পরিবেশওঅরণ্যমন্ত্রক
হাতির সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কার সমস্যা এড়াতে ২ দিনের কর্মশালার আয়োজন করল পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক
প্রকাশিত:
12 MAR 2026 9:31AM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১২ মার্চ, ২০২৬
দেরাদুনের ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ায় ১০ এবং ১১ মার্চ “পলিসি ইমপ্লিমেন্টেশন ফর মিনিমাইজিং এলিফ্যান্ট মর্টালিটিজ অন রেলওয়ে ট্র্যাকস” শীর্ষক ২ দিনের জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করলো পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রোজেক্ট এলিফ্যান্ট বিভাগ। এতে অংশ নিলেন প্রোজেক্ট এলিফ্যান্ট বিভাগ, রেল মন্ত্রক, যেসব রাজ্যে এলিফ্যান্ট রেঞ্জ আছে তার বনদপ্তরের আধিকারিক এবং শীর্ষস্থানীয় সংরক্ষণ বিজ্ঞানী সহ ৪০ জন। প্রধান রেলওয়ে জোনগুলির মধ্যে আছে ইস্ট সেন্ট্রাল রেল, ইস্ট-কোস্ট রেলওয়ে, নর্থ ইস্টার্ন রেলওয়ে, নর্থ ইন্ট ফ্রন্ট্রিয়ার রেলওয়ে, নর্দার্ন রেলওয়ে, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে, সাদার্ন রেলওয়ে এবং সাউথ ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে।
এশীয় হাতির ৬০ শতাংশের বেশির বসবাস ভারতে। প্রধানত পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে। বসবাসের স্থান সংকুচিত হওয়ায় এবং হাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে রেলের পরিকাঠামো বৃদ্ধি পাওয়ায় রেলের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে গেছে। যেমন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরল, ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খণ্ডে। কর্মশালার লক্ষ্য ছিল সংরক্ষণ এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক সমস্যার সমাধান।
মন্ত্রক ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং রেল মন্ত্রকের সাহায্যে এলিফ্যান্ট রেঞ্জে ১১০টি সংবেদনশীল রেলপথ এবং দুটি টাইগার রেঞ্জ রাজ্যে ১৭টি অতিরিক্ত রেলপথকে চিহ্নিত করেছে।
১৪টি রাজ্যে ১৯৬৫.২ কিলোমিটার জুরে থাকা ৭৭টি রেলপথ এবং ৩৪৫২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের সমীক্ষা চালানো হয়েছে পশুদের প্রাণের ঝুঁকি এবং আসা-যাওয়ার দিকগুলি বিবেচনা করে।
এই সব অগ্রাধিকারভুক্ত রেলপথগুলির জন্য যে সমাধানসূত্রের সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে ৫০৩টি ঢালুপথ এবং লেভেলক্রসিং, ৭২টি সেতুর সম্প্রসারণ, ৩৯টি ফেন্সিং অথবা ট্রেঞ্চিং কাঠামো, ৪টি বাহির ঢাল, ৬৫টি নতুন আন্ডারপাস এবং ২২টি ওভারপাস, যাতে নিরাপদে বন্যপ্রাণী যাতায়াত করতে পারে এবং ট্রেনের ধাক্কার আশঙ্কা কমে।
আসামের আজারা – কামাক্ষা রেললাইনের ৩.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংবেদনশীল অঞ্চলে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেখানে অতীতে অনেকগুলি হাতির মৃত্যু ঘটে। রানি-গড়ভাঙা, দীপরবিল এলিফ্যান্ট করিডোরকে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ট্রেনের ধাক্কা এড়াতে বেশকিছু প্রযুক্তিগত সমাধান পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং রূপায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাকুস্টিক সিস্টেম–ভিত্তিক ইন্ট্রুজন ডিটেকশন সিস্টেম বসানো হয়েছে প্রাথমিকভাবে নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের ৪টি শাখায় সফলভাবে।
তামিলনাড়ুর মাদুক্কারাইতে এআই ভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় রেললাইনের ১০০ মিটারের মধ্যে হাতি এলেই তা সতর্ক করবে বন এবং রেল আধিকারিকদের। ফলে, ট্রেনের গতি কমানো যাবে এবং হাতিদের নিরাপদে পার হতে দেওয়া যাবে।
SC/AP/AS
(রিলিজ আইডি: 2238807)
ভিজিটরের কাউন্টার : 6