• Sitemap
  • Advance Search
Farmer's Welfare

'সহকার সে সমৃদ্ধি’

प्रविष्टि तिथि: 06 JUL 2026 14:33 PM

ভারতের সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করার পাঁচ বছরের যাত্রা

ভারতের সমবায় আন্দোলনের যাত্রা: সম্মিলিত উন্নয়নের দৃঢ় ভিত্তি

 

৬ জুলাই, ২০২৬

 

ভারতের সমবায় আন্দোলনের ভিত্তি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’-এর দর্শনে নিহিত, যার মূল ভাবনা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’। সমবায় দীর্ঘদিন ধরে যৌথ মালিকানা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসাবে কাজ করে আসছে। গ্রামীণ ঋণ, দুগ্ধশিল্প, মৎস্যচাষ, আবাসন এবং বিপণন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাজার, আর্থিক পরিষেবা এবং জীবিকার সুযোগ করে দিয়েছে। ২০২১ সালের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত সমবায় মন্ত্রক, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী ও ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলার মাধ্যমে এই খাতের রূপান্তরমূলক সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে অগ্রগতি
২০২৬ সালের ৬ জুলাই, অর্থাৎ আজ,  নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে সমবায় মন্ত্রকের ৫ম প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্‌যাপিত হয়। এই উপলক্ষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ও পরিকাঠামোগত উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের সমবায় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সূচনা হয়। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ছিল ৫০,০০০টি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতিকে (PACS) ই-প্যাকস (e-PACS)-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়া।

অনুষ্ঠানে সমবায়ভিত্তিক সংরক্ষণ পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ৪৭টি শস্য সংরক্ষণ গুদামের শিলান্যাস করা হয়। দুধ সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ডের জন্য ‘মিল্ক সাপ্লাই রিভিউ ড্যাশবোর্ড পোর্টাল’ চালু করা হয়। এছাড়া, ন্যাশনাল আরবান কো-অপারেটিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NUCFDC)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ- ‘সহকার সিবিএস’ (Sahakar CBS) এবং ‘সহকার সহযোগী’ (Sahakar Sahyogi)- উদ্বোধন করা হয়। ‘সহকার সিবিএস’ হল শহরাঞ্চলের সমবায় ব্যাঙ্কগুলির জন্য একটি কেন্দ্রীভূত কোর ব্যাংকিং সলিউশন, আর ‘সহকার সহযোগী’ হল গ্রাহক পরিষেবা ও ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও উন্নত করতে তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর কথোপকথনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম।

ভারতে সমবায় ব্যবস্থা: এক নজরে- বিস্তৃত পরিসর:

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সমবায় ব্যবস্থার অধিকারী ভারত, যার বিস্তার দেশের প্রায় সব অর্থনৈতিক ক্ষেত্র জুড়ে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি তৃণমূল স্তরের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের অন্যতম ভিত্তি, যা কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক, মৎস্যজীবী, কারিগর এবং শ্রমজীবী মানুষকে আয়ের বিভিন্ন সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে। কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সমবায় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।

বিগত পাঁচ বছরে সরকার ভারতের সমবায় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক যুগান্তকারী সংস্কার কার্যকর করেছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, ডিজিটালভাবে সক্ষম এবং অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলা। এর ফলে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলি তৃণমূল স্তরের সমৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের আরও কার্যকর চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সমবায় মন্ত্রক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৫২টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিকীকরণ হয়েছে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

১. প্যাকসের পুনরুজ্জীবন: ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রামীণ উন্নয়নের কেন্দ্র 

প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতি (PACS) স্বল্পমেয়াদী সমবায় ঋণ ব্যবস্থার তৃণমূল ভিত্তি। বর্তমানে এগুলি বহুমুখী পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক পরিষেবার প্রথম সংযোগস্থল হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এবছর জুন মাস পর্যন্ত PACS-কে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি:
আদর্শ উপ-আইনের মাধ্যমে ৩২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের PACS-কে ২৫টিরও বেশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

PACS এখন শুধু ঋণ পরিষেবায় সীমাবদ্ধ নয়; খুচরো ব্যবসা, সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি এবং ডিজিটাল পরিষেবাও প্রদান করছে।

উল্লেখ্য, ৩৯৪টি PACS খুচরো জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে, যার মধ্যে ৩টি ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। মোট ৩৯,১৭৭টি PACS বর্তমানে PM Kisan Samriddhi Kendra হিসাবে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত,  ৫৪,১১৭টি PACS Common Service Centre (CSC) হিসাবে পরিষেবা দিচ্ছে। বস্তোত,  ৪,২৪৮টি PACS জন ঔষধি কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে ৮৪৩টি চালুর জন্য প্রস্তুত।

এই বহুমুখীকরণের ফলে, গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজনীয় পরিষেবার সহজলভ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২. PACS-এর ডিজিটাল রূপান্তর

সমবায় ব্যবস্থার সুশাসন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

এ বছর জুন মাস পর্যন্ত PACS-এর ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি:

২০২২ সালে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ ₹২,৫১৬ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২০২৫ সালে মোট আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে ₹২,৯২৫.৩৯ কোটি। উল্লেখ্য, 
৬৩,০০০টি PACS-এর কম্পিউটারাইজেশনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত। মোট
৭৯,৬৩০টি PACS অনুমোদন পেয়েছে; এর মধ্যে ৬৩,৪২৮টি PACS বর্তমানে ERP সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। বস্তুত,  ৬৫ হাজারেরও বেশি PACS-এ প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষত, ৪২,৭০০টিরও বেশি PACS-এ অনলাইন অডিট সম্পন্ন হয়েছে।

ERP সফটওয়্যার ১৪টি ভাষায় উপলব্ধ।

PACS-এর ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে স্বচ্ছতা, হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিষেবা প্রদানের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

৩.  প্রতিটি পঞ্চায়েতকে সমবায় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৭,৪৫৪টি নতুন বহুমুখী PACS, দুগ্ধ ও মৎস্য সমবায় সমিতি নিবন্ধিত হয়েছে।

মোট ২.৫৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে PACS-এর উপস্থিতি রয়েছে।

দুগ্ধ সমবায় সমিতির কার্যক্রম ৮৭,১৫৯টিরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিস্তৃত।
মৎস্য সমবায় সমিতির কার্যক্রম ২৯,৯৬৪টিরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিস্তৃত।

এই সম্প্রসারণের ফলে, অনুন্নত ও পরিষেবাবঞ্চিত এলাকায় সমবায় পরিষেবার নাগাল আরও শক্তিশালী হয়েছে।

৪. সমবায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা

সরকার সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম বিকেন্দ্রীভূত শস্য সংরক্ষণ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে।
১৪৫টি PACS-এ শস্য সংরক্ষণ গুদাম নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
মোট ৬৮,৭০২ মেট্রিক টনেরও বেশি সংরক্ষণ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এই উদ্যোগের ফলে, স্থানীয় পর্যায়ে শস্য সংরক্ষণের সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফসল কাটার পর ক্ষয়ক্ষতি কমছে এবং উপযুক্ত সময়ে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকদের আয় বাড়ছে।
৫. কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO)-কে আরও শক্তিশালী করা উৎপাদন সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক কৃষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

সমবায় ক্ষেত্রে ১,৮৬৩টি FPO গঠিত হয়েছে। PACS-এর মাধ্যমে ১,১১৭টি FPO গঠন করা হয়েছে। মোট ১,০৭০টি মৎস্য FPO গঠন করা হয়েছে এবং তাদের উন্নয়নের জন্য ₹৯৮ কোটি বিতরণ করা হয়েছে।

এর ফলে, বাজারের সঙ্গে সংযোগ, প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা এবং কৃষকদের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬. কর ছাড় ও ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা
নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক অবস্থাও আরও শক্তিশালী হয়েছে। 

সমবায়গুলির জন্য চালু করা গুরুত্বপূর্ণ কর-ছাড়ের ব্যবস্থা হল:

উল্লেখ্য, ₹১ কোটি থেকে ₹১০ কোটি আয়কারী সমবায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সারচার্জ ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। ন্যূনতম বিকল্প কর (MAT) ১৮.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

TDS প্রযোজ্য নগদ উত্তোলনের সীমা ₹১ কোটি থেকে বাড়িয়ে ₹৩ কোটি করা হয়েছে।
PACS এবং প্রাথমিক সমবায় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্কগুলির জন্য নগদ লেনদেনের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপগুলির ফলে, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির তারল্য বেড়েছে এবং নিয়ম মেনে চলার প্রশাসনিক বোঝা কমেছে।

৭. শ্বেত বিপ্লব ২.০

শ্বেত বিপ্লব ২.০-এর আওতায় সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে দুধ সংগ্রহের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।

এ পর্যন্ত ২৫,২৮২টি দুগ্ধ সমবায় সমিতি নিবন্ধিত হয়েছে।

নারী-নেতৃত্বাধীন দুগ্ধ-কেন্দ্রিক সমবায় গড়ে তোলা এবং সমবায় ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

৮. নতুন জাতীয় সমবায় প্রতিষ্ঠান

বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করতে তিনটি নতুন জাতীয় বহুরাজ্যভিত্তিক সমবায় প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তাদের অগ্রগতির উল্লেখযোগ্য দিকগুলি নথিভুক্ত হয়েছে।

ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ এক্সপোর্টস লিমিটেড (NCEL):

দেশের বিভিন্ন সমবায় সমিতির উৎপাদিত উদ্বৃত্ত পণ্য ও পরিষেবা রপ্তানির জন্য NCEL একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত NCEL ১৫.৪ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT) পণ্য ৩৮টি দেশে রপ্তানি করেছে, যার মোট মূল্য ₹৬,২৯৫ কোটি।

ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ অর্গানিক্স লিমিটেড (NCOL): NCOL জৈব পণ্যের সংগ্রহ, ক্রয়, শংসাপত্র প্রদান, পরীক্ষা, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এর সদস্য সমবায় সমিতির সংখ্যা ১৪,২৮৬।

ভারতীয় বীজ সহকারি সমিতি লিমিটেড (BBSSL): BBSSL সমবায় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ‘ভারত বীজ’ ব্র্যান্ডের অধীনে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ এবং বিতরণের কাজ করে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এর সদস্য সমবায় সমিতির সংখ্যা ৩৮,৬৬৫।

৯. সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমবায় শিক্ষা

শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের মাধ্যমে সরকার সমবায় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। ত্রিভুবন সহকারি বিশ্ববিদ্যালয় (TSU) ভারতের প্রথম সমবায় বিশ্ববিদ্যালয় হিস্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় সমবায় ক্ষেত্রে শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে।
ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর কো-অপারেটিভ ট্রেনিং (NCCT) এবং ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট (NABARD)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে সমবায় প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং কার্যকর পরিচালন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন:

বিনিয়োগের চালিকাশক্তি
ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NCDC) সমবায় খাতের বিকাশে অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে NCDC ₹১.৫৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে এবং ₹১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১০,০০০টি কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO) গঠন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO) এবং ক্লাস্টার-ভিত্তিক ব্যবসায়িক সংগঠন (CBBO)-গুলিকে ₹২,৩২০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক আর্থিক সহায়তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায় ব্যবস্থার সম্প্রসারণকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

ভারত ট্যাক্সি: ভারতের প্রথম সমবায়ভিত্তিক পরিবহণ সংক্রান্ত প্ল্যাটফর্ম

ভারত ট্যাক্সি হল সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড-এর একটি উদ্যোগ। এটি সমবায় মডেলের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি চালক-কেন্দ্রিক পরিবহণ প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য চালকদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহণ পরিষেবা নিশ্চিত করা।
বর্তমানে ভারত ট্যাক্সি-র সঙ্গে ৬.৩৭ লক্ষ নিবন্ধিত চালক এবং ৩৫.৭৭ লক্ষ নিবন্ধিত গ্রাহক যুক্ত রয়েছেন। পরিষেবাটি বর্তমানে দিল্লি-এনসিআর, গুজরাট, লখনউ, চণ্ডীগড়, মুম্বই, জয়পুর এবং কানপুরে চালু রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাঁচি, পাটনা, গুয়াহাটি, ভোপাল, কলকাতা, ইন্দোর এবং নাগপুরে এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিকশিত ভারতের চালিকাশক্তি সমবায়

বিগত পাঁচ বছরে সমবায় মন্ত্রক সমবায় ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের এক শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, উন্নত পরিষেবা প্রদান এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার তৃণমূল স্তরে সমবায়ের প্রভাবকে আরও গভীর করেছে। সম্প্রসারিত পরিকাঠামো ও উন্নত বাজার-সংযোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করেছে। সমবায়ভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে নারী ও কৃষকদের জন্য নতুন নতুন সুযোগেরও সৃষ্টি হয়েছে।
ভারত যখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন সমবায় ব্যবস্থা ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ‘সহকার সে সমৃদ্ধি’-র আদর্শকে সামনে রেখে সমবায় আন্দোলন একটি আরও শক্তিশালী, আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ ভারত গঠনের পথে নিরন্তর অগ্রসর হচ্ছে।

তথ্যবিবরণী

Ministry of Cooperation

https://cooperation.gov.in/en/about-primary-agriculture-cooperative-credit-societies-pacs

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2146717&reg=48&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2241955&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2214633&reg=3&lang=2

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2201729&reg=3&lang=1

https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2281327&reg=48&lang=1

https://sansad.in/getFile/annex/270/AU4161_Yqq3fo.pdf?source=pqars

 

PIB Backgrounder

https://www.pib.gov.in/PressNoteDetails.aspx?NoteId=156980&ModuleId=3&reg=22&lang=13

Click here to see pdf

 

SSS/RP........

(तथ्य सामग्री आईडी: 150730) आगंतुक पटल : 13


Provide suggestions / comments
इस विश्लेषक को इन भाषाओं में पढ़ें : English , Urdu , Assamese , हिन्दी