স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
নকশাল-মুক্ত ভারত মোদী সরকারের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য : শ্রী অমিত শাহ
প্রকাশিত:
30 MAR 2026 10:29PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৩০ মার্চ ২০২৬
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী শ্রী অমিত শাহ আজ লোকসভায় দেশকে নকশাল মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের প্রয়াস সংক্রান্ত আলোচনায় জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, নকশাল মুক্ত ভারত নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্যতম বড় ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তিনি বলেন, বস্তার থেকে নকশালদের তৎপরতা প্রায় পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। সেখানকার প্রতিটি গ্রামে স্কুল তৈরি এবং রেশন দোকান চালুর লক্ষ্যে প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের প্রতিটি গরিব মানুষ নিজেদের বাড়ি, গ্যাস সংযোগ, পানীয় জল, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা এবং বিনামূল্যে ৫ কেজি খাদ্যশস্য পাচ্ছেন। তিনি বলেন, লাল সন্ত্রাসের কারণে সেখানে উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ সন্ত্রাসের ছায়াকে দূর করা হয়েছে এবং বস্তার উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, কেউ হাতে অস্ত্র তুলে নিলে, তাকে পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিলেও বাম উগ্রপন্থার কারণে সেগুলিকে কার্যকর করা যাচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গনা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, বাংলা, কেরালা, কর্ণাটকের কিছু অংশ এবং উত্তরপ্রদেশের ৩টি জেলা সহ দেশের ১২টি রাজ্যে নকশালরা রেড করিডর গড়ে তুলেছিল। এইসব এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ১২ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন এবং ২০ হাজার তরুণের প্রাণ গিয়েছে।
শ্রী শাহ বলেন, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী মোদীজি বেশ কয়েকটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করেন। এখন তাঁর নেতৃত্বে নকশালমুক্ত ভারতও গড়ে উঠছে। গত ১২ বছরে দেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করার লক্ষ্যে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হল, নকশালমুক্ত ভারত গড়ে তোলা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নকশালদের দাবির সঙ্গে উন্নয়নের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের জন্যই উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতি তাদের কোনও আস্থা নেই। আদর্শের নামে তারা নিজেদের লোককেও হত্যা করছে। শ্রী শাহ বলেন, নকশালরা বছরের পর বছর ধরে ওই এলাকাগুলিতে কোন উন্নয়নমূলক কাজ করতে দেয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি-র সরকারের আমলে সেখানকার প্রতিটি বাড়িতে উন্নয়ন পৌঁছে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের মূল নীতি হল, আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও সমস্যার সমাধান করা, অস্ত্রের মাধ্যমে নয়। নকশালরা দেশের সব ধরনের কাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়েছিল। তিনি বলেন, নকশালরা এখন তাদের জমি হারিয়েছে, তারা এখন তাদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হল রাষ্ট্র, প্রশাসন, সংবিধান এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি করা। শ্রী শাহ বলেন, নকশালরা শত্রু পক্ষের চর আখ্যা দিয়ে বহু নিরীহ গ্রামবাসীকেও হত্যা করেছে।
শ্রী অমিত শাহ জানান, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীজির নেতৃত্বে নকশাল প্রভাবিত এলাকাগুলিতে ১৭,৫৮৯ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ শেষ করা হয়েছে। আমরা ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার মোবাইল টাওয়ার বসিয়েছি। গত ১২ বছরে ১৮০৪টি ব্যাঙ্কের শাখা চালু করা হয়েছে, ১৩২১টি এটিএম খোলা হয়েছে এবং ৬০২৫টি ডাকঘর চালু করা হয়েছে। আমরা ২৫৯টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় তৈরি করেছি। সেই সঙ্গে ৪৬টি আইটিআই, ৪৯টি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এই সব কাজে গত ১২ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ থেকে সরকার একটি সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ করে চলেছে। নরেন্দ্র মোদীজি এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দেশের কোনও অংশেই কোনও অবৈধ কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। নকশালবাদের পরাজয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হল যে, প্রশাসনিক উদ্যোগ এখন প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে গিয়েছে এবং যেখানে পঞ্চায়েত গঠন করা হয়েছে। আমরা এক সামগ্রিক উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করেছি। ২০২৪ সালের আগেই বিহার, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডকে পুরোপুরি নকশালমুক্ত করা গেছে। একমাত্র ছত্তিশগড়ে করা যায়নি, কারণ সেখানকার বিরোধী দলের সরকার নকশালবাদীদের রক্ষা করছিল। ২০২৪-এর জানুয়ারিতে ছত্তিশগড়ে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসে। আমরা একটি যৌথ কৌশল তৈরি করি। ২৪ অগাস্ট ২০২৪-এ আমরা ঘোষণা করি যে, ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে দেশকে পুরোপুরি নকশালমুক্ত করা হবে।
২০১৪ সালে নকশাল প্রভাবিত এলাকার সংখ্যা ছিল ১২৬। এখন তা ২-এ নেমে এসেছে। ২০১৪-তে সবচেয়ে বেশি নকশাল প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ছিল ৩৫। আজ তা শূন্যে নেমে এসেছে। গত ৬ বছরে ৪০৬টি নতুন সিএপিএফ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ৪০০টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি জওয়ানদের দেওয়া হয়েছে এবং গোটা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ মিলিয়ে সংঘর্ষে মোট ৭০৬ জন নকশাল নিহত হয়েছেন, ৪,৮৩৯ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হল, যারা আলোচনা চায়, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। কিন্তু যারা আমাদের জওয়ান, কৃষক, আদিবাসী এবং শিশুদের ওপর বুলেট বর্ষণ করছে, তাদের অবশ্যই বুলেটের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। আমরা আলোচনা, সুরক্ষা এবং সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছি। নজরদারির কাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি। পাশাপাশি ড্রোন নজরদারি, উপগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের কর্মসংস্থানের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তাঁদের সন্তানদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনাখরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছি। মহিলাদের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং পুরুষদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করেছি।
শ্রী অমিত শাহ বলেন, ১৯৭০ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নকশালদের সমর্থকরা নকশালবাদকে সমর্থন করে এসেছে। এর জন্য তিনি প্রধান বিরোধী দলকে দায়ী করেন। নির্বাচনে দেশের মানুষকে এর জবাব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
SC/MP/AS
(রিলিজ আইডি: 2247332)
ভিজিটরের কাউন্টার : 4