PIB Backgrounder
azadi ka amrit mahotsav

ক্ষমতায়িত যুবসমাজ, শক্তিশালী দেশ: বিকশিত ভারত @ ২০৪৭-র লক্ষ্যে ভারতের অঙ্গীকার

प्रविष्टि तिथि: 13 JUN 2026 1:02PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১৩ জুন,  ২০২৬

 

২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোগ গঠন, ক্রীড়া, স্বাস্থ্য এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মতো ক্ষেত্রে যুবসমাজকে কেন্দ্র করে একাধিক উদ্যোগ সম্প্রসারিত করেছে সরকার। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০ এবং যুব-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশে স্বীকৃত স্টার্ট-আপের সংখ্যা ২.৩ লক্ষেরও বেশি হওয়ার মাধ্যমে ভারতের স্টার্ট-আপ পরিবেশও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ ‘অমৃত পীড়ি’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং বিকশিত ভারত @ ২০৪৭-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অমৃত পীড়ির উত্থান

ভারতের প্রায় ৬৫ শতাংশ জনসংখ্যার বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ফলে, দেশটি বর্তমানে তার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। এই জনমিতিক শক্তির বিপুল সম্ভাবনাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গত ১২ বছরে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরকারের সংযোগ ও অংশীদারিত্বের ধরনে একটি মৌলিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এই সময়কালে শিক্ষার, দক্ষতা উন্নয়নের, ক্রীড়া এবং উদ্যোগ গঠনের মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে যুবসমাজকে জাতীয় বিকাশের চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সুসংগঠিত ও রূপান্তরমূলক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। যুবসমাজকে আর কেবল সুবিধাভোগী হিসেবে দেখা হয় না; বরং তারা এখন ‘অমৃত পীড়ি’ হিসাবে স্বীকৃত। বিকশিত ভারত @ ২০৪৭ নির্মাণের প্রধান স্থপতি ও সহ-নির্মাতা হিসাবে তারা আত্মপ্রকাশ করেছে।

যুব-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের উপর জোর

গত এক দশকে ভারতের যুব উন্নয়ন-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা একটি তরুণ ও গতিশীল জনসংখ্যার পরিবর্তিত আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজনের প্রতিফলন।

জাতীয় যুব নীতি (এনওয়াইপি) ২০১৪ দেশে যুব উন্নয়নের জন্য একটি মৌলিক কাঠামো প্রদান করে। এই নীতিতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী ব্যক্তিদের যুব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল সুযোগ সম্প্রসারণ, অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা।

শিক্ষা: প্রতিটি ভারতীয় তরুণের জন্য গুণগত মান, সুযোগ এবং ক্ষমতায়ন

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কেবলমাত্র ‘সুযোগ সম্প্রসারণ’-এর পরিবর্তে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে ‘গুণগত শিক্ষার নিশ্চয়তা’-র উপর। শহরকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা এখন শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, যাতে প্রত্যেকেই সমান সুযোগ পায়। ভারতের যুবসমাজের জন্য সামগ্রিক ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করার দিকেই এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয় শিক্ষার শক্তিশালীকরণ: পরিকাঠামো, অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকতা

গত এক দশকে সরকার বিদ্যালয় শিক্ষাকে যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং উচ্চশিক্ষার ভিত্তি হিসেবে আরও শক্তিশালী করেছে। এনইপি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষাকে একটি সমন্বিত ধারাবাহিক শিক্ষাব্যবস্থা হিসাবে পুনর্গঠিত করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ডিজিটাল উদ্যোগের আওতায় ১.৪৯ লক্ষেরও বেশি বিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১.৭৬ লক্ষেরও বেশি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ এবং ১.৭৯ লক্ষ আইসিটি পরীক্ষাগার অনুমোদিত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত উচ্চশিক্ষা: নমনীয়তা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন

নতুন শিক্ষা নীতি উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং শিক্ষাদানের কাঠামোকে আমূল পরিবর্তন করেছে। আরও নমনীয়, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উদ্ভাবনকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় যুবসমাজকে ক্ষমতায়িত করা হচ্ছে।

শিক্ষায় নমনীয়তা

এনইপি ২০২০ এমন কিছু কাঠামোগত সংস্কার এনেছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাজীবনের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে পারছে।

* মোট ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত জাতীয় ক্রেডিট  ফ্রেমওয়ার্ক (এনসিআরএফ) শিক্ষার্থীদের একাডেমিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার জন্য অর্জিত ক্রেডিট সঞ্চয়ের সুযোগ দিচ্ছে।
* একাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিটস (এবিসি)-এর আওতায় ২,৪৬৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে এবং ৩২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। এর সাহায্যে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রেডিট সংরক্ষণ, স্থানান্তর এবং ব্যবহার করতে পারছে, ফলে তাদের শিক্ষাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না।
* অটোমেটেড পার্মানেন্ট একাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি (এপিএএআর আইডি) শিক্ষার্থীদের সমগ্র শিক্ষাযাত্রায় অর্জিত একাডেমিক ও দক্ষতাভিত্তিক ক্রেডিট সংরক্ষণ করে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৫.৪৮ কোটিরও বেশি যাচাইকৃত এপিএএআর আইডি তৈরি হয়েছে।
* বর্তমানে ১৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে দু’বার ভর্তি এবং একাধিক প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থার সুযোগ চালু হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় মোট ভর্তির হার (জিইআর) ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শিক্ষায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন

গুণগত শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি শক্তিশালী ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত স্বয়ম (SWAYAM) প্ল্যাটফর্মে ১৮,৫৮০টিরও বেশি পাঠ্যক্রম উপলব্ধ রয়েছে এবং এতে ৬.১ কোটিরও বেশি নথিভুক্তি ও ৫৩.৭ লক্ষ শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। স্বয়মপ্রভা, পিএম ই-বিদ্যা এবং দীক্ষা (DIKSHA) প্ল্যাটফর্ম টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল সামগ্রী এবং ই-রিসোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে। শুধু দীক্ষা প্ল্যাটফর্মেই ১৩৫টি ভাষায় ৩.৬৬ লক্ষেরও বেশি ই-কনটেন্ট রিসোর্স উপলব্ধ রয়েছে।

উচ্চশিক্ষা: আরও বেশি প্রতিষ্ঠান, আরও বিস্তৃত নাগাল

২০১৪ সালের পর থেকে যুবসমাজের জন্য ভারতের উচ্চশিক্ষা পরিকাঠামোর ভৌত সম্প্রসারণ যেমন উল্লেখযোগ্য, তেমনই তা সুপরিকল্পিত ও কৌশলগতভাবে পরিচালিত হয়েছে।

উচ্চশিক্ষায় মোট ভর্তির সংখ্যা ২০১৪-১৫ সালে ৩.৪২ কোটি থেকে বেড়ে ২০২২-২৩ সালে ৪.৪৬ কোটিতে পৌঁছেছে।

বর্তমানে ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে - ১৪.৭১ লক্ষ বিদ্যালয়ে ২৪.৬৯ কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যাদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত রয়েছেন ১.০১ কোটিরও বেশি শিক্ষক।

মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ২০১৪ সালের ৪৩১ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৮১৮-এ পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও স্নাতকোত্তর আসনের সংখ্যা যথাক্রমে ১,২৮,৯৭৬ এবং ৮৫,৮২২-এ উন্নীত হয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন: ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত কর্মশক্তি গড়ে তোলা

বিগত ১২ বছরে সরকার এমন একটি বহুমাত্রিক দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার লক্ষ্য দেশের যুবসমাজকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করা। এই ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে, প্রচলিত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিবর্তে চাহিদাভিত্তিক, শিল্প-সংযুক্ত মডেলের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

স্কিল ইন্ডিয়া মিশন (SIM)

২০১৫ সালে চালু হওয়া স্কিল ইন্ডিয়া মিশনের মাধ্যমে দেশব্যাপী বিস্তৃত দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রগুলির নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন, পুনর্দক্ষতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। স্কিল ইন্ডিয়া মিশনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি চালু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা (PMKVY)

জন শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (JSS)

ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোমোশন স্কিম (NAPS)

শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (ITI)-এ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রকল্প (CTS)

প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা (PMKVY)

২০১৫ সালে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা একটি স্বল্পমেয়াদী, শিল্পক্ষেত্র-সমন্বিত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, যা কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ বিকাশের সঙ্গে যুক্ত। এর চারটি পর্যায়ে কর্মসূচিটি একটি উৎসাহভিত্তিক সার্টিফিকেশন প্রকল্প থেকে ক্রমে বৃহৎ পরিসরের, চাহিদাভিত্তিক এবং ফলাফলমুখী দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

PMKVY 1.0 (২০১৫-১৬): ১৯ লক্ষেরও বেশি প্রার্থী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

PMKVY 2.0 (২০১৬-২০): ১.১০ কোটিরও বেশি প্রার্থী প্রশিক্ষণ বা ওরিয়েন্টেশন লাভ করেছেন।

PMKVY 3.0 (২০২০-২২): ৭ লক্ষেরও বেশি প্রার্থী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

PMKVY 3.0-এর অধীনে সরকার কোভিড ওয়ারিয়রদের জন্য কাস্টমাইজড ক্র্যাশ কোর্স প্রোগ্রাম এবং স্কিল হাব ইনিশিয়েটিভের মতো বিশেষ উদ্যোগ চালু করে। এর মাধ্যমে বৃত্তিমূলক শিক্ষা, শিল্পক্ষেত্র-প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের সংযুক্তি নিশ্চিত করা হয়।

PMKVY 4.0 (২০২২-২৬): ব্যবহারিক ও ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতার উপর গুরুত্ব দিয়ে PMKVY-এর প্রশিক্ষণকে জাতীয় দক্ষতা যোগ্যতা কাঠামো (NSQF)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।

জন শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (JSS)

২০১৮ সালের পর থেকে জন শিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির রূপান্তরের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সেলাই, সূচিশিল্প, হস্তশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত পরিষেবার মতো বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়েছে, যা তৃণমূল স্তরে জীবিকা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রোমোশন স্কিম (NAPS)

আগস্ট ২০১৬-তে চালু হওয়া এই প্রকল্প বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ NAPS 2.0-এ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষানবিশদের ভাতার একটি অংশ সরকার বহন করে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রশিক্ষণকে উৎসাহিত করা হয়। “শিখতে শিখতে উপার্জন” এবং শিল্পকেন্দ্রিক দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসাবে কাজ করে। NAPS পোর্টালের মাধ্যমে সরকার সরাসরি শিক্ষানবিশদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভাতার ২৫ শতাংশ (মাসে সর্বোচ্চ ₹১,৫০০) প্রদান করে।

কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রকল্প (CTS)

কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রকল্প (CTS)-এর মাধ্যমে দেশের শিল্পক্ষেত্রের জন্য দক্ষ কর্মীর ধারাবাহিক যোগান নিশ্চিত করা হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্প উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মান বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি, কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা প্রদান করে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব হ্রাস করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (ITI)

ভারতে দীর্ঘমেয়াদী বৃত্তিমূলক শিক্ষার মেরুদণ্ড হল আইটিআইগুলি। শিল্পক্ষেত্রের জন্য দক্ষ মানবসম্পদের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গত ১২ বছরে সরকার এই নেটওয়ার্কের ব্যাপক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করেছে।

পিএম-সেতু (উন্নত আইটিআই-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান রূপান্তর)

অক্টোবর ২০২৫-এ চালু হওয়া এই কেন্দ্র-সহায়িত প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ₹৬০,০০০ কোটি। এর লক্ষ্য উন্নত আইটিআই-এর মাধ্যমে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি করা।

SOAR (এআই প্রস্তুতির জন্য দক্ষতা অর্জন)

জুলাই ২০২৫-এ চালু হওয়া SOAR কর্মসূচির মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রাথমিক এআই-দক্ষতা গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি, শিক্ষকদেরও পাঠদানের সঙ্গে এআই-ধারণা সংযুক্ত করার জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এই কর্মসূচির অধীনে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫ ঘণ্টাব্যাপী তিনটি পৃথক মডিউল চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম (PMIS)

প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম (PMIS) একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরমূলক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার ব্যবধান দূর করা। অক্টোবর ২০২৪-এ চালু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে কাঠামোবদ্ধ এবং বেতনভিত্তিক ইন্টার্নশিপের সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে।

স্কিল ইন্ডিয়া ডিজিটাল হাব (SIDH): দক্ষতার জন্য ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা

২০২৩ সালে চালু হওয়া স্কিল ইন্ডিয়া ডিজিটাল হাব (SIDH) দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোগ গঠনের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এটি শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিকে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করেছে। SIDH দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার বিভিন্ন সুযোগ ও পরিষেবার নাগাল সহজতর করেছে।

সঙ্কল্পের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা

‘স্কিলস অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড নলেজ অ্যাওয়ারনেস ফর লাইভলিহুড প্রোমোশন’ (SANKALP) ছিল বিশ্বব্যাঙ্ক-সমর্থিত একটি কর্মসূচি, যা ২০১৮ সালে চালু হয় এবং ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সমাপ্ত হয়। মোট ১,৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই কর্মসূচি তিনটি মূল উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল - প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়ন।

ভারতের যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের পথ সুগম করা

ভারতের জনমিতিক সুবিধাকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং লক্ষ্যভিত্তিক নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গত এক দশকে ভারতের অর্থনীতির আনুষ্ঠানিকীকরণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিবর্তন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠিত ক্ষেত্রে যুবসমাজকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। EPFO-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৮-২৮ বছর বয়সী ৩.৪৫ কোটিরও বেশি যুবক-যুবতী আনুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন।

কর্মসংস্থানে প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ: সুযোগের সঙ্গে যুবসমাজকে সংযুক্ত করা

প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা: ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সরকার এই কর্মসূচির ঘোষণা করে, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লক্ষ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে নিয়োগকর্তা এবং প্রথমবার আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কর্মরত কর্মী - উভয়কেই কর্মসংস্থান-সংযুক্ত প্রণোদনা প্রদান করা হয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে ৩.৫ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য, যা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম কর্মসংস্থান-সংযুক্ত উদ্যোগ।

রোজগার মেলা: ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে চালু হওয়া এই উদ্যোগ দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কর্মশক্তিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর লক্ষ্য অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে যুবসমাজকে ক্ষমতায়ন করা এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করা। চালুর পর থেকে ১৮টি রোজগার মেলার মাধ্যমে সারা দেশের যুবকদের হাতে ১২ লক্ষেরও বেশি নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল কেরিয়ার সার্ভিস (NCS) পোর্টাল: NCS ভারতের ডিজিটাল কর্মসংস্থান বাজার হিসেবে কাজ করে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে চালু হওয়া এই পোর্টাল কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত করে, তথ্যগত বৈষম্য কমায় এবং দেশের সর্বত্র কর্মসংস্থানের সুযোগ পৌঁছে দেয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে NCS পোর্টালে ৭৮.৮৬ লক্ষেরও বেশি কর্মপ্রত্যাশী এবং ১২.৩৬ লক্ষেরও বেশি নিয়োগকর্তা নথিভুক্ত হয়েছেন। একই সময়ে পোর্টালে ৩.৪৩ কোটিরও বেশি শূন্যপদ সংযুক্ত করা হয়েছে।

আত্মনির্ভর ভারত রোজগার যোজনা (ABRY): কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় চালু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান রক্ষা এবং নতুন নিয়োগে উৎসাহ প্রদান। ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত কার্যকর এই কর্মসূচির আওতায় নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের EPF অবদান সরকার বহন করত, ফলে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় নিয়োগ ব্যয় কমে আসে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত ৬০.৪৯ লক্ষ উপভোক্তা এর সুবিধা পেয়েছেন।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যুবসমাজ

অগ্নিপথ প্রকল্প: ২০২২ সালের জুন মাসে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭.৫ থেকে ২১ বছর বয়সী যুবকদের চার বছরের জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে ‘অগ্নিবীর’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। জাতীয় সেবার পাশাপাশি, এই কর্মসূচি যুবকদের শৃঙ্খলা, কারিগরি দক্ষতা এবং নেতৃত্বদানের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে। মেয়াদ শেষে অগ্নিবীররা সরকারের পক্ষ থেকে ‘সেবা নিধি’ আর্থিক প্যাকেজ পান, যা তাঁদের বেসামরিক জীবনের কর্মজীবনে সহায়তা করে।

উৎপাদন ও শিল্পক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি: মেক ইন ইন্ডিয়া এবং PLI প্রকল্প

২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ চালুর সময় সরকারের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট- ভারতকে বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা এবং বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।  বারো বছর পর এর পরিণাম কারখানা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং লক্ষ লক্ষ যুবকের জীবিকায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বর্তমানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া ২.০’-এর আওতায় ২৭টি ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— যার মধ্যে ১৫টি উৎপাদন ক্ষেত্র এবং ১২টি পরিষেবা ক্ষেত্র। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধশিল্প, অটোমোবাইল, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প, ড্রোন এবং তথ্যপ্রযুক্তি। এই ক্ষেত্রগুলিতেই ভারতের দক্ষ যুবশক্তির সর্বাধিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে।

উদ্যোগ গঠন: যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া

বিগত ১২ বছরে সরকার এমন একটি শক্তিশালী উদ্যোগ গঠনের পরিবেশ তৈরি করেছে, যা যুবকদের কর্মপ্রার্থী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করছে। নীতিগত সহায়তা, সহজ ঋণপ্রাপ্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে উদ্যোগ গঠনের প্রসার ঘটেছে।

স্টার্টআপ ইন্ডিয়া: বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ পরিবেশ গড়ে তোলা

২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি চালু হওয়া স্টার্টআপ ইন্ডিয়া উদ্যোগ দেশের উদ্ভাবনী পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত এক দশকে এই আন্দোলন ভারতের অর্থনৈতিক গতিপথে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে এবং যুবসমাজকে কর্মপ্রার্থী থেকে সাহসী কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারীতে পরিণত করেছে।

ভারতের স্টার্টআপ পরিবেশের বিকাশ দেশের সর্বত্র উদ্ভাবনের সুসংগঠিত সম্প্রসারণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

অর্থায়নের কাঠামো: প্রতিটি পর্যায়ে মূলধনের জোগান

বিগত এক দশকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে কোনও তরুণ উদ্যোক্তা তাঁর উদ্যোগের যাত্রাপথের কোনও পর্যায়েই মূলধনের অভাবে না পড়েন।

ডিজিটাল যুব অংশগ্রহণ: মাই ভারত ইকোসিস্টেম

২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর সরকার ‘মেরা যুবা ভারত’ (MY Bharat) প্রতিষ্ঠা করে, যা একটি স্বশাসিত ‘ফিজিটাল’ (শারীরিক + ডিজিটাল) প্ল্যাটফর্ম। এটি ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি যুবকদের জন্য শারীরিক অংশগ্রহণ ও ডিজিটাল সংযোগকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করেছে। MY Bharat একটি স্বশাসিত ছাতাসংস্থা, যা যুব অংশগ্রহণের জন্য ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট’ কাঠামো প্রদান করে। একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বেচ্ছাসেবা, পরামর্শ, কর্মজীবন পরিষেবা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হয়।

ডিজিটাল সাক্ষরতা: PMGDISHA

গ্রামীণ ভারতের নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ ডিজিটাল সাক্ষরতা অভিযান’ (PMGDISHA) চালু হয়। এর মাধ্যমে যুবসমাজসহ নাগরিকদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্যবহারের দক্ষতা, অনলাইন সরকারি পরিষেবা গ্রহণ এবং ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

যুবসমাজ ও ক্রীড়া: তৃণমূল থেকে সার্বিক সাফল্যের পথে

একসময় ভারতে ক্রীড়াকে না পরিবার, না সরকার— কেউই যথেষ্ট গুরুত্ব দিত না। তবে গত ১২ বছরে সরকার দেশের ক্রীড়া পরিবেশে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। ক্রীড়াকে শুধুমাত্র বিনোদন হিসাবে দেখার মানসিকতা থেকেও এটিকে একটি সম্মানজনক এবং সম্ভাবনাময় পেশা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায় থেকে প্রতিভা চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রতিভার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ: খেলো ইন্ডিয়া মিশন

২০১৬-১৭ সালে চালু হওয়া ‘খেলো ইন্ডিয়া – ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর ডেভেলপমেন্ট অফ স্পোর্টস’ দেশে ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশের প্রধান কর্মসূচি। এর লক্ষ্য গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে উৎকর্ষতা বৃদ্ধি।

সার্বিক সাফল্যের লক্ষ্য: টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS)

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের সাফল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে TOPS চালু করা হয়। এটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি। এর আওতায় বিদেশি কোচিং, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞান সহায়তা, সরঞ্জাম এবং মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। বর্তমানে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক উভয় ক্ষেত্র মিলিয়ে ৯৮ জন ক্রীড়াবিদ কোর গ্রুপে এবং ১৬৫ জন ক্রীড়াবিদ ডেভেলপমেন্ট গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

পরিবেশ, নেতৃত্ব এবং নাগরিক অংশগ্রহণ

ভারতের যুবনীতি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সক্রিয় নাগরিকত্ব গঠনের জন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত দায়িত্ববোধকেও সমান গুরুত্ব দেয়। যুবসমাজকে সমাজের সক্রিয় অংশীদার হিসাবে গড়ে তুলতে সরকার শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।

NSS এবং NYKS: সামাজিক অংশগ্রহণের প্রধান স্তম্ভ

২০২৩ সাল থেকে ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS) এবং নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠন (NYKS) MY Bharat কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে সমাজসেবা এবং জাতি গঠনের কাজে যুবসমাজের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ: বিশ্বমঞ্চে ভারতের যুবসমাজ

যুব বিষয়ক বিভাগের ৩০টি সক্রিয় সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যার মধ্যে BRICS এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-সহ বিভিন্ন দেশ ও বহুপাক্ষিক সংস্থা অন্তর্ভুক্ত। মোট ১৪টি দেশের সঙ্গে নিয়মিত পারস্পরিক যুব বিনিময় কর্মসূচি পরিচালিত হয়, যা আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে যুব সংক্রান্ত নেটওয়ার্কে ভারতের উপস্থিতি সুদৃঢ় করে।

রূপান্তরের এক দশক, সম্ভাবনার এক ভবিষ্যৎ

বিগত ১২ বছরে ভারত বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত ও সমন্বিত যুব উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলেছে। এই উদ্যোগের মূল দর্শন ছিল সুস্পষ্ট ও ধারাবাহিক। বিচ্ছিন্ন কর্মসূচির পরিবর্তে শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত বহুমাত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

এর প্রভাব বিভিন্ন সূচকে স্পষ্ট। আরও বেশি সংখ্যক যুবক-যুবতী বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হচ্ছেন। লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী শিল্প-উপযোগী দক্ষতার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শহর থেকে গ্রাম— সর্বত্র উদ্যোগ গঠনের প্রসার ঘটেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় যুবসমাজ দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে। উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তাঁদের আরও সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্বদানের দক্ষতা বিকাশের ফলে তাঁদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশ নিশ্চিত হচ্ছে। ভারতের যুবসমাজ এখন শুধু অর্থনীতির অংশীদার নয়, বরং অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের যাত্রাপথ একটি স্পষ্ট পরিবর্তনের সাক্ষী— সুযোগপ্রাপ্তি থেকে ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণ থেকে নেতৃত্বে উত্তরণ। সরকার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, প্রতিবন্ধকতা দূর করেছে এবং এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা যুবসমাজকে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।

বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে একটি শক্তিশালী ভিত ইতিমধ্যেই নির্মিত হয়েছে। অমৃত প্রজন্ম শিক্ষা, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং সুযোগে সমৃদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

তথ্যসূত্র

Press Information Bureau:
https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=154537&ModuleId=3&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2199237&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2085152&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2219936&reg=1&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2127411&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2165763&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2256476&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2204136&utm_source=chatgpt.com&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2254498&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2247750&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2222120&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=156899&ModuleId=3&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2264076&reg=48&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2223849&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2206145&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseIframePage.aspx?PRID=2042129&utm_source=chatgpt.com&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2246085&reg=3&lang=2

https://static.pib.gov.in/WriteReadData/specificdocs/documents/2026/jan/doc2026115757801.pdf

https://www.pib.gov.in/PressReleseDetailm.aspx?PRID=2215306&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2253019&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleaseDetail.aspx?PRID=2235818&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2119045&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2241781&reg=6&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2264241&reg=3&lang=1

NITI Aayog:

https://www.niti.gov.in/sites/default/files/2025-02/Expanding-Quality-Higher-Education-through-SPUs.pdf

Parliament Question:
https://sansad.in/getFile/annex/258/AS147.pdf?source=pqars

Ministry of Youth Affairs & Sports:

https://cdn-prod.mybharats.in/mybharat/assets/img/yuva_landing/nyp%202025.pdf  https://www.rgniyd.gov.in/sites/default/files/pdfs/scheme/nyp_2014.pdf

https://dashboard.kheloindia.gov.in/

https://sportsauthorityofindia.nic.in/sai_new/target-olympic-podium

Ministry of Corporate Affairs:
https://pminternship.mca.gov.in/login/

Ministry of Commerce:
https://investorconnect.startupindia.gov.in/

Ministry of Health & Family Welfare:

https://telemanas.mohfw.gov.in/telemanas-dashboard/#/

https://nhm.gov.in/New-Update-2025-26/Adolescent-Health/Name-Change%20_DO-from-AS&MD_Adolescent-Friendly-Health-Centres-reg.pdf

Ministry of Social Justice & Empowerment:
https://nmba.dosje.gov.in/

World Bank Data:
https://data.worldbank.org/indicator/SL.UEM.TOTL.ZS?locations=IN

News on Air:

https://newsonair.gov.in/indian-railways-indian-army-launch-framework-to-boost-post-retirement-jobs-for-agniveers-ex-servicemen/

https://newsonair.gov.in/mansukh-mandaviya-to-inaugurate-second-phase-of-kirti-initiative-in-new-delhi-on-july-19/

Ministry of Education:
https://aim.gov.in/atl.php
ABSS CONCEPT NOTE 2025.pdf

Click Here To See PDF

****
SSS/SS


(रिलीज़ आईडी: 2272711) आगंतुक पटल : 2
इस विज्ञप्ति को इन भाषाओं में पढ़ें: English , Urdu , हिन्दी , Gujarati