সংস্কৃতিমন্ত্রক
মঙ্গোলিয়ায় ভগবান বুদ্ধের প্রধান শিষ্যদের পবিত্র দেহাবশেষ স্থাপন
প্রকাশিত:
31 MAY 2026 8:06PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ৩১ মে, ২০২৬
ভারত ও মঙ্গোলিয়ার সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে, ২০২৬ সালের বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখ দিবস) উপলক্ষে, ভগবান বুদ্ধের দুই প্রধান শিষ্য—অরহৎ সারিপুত্র এবং অরহৎ মহামোগ্গল্লানের পবিত্র অস্থিাবশেষ মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অবস্থিত গানদানতেগচেনলিং মঠে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করা হ’ল।
২০২৬ সালের ৩১শে মে থেকে ১০ই জুন পর্যন্ত দশ দিনব্যাপী প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে নিয়ে আসা পবিত্র নিদর্শনসমূহকে হাজার হাজার ভক্ত এবং সংঘের সদস্যদের দ্বারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বরণ করে নেওয়া হয়। আসামের রাজ্যপাল শ্রী লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য, মঙ্গোলিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী অতুল মালহারি গোটসুরভে, মঙ্গোলিয়া সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা, বিশিষ্ট বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ কনফেডারেশনের প্রতিনিধিগণ, শ্রীলঙ্কার মহাবোধি সোসাইটির সদস্যবৃন্দ এবং সমগ্র বৌদ্ধ বিশ্বের বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপতি শ্রী উখনাগিন খুরেলসুখের ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রদর্শনীর কথা বলেন। এই উদ্যোগটি ভারত ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যকার সেই গভীর আধ্যাত্মিক ও সভ্যতাগত বন্ধনকেই প্রতিফলিত করে, যার মূল প্রোথিত রয়েছে ভগবান বুদ্ধের শিক্ষার গভীরে।
সমাবেশে ভাষণে আসামের রাজ্যপাল শ্রী লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য এই অনুষ্ঠানকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, এই পবিত্র দেহাবশেষগুলো বোধিলাভের জীবন্ত আলোকশিখাকে ধারণ করে আছে। এটি শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির এক বিশ্বজনীন বার্তা বহন করে। তিনি বলেন যে, সাঁচির পবিত্র স্তূপগুলোতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সংরক্ষিত অর্হৎ সারিপুত্র এবং অর্হৎ মহামৌদগল্যায়নের দেহাবশেষগুলো ভারতের অন্যতম অমূল্য সভ্যতাগত উত্তরাধিকার। তিনি বলেন যে, মঙ্গোলিয়ায় এই দেহাবশেষগুলোর প্রদর্শন দুই দেশের মধ্যে আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বন্ধুত্বের এক গভীর নিদর্শন।
ভারত ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাজ্যপাল প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই মন্তব্যটি স্মরণ করেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ভারত ও মঙ্গোলিয়া হলো এমন দুই "আধ্যাত্মিক প্রতিবেশী", যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বৌদ্ধধর্মের সূত্রে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। তিনি বলেন যে, এই দেহাবশেষ প্রদর্শনীর আয়োজনটি এমন এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দুই দেশ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ১০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।
এই অনুষ্ঠানে ভাষণে মঙ্গোলিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রী অতুল মালহারি গোটসুরভে ভগবান বুদ্ধের শান্তি, সম্প্রীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং যুক্তিবাদী চিন্তাধারার শিক্ষার চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন যে, কৌশলগত অংশীদার এবং আধ্যাত্মিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারত ও মঙ্গোলিয়া বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ক্রমাগত জোরদার করে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে পবিত্র 'কাঞ্জুর' পাণ্ডুলিপি উপহার প্রদান, 'গ্লোবাল বুদ্ধিস্ট সামিট' ও 'এশিয়ান বুদ্ধিস্ট সামিট'-এর আয়োজন, বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলোর ডিজিটাইজেশন এবং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ও গান্দানতেগচেনলিং মঠের মধ্যে শিক্ষাগত সহযোগিতা বিনিময়।
রাষ্ট্রদূত বলেন যে, অর্হৎ সারিপুত্র এবং অর্হৎ মহামৌদগল্যায়নের এই পবিত্র দেহাবশেষগুলো এর আগে মাত্র একবার বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । সেটি হল ২০২৪ সালে থাইল্যান্ডে। আর ঠিক এই কারণেই মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীটি একটি অত্যন্ত বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও জানান যে, প্রোটোকল ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের সমমর্যাদা প্রাপ্ত এই পবিত্র দেহাবশেষগুলো ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমান—আইএল-৭৬ (গজরাজ)—যোগে মঙ্গোলিয়ায় এসে পৌঁছেছে।
গান্দানতেগচেনলিং মঠ প্রাঙ্গণে “ভেসেলেস অফ লাইট, আইকনোগ্রাফি, রেলিকস অ্যান্ড পাথ অফ ধম্ম – শাক্যমুনি বুদ্ধের ভারত ও মঠ সংগ্রহশালা পরিক্রমা” শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুনদিল্লির জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক কিউরেট বা তত্ত্বাবধানকৃত এই প্রদর্শনীতে ভারতের বিভিন্ন জাদুঘর সংগ্রহশালা থেকে নির্বাচিত অমূল্য নিদর্শনের মাধ্যমে ভগবান বুদ্ধের জীবন, তাঁর শিক্ষা এবং তাঁর শৈল্পিক রূপায়ণের এক সমৃদ্ধ দৃশ্য-আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে ভারতের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক যুগে এর অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক, নতুন দিল্লির জাতীয় জাদুঘর, মধ্যপ্রদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ কনফেডারেশন, শ্রীলঙ্কার মহাবোধি সোসাইটি এবং গান্দানতেগচেনলিং মঠের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রদর্শনী ও আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে। এতে ভারত ও মঙ্গোলিয়া সরকারের পূর্ণ সমর্থনও রয়েছে।
এই পবিত্র নিদর্শন বা অস্থি-অবশেষসমূহ ২০২৬ সালের ১০ জুন পর্যন্ত মঙ্গোলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সর্বসাধারণের দর্শনার্থে উন্মুক্ত থাকবে। এই প্রদর্শনীতে হাজার হাজার বৌদ্ধ অনুসারী ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে । এটি ভারত ও মঙ্গোলিয়ার মধ্যকার শতাব্দী প্রাচীন আধ্যাত্মিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সেই অভিন্ন বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে যা আজও এই দুই দেশের জনগণকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করে রেখেছে।
SC/PM/SB
(রিলিজ আইডি: 2267444)
ভিজিটরের কাউন্টার : 7