প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

হায়দ্রাবাদে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

প্রকাশিত: 10 MAY 2026 5:51PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ১০ মে , ২০২৬


তেলঙ্গানার রাজ্যপাল শ্রী শিব প্রতাপ শুক্লাজি, মুখ্যমন্ত্রী শ্রী রেবন্ত রেড্ডিজি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী জি কিষেণ রেড্ডি, বন্দি সঞ্জয় কুমার, আমার সহ সাংসদ কোন্ডা বিশ্বেশ্বর রেড্ডিজি, তেলঙ্গানা সরকারের মন্ত্রীগণ, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, ভদ্র মহোদয়া এবং ভদ্র মহোদয়গণ!
সাইবারাবাদের শক্তি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দুইই। এটি তেলঙ্গানা এবং দেশের দ্রুত উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্র। সেই জন্য আজ সাইবারাবাদ থেকে অনেক বড় বড় প্রকল্প চালু হচ্ছে তেলঙ্গানাকে দেশের বড় উৎপাদনের শক্তি ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে। আজ যে প্রকল্পগুলির শিলান্যাস ও উদ্বোধন হল, তাতে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং তেলঙ্গানার যোগাযোগ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে। এই প্রকল্পগুলির জন্য তেলঙ্গানার মানুষকে আমি হার্দিক অভিনন্দন জানাই। 
বন্ধুগণ,
বর্তমানে ভারত রিফর্ম এক্সপ্রেসে দৌড়চ্ছে। একই সঙ্গে আজকের ভারত নতুন আধুনিক পরিকাঠামোও তৈরি করছে। সেই লক্ষ্যের অঙ্গ জাহিরাবাদ শিল্পাঞ্চল নির্মাণ। এই শিল্পাঞ্চলটি ভারত সরকারের দেশ জুড়ে শিল্প করিডর গড়ার জাতীয় অভিযানের অঙ্গ। এটি একরকম ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্মার্ট সিটি হতে চলেছে। এখানে থাকবে বিশ্বমানের পরিকাঠামো, অত্যন্ত ভালো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, উন্নত আইসিটি নেটওয়ার্ক – অর্থাৎ শিল্পের জন্য বিশ্বের সব লগ্নিকারকের যা যা দরকার তার প্রত্যেকটি পাওয়া যাবে এখানে। ভারত সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা লগ্নি হয়েছে এই সব সুবিধা তৈরি করার জন্য এবং তেলঙ্গানা এবং হায়দ্রাবাদে তরুণদের কর্মসংস্থান হবে। এখানে যে গাড়ি, যন্ত্রপাতি, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন হবে তাতে  তেলঙ্গানার শ্রমিক এবং কৃষকরা ক্ষমতা প্রাপ্ত হবে। 
বন্ধুগণ,
অতীতে যখন ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল, আমাদের বস্ত্রশিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। আমরা এখন সেই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করছি। ওয়ারাঙ্গেলের পিএম মিত্র পার্ক দেশে বস্ত্র শিল্পের বিপ্লব ত্বরান্বিত করবে। পিএম মিত্র পার্কে স্থাপিত শিল্পগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসূচির সব সুযোগ পাবে। সেগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের পিএলআই কর্মসূচির সাহায্যও পাবে। এই টেক্সটাইল পার্ক বহু কর্মসংস্থান তৈরি করবে বিশেষ করে মা-বোনেদের জন্য অনেক সুযোগ তৈরি হবে।
বন্ধুগণ,
গত কয়েক বছরে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেক বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে ভারত সরকার। সে রাস্তা হোক বা রেলপথ বা বিমানবন্দর, প্রত্যেকটি যোগাযোগ ক্ষেত্রে অভূতপূর্বভাবে লগ্নি করা হচ্ছে। শুধুমাত্র জাতীয় সড়কেই প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা লগ্নি করা হয়েছে। এর থেকে তেলঙ্গানাও খুব সুবিধে পেয়েছে। গত ১২ বছরে তেলঙ্গানায় জাতীয় সড়কের নেটওয়ার্ক দ্বিগুণ বেড়েছে। তেলঙ্গানা এবং কর্নাটকের সংযোগকারী জাতীয় সড়কটি চওড়া হলে আরও সুবিধা হবে। যাত্রার সময় কমবে, ভাড়াও বাঁচবে। 
বন্ধুগণ,
২০১৪-র আগে অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য রেল বাজেট ছিল এক হাজার কোটি টাকারও কম। রেবন্তজি আপনি কি শুনছেন? অবিভক্ত অন্ধ্রের সময় রেল বাজেট ছিল এক হাজার কোটি টাকার কম। আজ আমি অবিভক্ত অন্ধ্রের কথা বলছি না। আজ শুধুমাত্র তেলঙ্গানার জন্য রেল বাজেট সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ৫০ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে এখানে। তেলঙ্গানায় চলছে ৫ টি বন্দে ভারত এবং ৬ টি অমৃত ভারত ট্রেন।
বন্ধুগণ,
এই কিছুক্ষণ আগে কাজিপেট-বিজয়ওয়াড়ার কয়েকটি শাখায় মাল্টি ট্র্যাকিং কাজের উদ্বোধন হয়েছে। এছাড়া কাজিপেট রেল আন্ডার বাইপাস লাইন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। এইসব সুবিধায় ভ্রমণ সহজ হবে এবং পরিবহন দ্রুত হবে।
বন্ধুগণ,
একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে শক্তি ছাড়া সব কিছুই থেমে যাবে। বর্তমানে প্রত্যেকে বোঝেন শক্তি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা। সেইজন্য আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের শক্তি নিরাপত্তায় অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করছে। মালকাপুরে ইন্ডিয়ান অয়েলের নতুন টার্মিনালের উদ্বোধন একটি বড় পদক্ষেপ। এই টার্মিনালটি তেলঙ্গানার ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করবে।

বন্ধুগণ,
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সৌর শক্তিতে ভারত শীর্ষ স্থানীয় দেশগুলির মধ্যে পৌঁছেছে। পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণে অভূতপূর্ব কাজ হচ্ছে। প্রথমে আমরা জোর দিয়েছি ১০০ শতাংশ এলপিজি দেওয়ার ওপর। এখন আমরা জোর দিচ্ছি সস্তার পিএনজি এবং সিএনজি প্রসারে। এইসব প্রয়াসের কারণে বিশ্ব জুড়ে শক্তি সংকটের মোকাবিলা করতে পারছে ভারত। কিন্তু এখন সময়ের দাবি মেনে পেট্রোল, ডিজেল এবং গ্যাসের মতো জিনিসের ব্যবহার করা উচিত ভেবে চিন্তে। এই সব জ্বালানি আমরা বিদেশ থেকে আমদানি করি। আমাদের যতটা প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই যেন ব্যবহার করি। এতে বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় হবে, যুদ্ধের সংকটের প্রতিটি প্রভাব কমবে। 
বন্ধুগণ,
বর্তমানে তেলঙ্গানার যুবরা নতুন স্বপ্ন দেখছে। এখানকার কৃষকরা চাইছেন নতুন আশা নিয়ে এগোতে। এখানকার শিল্প, এখানকার এমএসএমই, এখানকার স্টার্টআপ সকলেই উন্নত তেলঙ্গানা নির্মাণে ভূমিকা নিতে চায়। কারণ তেলঙ্গানা উন্নতি করলে ভারতও উন্নতি করবে। আমি তেলঙ্গানার প্রত্যেকটি পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই, কেন্দ্রীয় সরকার আপনাদের স্বপ্নপূরণ করতে আরও বেশি দ্রুততার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। রেবন্তজি বলেছেন, আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলব না, তাই আমি বলছি না। সেইজন্য অরাজনৈতিকভাবে আমি রেবন্তজিকে বলেছি ১০ বছরে ভারত সরকার গুজরাটকে যা দিয়েছে আপনাদেরও আমি তাই দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই যে, যখনই আমি এটা করব, আপনারা যা এখন পাচ্ছেন তা অর্ধেক হয়ে যাবে। আপনারা যেখানে চান সেখানে পৌঁছতে পারবেন না। সেইজন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলা ভালো।
বন্ধুগণ,
আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সরকার খারাপ কিছু নয়। কিন্তু দেশের উন্নয়নের জন্য রাজ্যগুলির উন্নয়ন একই রকম জরুরি। রাজ্যগুলির উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেইজন্য আমার সব পরিকল্পনাগুলির কেন্দ্রে আছে রাজ্যগুলির উন্নয়ন, দ্রুত উন্নয়ন এবং এই মনোভাব নিয়ে আমরা সকলে একসঙ্গে এগিয়ে যাব। আমরা চোখের সামনে দেখছি ২০৪৭ এর মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার স্বপ্ন  সফল হয়েছে। এটাই প্রত্যেকের জন্য আমার ইচ্ছা। 
আপনাদের অনেক ধন্যবাদ!
প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি হিন্দিতে।

 

SC/AP /SG


(রিলিজ আইডি: 2259757) ভিজিটরের কাউন্টার : 4