কেন্দ্রীয়মন্ত্রিসভা
সেবা সংকল্প প্রস্তাব
প্রকাশিত:
24 FEB 2026 1:58PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক প্রথম বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয় ‘সেবা তীর্থ’তে।
এই মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং এই নতুন ভবনটি নতুন ভারত পুনর্নির্মাণে এক প্রত্যক্ষ প্রকাশ। এই শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আমরা সেই ভবিষ্যত’কে স্বাগত জানাচ্ছি, যার ভিত্তিপ্রস্তর রচিত হয়েছে শতাধিক বছরের প্রয়াসে। স্বাধীনতার পর, বেশ কয়েক দশক সাউথ ব্লকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকার পরিচালিত হ’ত। আমরা এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখি, যা দেশজ চিন্তায় সমৃদ্ধ। এর গঠন আধুনিক এবং সক্ষমতা সীমাহীন। আজ সেবা তীর্থ সেই দিশাদর্শের প্রকাশ, যা গণতন্ত্রের জননী হিসেবে ভারতের গর্বের প্রসার ঘটাবে।
এই উপলক্ষ্যে আমরা আজ এই জায়গাটির ইতিহাসকে স্মরণ করছি। ব্রিটিশ শাসনকালে অস্থায়ী ব্যারাক-স্থলেই সেবা তীর্থ গড়ে উঠেছে। নতুন ভারতের রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে এই স্থল জাতীয় পরিচালনার এক সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থাপিত হয়েছে।
ঔপনিবেশিক শাসনকালের পূর্বে ভারত পণ্য প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ এবং মানবিক গুণে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিগণিত হ’ত। সেবা তীর্থ এই উভয় ধারণার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। এর মূল ভিত্তি হ’ল – কর্তব্য, সেবা ও নিষ্ঠা। এই কর্মস্থল তীর্থস্থানের মতোই পবিত্রময়।
সেবা তীর্থতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যে প্রস্তাবের কথা ঘোষণা হয়, তা হ’ল – এখান থেকে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের ১৪০ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ করবে এবং দেশ গঠনের বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
আমাদের কাছে সাংবিধানিক মূল্যবোধ বলতে সেই নৈতিক দায়বদ্ধতাকে বোঝায়, যা প্রশাসনের সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা, একতা ও ন্যায়বিচারকে যুক্ত করে। সেবা তীর্থের কর্মসংস্কৃতি এই ভাবধারাতেই অনুপ্রাণিত হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, ‘নাগরিক দেব ভব’ – এই ভাবধারার অনুপ্রেরণাতে এখান থেকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা কোনও ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষমতায়নের কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত হবে। সেবা তীর্থ থেকে গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হবে দেশের প্রান্তিক মানুষটির জীবনধারার সরলীকরণ।
সেবা তীর্থ স্থবিরতার পরিবর্তে গতিশীলতার পরিকাঠামোগত প্রশাসন অবজ্ঞার পরিবর্তে নিষ্ঠা এবং সন্দেহের পরিবর্তে সমাধানসূত্র গড়ে তোলা।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রতিটি সিদ্ধান্তই প্রশাসনিক উদ্দেশ্যের এক স্বচ্ছতা নিয়ে এসেছে, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনে প্রত্যক্ষ করা গেছে। প্রশাসনের প্রতি জনআস্থার প্রসারও লক্ষ্য করা গেছে।
বিগত এক দশকে দেশের ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে তুলে আনা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী দিশাপথে এরকম আরও মাইলফলক অর্জনের সর্বাত্মক নিরলস প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারতের মধ্য দিয়ে কোটি কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার মাধ্যমে দেশের ৮০ কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীন ১২ কোটিরও বেশি শৌচালয় নির্মিত হয়েছে, যা কোটি কোটি পরিবার ও বাড়ির মহিলাদের সম্মান রক্ষা করেছে।
৪ কোটিরও বেশি আবাসন নির্মাণে কোটি কোটি মানুষ তাঁদের আশ্রয়গত সুরক্ষা পেয়েছে। গ্রামাঞ্চলে জল জীবন মিশনে ১২ কোটিরও বেশি নতুন পরিবারের কাছে নলবাহিত পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা মনে করে, ভারতীয় অর্থনীতির বৃহৎ রূপান্তরের কারণ হ’ল – ক্রমাগত সংস্কার। ‘ন্যূনতম সরকার, সর্বোচ্চ প্রশাসন’ – এ জিএসটি এবং ডিবিটি সংস্কার ও ডিজিটাল ভারতের ফলে শাসন ব্যবস্থা অনেক বেশি নাগরিক-কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। অবয়বহীন কর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সততা এবং সাধারণ নাগরিকের প্রতি বিশ্বাস শক্তিশালী হয়েছে।
সেবা তীর্থে নতুন শক্তিতে এবং রিফর্ম এক্সপ্রেস – এর নতুন গতিতে নিরাপদ ভারত গড়ে তুলতে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে অচিরেই ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
বিকশিত ভারত ২০৪৭ – এ জাতীয় সংকল্প পূরণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আজ পুনরায় ইতিকর্তব্য স্থির করেছে। দীর্ঘকালীন জাতীয় যাত্রাপথে আগামী প্রজন্মের স্বার্থে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেবা তীর্থে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে বৃহত্তর উন্নয়ন লক্ষ্যকে। আমাদের দায়বদ্ধতাকে এর পরিপূরক হতে হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আরও সংকল্প নিয়েছে যে, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং সংস্কারের যাত্রাপথকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সঠিক নীতি, সদিচ্ছা এবং সঠিক নেতৃত্বের প্রতি আমাদের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে। উন্নত ভারত গড়ে তোলার আগামী দিনের পথ আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠুক। সেবা তীর্থ মারফৎ কর্মসংস্কৃতি ভারত’কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষম সশক্তিসম্পন্ন এবং স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর রচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সেবা তীর্থকে এক সংবেদনশীল, নির্ভরযোগ্য, জন-কেন্দ্রিক শাসনের প্রতি দায়বদ্ধতা ব্যক্ত করেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ, সক্ষম ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে এই স্থল জাতীয় অনুপ্রেরণার এক শক্তিশালী কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সংকল্প নিয়েছে।
SC/AB/SB
(রিলিজ আইডি: 2232229)
ভিজিটরের কাউন্টার : 40
এই রিলিজটি পড়তে পারেন:
Khasi
,
English
,
Urdu
,
हिन्दी
,
Marathi
,
Manipuri
,
Bengali-TR
,
Assamese
,
Punjabi
,
Gujarati
,
Odia
,
Tamil
,
Telugu
,
Kannada
,
Malayalam