উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া ১৮৯.৭৯ কোটি টাকার মিজোরাম জিঞ্জার মিশন চালু করলেন

আদা চাষীদের জন্য ডোনারের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ মিজো জিঞ্জার মিশন

ত্রিপুরার কুইন আনারসের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে যাবে মিজোরামের আদা

পোস্ট করার দিনক্ষণ: 13 MAY 2026 8:23PM by PIB Agartala

নয়াদিল্লি, ১৪ মে, ২০২৬: উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী লালদুহোমারকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল মিজোরাম জিঞ্জার মিশন চালু করেছেন। এটি মিজোরাম রাজ্যের জন্য আদা চাষ এবং ভ্যালু চেইন উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৮৯.৭৯ কোটি টাকার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মিশনটি, আদা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি নাবার্ড ,আই.সি.এ.আর, এ.পি.ই.ডি.এ এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সাথে সমন্বয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব শ্রী সঞ্জয় জাজু তার স্বাগত ভাষণে মিশনটির বাস্তবায়ন কাঠামো সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি মিশনটির যৌক্তিকতা, বিশেষ করে মূল্য ব্যবধান দূর করা, জিআই-প্রত্যয়িত সামগ্রীগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষতি মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত এবং সময়বদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক দ্বারা সমর্থিত একটি বহু-মন্ত্রণালয় সমন্বিত মডেলের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

চাম্ফাই জেলার আদা চাষিরা উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রককে ‘মিজোরাম জিঞ্জার মিশন’ চালু করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এই মিশনটি হাজার হাজার কৃষক পরিবারের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফার্মাসিউটিক্যাল-গ্রেড'এর আদা চাষ করে প্রকৃতপক্ষে তার কোন ন্যায্য মূল্য পাচ্ছিলেন না।

বেসরকারি খাতের অংশীদাররা এই মিশনের সূচনাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মিজোরামের ফার্মাসিউটিক্যাল-গ্রেড আদা ও এর প্রাপ্য বাজারের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের ব্যবধান পূরণে সহায়ক একটি পরিবেশ তৈরির জন্য উত্তরপূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রশংসা করেছেন। শিল্পখাত মিজো আদাকে একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য কৃষক-শিল্প অংশীদারিত্বের একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী ডোনার মন্ত্রকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ‘মিজোরাম জিঞ্জার মিশন’-এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য, যা রাজ্যের কৃষি ও অর্থনৈতিক যাত্রাপথে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মিশনটি ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের আদা উৎপাদনে মিজোরামের অনন্য শক্তিকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এটিকে কৃষকের সমৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন এবং বিশ্ব বাজারে অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি সুসংগঠিত পথে রূপান্তরিত করে। রাজ্য সরকার মাঠ পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম সিন্ধিয়া কৃষকদের সমগ্র কৃষি মূল্য শৃঙ্খলে—‘খামার থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত’—প্রকৃত অংশীদার করে তোলার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়েছেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এর উদ্দেশ্য কেবল ফসল চাষ করা নয়, বরং কৃষকদের প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং, রপ্তানি-ভিত্তিক মূল্য সংযোজন এবং বিশ্ববাজারে একীভূতকরণের মতো কাজে অর্থবহভাবে অংশগ্রহণে সক্ষম করে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন যে, যেখানে মিজো আদায় বিশ্বব্যাপী গড় প্রায় ৩ শতাংশের তুলনায় ৬-৮ শতাংশ ওলিওরেসিন থাকে, সেখানে কৃষকরা বর্তমানে প্রতি কেজি আদার জন্য মাত্র ৮-১৫ টাকা পান, অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে আদার দাম প্রতি কেজি ৫০০ টাকারও বেশি হয়। ‘মধ্যস্থতাকারীকে বাদ দিতে’ এবং সমবায় ও এফপিও কাঠামোকে শক্তিশালী করতে একটি দৃঢ় প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে, তিনি ১৯০ কোটি টাকার এই উদ্যোগটিকে ‘মিজো জিঞ্জার মুভমেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেন। এই উদ্যোগটি সমন্বয়, মূল্য সংযোজন, ব্র্যান্ডিং এবং বাজার একীকরণ—এই চারটি কৌশলগত স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং ডোনার, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রকের পাশাপাশি এ.পি.ই.ডি.এ, নাবার্ড, মিজোরাম সরকার এবং শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিত।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই মিশনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও তিনটি স্পোক কেন্দ্র, ৩০টিরও বেশি কৌশলগত পদক্ষেপ এবং প্রায় ২০,০০০ কৃষক পরিবারকে শনাক্তকরণযোগ্যতা, স্বাতন্ত্র্য, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও কৃষক-নেতৃত্বাধীন মূল্য সৃষ্টির উপর ভিত্তি করে একটি একীভূত মূল্য-শৃঙ্খল বাস্তুতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি মিজো আদার জন্য একটি সুস্পষ্ট বৈশ্বিক রূপকল্প তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ করা। তিনি বলেন, যেদিন মিজো আদা বিশ্বজুড়ে দোকানে পাওয়া যাবে, এর উৎস প্রত্যেক কৃষক পর্যন্ত শনাক্ত করা যাবে এবং এটি তাদের সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করবে, সেদিনই সাফল্য অর্জিত হবে। 'ব্র্যান্ড নর্থ ইস্ট'-এর বৃহত্তর রূপকল্পের মধ্যে এই মিশনটিকে স্থাপন করে, যেখানে প্রতিটি রাজ্যের জন্য একটি করে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য (ইউ.এস.পি) থাকবে—যেমন সিকিমকে জৈব রাজ্য হিসেবে, অরুণাচল প্রদেশের কিউই, ত্রিপুরার কুইন আনারস, নাগাল্যান্ডের কফি এবং মেঘালয়ের লাকাডং হলুদ।মন্ত্রী কৃষকদের আশ্বস্ত করেন যে, সরকার তাদের পাশে আছে। তিনি এই উদ্যোগটিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেন, যা কৃষকদের প্রাপ্ত মূল্য ছয়গুণ বৃদ্ধি, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস, মিজো আদার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, সুস্হায়ী গ্রামীণ জীবিকা এবং এই অঞ্চলের জন্য একটি শক্তিশালী রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ পরিকাঠামো নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

*****

PS/PKS/KMD


(প্রেস বিজ্ঞপ্তির আইডি: 2260964) ভিজিটরদের কাউন্টার : 6
এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়ুন এভাবে: Khasi , English , Urdu , हिन्दी , Assamese , Tamil