Technology

জিএসএলভি-এফ১৮/এনভিএস-০৩ মিশন

प्रविष्टि तिथि: 01 NOV 2026 11:15 AM

১ নভেম্বর, ২০২৬

 

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) এবছর ৩০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC) থেকে সফলভাবে জিএসএলভি-এফ১৮/এনভিএস-০৩ মিশন সম্পন্ন করেছে।

জিএসএলভি-এফ১৮ উৎক্ষেপণযানটি নেভিগেশন উপগ্রহ এনভিএস-০৩-কে নির্দিষ্ট জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) স্থাপন করেছে। পরবর্তীতে, এবছর ৩১ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে উপগ্রহটির প্রথম কক্ষপথ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। উপগ্রহটিকে ১১১.৭৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে নির্ধারিত জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে স্থাপনের জন্য আরও কয়েকটি কক্ষপথ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনভিএস-০৩ ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের পাঁচটি নেভিগেশন উপগ্রহের সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে, উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

আপনি কি জানেন?

জিওসিঙ্ক্রোনাস বা জিওস্টেশনারি কক্ষপথে স্থাপনের জন্য নির্ধারিত কোনও মহাকাশযানকে সাধারণত প্রথমে একটি উপবৃত্তাকার জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) স্থাপন করা হয়। এই কক্ষপথের পেরিজি (পৃথিবীর নিকটতম বিন্দু) অপেক্ষাকৃত নিচু এবং অ্যাপোজি (পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরবর্তী বিন্দু) অনেক উঁচুতে অবস্থান করে। একটি প্রচলিত GTO-তে অ্যাপোজি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকে।

অ্যাপোজির কাছাকাছি পৌঁছানোর পর মহাকাশযানটি তার নিজস্ব প্রপালশন ব্যবস্থা চালু করে পেরিজির উচ্চতা বাড়ায় এবং কক্ষপথকে বৃত্তাকার করে। লক্ষ্য কক্ষপথের ধরন অনুযায়ী পরবর্তীতে কক্ষপথের আনতি (Inclination) ও অবস্থান পরিবর্তনের জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হতে পারে। কক্ষপথের উচ্চতা বাড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রপালশন ব্যবস্থাকে সাধারণত অ্যাপোজি মোটর বলা হয়।

এনভিএস-০৩-এর ক্ষেত্রে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়ানোর জন্য লিকুইড অ্যাপোজি মোটর (LAM) ব্যবহার করা হয়েছে। এটি এক ধরনের রাসায়নিক রকেট ইঞ্জিন।

মিশনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি

 সফল উৎক্ষেপণ: জিএসএলভি-এফ১৮ সফলভাবে এনভিএস-০৩ উপগ্রহটিকে নির্ধারিত জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) স্থাপন করেছে। ভারতের উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন পরিকাঠামো শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় এটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

 জিএসএলভির ২০তম উড়ান: এই মিশন ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা জিএসএলভির ২০তম উড়ান। কৌশলগত মহাকাশ অভিযানে ভারতের নিজস্ব উৎক্ষেপণযানের ধারাবাহিক কার্যকর ব্যবহারের সক্ষমতা এই মিশনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।

 পরবর্তী প্রজন্মের উপগ্রহ সিরিজ: এনভিএস-০৩ হল দ্বিতীয় প্রজন্মের ন্যাভিক উপগ্রহ সিরিজের (এনভিএস-০১ থেকে এনভিএস-০৫) তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের আঞ্চলিক নেভিগেশন ব্যবস্থার পরিষেবার পরিধি, নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই উপগ্রহগুলি তৈরি করা হয়েছে।

উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা

উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা হল এমন একটি উপগ্রহ নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। এই উপগ্রহগুলি নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজেদের অবস্থান এবং সুনির্দিষ্ট সময় সংক্রান্ত তথ্যসম্বলিত সংকেত প্রেরণ করে। স্মার্টফোন, যানবাহন এবং অন্যান্য নেভিগেশন যন্ত্রে থাকা রিসিভার একাধিক উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সংকেত ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান, গতি ও দিক নির্ণয় করে।

এই ব্যবস্থাগুলি পথনির্দেশ, বিমান ও জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, নির্ভুল কৃষিকাজ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS) এবং ভারতের নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন (NavIC)।

 উন্নত নেভিগেশন সংকেত: এনভিএস-০৩-এ L1, L5 এবং S—এই তিনটি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে নেভিগেশন পেলোড রয়েছে। L5 এবং S ব্যান্ডের পাশাপাশি, L1 সংকেতের সংযোজন ন্যাভিকের কার্যক্ষমতা ও অন্যান্য নেভিগেশন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য আরও বৃদ্ধি করবে। এর ফলে, ভারতের সমগ্র ভূখণ্ড এবং দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে নেভিগেশন পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

 একাধিক ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহারের ফলে সামঞ্জস্যপূর্ণ রিসিভারগুলি বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে প্রেরিত সংকেত গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রয়োগক্ষেত্র এবং পরিচালনাগত পরিস্থিতির উপযোগী রিসিভার তৈরির সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

নেভিগেশন সংকেত ও তাদের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড

নেভিগেশন সংকেত হল নেভিগেশন উপগ্রহ থেকে পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভারের উদ্দেশ্যে প্রেরিত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সংকেত। এই সংকেতগুলিতে সুনির্দিষ্ট সময় এবং উপগ্রহের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য থাকে। রিসিভার এই তথ্য ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর অবস্থান, গতি এবং সময় নির্ণয় করে।

ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড বলতে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির পরিসরকে বোঝায়। উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থায় এই সংকেত প্রেরণের জন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামের নির্দিষ্ট অংশ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন কম্পাঙ্কে সংকেত প্রেরণ ও গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

 দেশীয় প্রযুক্তি: এনভিএস-০৩-এ সংগৃহীত পারমাণবিক ঘড়ির পাশাপাশি, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি পারমাণবিক ঘড়ি রয়েছে। নেভিগেশন সংকেত তৈরির ক্ষেত্রে এই ঘড়িগুলি অত্যন্ত নির্ভুল সময়ের রেফারেন্স প্রদান করে। সংকেতের যাত্রাকাল নির্ণয় এবং ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান গণনার জন্য নির্ভুল সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 বিস্তৃত প্রয়োগক্ষেত্র: এনভিএস-০৩ ভারতের নিজস্ব অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় (Positioning, Navigation and Timing বা PNT) সংক্রান্ত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পরিবহণ, সামুদ্রিক কার্যক্রম, বিমান চলাচল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল কৃষিকাজ এবং কৌশলগত পরিষেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (GSLV)

জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (GSLV)  ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) দ্বারা তৈরি একটি তিন-ধাপের উৎক্ষেপণযান। এর সাহায্যে উপগ্রহকে জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট (GTO) এবং নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (LEO) স্থাপন করা হয়।

অন্যান্য উৎক্ষেপণযানের তুলনায় জিএসএলভির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এর শেষ ধাপে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের ব্যবহার। এ ছাড়া, জিএসএলভিতে ব্যবহৃত বুস্টারগুলি তরল জ্বালানিচালিত, যা সাধারণভাবে L-40 নামে পরিচিত। এগুলিতে নাইট্রোজেন টেট্রক্সাইড (N₂O₄) এবং UH25-এর হাইপারগলিক সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। UH25 হল ৭৫ শতাংশ আনসিমেট্রিক্যাল ডাইমিথাইল হাইড্রাজিন (UDMH) এবং ২৫ শতাংশ হাইড্রাজিন হাইড্রেটের মিশ্রণ।

জিএসএলভি-এফ১৮-এর উচ্চতা প্রায় ৫০ মিটার এবং উৎক্ষেপণের সময় এর মোট ওজন প্রায় ৪২০ টন। এতে ৩.৪ মিটার ব্যাসের ধাতব পেলোড ফেয়ারিং রয়েছে। এই উৎক্ষেপণযানটি সফলভাবে প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩ নেভিগেশন উপগ্রহকে বহন করেছে।

ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ: ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ হল উৎক্ষেপণযানের শেষ ধাপ, যেখানে নির্দিষ্ট প্রপেল্যান্ট ব্যবহার করে উপগ্রহকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ দক্ষতা ও শক্তি সরবরাহ করা হয়। জিএসএলভিতে ব্যবহৃত ইসরোর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজে জ্বালানি হিসেবে তরল হাইড্রোজেন (LH₂) এবং জারক হিসেবে তরল অক্সিজেন (LOX) ব্যবহার করা হয়। এই দুটি উপাদানই অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়।

জিএসএলভির আগের উৎক্ষেপণগুলিতে ব্যবহৃত রাশিয়ার সরবরাহ করা ক্রায়োজেনিক স্টেজের পরিবর্তে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই স্টেজ ব্যবহারের ফলে উন্নত উৎক্ষেপণযান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ন্যাভিক সম্পর্কে ধারণা: ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা

* ন্যাভিক হল ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, যা ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তৈরি করেছে।

* পূর্বে এটি ইন্ডিয়ান রিজিওনাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (IRNSS) নামে পরিচিত ছিল।

* এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন এবং সময় (PNT) সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদান করা হয়।

* ন্যাভিকের প্রাথমিক পরিকল্পনায় সাতটি উপগ্রহের একটি নক্ষত্রমণ্ডল বা কনস্টেলেশন এবং ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এই কাঠামোতে তিনটি উপগ্রহ জিওস্টেশনারি কক্ষপথে এবং চারটি উপগ্রহ আনত জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। বিদ্যমান উপগ্রহ নক্ষত্রমণ্ডলকে আরও শক্তিশালী করা এবং নেভিগেশন পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এনভিএস সিরিজের উপগ্রহগুলি পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হচ্ছে।

* ন্যাভিক ভারতের সমগ্র ভূখণ্ড এবং দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে পরিষেবা প্রদান করে।

* এনভিএস সিরিজের উপগ্রহগুলিতে পূর্ববর্তী L5 ও S সংকেতের পাশাপাশি, L1 সংকেতও যুক্ত করা হয়েছে।

নেভিগেশন পরিষেবার দুটি ধরন

নাগরিক ব্যবহারকারী এবং অনুমোদিত কৌশলগত ব্যবহারকারীদের পরিষেবা প্রদানের জন্য ন্যাভিক দুটি ধরনের নেভিগেশন পরিষেবা প্রদান করে।

 স্ট্যান্ডার্ড পোজিশনিং সার্ভিস (SPS): এটি একটি উন্মুক্ত নেভিগেশন পরিষেবা, যা সাধারণ নাগরিক ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ। ন্যাভিকের SPS সংকেতগুলি অন্যান্য আন্তর্জাতিক উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা বা GNSS-এর সংকেতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের GPS, রাশিয়ার GLONASS, ইউরোপীয় ইউনিয়নের Galileo এবং চিনের BeiDou।

 রেস্ট্রিক্টেড সার্ভিস (RS): এটি একটি এনক্রিপ্টেড বা সংকেত-সুরক্ষিত নেভিগেশন পরিষেবা, যা শুধুমাত্র কৌশলগত ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের কাছে উপলব্ধ।

পরবর্তী প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের অগ্রগতি

ন্যাভিকের উপগ্রহ নক্ষত্রমণ্ডলকে আরও শক্তিশালী করা এবং ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে পাঁচটি উপগ্রহ নিয়ে এনভিএস সিরিজ তৈরি করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এনভিএস-০১, এনভিএস-০২ এবং এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। ন্যাভিক পরিষেবার পরিধি, নির্ভরযোগ্যতা এবং উপলব্ধতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ইসরো কাজ করে চলেছে।

এনভিএস-০১ – পরবর্তী প্রজন্মের সিরিজের প্রথম উপগ্রহ

* ভারতের জিএসএলভির ১৫তম উড়ান জিএসএলভি-এফ১২-এর মাধ্যমে এনভিএস-০১-কে জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করা হয়।

* ২০২৩ সালের ২৯ মে এনভিএস-০১ উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি দ্বিতীয় প্রজন্মের ন্যাভিক উপগ্রহ সিরিজের প্রথম উপগ্রহ। পূর্ববর্তী ন্যাভিক পরিষেবাগুলির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে।

* এতে L1, L5 এবং S ব্যান্ডে নেভিগেশন পেলোড রয়েছে।

* উৎক্ষেপণের সময় এর ওজন ছিল প্রায় ২,২৩২ কেজি।

* এনভিএস-০১-এর কার্যকাল ১২ বছর।

* এতে আহমেদাবাদের স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার দ্বারা তৈরি দেশীয় প্রযুক্তির রুবিডিয়াম পারমাণবিক ঘড়ি রয়েছে।

এনভিএস-০২ – সিরিজের দ্বিতীয় উপগ্রহ

* ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি জিএসএলভি-এফ১৫-এর মাধ্যমে এনভিএস-০২ উৎক্ষেপণ করা হয়।

* এতে L1, L5 এবং S ব্যান্ডের নেভিগেশন পেলোডের পাশাপাশি, একটি C-ব্যান্ড রেঞ্জিং পেলোড রয়েছে।

* এনভিএস-০২-এর উৎক্ষেপণকালীন ওজন ২,২৫০ কেজি।

* নির্ভুল সময় নির্ণয়ের জন্য এতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং সংগৃহীত পারমাণবিক ঘড়ির সমন্বয় ব্যবহার করা হয়েছে।

* উৎক্ষেপণের পর অক্সিডাইজার ভালভ না খোলায় উপগ্রহটির কক্ষপথের উচ্চতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি।

এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫ – আসন্ন উপগ্রহ

* এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫ হল দ্বিতীয় প্রজন্মের ন্যাভিক উপগ্রহ সিরিজের চতুর্থ ও পঞ্চম উপগ্রহ।

* পূর্ববর্তী এনভিএস উপগ্রহগুলির মতো এই উপগ্রহগুলিতেও L5 এবং S ব্যান্ডের পাশাপাশি, L1 সংকেত বহন করার পরিকল্পনা রয়েছে। উভয় উপগ্রহের মাধ্যমেই উন্নত নেভিগেশন পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ভারতের মহাকাশ সার্বভৌমত্বের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি

পরবর্তী প্রজন্মের ন্যাভিক উপগ্রহগুলির সফল নির্মাণ ও উৎক্ষেপণ উন্নত মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার যাত্রায় ভারতের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন সক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে ভারত স্বাধীনভাবে নির্ভরযোগ্য অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানের ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে।

এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিদেশি উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, কৌশলগত মহাকাশ পরিকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও আরও শক্তিশালী করবে। এই উদ্যোগগুলি ভারতের মহাকাশ সার্বভৌমত্ব, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করছে।

তথ্যবিবরণী:

Click here to see pdf

 

*******

SSS/PK...

(तथ्य सामग्री आईडी: 151156) आगंतुक पटल : 6


Provide suggestions / comments
इस विश्लेषक को इन भाषाओं में पढ़ें : English , Urdu , हिन्दी , Telugu , Kannada