মন্ত্রিসভারঅর্থনৈতিকবিষয়সংক্রান্তকমিটি
উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশ—এই দুই রাজ্যের ১৫টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত দুটি ‘মাল্টি-ট্র্যাকিং’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, যার ফলে ভারতীয় রেলের বিদ্যমান নেটওয়ার্ক প্রায় ৬০১ কিলোমিটার বৃদ্ধি পাবে
প্রকাশিত:
18 APR 2026 3:17PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি: ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি আজ রেল মন্ত্রকের দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ২৪,৮১৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪,৯২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজিয়াবাদ-সীতাপুর তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন এবং ৯,৮৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজামুন্দ্রি (নিদাদাভোলু)-বিশাখাপত্তনম (দুভাড়া) তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন।
রেললাইনের বর্ধিত ক্ষমতা যাতায়াত ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে, যার ফলে ভারতীয় রেলওয়ের পরিচালন দক্ষতা এবং পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। এই বহুমুখী রেললাইন (মাল্টি-ট্র্যাকিং) সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো রেল চলাচলকে সুবিন্যস্ত করতে এবং যানজট কমাতে সহায়ক হবে। এই প্রকল্পগুলো প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর 'নতুন ভারত'-এর রূপকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই রূপকল্পের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে সেখানকার মানুষকে 'আত্মনির্ভর' করে তোলা এবং তাঁদের কর্মসংস্থান ও স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
এই প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা করা হয়েছে ‘পিএম গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান’-এর আওতায়। এই পরিকল্পনায় সমন্বিত রূপরেখা প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বহুমুখী সংযোগ ব্যবস্থা ও লজিস্টিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো মানুষ, পণ্য এবং পরিষেবার নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করবে।
উত্তরপ্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ — এই দুই রাজ্যের মোট ১৫টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত এই দুটি প্রকল্প ভারতীয় রেলওয়ের বর্তমান নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রায় ৬০১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ যুক্ত করবে।
রেলপথের ক্ষমতা বৃদ্ধির এই প্রস্তাবিত উদ্যোগটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কিছু বিশিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে। এই পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে — দুধেশ্বরনাথ মন্দির, গড়মুক্তেশ্বর গঙ্গা ঘাট, দরগাহ শাহ বিলায়েত জামা মসজিদ (আমরোহা), নৈমিষারণ্য (সীতাপুর), আন্নাভারাম, অন্তরবেদি, দ্রাক্ষারামম ইত্যাদি।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পগুলোর আওতাভুক্ত রেলপথগুলো কয়লা, খাদ্যশস্য, সিমেন্ট, পেট্রোপণ্য, লোহা ও ইস্পাত, কন্টেনারজাত পণ্য, সার, চিনি, রাসায়নিক লবণ এবং চুনাপাথরের মতো বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে কাজ করবে। রেল পরিবহন ব্যবস্থা পরিবেশ-বান্ধব এবং শক্তি-সাশ্রয়ী হওয়ায়, এটি একদিকে যেমন জলবায়ু সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে, তেমনি অন্যদিকে দেশের লজিস্টিক বা পণ্য পরিবহন ব্যয় কমাতেও ভূমিকা রাখবে। এর ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ ১৮০.৩১ কোটি কিলোগ্রাম হ্রাস পাবে, যা প্রায় ৭.৩৩ কোটি বৃক্ষরোপণের সমতুল্য।
রাজামুন্দ্রি (নিদাদাভোলু)-বিশাখাপত্তনম (দুভাড়া) রেলপথটি হাওড়া- চেন্নাই রুটে অবস্থিত। এই প্রকল্পের ফলে বিশাখাপত্তনমের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা লাভ করবে। পাশাপাশি, পর্যটন ও শিল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে। উন্নত রেল সংযোগের ফলে নাগরিকদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রেলপথের ওপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এর ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২,৬৫,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। ১৬০০-টিরও বেশি লোকোমোটিভ উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকেও ছাড়িয়ে গেছে ভারত। ২০২৬ অর্থবছরে, ১.৬ বিলিয়ন টন পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে ভারতীয় রেল বিশ্বব্যাপী শীর্ষ তিনটি পণ্য পরিবহনকারী সংস্থার অন্যতম হিসেবে স্থান করে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত অস্ট্রেলিয়ায় মেট্রো কোচ এবং যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ায় রেল বগি রপ্তানি শুরু করেছে।
SC/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 2253344)
ভিজিটরের কাউন্টার : 7