/ভেন্ডরকে পোর্টালে একটি 'ইউনিক রেফারেন্স নম্বর' (URN) বরাদ্দ করা হয়েছে যা সমস্ত উদ্দেশ্য/আপডেট/ ভবিষ্যত রেফারেন্সের জন্য ব্যবহৃত হবে। এই ডাটাবেসটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিভিন্ন সংস্থার কাছে অ্যাক্সেসযোগ্য এবং এটি জরুরি অবস্থার সময় সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা এবং সম্পদ একত্রিতকরণ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত, ৪১,০০০-এরও বেশি ভেন্ডর এবং ডিফেন্স পিএসইউ ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংস্থায় সরবরাহ করা তাদের ২,৭০,০০০টি পণ্য সৃজন দীপে আপলোড করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এফডিআই (FDI):
২০০১ সালের মে মাসে প্রতিরক্ষা শিল্প ক্ষেত্রটি বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প লাইসেন্স চাওয়া সংস্থাগুলির জন্য ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (FDI) সীমা অটোমেটিক রুটের মাধ্যমে ৭৪% পর্যন্ত এবং গভর্নমেন্ট রুটের মাধ্যমে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে যেখানে এর ফলে আধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্তি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এ ধরণের সংস্থাগুলির দ্বারা ৬,৬৭০.৫৯ কোটি টাকার এফডিআই প্রবাহের তথ্য জানানো হয়েছে। তদুপরি, সরকার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এফডিআই-কে উৎসাহিত করতে বিদেশী অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স (OEMs)-এর সাথে বিশেষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সহ-উন্নয়ন এবং সহ-উৎপাদনকে প্রচার করে।
বিভাগ গ: উদ্ভাবন থেকে শ্রেষ্ঠত্ব
গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা ইকোসিস্টেমে একটি উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটেছে। এই অগ্রগতি কর্মক্ষম সাফল্য, দেশীয় প্ল্যাটফর্ম, উন্নত পরিকাঠামো এবং একটি ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবন ব্যবস্থার মধ্যে দৃশ্যমান। এই প্রচেষ্টাগুলি প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরশীলতার দৃষ্টিভঙ্গিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করেছে।
কৌশলগত প্রভাবের জন্য কর্মক্ষম প্রস্তুতি
২০১৯-এর ২৭ মার্চ, ভারত 'মিশন শক্তি'-র মাধ্যমে মহাকাশে একটি উপগ্রহ ধ্বংস করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে, অ্যান্টি-স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ বিধ্বংসী) ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলির একটি নির্বাচিত গোষ্ঠীতে যোগ দেয়।
২০২৪-এর ১১ মার্চ, ভারত 'মিশন দিব্যাস্ত্র'-এর অধীনে বিভিন্ন লক্ষ্যে একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
অপারেশন সিন্দুরের সময়, আকাশ বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা এবং বায়ুবাহিত নজরদারি প্ল্যাটফর্মের মতো দেশীয় ব্যবস্থাগুলি সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করেছিল।
২০২৫-এর ২৩ আগস্ট, ডিআরডিও সফলভাবে একটি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা করে যা আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিঘাতক, স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র এবং লেজার-ভিত্তিক প্রযুক্তিকে একত্রিত করে।
পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি
দেশীয় তেজস (Tejas) ফাইটার এয়ারক্রাফট ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ছাড়পত্র (Final Operational Clearance) লাভ করে এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য ৮৩টি বিমান অনুমোদিত হয়।
অর্জুন (Arjun Mk-IA) ব্যাটল ট্যাংক ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
২০২২ সালে, নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা, লজিস্টিকস, স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সহায়তা-সহ প্রতিরক্ষা প্রয়োগের জন্য ৭৫টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রবর্তন করা হয়েছিল।
পরবর্তী প্রজন্মের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য উন্নত প্রপালশন বা চালিকা ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেছে।
২০২৬-এর ০৯ জানুয়ারি তারিখে, ডিআরডিও সফলভাবে স্ক্র্যামজেট কানেক্ট পাইপ টেস্ট (SCPT) সুবিধায় ১২ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে একটি অ্যাক্টিভলি কুলড স্ক্র্যামজেট ফুল-স্কেল কম্বাস্টরের দীর্ঘস্থায়ী গ্রাউন্ড টেস্ট পরিচালনা করে, যা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক চিহ্নিত করে।
ভবিষ্যতে উচ্চ-গতির ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়নকে সমর্থন করার জন্য হায়দরাবাদে একটি নতুন হাইপারসনিক উইন্ড টানেল (Hypersonic Wind Tunnel) স্থাপন করা হয়েছে।
একটি তরুণ এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা
অগ্নিপথ (Agnipath) প্রকল্পটি ১৫ জুন ২০২২-এ চালু করা হয়েছিল যাতে তরুণ পুরুষ ও নারীদের চার বছরের চাকুরির মেয়াদে 'অগ্নিবীর' হিসাবে সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ করা যায়। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য, একটি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন একটি তরুণ, প্রযুক্তি-সচেতন এবং যুদ্ধ-প্রস্তুত সামরিক বাহিনী তৈরি করা। অগ্নিবীররা সামরিক প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়ন এবং ইগ্নু (IGNOU) ও নিওস (NIOS)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষাগত সুযোগ লাভ করেন। এই প্রকল্পটি চাকুরির মেয়াদ শেষে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত দক্ষতা শংসাপত্র এবং ক্যারিয়ারের পথও প্রদান করে। অগ্নিপথ ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জগুলির জন্য প্রস্তুত একটি তরুণ, দক্ষ, সুশৃঙ্খল এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা রূপান্তর গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত সক্ষমতা উন্নয়নের প্রতি একটি ধারাবাহিক অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং সহযোগিতামূলক উদ্ভাবন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশ দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। এই সাফল্যগুলি দেশীয় শক্তির সাথে পরিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলায় ভারতের ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।
বিভাগ ঘ: ১২ বছরে নির্ভরযোগ্য শক্তি - ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতি এবং অঙ্গীকার
গত এক দশকে, ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতি জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রভাবের একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। দেশ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলির সাথে অংশীদারিত্ব প্রসারিত করেছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন কেবল সামরিক আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং যৌথ উৎপাদনে প্রসারিত হয়েছে। ভারত আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মগুলিতেও তার ভূমিকা শক্তিশালী করেছে। কোয়াড (QUAD), সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO), এবং আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক-প্লাস (ADMM-Plus)-এর মাধ্যমে ভারত সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং একটি নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করে। এই সম্পৃক্ততাগুলি ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত আত্মবিশ্বাস এবং একটি ক্রমবর্ধমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে একটি দায়িত্বশীল নিরাপত্তা অংশীদার হিসাবে উদীয়মান নির্ভরযোগ্যতাকে প্রতিফলিত করে।
ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (India-US)
ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত এক দশকে প্রধান প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের লজিস্টিকস এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাগ্রিমেন্ট (LEMOA)। দুই দেশ ২০১৮ সালে কমিউনিকেশনস কম্প্যাটিবিলিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাগ্রিমেন্ট (COMCASA)-ও স্বাক্ষর করে। ২০২০ সালে বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (BECA) স্বাক্ষরিত হয়। ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক একটি 'মেজর ডিফেন্স পার্টনার' বা প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসাবে মনোনীত করা হয়েছিল। এটি স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড অথরাইজেশন-১ (STA-1) মর্যাদাও লাভ করে।
এই উন্নয়নগুলি ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ২০২৩ সালে ইনিশিয়েটিভ অন ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজি (iCET) চালু করা হয়েছিল। এটি ২০২৫ সালে ট্রান্সফর্মিং দ্য রিলেশনশিপ ইউটিলাইজিং স্ট্র্যাটেজিক টেকনোলজি (TRUST)-এর অধীনে অব্যাহত থাকে। এই কাঠামোটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে, উভয় দেশ কুয়ালালামপুরে একটি ১০ বছরের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামো স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা সহযোগিতাকে শক্তিশালী করেছে।
ভারত-রাশিয়া (India-Russia)
পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি সত্ত্বেও রাশিয়ার সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব শক্তিশালী ছিল। এই অংশীদারিত্বটি ভারত-রাশিয়া মিলিটারি অ্যান্ড মিলিটারি টেকনিক্যাল কোঅপারেশন বিষয়ক আন্তঃসরকারি কমিশনের (IRIGC-M&MTC) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এর ২১তম এবং ২২তম অধিবেশন যথাক্রমে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উভয় পক্ষই এস-৪০০ (S-400) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা সুখোই (Su-30MKI) ফাইটার এয়ারক্রাফটের আপগ্রেড বা আধুনিকীকরণকেও সমর্থন করেছে। এই অংশীদারিত্বটি আত্মনির্ভর ভারতের অধীনে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সুযোগ প্রসারিত করেছে। 'ইন্দ্র' (Indra) মহড়া দুই দেশের মধ্যে একটি ফ্ল্যাগশিপ ত্রি-দেশীয় সামরিক মহড়া হিসৃবে অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি, ভারত তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছে। এই অংশীদারিত্বটি ক্রমবর্ধমানভাবে সহ-উৎপাদন এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার ওপর আলোকপাত করছে। ভারত দেশের অভ্যন্তরে মেইনটেন্যান্স বা রস্কক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ঢেলে সাজানোর (MRO) সক্ষমতাও প্রসারিত করেছে।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (India-EU)
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে, ইইউ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত একটি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। ইইউ-এর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজা কালাস এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি শান্তি, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে — যা সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার-প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রকে আওতাভুক্ত করে।
এই অংশীদারিত্বটি একটি বার্ষিক ভারত-ইইউ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংলাপের মাধ্যমে সম্পৃক্ততাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং যৌথ উন্নয়ন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতার জন্য একটি ভারত-ইইউ প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামের (India–EU Defence Industry Forum) বিধান করে।
ভারত-ফ্রান্স (India-France)
ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ভারতের অন্যতম গভীর কৌশলগত শিল্প অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালের রাফাল চুক্তি ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে। প্রজেক্ট ৭৫-এর অধীনে সবকটি কালভারী-শ্রেণীর স্কর্পেন (Scorpene) সাবমেরিন সরবরাহ করা হয়েছে। মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL), মুম্বই ফরাসি সহযোগিতায় এই ডুবোজাহাজগুলি তৈরি করেছে। ষষ্ঠ সাবমেরিনটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কমিশন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে, ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) ২৬টি রাফাল-মেরিন (Rafale-Marine) বিমান অনুমোদন করে। দাসো-টাটা (Dassault-TATA) ফিউজেলেজ যৌথ উদ্যোগ মহাকাশ উৎপাদন সহযোগিতাকে প্রসারিত করেছে। সাফরান-হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (Safran-HAL) অংশীদারিত্ব ইঞ্জিন প্রযুক্তি সহযোগিতাকে শক্তিশালী করেছে। এই উদ্যোগগুলি 'হরাইজন ২০৪৭ ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোডম্যাপ' এবং সহ-উৎপাদনের লক্ষ্যগুলিকে সমর্থন করে।
ভারত-জাপান (India-Japan)
গত এক দশকে ভারত ও জাপানের বিশেষ কৌশলগত ও সার্বিক অংশীদারিত্ব (Special Strategic and Global Partnership) উল্লেখযোগ্য প্রতিরক্ষা গভীরতা লাভ করেছে। অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট (ACSA, 2020) সশস্ত্র বাহিনীগুলির মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিকস এবং সরবরাহ সহায়তা সক্ষম করেছে। জিমেক্স (JIMEX) মহড়া নৌবাহিনীর আন্তঃক্রিয়াশীলতা বা ইন্টারঅপারেবিলিটি শক্তিশালী করা অব্যাহত রেখেছে, যার সর্বশেষটি ২০২৫ সালে ইয়োকোসুকাতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (রক্ষা মন্ত্রী) এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (মে ২০২৫) আঞ্চলিক শান্তির প্রতি যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (India-UAE)
ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) প্রতিরক্ষা সম্পর্ক লেনদেনমূলক সম্পৃক্ততা থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হয়েছে। দুবাই এয়ার শো-তে (নভেম্বর ২০২৫), ভারত সক্রিয়ভাবে যৌথ আরঅ্যান্ডডি (R&D) এবং সহ-উৎপাদনের সুযোগের প্রচার করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট এমবিজেড (MbZ)-এর ভারত সফরের সময় একটি দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্য একটি লেটার অফ ইনটেন্ট (Letter of Intent) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা, বিশেষ অভিযান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতার কথা বিবেচনা করে।
ভারত-অস্ট্রেলিয়া (India-Australia)
২০২০ সালে একটি সুসদহত কৌশলগত অংশীদারিত্বে (Comprehensive Strategic Partnership) উন্নীত হওয়ার পর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পরিধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্বোধনী অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সংলাপ (ক্যানবেরা, অক্টোবর ২০২৫) এই অংশীদারিত্বের পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে, যা সামুদ্রিক ডোমেন সচেতনতা, সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্প একীকরণের প্রতিশ্রুতিগুলিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন(SCO) – প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠক
২০১৭ সালে এসসিও (SCO)-তে যোগদানের পর থেকে, ভারত ধারাবাহিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মটিকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার পক্ষে সওয়াল করতে ব্যবহার করেছে - প্রায়শই পাকিস্তানের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। ধারাবাহিক সহযোগিতার মাধ্যমে, ভারত সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বিরোধী কাঠামোর পক্ষে সওয়াল করেছে। কিংডাওতে (জুন ২০২৫), ভারত সন্ত্রাসবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের (WMD) হুমকির বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়, যা এর নীতিগত এবং কৌশলগতভাবে স্বায়ত্তশাসিত এসসিও অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
আসিয়ান / এডিএমএম-প্লাস (ADMM-Plus) - কুয়ালালামপুর
এডিএমএম-প্লাসে ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যে তার ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা নির্ভরযোগ্যতাকে প্রতিফলিত করে। কুয়ালালামপুরে (নভেম্বর ২০২৫), ভারত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে, এবং আসিয়ান অংশীদাররা এর স্থিতিশীল ভূমিকা স্বীকার করে। অ্যাক্ট ইস্ট (Act East) নীতির দ্বারা চালিত হয়ে, টহল জাহাজ উপহার, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্রহ্মোস সহযোগিতার মাধ্যমে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন্স এবং ইন্দোনেশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীর হয়েছে।
কোয়াড (QUAD) সহযোগিতা
২০১৭ সালে পুনরুজ্জীবিত এবং ২০২১ সালে একটি লিডার্স সামিট (শীর্ষ সম্মেলন) ফর্ম্যাটে উন্নীত হওয়ার পর, ভারত কোয়াডের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।
মালাবার মহড়া — ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়া পুনরায় যোগ দেওয়ার পর থেকে যা এখন একটি চার-দেশীয় মহড়া — ক্রমবর্ধমান গভীরতাকে প্রতিফলিত করে। ২০২৫ সালের কোয়াড-অ্যাট-সি (Quad-at-Sea) মিশনটি চার অংশীদারের মধ্যে প্রথম সম্মিলিত কোস্ট গার্ড মহড়াকে চিহ্নিত করেছে। কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে (২০২৫-এর জুলাই), ভারতের কণ্ঠস্বর সন্ত্রাসবাদ, দক্ষিণ চীন সাগরের স্থিতিশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো বিষয়গুলির ফলাফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশীদারিত্ব (Indo-Pacific Partnerships)
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা অভিনেতা হিসাবে ভারতের উত্থান ২০১৫ সালে ঘোষিত তার সাগর (SAGAR — Security and Growth for All in the Region) ভিশন এবং ২০২৫ সালের মার্চ মাসে চালু করা মহাসাগর (MAHASAGAR) মতবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ধারাবাহিক নৌ উপস্থিতি, বহুপাক্ষিক মহড়া এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলির সাথে সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে নিজেকে একটি নিট নিরাপত্তা প্রদানকারী (net security provider) হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভারতের প্রসারিত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সামরিক প্রস্তুতি, শিল্প ক্ষমতা এবং কৌশলগত প্রভাবকে শক্তিশালী করেছে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলি এখন সহ-উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তির প্রাপ্তি এবং শক্তিশালী কর্মক্ষম সমন্বয়কে সমর্থন করে। একই সাথে, বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা গঠনে ভারতের ভূমিকা বৃদ্ধি করেছে। দেশ ক্রমাগত গভীর বৈশ্বিক সহযোগিতার সাথে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভারসাম্য বজায় রাখছে। ভারতকে এখন একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদার, বিশ্বস্ত নিরাপত্তা প্রদানকারী এবং উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন হাব হিসাবে দেখা হয়। দেশীয় সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে, প্রতিরক্ষা কূটনীতি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা দশক এবং ২০৪৭ সালের পথ
বিগত ১২ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা যাত্রা কেবল সামরিক আধুনিকীকরণকেই প্রতিফলিত করে না। এটি দেশীয় শক্তির মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একটি জাতির উত্থানকে চিহ্নিত করে। যুদ্ধজাহাজ এবং ফাইটার এয়ারক্রাফট থেকে শুরু করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম পর্যন্ত, ভারত ক্রমাগত দেশে তার কৌশলগত সক্ষমতা প্রসারিত করেছে। এই রূপান্তর দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত ভূদৃশ্যকেও পুনর্গঠিত করেছে। স্টার্টআপ, এমএসএমই, বেসরকারি সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগগুলি জাতীয় নিরাপত্তায় সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা উৎপাদন একটি সীমিত সরকারি-ক্ষেত্রের কার্যক্ষেত্র থেকে একটি বিস্তৃত উদ্ভাবন ব্যবস্থা বিবর্তিত হয়েছে। এই সময়কালে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে। ভারত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং তার বাইরে একটি আরও আত্মবিশ্বাসী নিরাপত্তা অংশীদার হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। এর প্রতিরক্ষা কূটনীতি প্রযুক্তি সহযোগিতা, সামুদ্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা, শিল্প সহযোগিতা এবং কৌশলগত জনসংযোগকে ক্রমবর্ধমানভাবে একত্রিত করছে। ভারত যখন ২০৪৭ সালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপকতা এবং আত্মনির্ভরশীলতার দ্বারা চালিত হবে। গত এক দশকে গড়ে ওঠা ভিত্তি ভারতকে পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে সেটিকে রূপ দেওয়ার অবস্থানে নিয়ে গেছে।
সূত্রাবলী (References)
Press Information Bureau
Ministry of Defence
Ministry of External Affairs
Department of Defence Production
Others
The Defence Decade
SSS/PK...
(रिलीज़ आईडी: 2274134)
आगंतुक पटल : 5