প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের বঙ্গানুবাদ

প্রকাশিত: 17 APR 2026 1:13PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি: ১৭ এপ্রিল ২০২৬

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

এই সভার পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে, আমি শ্রী হরিবংশ জি-কে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে টানা তৃতীয়বারের জন্য নির্বাচিত হওয়াটা আপনার প্রতি এই সভার গভীর আস্থারই প্রতিফলন। বিগত সময়ে আপনার অভিজ্ঞতা থেকে সভা যে সুফল পেয়েছে এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার ক্ষেত্রে আপনি যে চেষ্টা চালিয়েছেন, এটি সেই বার্তাই দিচ্ছে। এটি অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধা, একটি কার্যশৈলীর প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধা এবং সেই স্বতঃস্ফূর্ত কার্যশৈলীর প্রতি স্বীকৃতিও বটে। আমরা সবাই দেখেছি যে, হরিবংশ জি-র নেতৃত্বে এই সভার শক্তি ও সক্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, তিনি শুধুমাত্র সভার কাজই পরিচালনা করেন না, বরং সভাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি তাঁর জীবনের বিগত অভিজ্ঞতাসমূহকেও অত্যন্ত সুচারুভাবে কাজে লাগান। তাঁর অভিজ্ঞতা সভার সমগ্র কার্যপ্রণালী, আচরণবিধি এবং সামগ্রিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। আমি পুরোপুরি বিশ্বাস, ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর এই নতুন কার্যকালও একই উদ্দীপনা, ভারসাম্য এবং নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে চলবে এবং আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সভার মর্যাদা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

হরিবংশ জি উত্তরপ্রদেশের এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই ছাত্রজীবন থেকেই তিনি নিজের গ্রামের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের কাজ করে আসছেন। তাঁর শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল কাশীতে। যেহেতু অতীতে আমার এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল, তাই আমি সে সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সুতরাং, আজ আমি সেই কথাগুলির পুনরাবৃত্তি করব না। তবে আজ আমি একটি বিশেষ প্রসঙ্গের উল্লেখ অবশ্যই করব। আজ ১৭ এপ্রিল। আর ১৯২৭ সালের ১৭ এপ্রিল ছিল আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জি-র জন্মদিন। দিনটির বিশেষত্ব হলো এই যে, আজ, এই ১৭ এপ্রিল তারিখে, যখন আপনি তৃতীয়বারের মতো এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন, তখন দিনটি কাকতালীয়ভাবে চন্দ্রশেখরজি-র জন্মবার্ষিকী। চন্দ্রশেখর জি-র সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, আপনার প্রতি তাঁর গভীর স্নেহ এবং এক অর্থে, তাঁর সমগ্র কার্যকালে তাঁর সহযাত্রী হয়ে থাকা, এগুলি কাকতালীয় ঘটনা। আপনি চন্দ্রশেখর জি-র জীবনীর ওপর গ্রন্থও রচনা করেছেন এবং চন্দ্রশেখর জি-র বিশাল ও বর্ণময় জীবনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই, আপনার জন্য আজকের দিনটি এক অত্যন্ত বিশেষ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে, কারণ আপনার তৃতীয় দফার কার্যকাল শুরু হচ্ছে ঠিক চন্দ্রশেখরজির জন্মদিনেই।

 

হরিবংশ জি-র জনজীবন শুধুমাত্র সংসদীয় কার্যকলাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সাংবাদিকতার যে উচ্চ মানদণ্ড তিনি স্থাপন করেছেন, তা আজও এক আদর্শ হিসেবে সমাদৃত ও আলোচিত হয়। সাংবাদিকতার জগতে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত হয়েছে, আর সেই সাংবাদিকতা পেশাতেও তিনি সর্বদা উচ্চ নৈতিক মানদণ্ডকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেছেন। আমরা সবাই জানি যে, তাঁর লেখনীতে এক ধরণের ক্ষুরধার তীক্ষ্ণতা রয়েছে। অথচ তাঁর কথাবার্তা ও আচরণ সর্বদা নম্রতা ও সৌজন্যে ভরা। এমনকি আমি যখন গুজরাটের দায়িত্বে ছিলাম, তখনও তাঁর লেখা প্রবন্ধগুলি পড়ার অভ্যাস আমার ছিল। আমি লক্ষ্য করেছি যে, তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের বক্তব্য বা অবস্থান তুলে ধরতেন এবং আমার মনে হত যে, গভীর ও নিবিড় অধ্যয়নের ছাপ তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠত। সাংবাদিকতা জগতেও তিনি সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিরন্তর ও সফল প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

 

 

তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি সমাজের বাস্তবতার সঙ্গে গভীর ও নিবিড় সংযোগ বজায় রেখে কাজ করে চলেছেন। আমি বলব যে, তা লোকসভাই হোক কিংবা রাজ্যসভা, নতুন যে সংসদ সদস্যরা এখানে আসেন, তাঁরা হরিবংশ জি-র কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলে বহু বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন। কারণ, সাংবাদিকতা পেশায় থাকাকালীন তিনি একটি কলাম লিখতেন যার শিরোনাম ছিল — "আমাদের সাংসদ কেমন হওয়া উচিত?" কিংবা "আমাদের সংসদ সদস্যের ভূমিকা কেমন হওয়া বাঞ্ছনীয়?" সেই সময়ে সম্ভবত তিনি নিজেও জানতেন না যে, একদিন তাঁকেই স্বয়ং সেই আসনে বসতে হবে। কিন্তু তিনি নিয়মিত লিখতেন এবং সেই লেখাগুলির বিষয়বস্তুতে ছিল এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি।

 

সভার মর্যাদা ও একজন কর্মরত সদস্যের দায়িত্ববোধ, এমনকি তাঁদের আচরণ ও চিন্তাধারা প্রসঙ্গেও তাঁর ছিল অত্যন্ত গভীর ও নিবিড় অধ্যয়ন। আর আমাদের এই সভার সহকর্মীরা তাঁর সান্নিধ্যে বসে এবং তাঁর সেই মূল্যবান পর্যবেক্ষণগুলিকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারেন। একটি সুশৃঙ্খল জীবনে সময়ানুবর্তিতা এবং নিজের কর্তব্যের প্রতি গভীর নিষ্ঠা — এগুলিই হলো আপনার চরিত্রের বিশেষত্ব। আর সম্ভবত ঠিক এই কারণেই আপনার ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বিকশিত হয়েছে, যা আজ সর্বজনগ্রাহ্য। আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছি যে, রাজ্যসভার সদস্যপদ গ্রহণের পর থেকে আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, তিনি কার্যত পুরো সময় সভায় উপস্থিত থাকেন। নিজের দায়িত্বের প্রতি তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের কারণেই এমনটি সম্ভব হয়ে ওঠে। আর এটি আমাদের সকলের জন্যই একটি শিক্ষণীয় বিষয়। 

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

উপাধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কীভাবে এই সভা পরিচালনা করেছেন এবং একজন সদস্য হিসেবে এখানে কী অবদান রেখেছেন, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক আলোচনা হয়ে থাকে। কিন্তু এই কক্ষের বাইরে, সাধারণ মানুষের মাঝে তিনি কীভাবে তাঁর গণতান্ত্রিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন, তাও এমন একটি বিষয়, যা আমাদের মতো জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি যে, তাঁর এই কাজ কেবল প্রশংসনীয়ই নয়, অনুকরণীয়ও বটে। আমাদের দেশটি একটি তরুণ দেশ। আমি লক্ষ্য করেছি যে, হরিবংশ জি তাঁর সময়ের সিংহভাগ তরুণদের মাঝেই ব্যয় করতে পছন্দ করেন। তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন, যা এক প্রকার জন-শিক্ষারই নামান্তর এবং এই উদ্দেশ্যেই তিনি সারা দেশ চষে বেড়ান। প্রচারের আলোয় বা সংবাদমাধ্যমের নজরে থাকার প্রতি তাঁর বিশেষ কোনও ঝোঁক নেই। অথচ তাঁর ভ্রমণ ও কর্মসূচির সংখ্যা অবিরাম বেড়েই চলেছে। ২০১৮ সালে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তিনি দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৩৫০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ৩৫০টিরও বেশি কর্মসূচি, সেখানে যাতায়াত করা, শিক্ষার্থীদের মাঝে বসে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করা এবং প্রতিটি আলোচনার জন্য বিষয়বস্তু প্রস্তুত করা – এই সব কিছুই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে করা একটি অত্যন্ত বিশাল কাজ।

 

 

শিক্ষার্থীদের তথা তরুণ প্রজন্মকে কীভাবে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে তোলা যায়, যাতে তাঁরা কখনই হতাশার অন্ধকারে তলিয়ে না যান, সে বিষয়ে তিনি তাঁদের সাথে আলোচনা করেন।

 

 

ইদানীং আমাদের দেশে 'সাহিত্য উৎসব' বা 'লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল'-এর একটি নতুন ধারা সূচিত হয়েছে; বর্তমানে সেই ধারা দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। হরিবংশ জি প্রায়ই এই সাহিত্য উৎসবগুলিতে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ চিন্তাধারার মাধ্যমে সমাজের সেই বিশেষ অংশটিকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

তাঁর জীবনের সাথে জড়িত একটি ঘটনার কথা আমি শুনেছি। এমনটা হওয়া সম্ভব যে, সর্বসমক্ষে প্রচলিত আমার এই তথ্যটি হয়তো পুরোপুরি নির্ভুল নয়। আমি শুনেছি যে, ১৯৯৪ সালে হরিবংশ জি প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যান এবং আমেরিকা ভ্রমণ করেন। আমেরিকায় পৌঁছনোর পর, তাঁর নির্ধারিত যাবতীয় কর্মসূচির বাইরে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তিনি অন্য কোথাও যেতে কিংবা ভিন্ন কোনও কাজ করতে ইচ্ছুক কি না। তখন তিনি বিশেষ আগ্রহের সঙ্গে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, যেহেতু এটি একটি উন্নত রাষ্ট্র, তাই আমি অবশ্যই এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি দেখতে ও সেগুলোকে গভীরভাবে বুঝতে চাই। আমি জানতে চাই, ঠিক কী ধরনের শিক্ষা ও সংস্কৃতির দৌলতে এই দেশটি এতটা দ্রুতগতিতে উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে। আর আমেরিকায় তাঁর সেই প্রথম সফরের সময়সূচিতে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলির বাইরে, তিনি তাঁর অবশিষ্ট সময়টুকু কেবল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েই কাটিয়েছিলেন এবং সেগুলোর স্বরূপ অধ্যয়ন করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। অর্থাৎ, তাঁর মনের গহীনে যে গভীর আকাঙ্ক্ষাটি প্রোথিত ছিল তা হলো – একটি উন্নত রাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে যদি এমন অসাধারণ ফলাফলই বেরিয়ে আসে, তবে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও ঠিক তেমনই হওয়া উচিত, যাতে সেখান থেকেই একটি 'উন্নত ভারত' গড়ে তোলার স্বপ্নরেখা অঙ্কিত হতে পারে।

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

সাংসদ উন্নয়ন তহবিল নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রচুর আলোচনা হয়ে থাকে এবং এটি তাঁদের কাছে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। কখনও কখনও সাংসদ উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ বিধায়ক তহবিলের তুলনায় কতটা, তা নিয়ে এক ধরনের রেষারেষিও দেখা যায়। কিন্তু সাংসদ উন্নয়ন তহবিল কীভাবে ব্যবহার করা উচিত, এই বিষয়ে হরিবংশ জির চিন্তাভাবনা আমি ব্যক্তিগতভাবে শুনেছি এবং তা শুনে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছি। তবে আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। হয়তো আমরা তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে উঠতে পারিনি, কারণ এমন একটি বিষয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলাটা কিছুটা কঠিন। তবে তিনি নিজে কীভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন, আমার বিশ্বাস, আমরা সবাই তা প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি এই সাংসদ উন্নয়ন তহবিলকে কাজে লাগিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনাগুলিকে একেবারে তৃণমূল স্তরে বাস্তবায়িত করেছেন।

 

 

 তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কিছু গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব দীর্ঘকাল ধরে অনুভূত হবে। আর সেই উদ্যোগগুলির ক্ষেত্রেও তিনি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে 'প্রকল্প-ভিত্তিক পদ্ধতি'কেই মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, বিলুপ্তপ্রায় ভারতীয় ভাষাগুলোকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে তিনি সাংসদ উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে আইআইটি পাটনায় একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছেন এবং সেখানে সেই কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। বিহারের এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে প্রায়ই ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে, এমনকি নেপালে যদি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্পও হয়, তবে তার প্রভাব ওই এলাকাগুলোতে এসে পড়ে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সাংসদ উন্নয়ন তহবিলের সহায়তায় 'সেন্টার ফর আর্থকোয়েক ইঞ্জিনিয়ারিং' নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র চালু করেছেন। অর্থাৎ, সেখানে অধ্যয়ন ও গবেষণার কাজ অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলেছে। আমরা জানি, যেমনটি আমি আগেই উল্লেখ করেছি, জয়প্রকাশজির গ্রাম 'সিতাব দিয়ারা'-ই হলো হরিবংশ জির জন্মস্থান। গ্রামটি গঙ্গা ও ঘাগরা — এই দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ফলে নদীর জলস্রোতের কারণে সৃষ্ট ভাঙন বা ক্ষয় সমস্যা নিয়ে গ্রামটি সর্বদা জর্জরিত থাকে। তাছাড়া নদীর গতিপথও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এবং বিষয়টির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে তিনি এমপি-ল্যাড তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে পাটনার আর্যভট্ট জ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি 'নদী গবেষণা কেন্দ্র' স্থাপন করেছেন। এছাড়া পাটনার 'চন্দ্রগুপ্ত ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট'-এ তিনি একটি 'বিজনেস ইনকিউবেশন অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার' গড়ে তোলার কাজও তদারকি করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে, তিনি মগধ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। 

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

আমরা সকলেই এমনটা দেখেছি যে, মানুষ যখন নিজের গ্রাম ছেড়ে অন্য কোনও শহরে আসে, তখন এক অর্থে তাঁর জীবনের সঙ্গে গ্রামের সংযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু আজও হরিবংশ জির জীবন তাঁর নিজের গ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে। গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তিনি সাধ্যমতো নিরন্তর অবদান রেখে চলেছেন।

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

সংসদের এই নতুন ভবনটির, যেখানে আমরা এখন সমবেত হয়েছি, যখন এর নির্মাণকাজ চলছিল, তখন তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আমি তখন প্রতিনিয়ত অনুভব করতাম যে, যখনই আমার মনে কোনও নতুন ভাবনা বা পরিকল্পনা আসত — যেমন আমি তাঁকে বলতাম, "আচ্ছা, আমরা যদি অমুক কাজটি করি, তবে কেমন হয়?" তখন মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তিনি সেই ভাবনাটিকে পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত রূপ দিয়ে আমার সামনে তুলে ধরতেন। কোনও কিছুর নামকরণ হোক, কিংবা এই সদনের স্বকীয় পরিচিতি ও ভাবমূর্তি কীভাবে গড়ে উঠবে – সংসদ ভবনের নির্মাণশৈলী, এর চিত্রশালা, কিংবা বিভিন্ন প্রবেশদ্বারের নামকরণ – সব কিছুতেই তাঁর অসামান্য অবদান ছিল। 

 

 

শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান মহোদয়,

 

সদন পরিচালনায় হরিবংশ জির দক্ষতা আমরা খুব কাছ থেকেই দেখেছি। তবে এর পাশাপাশি, তিনি বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ও বিধান পরিষদগুলির এবং সেখানকার প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণের কাজেও প্রচুর সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন এবং কীভাবে তাঁদের সহায়ক হয়ে ওঠা যায়, সে বিষয়েও কাজ করেছেন। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ছাপ রেখে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। দেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে আমি নিশ্চিত, এই সদনের মাধ্যমেই অনেক কিছু সাধিত হবে। আর ঠিক এই কারণেই, সকল প্রিসাইডিং অফিসারের কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে, আপনি যা প্রত্যাশা করেন, তা পূরণ করার লক্ষ্যে আমাদের সকল সহকর্মীই আপনার সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। তাঁরা আপনার কাজকে কোনওভাবেই জটিল বা কঠিন করে তুলবেন না। আমি নিশ্চিত যে, সকলেই ঠিক এমনটাই করবেন। আর যেমনটি আমি আগেই বলেছি, সবকিছুই নির্ভর করে 'হরি কৃপা'র ওপর। আপনার জন্য আমার অশেষ শুভকামনা রইল।

 

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!

 

প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি দিয়েছেন হিন্দিতে।

 

SC/MP/DM


(রিলিজ আইডি: 2253136) ভিজিটরের কাউন্টার : 5
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Manipuri , Assamese , Gujarati , Telugu