প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
azadi ka amrit mahotsav

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের ভাও-থারাডে ২০,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা ও শিলান্যাস করেছেন

প্রকাশিত: 31 MAR 2026 7:35PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৩১ মার্চ, ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ উত্তর গুজরাটের জন্য প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা ও শিলান্যাস করেছেন। বনসকাঁঠা জেলার ভাও-থরাদে এক জনসমাবেশে তিনি বলেন, পবিত্র নবরাত্রি উৎসব সদ্য সমাপ্ত হয়েছে এবং আজকের দিনটি ভগবান মহাবীর জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী মা অম্বাজি এবং ভগবান শ্রী ধরণীধরজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এই প্রথমবার সরাসরি দীসা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করতে পেরে নিজের আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী এর কৌশলগত গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন; বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বে এর অবস্থানের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃষকরা স্বেচ্ছায় এই প্রকল্পের জন্য তাঁদের জমি দান করা সত্ত্বেও দীসা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজটি গত কয়েক দশক ধরে আটকে ছিল। তাঁর সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই কাজটি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিমানবন্দরটি একাধারে উন্নয়নের এক মাইলফলক এবং দেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ।

ভাও-থরাদ এবং বনসকাঁঠা অঞ্চলের সঙ্গে নিজের গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাংগঠনিক কর্মী হিসেবে কাটানো দিনগুলির স্মৃতিচারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ে তিনি এই অঞ্চলের গ্রামগুলোতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতেন। এই অঞ্চলের মা ও বোনেরা পরম যত্ন সহকারে তাঁর জন্য বাজরার রুটি (রোতলা), ঘি, গুড় এবং 'শিরা' তৈরি করে দিতেন।

এই অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে তাঁর ২৫ বছরের দীর্ঘ সংযোগের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি যে উন্নয়নের ধারা সূচিত করেছিলেন, তা আজও অব্যাহত রয়েছে; ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় সেই ধারা এখন আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছে। আজ যেসব প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে, সেগুলোর আওতায় শক্তি, সড়কপথ, রেলপথ এবং আবাসন—সবকটি ক্ষেত্রই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "এই ২০,০০০ কোটি টাকার প্রকল্পগুলি সমগ্র এলাকার চিত্রটাই বদলে দেবে এবং এখানকার জনজীবনে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।"

সড়ক পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইদার থেকে ভাদালি বাইপাস পর্যন্ত ৪ লেনের মহাসড়ক, ধোলাভিরা থেকে সান্তালপুর পর্যন্ত মহাসড়কের আধুনিকীকরণ এবং সম্পূর্ণ আহমেদাবাদ-ধোলেরা এক্সপ্রেসওয়ে করিডোর জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্প, বিনিয়োগ এবং নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মোচন করে। রেল সংযোগের প্রসঙ্গে তিনি হিম্মতনগর থেকে খেদব্রহ্মা পর্যন্ত 'গেজ রূপান্তর' প্রকল্পের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন; এই প্রকল্পটি উত্তর গুজরাটের উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে দেশের জাতীয় ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করে। পাশাপাশি, তিনি খেদব্রহ্মা, হিম্মতনগর এবং আসারওয়াকে সংযোগকারী একটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনার কথাও উল্লেখ করেন। যখন গ্রামগুলি বাজারের সঙ্গে, কৃষকরা নতুন সুযোগের সঙ্গে এবং যুবসমাজ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হয় তখনই প্রকৃত উন্নয়ন সাধিত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শিল্পের বিকাশ ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী 'খাওদা নবায়নযোগ্য শক্তি পার্ক'-এর সঙ্গে যুক্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করেন; এই পার্কটি থেকে ৪.৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১০ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি চারাঙ্কায় দেশের প্রথম সৌর পার্কের সূচনা করেছিলেন; সেই প্রাথমিক উদ্যোগটিই পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে গুজরাটের বর্তমান অগ্রণী অবস্থানের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "সেই দিন আর খুব বেশি দূরে নয়, যখন পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে গুজরাট বিশ্বজুড়ে একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বিশ্ব ভারতের উন্নয়ন-গাথা নিয়ে আলোচনা করে, তখন 'গুজরাট মডেল' সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়; কারণ এই মডেলটি প্রমাণ করে যে, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম—এই দুটি বিষয়কে অবশ্যই একে অপরের পরিপূরক হিসেবে, অর্থাৎ হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলতে হবে। আজকের এই অনুষ্ঠানে 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা'-র আওতায় প্রায় ৪০,০০০ পরিবারকে পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে, তিনি বলেন, "একটি পাকা বাড়ি একটি পরিবারের জীবনে যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে, তা সেই সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর সদস্যদের মুখেই স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। রাস্তাঘাট ও মহাসড়ক নির্মাণ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নও অপরিহার্য,"—মন্তব্য করেন শ্রী মোদী।

উত্তর গুজরাট একসময় দশকের পর দশক ধরে চরম দুর্দশা—খরা ও তীব্র জলসংকটের মুখোমুখি হয়েছিল, তা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী সেই সময়ের কথা তুলে ধরেন, যখন মহিলাদের এক কলসি জলের জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হতো এবং কৃষকরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পেতেন না। নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের দৃঢ় সংকল্পের জন্য তিনি গুজরাটের জনগণের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন এবং 'সুজলাম সুফলাম' যোজনা ও নর্মদা নদীর জলের সম্প্রসারণকে এই আমূল পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "আজ এখানকার কৃষকরা আর কেবল একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল নন; আলু উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় অঞ্চল হিসেবে বনসকাঁঠার উত্থান নিজেই এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।"

গুজরাটের গত ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন যাত্রার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রাজ্য ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের নতুন নতুন নজির স্থাপন করেছে এবং নিজেরই গড়া পূর্ববর্তী রেকর্ডগুলোকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে গেছে। তিনি ২০০৫ সালে ৬৫০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে 'নগর উন্নয়ন বর্ষ' কর্মসূচির সূচনার কথা স্মরণ করেন, যার বাজেট বর্তমানে বেড়ে ৩৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। ৯টি নতুন পৌরনিগমের জন্য ২,৩০০ কোটি টাকার প্রায় ৩০০টি প্রস্তাব অনুমোদন, ৭২টি পৌরসভার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি রাজ্য বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি আশ্বাস দেন যে, উন্নয়নের সুফল রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম, শহর ও নগরে পৌঁছে দেওয়া হবে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে সংসদ—সর্বত্র আপনাদের আস্থা ও ভরসা যতদিন অটুট থাকবে, ততদিন উন্নয়নের এই 'সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস' ঠিক এই গতিতেই এগিয়ে চলতে থাকবে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিশ্বের অনেক দেশ যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের কারণে হিমশিম খাচ্ছে—এমনকি বিশ্বের মহাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোতেও ডিজেল ও পেট্রোলের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে—সেখানে ভারত তার সফল বিদেশনীতি এবং জনগণের ঐক্যের সুবাদে পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

কোভিড অতিমারীর সময়ে সমগ্র জাতির সম্মিলিত প্রতিরোধের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানের এই কঠিন সময়েও নাগরিকদের একে অপরের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিশ্ব যখন নানাবিধ সংকটে জর্জরিত, তখন ভারত কেবল নিজের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাই বজায় রাখেনি, বরং প্রতিদিন উন্নয়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে চলেছে; আর আজকের এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোই হলো সেই অটুট সংকল্পের আরও এক উজ্জ্বল নিদর্শন।"


SC/SD/SKD


(রিলিজ আইডি: 2247598) ভিজিটরের কাউন্টার : 10