উপ-রাষ্ট্রপতিরসচিবালয়
সংবিধান দিবসে সংবিধান সদনের কেন্দ্রীয় কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন উপ-রাষ্ট্রপতি
প্রকাশিত:
26 NOV 2025 2:01PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি পি রাধাকৃষ্ণন আজ সংবিধান দিবসে সংবিধান সদনের কেন্দ্রীয় কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাষণ দিলেন।
তিনি বলেন, ২০১৫ থেকে ২৬ নভেম্বর দিনটি সংবিধান দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে এবং বর্তমানে এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে তা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর, ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ, শ্রী এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গার, শ্রী আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার, শ্রী দুর্গা বাঈ দেশমুখ এবং আরও অনেক দূরদর্শী নেতার অবদানে তৈরি হওয়া এই সংবিধানের প্রতিটি পৃষ্ঠায় দেশের আত্মার প্রতিফলন ঘটেছে।
খসড়া তৈরি, বিস্তৃত আলোচনা এবং চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পর ভারতের কৃতি সন্তানেরা যে সংবিধান রচনা করে গেছেন, তা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের আসনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এবং দেশের ঐক্য জোরদার হয়েছে বলে উপ-রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবধর্মী এবং সম্পৃক্তির উদ্যোগের সুবাদে ভারত বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নানা সূচকের নিরিখে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তালিকায় ভারত তৃতীয় স্থানে আসীন হওয়ার দিকে আগুয়ান। বিগত দশকে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যের গ্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ১০০ কোটিরও বেশি নাগরিক কোনো না কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসে গেছেন।
গণতন্ত্রের ধারণা এ দেশের কাছে নতুন নয় বলে উপ-রাষ্ট্রপতি মনে করিয়ে দেন। এক্ষেত্রে তিনি ভারতের ইতিহাসের পাতা থেকে উত্তরের অঞ্চল বৈশালী এবং দক্ষিণের চোল শাসকদের কথা তুলে ধরেন। জম্মু-কাশ্মীর এবং বিহারে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণ-পরিষদের মহিলা সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন উপ-রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে তিনি হংস মেহতার কথা উল্লেখ করেন – যিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন আজীবন। ২০২৩ সালে চালু হওয়া নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম এঁদের প্রতি দেশের শ্রদ্ধার অর্ঘ্য বলে উপ-রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, গণ-পরিষদ স্বাধীনতা আন্দোলনে জনজাতি গোষ্ঠীর অবদানকে যথাযথ সম্মান দিয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী ২০২১ সালে জনজাতীয় গৌরব দিবস উদযাপন শুরু হয়। তপশিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর গোষ্ঠীগুলির প্রতি ন্যায়বিচার ভারতীয় সংবিধানের মূল কথা বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।
উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিমণ্ডল দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে। সময়ের দাবি অনুযায়ী, ‘এক দেশ-এক কর’ (জিএসটি) এবং জেএএম ত্রয়ী (জন ধন-আধার-মোবাইল) ব্যবস্থাপনা চালু করেছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশবাসীকে আরও উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন উপ-রাষ্ট্রপতি। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিকশিত ভারতের নির্মাণে আবশ্যিক শর্ত হল প্রতিটি নাগরিকের পক্ষ থেকে অর্থপূর্ণ অবদান।
বিকশিত ভারত@২০৪৭-এর স্বপ্ন যথার্থভাবে বাস্তবায়িত হলে তবেই সংবিধানের প্রতি উপযুক্ত মর্যাদা প্রদর্শন হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উপ-রাষ্ট্রপতি।
উপ-রাষ্ট্রপতির পুরো ভাষণটি পড়তে নিচে ক্লিক করুন -
https://pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2194550
SC/AC/DM...
(রিলিজ আইডি: 2195324)
ভিজিটরের কাউন্টার : 41