কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ ? ১৯তম এমআইএফএফ-এর ওপেন ফোরামে চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের পক্ষে মত
মুম্বই, ১৬ জুন ২০২৬
১৯তম মুম্বই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (এমআইএফএফ)-এ ‘ইন্ডিয়ান ডকুমেন্টারি প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন’ (IDPA) ‘এআই (AI) কি সৃজনশীলতার ভবিষ্যৎ?’—এই বিষয়ের ওপর একটি খোলামেলা আলোচনার আয়োজন করেছিল। চলচ্চিত্র নির্মাণ ও বিষয়বস্তু তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার জন্য এই অধিবেশনে সমবেত হয়েছিলেন ফায়ারফ্লাই ক্রিয়েটিভ স্টুডিও প্রাইভেট লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সন্থ পি.সি., এসএমপিটিই-র চেয়ারম্যান উজ্জ্বল নির্গুডকর, আইনজীবী হেতাল দেশাই সোলিয়া, ফ্যানবয় পিকচার্সের পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সুবোধ মেনন প্রমুখ।
আলোচনায় সৃজনশীল ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়; বক্তারা গল্প বলা, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যতের ওপর এর প্রভাব পর্যালোচনা করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রূপান্তরমূলক ক্ষমতার বিষয়টি স্বীকার করেও তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, গল্প বলার শিল্পে মানুষের সৃজনশীলতা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাই মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
চলচ্চিত্রের প্রযুক্তিগত বিবর্তন নিয়ে আলোচনার সময় এসএমপিটিই-এর চেয়ারম্যান উজ্জ্বল নির্গুডকর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরবর্তী স্বাভাবিক ধাপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি শব্দের মানোন্নয়ন, রঙের ব্যবহার, দৃশ্যগত উন্নয়ন সহ পোস্ট-প্রোডাকশনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, যদিও এআই টুলগুলি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে, তবুও এগুলির মানদণ্ড নির্ধারণ ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র শিল্পের কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ‘ফ্যানবয় পিকচার্স’-এর পরিচালক সুবোধ মেনন বলেন যে, যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা বা নতুন ধারণা উদ্ভাবনে সহায়তা পাওয়া সম্ভব, তবুও গল্প বলার বিষয়টি মূলত মানুষেরই কাজ। তিনি ধারণা তৈরি ও তা যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি মূল্যবান হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে, এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা থাকা ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ফায়ারফ্লাই ক্রিয়েটিভ স্টুডিও প্রাইভেট লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সন্থ পি.সি. বলেন যে, এআই ছবি ও শব্দের গুণমান এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার মাধ্যমে গল্প বলার প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বর্তমান সময়কে তিনি পরীক্ষামূলক পর্যায় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, নির্মাতাদের উচিত এআই-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে এটিকে কেবল একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা এবং এর সম্ভাবনার নানা দিক অন্বেষণ করা।
এআই-এর মাধ্যমে তৈরি বিষয়বস্তু বা কন্টেন্টের আইনি দিকগুলি নিয়ে আলোচনার সময় হেতাল দেশাই সোলিয়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডেটা ব্যবহারের ওপর এবং সৃজনশীল কাজে মানুষের পর্যাপ্ত সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
বক্তারা সহমত প্রকাশ করে বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানব সৃজনশীলতার বিকল্প হিসেবে না দেখে, বরং এর পরিপূরক হিসেবে একটি শক্তিশালী সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখা উচিত। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, যদিও এআই নির্মাণ প্রক্রিয়াকে সুবিন্যস্ত করতে, কার্যকারিতা বাড়াতে এবং সৃজনশীল সম্ভাবনাকে প্রসারিত করতে পারে, তবুও গল্প বলার মূল ভিত্তি মানুষের কল্পনা, আবেগ এবং শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই নিহিত থাকে।
SC/MP/NS
रिलीज़ आईडी:
2273785
| Visitor Counter:
5