জলশক্তি মন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রীর পৌরোহিত্যে জল জীবন মিশন ও স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্প নিয়ে ছয় রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্মেলন


৬টি রাজ্যকে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে জল জীবন মিশনের আওতায় ১৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) – এর আওতায় ১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অনুদান হিসাবে দেওয়া হবে

সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির জন্য ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন পানীয় জল ও পয়ঃনিকাশী প্রকল্পের জন্য ৬ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে

প্রকাশিত: 09 MAR 2022 4:25PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ০৯ মার্চ, ২০২২

 

কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত আজ কলকাতায় জল জীবন মিশন ও স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্পের বিষয়ে ৬টি রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের এই দুটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের জন্য অর্থের কোনও অভাব নেই। অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলির প্রত্যেক বাড়িতে নল বাহিত জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া, গ্রামাঞ্চলকে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম মুক্ত করে তোলা এবং কঠিন ও বর্জ্য পদার্থ ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় অনুদান হিসাবে ১৪ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল, পশ্চিমবঙ্গের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী পুলক রায় ছাড়াও বিহার, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, মিজোরাম, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রের ‘হর ঘর জল’ এবং স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে এইসব আধিকারিকরা যুক্ত রয়েছেন।

শ্রী শেখাওয়াত জানান, ২০১৯ সালের ১৫ই অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী যখন জল জীবন মিশন প্রকল্পের সূচনা করেন, সেই সময় দেশের গ্রামাঞ্চলে মাত্র ১৭ শতাংশ বাড়িতে নল বাহিত পানীয় জলের সংযোগ ছিল। বিভিন্ন বাধাবিপত্তি এবং লকডাউন সত্ত্বেও গত আড়াই বছরে গ্রামাঞ্চলের ৪৭.৩৯ শতাংশ বাড়িতে নল বাহিত বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জল জীবন মিশনের আওতায় বিস্তারিত প্রকল্পের প্রতিবেদন তৈরির সময় এটি বাস্তবায়নে কত অর্থ ব্যয় হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ২০১৯ – এর দোসরা অক্টোবর দেশের প্রতিটি জেলা নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত বলে ঘোষণা করেছে, যা স্থিতিশীল উন্নয়ন সংক্রান্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

জল শক্তি প্রতিমন্ত্রী শ্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল জানান, গ্রামের কোনও মানুষ যাতে এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের সূচনায় নিশ্চিত করেছিলেন । এর জন্য গ্রামসভার বৈঠকে ভিলেজ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছর এই প্রকল্পের গতি-প্রকৃতি চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প নির্ধারণের সময় এটির পরিকল্পনা ও নজরদারির কাজে গ্রামের মানুষকে যাতে যুক্ত করা হয়, তা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে জল সরবরাহ করা হয়, তার গুণমান যাচাই করার জন্য জেলাস্তরে পরীক্ষাগার গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশন ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে পঞ্চায়েতগুলির জন্য মোট ২৭ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আজকের সম্মেলনে যে রাজ্যগুলি অংশগ্রহণ করেছে, তাদের জল সরবরাহ ও পয়ঃনিকাশী ব্যবস্থাপনার জন্য ৬ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষের কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে এ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে জল জীবন মিশন প্রকল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্পের জন্য ৭ হাজার ১৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

২০২২-২৩ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য জল জীবন মিশনের আওতায় ৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গকে ৩৬১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন পঞ্চায়েত, এমজিএনআরিজিএস, সিএসআর তহবিল এবং রাজস্ব আদায় থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে দেশের ৫০ হাজার গ্রামে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ২৫ হাজার গ্রামে তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংস্থান করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে ১ লক্ষ সর্বসাধারণের জন্য ১৮ হাজার শৌচালয় নির্মাণের পাশাপাশি, ৪৩ হাজার গ্রাম নিজেদের উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম মুক্ত বলে ঘোষণা করেছে।

জল জীবন মিশনে ৪ লক্ষ ৭১ হাজার গ্রামাঞ্চল জল ও পয়ঃনিকাশি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে যে জল সরবরাহ করা হচ্ছে, দেশে ৯ লক্ষ ২৬ হাজারেরও বেশি মহিলা তার গুণমান যাচাইয়ের জন্য প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিসওয়াস অউর সবকা প্রয়াস’ ভাবনায় দেশের ১০১টি জেলা, ১১৬০টি ব্লক, ৬৭৭২৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ১৪০১১১টি গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নল বাহিত জলের সংযোগ পৌঁছে গেছে। গোয়া, তেলেঙ্গানা ও হরিয়ানা রাজ্য এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পুদুচেরী এবং দাদরা ও নগর হাভেলী এবং দমন ও দিউ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রত্যেক বাড়িতে নল বাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ২০১৯ সালে এই প্রকল্পের সূচনার সময় পশ্চিমবঙ্গে গ্রামাঞ্চলে মাত্র ১ শতাংশ বাড়িতে নল বাহিত পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল। আজ তা ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দপ্তরের সচিব শ্রীমতী বিনি মহাজন জানান, জল জীবন মিশন ও স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্প দুটি এখন মধ্য পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে নল বাহিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের গ্রামাঞ্চলকে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম মুক্ত ঘোষণা করার জন্য তাঁরা রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশেষত, মহিলাদের সহজ জীবনযাত্রা নিশ্চিত হবে।

জল জীবন মিশন ও স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্পের অতিরিক্ত সচিব ও মিশন ডায়রেক্টর শ্রী অরুণ বারোকা জানান, এই প্রকল্পের জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা উচিৎ, যেখানে প্রকল্পগুলির বিষয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে তার নিষ্পত্তি হতে পারে।

দেশে ১১৭টি উচ্চাকাঙ্খী জেলার মধ্যে ৫৮টি জেলা এই ৬টি রাজ্যের অন্তর্গত। এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে জল জীবন মিশনের কাজ ১৮-৮৯ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই কাজে আরও গতি আনা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও উচ্চ পদস্থ সরকারি আধিকারিকরা এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন। দূষিত জল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সম্মেলনে মতবিনিময় হয়েছে।

 

CG/BD/SB


(রিলিজ আইডি: 1804546) ভিজিটরের কাউন্টার : 474
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: English , Urdu , हिन्दी , Manipuri , Tamil