প্রধানমন্ত্রীরদপ্তর
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আসামের গুয়াহাটিতে ১৯,৪৮০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন; দেশজুড়ে কোটি কোটি কৃষকের জন্য ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি 'পিএম কিষাণ সম্মান নিধি' বিতরণ করলেন
প্রকাশিত:
13 MAR 2026 7:45PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি: ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আসামের গুয়াহাটিতে প্রায় ১৯,৪৮০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শহরবাসীকে তাঁর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি সারা দেশ থেকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কৃষকদের পাশাপাশি চা বাগানে কর্মরত ভাই-বোনেদেরও শুভেচ্ছা জানান। নবরাত্রি শুরুর প্রাক্কালে মা কামাখ্যার এই পুণ্যভূমিতে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শ্রী মোদী বলেন, "নবরাত্রি শুরুর ঠিক আগে মা কামাখ্যার এই পুণ্যভূমিতে আপনাদের দর্শন পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, যা আমার কাছে এক পরম আশীর্বাদ।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মা কামাখ্যার আশীর্বাদে ১৯,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, আসামে বহুমুখী প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে—যার পরিসর শক্তি উৎপাদন ক্ষেত্রে আসামকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য থেকে শুরু করে আসামে আগত যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধির কাজ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, আজকের দিনটি দেশের কৃষকদের এবং আসামের চা বাগানের শ্রমিকদের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। শ্রী মোদী সমবেত জনতাকে জানান যে, 'পিএম কিষাণ সম্মান নিধি' প্রকল্পের আওতায় ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সারা দেশের কোটি কোটি 'অন্নদাতা'র (কৃষকের) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও তুলে ধরেন যে, আসামের চা বাগানের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য পরিবারের মধ্যে জমির পাট্টা (স্বত্বপত্র) বিতরণ করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, "আমি আসামের জনগণকে, এখানকার প্রত্যেক পরিবারকে এবং সারা দেশের কৃষকদের আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।"
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মা কামাখ্যার এই পবিত্র ভূমি থেকে আয়োজিত এই কর্মসূচির সঙ্গে সারা দেশের কৃষকরা যুক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, কোটি কোটি কৃষক ইতিমধ্যেই তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে 'পিএম কিষাণ নিধি'র অর্থ জমা হওয়ার নিশ্চিতকরণ বার্তা (মেসেজ) পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পটিকে সত্যিই অসাধারণ হিসেবে বর্ণনা করেন। শ্রী মোদী স্মরণ করিয়ে দেন যে, এঁরাই সেই কৃষক ভাই-বোনেরা, যাঁদের অধিকাংশেরই ২০১৪ সালের আগে নিজস্ব কোনো মোবাইল ফোন কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। প্রধানমন্ত্রী সমবেত জনতাকে জানান যে, এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোটি কোটি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪.২৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ জমা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র আসামেই প্রায় ১৯ লক্ষ কৃষক এখন পর্যন্ত প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা সহায়তা পেয়েছেন। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "এটি এমন একটি বিষয় যার সমকক্ষ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও হতে পারে না; মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমেই কোটি কোটি কৃষকের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছে যায়।"
শ্রী মোদী বলেন, "আজ, 'সম্মান নিধি' প্রকল্প দেশের ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে,"। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমান সরকারের কাছে কৃষকদের কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১০ বছরে কৃষকরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) হিসেবে ২০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান যে, গত ১১ বছরে বর্তমান সরকার দেশের কৃষকদের ঘিরে একটি শক্তিশালী সুরক্ষাবলয় গড়ে তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী তুলে ধরেন যে—তা এমএসপি-ই হোক, বা সাশ্রয়ী ঋণ, শস্য বিমা কিংবা 'পিএম কিষাণ সম্মান নিধি'—এই প্রকল্পগুলো কৃষকদের জন্য এক বিশাল সহায়তা-ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার অত্যন্ত সতর্ক ছিল যাতে আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব কৃষি ও চাষাবাদের ওপর না পড়ে। শ্রী মোদী স্মরণ করিয়ে দেন যে, কোভিড মহামারি এবং পরবর্তী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে এবং বিদেশি বাজার থেকে সার সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এই সংকট থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বস্তা ইউরিয়ার দাম যেখানে ৩,০০০ টাকা, সেখানে সরকার ভারতীয় কৃষকদের তা মাত্র ৩০০ টাকায় সরবরাহ করেছে।শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "বৈশ্বিক সারের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা যাতে আমাদের কৃষকদের ওপর না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকার নিজস্ব কোষাগার থেকে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে,"।
প্রধানমন্ত্রী বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন যে, গত এক দশকে বর্তমান সরকার আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্যে এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, বাহ্যিক সংকট থেকে কৃষিকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই আত্মনির্ভরশীলতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করেন যে, স্বাধীন ভারতে বারবার এমনটা দেখা গেছে যে—বিশ্বের অন্য প্রান্তে যুদ্ধ কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে ভারতীয় কৃষকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো; কখনো সারের দাম আকাশচুম্বী হতো, আবার কখনো ডিজেল ও জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যেত।
প্রধানমন্ত্রী জানান যে, সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষিকাজকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা, কৃষকদের সেচের নতুন পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করানো এবং শস্য উৎপাদনও যাতে এর সুফল পায়, তা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, এই উদ্দেশ্যেই সরকার ‘ পার ড্রপ মোর ক্রপ' (প্রতি ফোঁটায় অধিক ফসল) নীতি গ্রহণ করেছে এবং কৃষকদের কাছে 'ড্রিপ' ও 'স্প্রিংকলার'-এর মতো অণুবিন্দু সেচ প্রযুক্তি পৌঁছে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন যে, এর ফলে সেচ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং একই সঙ্গে চাষাবাদের খরচও হ্রাস পেয়েছে। শ্রী মোদী জানান যে, ডিজেলের পেছনে কৃষকদের ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে কৃষিজমিগুলোকে সৌর পাম্পের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রের চালু করা ‘কুসুম যোজনা’টি ঠিক এই উদ্দেশ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "আজ অনেক কৃষক কেবল সৌর পাম্পের সাহায্যে সেচই দিচ্ছেন না, বরং এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন এবং অর্থও উপার্জন করছেন।"
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার কৃষকদের সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান যে, বর্তমান সরকার সার কারখানাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং কৃষকদের 'ন্যানো ইউরিয়া'-র ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে; আর আজ দেশের কৃষকরা এর সুফল ভোগ করছেন। শ্রী মোদী আরও বলেন যে, বর্তমান সরকার এখন কৃষকদের প্রাকৃতিক চাষাবাদ বা জৈব কৃষিপদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "যখন কৃষকরা ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণ করবেন, তখন মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং আমাদের 'অন্নদাতা' কৃষকরাও আন্তর্জাতিক সংকটগুলি থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বর্তমান সরকার কৃষকদের কল্যাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। শ্রী মোদী তুলে ধরেন যে, বর্তমান সরকার ভারতের তেল শোধনাগারগুলোর উন্নয়ন এবং শোধন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, আজ ভারত এমন একটি দেশ, যা কেবল নিজের জ্বালানি চাহিদাই মেটাতে সক্ষম নয়, বরং বিশ্বের জ্বালানি চাহিদাও মেটাতে পারে। প্রধানমন্ত্রী জানান যে, গত কয়েক বছরে আসামের তেল শোধনাগারগুলোরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, আসাম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে গ্যাস পাইপলাইন পরিকাঠামো উন্নয়নে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান যে, নুমালিগড়-শিলিগুড়ি পাইপলাইনের আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আসামের গোলাঘাটে বিশ্বের প্রথম 'দ্বিতীয় প্রজন্মের বায়ো-ইথানল প্ল্যান্ট' স্থাপন করা হয়েছে। শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, "এই সমস্ত প্রকল্প সমগ্র অঞ্চলের জন্য বিপুল সুফল বয়ে আনবে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, রেলওয়ের বিদেশি সম্পদের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং তেলের আমদানি হ্রাস করতে গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য কাজ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের প্রায় সমগ্র রেল নেটওয়ার্ক বৈদ্যুতিক সংযোগের আওতায় এসেছে এবং ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণের লক্ষ্যমাত্রা শীঘ্রই অর্জিত হবে। শ্রী মোদী মন্তব্য করেন, "রেলওয়ের বৈদ্যুতিকীকরণের ফলে দেশের প্রায় ১৭৫ কোটি লিটার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে এবং আসামের রেল নেটওয়ার্কও দ্রুতগতিতে বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় আসছে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে আসাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, 'লোয়ার কোপিলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প'টি কেবল আসামেরই নয়, বরং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকারে আসবে। শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "হাজার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলো আসামের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং রাজ্যের সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।"
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের মূল পরিচিতি নিহিত রয়েছে এর সংবেদনশীলতা এবং সুশাসনের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি অঞ্চল এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের উন্নয়নই হলো সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী জানান যে, ঠিক এই একই ভাবধারায় আজ আসামের চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য একটি বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রী মোদী স্বীকার করেন যে, এই শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমই আসামের বিশ্বব্যাপী পরিচিতিকে সুদৃঢ় করেছে এবং তাঁদের উৎপাদিত চায়ের সুবাস আজ বিশ্বজুড়ে ভারতের পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বর্তমান সরকার আজ এই শ্রমিকদের যথাযথ সম্মান ও সহায়তা—উভয়ই প্রদান করছে। চা বাগানের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর কল্যাণে প্রশংসনীয় কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং তাঁর সমগ্র দলকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, আসাম সরকার এখন এই ঐতিহাসিক বঞ্চনার অবসান ঘটাতে কাজ করে চলেছে; এই পরিবারগুলো এখন তাঁদের নিজস্ব জমির অধিকার পাচ্ছে এবং তাঁদের জন্য পাকা বাড়ি পাওয়ার পথও সুগম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন যে, চা বাগানে বসবাসকারী নারীরা এই উদ্যোগের ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এই ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন যে, চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তানরাও যেন সুশিক্ষা লাভ করে জীবনে উন্নতি করতে পারে; তিনি আরও জানান যে, বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, বিখ্যাত ‘নিমাতি ঘাট’ এবং ‘বিশ্বনাথ ঘাট’-এ আধুনিক ক্রুজ টার্মিনাল নির্মাণের কাজও আজ থেকে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কেবল একটি পরিকাঠামোগত প্রকল্পই নয়, বরং এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা আসামের পর্যটন শিল্প এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে এক নতুন দিশা প্রদান করবে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার পর্যটনকে কেবল দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং এটিকে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান যে, ঠিক এই একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে জল-পর্যটনের সম্ভাবনাগুলোকে আরও প্রসারিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে তুলে ধরেন যে, এই ক্রুজ টার্মিনালগুলো নির্মিত হয়ে গেলে ব্রহ্মপুত্র নদে ক্রুজ পরিষেবা আরও গতি পাবে এবং ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য আসামে পৌঁছানো আরও সহজ হয়ে উঠবে। শ্রী মোদী বলেন যে, ক্রুজ পর্যটন শিল্পের প্রসারের ফলে স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে; কারুশিল্পী ও হস্তশিল্পের কর্মীদের জন্য নতুন বাজারের সন্ধান মিলবে এবং ছোট দোকানদার, মাঝি-মাল্লাসহ হোটেল ও পরিবহন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। "আসামের পর্যটন আজ আর কেবল ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন স্থানীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণের এক নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে," প্রধানমন্ত্রী মোদী এমনটাই জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আসাম আজ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল—যা 'অষ্টলক্ষ্মী' নামে পরিচিত—তার এক নতুন ভবিষ্যতের মূর্ত প্রতীক বা 'মডেল' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও উল্লেখ করেন যে, আসামের এই অগ্রগতি সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে এক নতুন গতি সঞ্চার করছে। প্রত্যেক যুবক ও প্রত্যেক পরিবারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শ্রী মোদী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "একটি 'বিকশিত আসাম' গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে আসাম সমগ্র জাতির বুকে একটি আদর্শ রাজ্য হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।
*
SC/SB/DM
(রিলিজ আইডি: 2240124)
ভিজিটরের কাউন্টার : 9
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
English
,
Urdu
,
Marathi
,
हिन्दी
,
Manipuri
,
Assamese
,
Gujarati
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam