ইস্পাতমন্ত্রক

ইস্পাত মন্ত্রক – বর্ষশেষ পর্যালোচনা,২০২০

Posted On: 31 DEC 2020 3:32PM by PIB Kolkata

নয়াদিল্লি, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০

২০২০-তে ইস্পাত মন্ত্রকের প্রধান সাফল্যগুলি নিম্নরূপ :-

 

ইস্পাত আমদানির পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সমস্ত এইচএস কোডে সম্প্রসারণ : ইস্পাত আমদানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ৭২, ৭৩ এবং ৮৬তম অধ্যায়ের সমস্ত এইচএস কোডগুলির সময়সীমা ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে সম্প্রসারিত হয়ে ৮০৮ আইটিসি এইচএস কোড পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আগে এই ব্যবস্থাটি কেবল ২৮৪ এইচএস কোড পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এই ব্যবস্থাটি ইস্পাত এবং ইস্পাতজাত পণ্য আমদানির অগ্রিম তথ্য সরকার ও দেশীয় শিল্প জগতকে দেবে।

 

খনি মন্ত্রকের অনুমতি অনুসারে ২০২০ সালে খনি কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত খনিগুলি থেকে লৌহ আকরিক বিক্রির জন্য স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড বিক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এযাবৎ ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ে অনুমোদিত খনিগুলি থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন টন লৌহ আকরিক নিলাম পরিচালনা করতে পেরেছে। লৌহ আকরিকের আকালের বর্তমান যুগে এই পদক্ষেপ দেশে লৌহ আকরিকের জোগান বাড়িয়েছে।

 

বিশেষ ইস্পাতের জন্য উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট প্রোৎসাহন প্রকল্প অনুমোদন:  পরিমাণের ভিত্তিতে ভারত বিশুদ্ধ ইস্পাত রপ্তানিকারক হলেও হাই স্ট্রেংথ স্টিল, ইলেক্ট্রো-গ্যালভানাইজড স্টিল, হিট ট্রিটেড স্টিল, অ্যাসিমেট্রিক্যাল রেলস, বেয়ারিং স্টিল, ভালভ স্টিল, টুল অ্যান্ড ডাই স্টিল ইত্যাদির মতো ইস্পাতের বিভিন্ন শ্রেণীতে সীমিত উৎপাদনক্ষমতার কারণে দেশ এখনও স্পেশাল স্টিলের  অন্যতম প্রধান আমদানিকারক। সেজন্য দেশে এই জাতীয় বিশেষ শ্রেণীর ইস্পাতের উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২০-র ১১ নভেম্বর বিশেষ ইস্পাত উৎপাদনে পিএলআই প্রকল্প অনুমোদন করেছে। আশা করা হচ্ছে, এই পিএলআই প্রকল্প পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করবে এবং তার ফলে বর্তমান পরিসংখ্যান ১৬ এমপিটিএ থেকে বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন বাড়িয়ে ৩৭ এমপিটিএ-তে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এটি শুধু যে পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সামগ্রিক অবদান রাখবে তা নয়, ইস্পাত খাতে ব্যাপক গুণিতক প্রভাবের ফলে দেশে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যাপক হারে বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করবে।

 

রপ্তানি মূল্যের সমান দামে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পগুলিতে ইস্পাত সরবরাহ: ইস্পাত মন্ত্রকের ২০২০-র ২৪ জুন জারি করা আদেশ অনুযায়ী, রপ্তানি মূল্যের সমান দামে ১ এমপিটিএ সরবরাহ চালু হয়। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ-সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক ইস্পাত উৎপাদক এবং প্রকৌশল রপ্তানির জন্য ইইপিসি-র সদস্যদের মধ্যে একটি সরবরাহ প্রক্রিয়া চালু করেছে। ডিজেএফটি অগ্রিম অনুমোদন প্রকল্পের আওতায় অ্যাডভান্স রিলিজ অর্ডার (এআরও) অবৈধ ঘোষণা করে একটি আদেশ জারি করেছে। প্রাথমিক ইস্পাত উৎপাদকদের ডিলার / স্টকইয়ার্ডদের দ্বারা ইস্পাত সরবরাহে সক্ষম করে তুলেছে। এই ব্যবস্থায় ইইপিসি সদস্যদের ইস্পাতের বিনিয়োগ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে।

 

ব্যবহারকারীদের জন্য উৎকৃষ্ট ইস্পাতের যোগান বৃদ্ধি, ইস্পাত-সংশ্লিষ্ট উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণ আদেশ জারি : দেশজ ইস্পাত ও আমদানিকৃত ইস্পাত – উভয় ক্ষেত্রেই মান নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নিম্নমানের / ত্রুটিযুক্ত ইস্পাতজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার জন্য মন্ত্রক মান নিয়ন্ত্রণের আদেশ জারি করেছে। এই আদেশানুসারে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কেবল বিআইএস-এর মান অনুসারে ইস্পাত ও ইস্পাতজাত পণ্য সরবরাহ করা যাবে। আজকের তারিখে কার্বন স্টিল, অ্যালয় স্টিল এবং স্টেইনলেস স্টিলকে আওতায় এনে উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণ আদেশের মাধ্যমে ১৪৫টি ইস্পাতজাত সামগ্রী সম্পর্কে ভারতীয় মানক ব্যুরো (বিআইএস)-কে অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া, ইস্পাত গুণমান নিয়ন্ত্রণ আদেশ স্টেইনলেস স্টিল, পাইপ এবং টিউব, ট্রান্সফর্মারের ল্যামিনেশন / কোর, টিনপ্লেট এবং টিনমুক্ত ইস্পাতের সরঞ্জামের মতো ইস্পাতজাত সামগ্রীগুলিকেও বিআইএস-এর তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণ আদেশের মাধ্যমে ৭৮টি অতিরিক্ত ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

 

ইস্পাত শিল্পের ক্ষেত্রে ভারত-জাপান সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর : ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর ভারত সরকারের ইস্পাত মন্ত্রক এবং জাপান সরকারের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের মধ্যে একটি চুক্তি (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়। এই এমওসি ভারত-জাপান ইস্পাত বিষয়ক আলোচনার কাঠামোর আওতায় যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে। এই কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইস্পাত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা এবং সর্বোত্তম অনুশীলন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং জ্বালানি দক্ষতা সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা সহ পারস্পরিক আগ্রহের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রও রয়েছে।

 

প্রকল্প উন্নয়ন সেল (পিডিসি) : ভারতের ইস্পাত খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্য ইস্পাত মন্ত্রক একটি পিডিসি গঠন করেছে। এই পিডিসি সক্রিয়ভাবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করে এবং দেশের ইস্পাত খাতে বিনিয়োগের সুবিধার্থে কাজ করে চলেছে। মোট ১,২০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ সম্পন্ন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

 

দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত লৌহ ইস্পাতজাত পণ্য নীতির পুনর্বিবেচনা : স্বনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে ইস্পাত মন্ত্রক ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লৌহ ও ইস্পাতজাত পণ্যগুলিকে অগ্রাধিকার দিতে নীতি সংশোধন করেছে। ইস্পাত খাতে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রচারের লক্ষ্যে এই নীতিমালার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে সর্বশেষ সংশোধনীতে মাত্র ৫ লক্ষ টাকার বেশি প্রকল্পের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ইস্পাতজাত সামগ্রী কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশজ ইস্পাতকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং ১৫-৫০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করার অনুমোদন রয়েছে। ইপিসি চুক্তিও সংশোধিত নীতিমালার আওতায় এসেছে। ডিএমআইএসপি নীতিতে এ পর্যন্ত ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ইস্পাত আমদানিকে সুনিশ্চিত করেছে। এর মানে সরকারি ক্রয়ে আরও বেশি সংখ্যক দেশীয় ইস্পাতজাত পণ্য কেনা হচ্ছে। ফলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

 

লৌহ ইস্পাত খাতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি : ইস্পাত মন্ত্রক লৌহ ইস্পাত ক্ষেত্রে সাধারণ ন্যূনতম নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরি করেছে। এই নির্দেশিকা এই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রীতিনীতিগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কোডের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নির্দেশিকাতে 'লৌহ এবং ইস্পাত ক্ষেত্রের সুরক্ষা নির্দেশিকা' নামক একটি বই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই বইটি ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইস্পাত মন্ত্রী উন্মোচন করেছেন। শ্রমিকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে ইস্পাত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলি এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে এই বই ও নির্দেশিকাগুলি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

লৌহ ইস্পাত ক্ষেত্রে গবেষণা বিকাশের প্রচার : ইস্পাত মন্ত্রকের তহবিলে চিহ্নিত গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য মন্ত্রক 'লৌহ ও ইস্পাত ক্ষেত্রে গবেষণা ও বিকাশকে উৎসাহ প্রদান’ নামক একটি প্রকল্প পেশ করেছে। দেশে লৌহ এবং ইস্পাত ক্ষেত্রে লাভের উদ্দেশ্যে গবেষণা ও উন্নয়নের প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার এবং ভারতীয় ইস্পাত কোম্পানিগুলির মতো বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব আমন্ত্রণ করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত বাজেট প্রতি বছর প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য সমস্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেমন সেইল, সিএসআইআর, সিএসআইআর-এনএমএল, সিএসআইআর-আইএমএমটি, সিএসআইআর-সিবিআরআই এবং সিএসআইআর-সিআরআরআই ইত্যাদি গবেষণাগার ছাড়াও আইআইটি খড়্গপুর, আইআইটি কানপুর, আইআইটি মাদ্রাজ, আইআইটি বিএইচইউ, এমএনআইটি জয়পুর ইত্যাদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অন্তর্গত বিশেষ প্রকল্পগুলির মধ্যে ভারতের নিম্ন বা দুর্বল শ্রেণীর লৌহ আকরিক, আর ভারতের কোকিং / নন-কোকিং কয়লাকে উন্নীত করা এবং ইন্ডাকশন ফার্নেসে কম ফসফরাসের সঙ্গে উৎকৃষ্ট ইস্পাত উৎপাদন করা, বিকল্প লৌহ নির্মাণের প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ গবেষণা ও উন্নয়নের উদ্যোগ সামিল রয়েছে। ২০২০ সালে গবেষণা ও উন্নয়নের দুটি অতিরিক্ত প্রকল্প মঞ্জুর করা হয়েছে।

 

কোভিড-সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ :  সিপিএসই হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য এল-১ (কোভিড কেয়ার সেন্টার) এবং এল-২ (ডেডিকেটেড কোভিড হেলথ সেন্টার) পরিষেবা চালু করেছে। এছাড়াও, প্রায় ১০০টি আইসিইউ বেড কোভিড রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। স্টিল-সিপিএসই ডেডিকেটেড কোয়ারেন্টাইনের সুবিধাও চালু করেছে।

 

পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য : স্টিল-সিপিএসই কর্মস্থলের আশেপাশের পরিযায়ী শ্রমিক ও সমাজের দুর্বলতর শ্রেণীর মানুষদের দু'বেলা ভরপেট খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। সিপিএসই প্রায় ৯৫ হাজার মানুষকে রান্না করা খাবার পরিবেশন করেছে এবং ফেসমাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি বিতরণ করেছে।

 

কোভিড কেয়ার সেন্টার / হাসপাতালে মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহ : স্টিল-সিপিএসই তার অক্সিজেন স্টক থেকে প্রতিদিন ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টন তরল অক্সিজেন সরবরাহ করেছে।

 

পিএমকেয়ার্স তহবিলে দান : স্টিল-সিপিএসই তার সিএসআর বাজেট এবং অন্যান্য উৎস থেকে পিএমকেয়ার্স তহবিলে ২৫৭.৫৫ কোটি টাকা দান করেছে। তাছাড়া, স্টিল-সিপিএসই কর্মচারীরা এই তহবিলে ১৩.৫০ কোটি টাকা বেতনের অংশও দান করেছেন। বেসরকারি ক্ষেত্রের ইস্পাত সংস্থাগুলি পিএমকেয়ার্স তহবিলে প্রায় ২০৬.৩৮ কোটি টাকা দান করেছে।

 

বিবাদ থেকে বিশ্বাস : প্রকল্পের বাস্তবায়ন মামলা-মোকদ্দমা কমাতে স্টিল-সিপিএসই 'বিবাদ থেকে বিশ্বাস' প্রকল্প চালু করেছে এবং ৩১ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত এর মাধ্যমে ৭৭৩.১১ কোটি টাকা প্রদান করেছে।

 

সেইল-এর পরিচালন পর্ষদ পুনর্গঠন : সেইল-এর বোর্ডের ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টস প্রধানকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ২০২০-র ২৪ সেপ্টেম্বরে জারি করা একটি আদেশের মাধ্যমে স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের পরিচালন পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

 ***

 

 

CG/SB/DM



(Release ID: 1685660) Visitor Counter : 382