উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
azadi ka amrit mahotsav

“ক্যান্সারজয়ীগণই প্রকৃত যোদ্ধা”: জয়পুরে ‘ক্যান্সারজয়ী দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: 25 APR 2026 12:25PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লিঃ ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আজ জয়পুরে ‘ভগবান মহাবীর ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ২৩তম ‘ক্যান্সারজয়ী দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন।

সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন যে, ‘ক্যান্সারজয়ী দিবস’ হলো অটল আশা এবং মানবাত্মার অসাধারণ সাহসিকতার এক উদযাপন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য তিনি ‘ভগবান মহাবীর ক্যান্সার হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র’ এবং ‘কে. জি. কোঠারি মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্যান্সার চিকিৎসায় হাসপাতালটির অনুকরণীয় সেবার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, তাদের নিবেদিতপ্রাণ ও সহানুভূতিশীল চিকিৎসার মাধ্যমে হাসপাতালটি অগণিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ভারতে ক্যান্সারের ক্রমবর্ধমান বোঝা বা প্রকোপের বিষয়টি তুলে ধরে উপরাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, আইসিএমআর -এর ‘জাতীয় ক্যান্সার রেজিস্ট্রি কর্মসূচি’ (ন্যাশনাল ক্যান্সার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম) অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ১৫ লক্ষেরও বেশি ক্যান্সারের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকার ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং রোগীর সেবার লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান যে, ‘আয়ুষ্মান ভারত–প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’-র আওতায় ১৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৬৮ লক্ষেরও বেশি ক্যান্সার চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে। এই সুবিধাভোগীদের প্রায় ৭৫ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা, যা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবধান পূরণে এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই পরিচায়ক।

উপরাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশের জেলা হাসপাতালগুলিতে ‘ডে কেয়ার ক্যান্সার সেন্টার’ স্থাপন করছে এবং ইতিমধ্যেই ৪৫০টিরও বেশি কেন্দ্র চালু হয়ে গেছে। তিনি ‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন’-এর আওতায় গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন; যার মধ্যে রয়েছে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় বা স্ক্রিনিং এবং জেলা ও মহকুমা হাসপাতালগুলিতে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’-য় ক্যান্সার-প্রতিরোধী ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে উপরাষ্ট্রপতি জরায়ুমুখের ক্যান্সার (সারভাইক্যাল ক্যান্সার) মোকাবিলার লক্ষ্যে এই বছরের শুরুর দিকে চালু হওয়া দেশব্যাপী এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো এক কোটিরও বেশি কিশোরী ও তরুণীকে টিকার আওতায় আনা। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক’ এবং রাজস্থান সরকারের প্রচেষ্টার তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। উপরাষ্ট্রপতি সারা দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও জোরালো সমন্বয় এবং পারস্পরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্যান্সারের চিকিৎসায় প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতিগুলো অবশ্যই সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের হাসপাতালের মধ্যে কার্যকরভাবে আদান-প্রদান করতে হবে, যাতে চিকিৎসার ফলাফল আরও উন্নত হয় এবং মানসম্মত চিকিৎসার সুযোগ সবার কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেলে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দেশের লড়াই উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে।

তিনি ধূমপান, তামাক সেবন, মাদকাসক্তি এবং অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ক্রমাগত সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ক্যান্সারজয়ী বা 'সারভাইভার'দের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি তাঁদের 'যোদ্ধা' হিসেবে অভিহিত করেন; যাঁরা অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের জীবনসংগ্রামের কাহিনি অন্যদের জন্য আশার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি, তিনি চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের তাঁদের অক্লান্ত সেবা ও সহানুভূতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

হাসপাতালটির ব্যাপক জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে স্ক্রিনিং বা রোগ নির্ণয় কর্মসূচি, ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট এবং পথনাটক, শিক্ষামূলক বক্তৃতা ও কমিউনিটি ক্যাম্পের মতো বিভিন্ন সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ—যা রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

উপরাষ্ট্রপতি সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে উৎসাহ প্রদান এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেউ যেন একা না হয়ে পড়েন—তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তিনি মানুষকে ক্যান্সারজয়ী ব্যক্তিদের জীবনকাহিনি থেকে শক্তি সঞ্চয় করার আহ্বান জানান এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে ভয়কে জয় করে আশাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

এই অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি ক্যান্সারজয়ী ব্যক্তিদের সম্মানিতও করেন এবং রোগটিকে পরাস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁদের সাহস ও মানসিক দৃঢ়তার স্বীকৃতি প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে রাজস্থানের রাজ্যপাল শ্রী হরিভাউ কিসানরাও বাগদে, রাজস্থানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং খিমসার, ভগবান মহাবীর ক্যান্সার হাসপাতালের চেয়ারম্যান শ্রী নবরত্ন কোঠারি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

***

 

SC/SB/DM


(রিলিজ আইডি: 2255494) ভিজিটরের কাউন্টার : 4
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Urdu , English , हिन्दी , Gujarati