Economy
সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড, ২০২০
प्रविष्टि तिथि:
22 NOV 2025 09:53 AM
২২ নভেম্বর ২০২৫
সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড, ২০২০-এর সুবিধাসমূহ :
সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড, ২০২০, যেটি সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করেছে, নয়টি বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা আইনের সমন্বয় ও সংশোধনের মাধ্যমে সংগঠিত, অসংগঠিত, গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীসহ সমস্ত শ্রমিককে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই কোডের উদ্দেশ্য হল, জীবন ও অক্ষমতা বীমা, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন, এবং ডিজিটালাইজেশন ও ইন্সপেক্টর-কাম-ফেসিলিটেটর পদ্ধতির মাধ্যমে কমপ্লায়েন্স সহজ ও নিয়োগকর্তাদের সহায়তা বৃদ্ধি করা।
প্রো ওয়ার্কার্স বিধান:
1. ফিক্সড টার্ম কর্মীদের জন্য গ্র্যাচুইটি (ধারা ৫৩):
সাধারণত Fixed Term Employees (FTE), যারা এক বা দুই বছরের মতো স্বল্পমেয়াদে নিয়োগ পান, তারা পাঁচ বছরের ধারাবাহিক চাকরি পূরণ করতে না পারায় গ্র্যাচুইটির জন্য যোগ্য হন না। এই সমস্যার সমাধানে, শ্রম কোডে শুধুমাত্র FTE-দের জন্য গ্র্যাচুইটির যোগ্যতার শর্ত পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে। এতে, একজন FTE যদি এক বছর ধারাবাহিক পরিষেবা সম্পূর্ণ করেন, তবে তিনি আনুপাতিক ভিত্তিতে গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাবেন।
2. গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি (ধারা ১১৩ ও ১১৪):
ভারতে বর্তমানে কোনও আইন গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা প্রদান করে না। প্রথমবারের মতো, সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড গিগ, প্ল্যাটফর্ম এবং অসংগঠিত শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনেছে। কোডে প্রথমবার এগ্রিগেটর (ডিজিটাল মধ্যস্থতাকারী), গিগ কর্মী এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মী, এই সংজ্ঞাগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বৃহৎ গিগ ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
কোডটি ন্যাশনাল সোশ্যাল সিকিউরিটি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করেছে, যা অসংগঠিত শ্রমিক, গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য উপযোগী প্রকল্প তৈরি ও মনিটরিংয়ে কেন্দ্র সরকারকে পরামর্শ দেবে।
এছাড়াও, ধারা ৬(৯) অনুযায়ী স্টেট আনঅর্গানাইজড ওয়ার্কার্স সোশ্যাল সিকিউরিটি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে, যা ঐ রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের অসংগঠিত শ্রমিকের জন্য স্কিম প্রণয়ন ও নজরদারিতে সহায়তা করবে।
এছাড়া কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অবদান, CSR, কম্পাউন্ডিং থেকে আদায় করা জরিমানার অর্থ ইত্যাদি দিয়ে একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি ফান্ড গঠন করার বিধান রয়েছে। এই ফান্ড জীবনবীমা, অক্ষমতাবীমা, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্ব সুবিধা, প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্পসহ শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা স্কিমে ব্যয় হবে।
এছাড়া ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায়, ধারা ১৩ অনুযায়ী সোশ্যাল সিকিউরিটি সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণের বিধানও রাখা হয়েছে।
3. এম্প্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের সার্বজনীন কভারেজ:
এখন থেকে EPFO-এর বিধানগুলি ২০ বা তার বেশি কর্মীযুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের উপর প্রযোজ্য হবে। পূর্ববর্তী ১৯৫২ সালের EPF আইন শুধুমাত্র সিডিউল–১–এ উল্লিখিত সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, যা কোডে বাতিল করা হয়েছে। ফলে, EPFO-র আওতা বাড়বে, আরও বেশি শ্রমিক সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন এবং আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক, বিশেষত অ্যাপ্লিকেবিলিটি বিষয়ক, কমে যাবে।
4. জাতীয় নিবন্ধন ও ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন:
যোগ্য বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অসংগঠিত, গিগ এবং প্ল্যাটফর্ম কর্মীকে জাতীয় পোর্টালে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনের পর প্রতিটি কর্মী একটি ইউনিক নম্বর পাবেন, যা সারা দেশে পোর্টেবল। নিবন্ধনের সত্যতা যাচাই হবে আধারের মাধ্যমে। এটি অসংগঠিত শ্রমিকদের জাতীয় ডাটাবেস তৈরিতে সহায়তা করবে, যার ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম তৈরি করা সহজ হবে।
এটি বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে, কারণ সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পোর্টেবল হয়ে যাবে।
5. উন্নত “মজুরি” সংজ্ঞা:
কোডটি সামাজিক নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে “মজুরি”-র সংজ্ঞাকে মানক করতে সাহায্য করে। বিদ্যমান বিভিন্ন আইনে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে মজুরির বিভিন্ন সংজ্ঞা ব্যবহৃত হয়েছে। কোড এই ভিন্নতা দূর করে কেন্দ্রীয় শ্রম–আইনগুলির জন্য একটি অভিন্ন সংজ্ঞা প্রবর্তন করেছে। কোড অনুযায়ী, “মজুরি” বলতে সমস্ত পারিশ্রমিক বোঝায়, যার মধ্যে রয়েছে মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা এবং রিটেইনিং অ্যালাউয়েন্স (যদি থাকে)। উপরোক্ত উপাদানগুলির বাইরে, কর্মীদের বোনাস, গৃহ–আবাসনের মূল্য, যাতায়াত ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, ওভারটাইম ভাতা, কমিশন ইত্যাদি অন্যান্য পাওনাদি যদি মোট পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশ বা ভারত সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো শতাংশের বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশটি মজুরির সঙ্গে পুনরায় যোগ হবে। এর ফলে, মজুরির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং গ্র্যাচুইটি, পেনশন ইত্যাদি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার আর্থিক মূল্যও বৃদ্ধি পাবে, কারণ এই সকল সুবিধা মজুরির পরিমাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
উদাহরণ:
মি এ-এর বেসিক = ১৫,০০০ টাকা, DA = ৬,০০০ টাকা, Retaining allowance = ১,০০০ টাকা
মোট = ২২,০০০ টাকা (A)
তিনি অতিরিক্ত বোনাস + HRA + পরিবহন ভাতা + Overtime = ৪০,000 টাকা (B) পান।
সুতরাং মোট পারিশ্রমিক = ২২,০০০ + ৪০,০০০ = ৬২,০০০ টাকা (C)
এর ৫০% = ৩১,000 টাকা (D)
অতিরিক্ত অংশ = ৪০,০০০ – ৩১,০০০ = ৯,০০০ টাকা (E)
নিয়ম অনুযায়ী ৯,০০০ টাকা মজুরি-এর সাথে যোগ হবে, চূড়ান্ত মজুরি = ২২,০০০ + ৯,০০০ = ৩১,000 টাকা।
এখন গ্র্যাচুইটি, পেনশন, লিভ স্যালারি, সব হিসাব ৩১,০০০ টাকা ভিত্তিতে হবে, আগের ২২,০০০ টাকার বদলে।
6. “পরিবার” সংজ্ঞার বিস্তৃতি:
নতুন কোডে পরিবার সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কর্মরত নারীর শ্বশুর–শাশুড়িকে (নির্দিষ্ট আয়সীমা সাপেক্ষে), অবিবাহিত নাবালক ভাই বা বোনকে, যদি তারা সম্পূর্ণরূপে কর্মীর উপার্জনের উপর নির্ভরশীল হয় এবং পিতা–মাতা জীবিত না থাকে। এর ফলে, ESIC-এর আওতায় পরিবার সদস্যদের সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি পাবে।
7. যাতায়াতকালে দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণের আওতায়:
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে কর্মচারীরা নিজের বাড়ি থেকে কর্তব্য পালনের জন্য কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বা দায়িত্ব পালন শেষে কর্মস্থান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। এই অবস্থাগুলিকে সাধারণত ‘‘অন ডিউটি’’ হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং এর ফলে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। এতে কর্মচারীর উপর অতিরিক্ত কষ্ট ও আর্থিক দুর্ভোগ নেমে আসে।
কোড এই ধারণাকে পরিবর্তন করেছে এবং নতুন বিধান অনুযায়ী, কর্মচারী যখন নিজের বাড়ি থেকে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করছেন অথবা দায়িত্ব পালন শেষে কর্মস্থান থেকে বাসায় ফিরছেন, সেই সময়ে সংঘটিত যেকোনো দুর্ঘটনা কর্মচারীর ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে ‘‘কর্মসংক্রান্ত’’ বা ‘‘কাজের সময় ও পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত’’ বলে গণ্য হবে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারী বা তার পরিবার কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং এ ধরনের ক্ষেত্রে ESIC-এর অধীনে নির্ধারিত সুবিধাগুলি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
8. ESIC কভারেজ সারাদেশে বিস্তৃত:
বর্তমানে, ESIC–এর আওতা শুধুমাত্র নোটিফায়েড বা নির্দিষ্ট ঘোষিত এলাকাগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ। কোডের অধীনে, নোটিফায়েড এলাকার শর্ত অপসারণ করে ESIC–এর আওতা সমগ্র ভারতে প্রসারিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মচারীর সংখ্যা ১০-এর কম, সেই ক্ষেত্রেও যদি নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারীরা দু’পক্ষ সম্মত হন, তবে স্বেচ্ছায় ESIC–এ যুক্ত হওয়ার সুবিধা চালু করা হয়েছে।
তদুপরি, বিপজ্জনক বা জীবন–ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিযুক্ত সকল শ্রমিককে ESIC–এর আওতায় আনতে, এই ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ জন কর্মীর শর্তও তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, বিপজ্জনক পেশায় একজন কর্মচারী থাকলেও ESIC কভারেজ বাধ্যতামূলক হবে।
নারী সহায়ক বিধান
1. মাতৃত্বকালীন সুবিধার অধিকার (ধারা ৬০):
যে কোনও নারী কর্মী যদি সম্ভাব্য প্রসব–তারিখের ঠিক আগের ১২ মাসে কমপক্ষে ৮০ দিন কাজ করেন, তবে তিনি মাতৃত্বকালীন সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন। প্রত্যেক নারী তার গড় দৈনিক মজুরির সমান মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন। মাতৃত্বকালীন ছুটির সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৬ সপ্তাহ, যার মধ্যে সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ প্রসবের পূর্বে নেওয়া যাবে। এছাড়াও, যে নারী তিন মাসের নিচে বয়সের শিশু দত্তক নেন, অথবা যে কমিশনিং মাদার (যিনি সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান গ্রহণ করেন), তাঁরা ১২ সপ্তাহ মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন, যা দত্তক নেওয়ার দিন বা শিশুকে হস্তান্তরের দিন থেকে গণনা করা হবে।
2. বাড়ি থেকে কাজ (ধারা ৫৯(৫)):
মাতৃত্বকালীন ছুটির পরে কর্মস্থলে ফিরে আসা নারীদের নমনীয়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে কোডে Work From Home-এর বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তবে, কাজের ধরণ অবশ্যই বাড়ি থেকে করার উপযোগী হতে হবে, নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মত শর্তে এটি কার্যকর হবে, ও নিয়োগকর্তা এখানে সিদ্ধান্ত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ।
3. প্রসব–সংক্রান্ত চিকিৎসা সার্টিফিকেট প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণ:
আগের আইনে (Maternity Benefit Act, 1961) প্রসব, গর্ভাবস্থা, গর্ভপাত, মেডিকেল টার্মিনেশন, টিউবেকটমি ইত্যাদি সংক্রান্ত সার্টিফিকেট শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার, হাসপাতাল বা প্রশিক্ষিত ধাত্রী (midwife), দিতে পারতেন।
নতুন কোডে সার্টিফিকেট এখন থেকে নিম্ন উৎসে পাওয়া যাবে একটি ফর্মের মাধ্যমে :
* রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার
* অ্যাক্রেডিটেড সোশ্যাল হেলথ অ্যাক্টিভিস্ট (ASHA)
* যোগ্য অক্সিলিয়ারি নার্স
* মিডওয়াইফ
এটি নারীদের জন্য প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
4. মেডিক্যাল বোনাস (ধারা ৬৪):
যদি নিয়োগকর্তা বিনামূল্যে প্রি–ন্যাটাল ও পোস্ট–ন্যাটাল কেয়ার প্রদান না করেন, তবে, নারী কর্মী ₹৩,৫০০ টাকার মেডিক্যাল বোনাস পাওয়ার অধিকারী হবেন।
5. নার্সিং ব্রেকের অধিকার (ধারা ৬৬):
প্রসব–পরবর্তী সময়ে কাজে যোগ দেওয়ার পর নারী কর্মী তাঁর সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রতিদিন দুটি নার্সিং ব্রেক পাবেন, যতদিন না শিশুর ১৫ মাস বয়স হয়। এর ফলে, ওয়ার্ক-আওয়ারের মধ্যেই শিশুর পরিচর্যার সুযোগ পাওয়া যায়।
6. ক্রেশ সুবিধা (ধারা ৬৭):
চলতি Factories Act অনুসারে যেখানে ৫০+ নারী কর্মী আছে, সেখানে ক্রেশ বাধ্যতামূলক। নতুন শ্রম কোডে শর্তটি লিঙ্গ–নিরপেক্ষ করা হয়েছে ও এখন যে কোনও প্রতিষ্ঠানে ৫০ বা তার বেশি কর্মী থাকলে ক্রেশ বাধ্যতামূলক। নিয়োগকর্তাকে প্রতিদিন মহিলাকে ক্রেশে যাওয়ার জন্য চারটি ভিজিটের অনুমতি দিতে হবে, যার মধ্যে বিশ্রামের বিরতিগুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আরও উল্লেখযোগ্যভাবে, কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, পৌরসভা, বেসরকারি সংস্থা, অ-সরকারি সংস্থা কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহের দল যারা নিজেদের সম্পদ একত্রে ব্যবহার করতে সম্মত হয়, তাদের দ্বারা প্রদত্ত সাধারণ ক্রেশ সুবিধা গ্রহণ করার ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠানের জন্য রাখা হয়েছে।
যদি নিয়োগকর্তা কোনো ক্রেশ সুবিধা প্রদান না করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ক্রেশ ভাতা প্রদান করতে হবে, যা প্রতি মাসে প্রতি সন্তানের জন্য ন্যূনতম ৫০০ টাকা হবে এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। [Rule 39]
প্রো গ্রোথ বিধান
1. ডিজিটালাইজেশন:
কোডে রেকর্ড, রেজিস্টার ও রিটার্ন ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর ফলে, কমপ্লায়েন্স খরচ কমে, ও প্রক্রিয়া দ্রুত ও দক্ষ হয়।
2. ৫ বছরের সীমাবদ্ধতা, ইনকোয়ারি শুরু করার ক্ষেত্রে (ধারা ১২৫(১)):
EPFO সংক্রান্ত একটি বড় সংস্কার হিসেবে EPF প্রযোজ্যতা নির্ধারণ বা বকেয়া আদায়ের জন্য ইনকোয়ারি আরম্ভের উপর পাঁচ বছরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। আরম্ভের তারিখ থেকে দু বছরের মধ্যে ইনকোয়ারি শেষ করতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে CPFC-এর অনুমতিতে আরও এক বছর বাড়ানো যাবে। এতে, কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি পাবে, ও মামলার নিষ্পত্তিতে শৃঙ্খলা ও সময়নিষ্ঠা নিশ্চিত হবে।
3. আপিল করার জন্য জমার পরিমাণ হ্রাস:
আগে EPFO অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে আপিল করতে ৪০%–৭০% ডিপোজিট লাগত। এখন কোড অনুযায়ী নিয়োগকর্তাকে ২৫% ডিপোজিট করলেই আপিল করা যাবে। এটি নিয়োগকর্তার আর্থিক চাপ কমায়, ও ন্যায্যতাকে উৎসাহিত করে।
4. সেসের স্ব-আসেসমেন্ট:
ভবন বা নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে নির্মাণ ব্যয়ের স্ব-আসেসমেন্ট ও সেস পরিশোধের নতুন বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। ফলে, সেস সংগ্রহ দ্রুত হবে এবং তা Building & Other Construction Workers-দের কল্যাণে ব্যয় করা যাবে।
5. প্ল্যান্টেশন মালিকদের সুবিধা:
আগে ESIC স্কিমের আওতায় প্ল্যান্টেশন মালিকরা আসতেন না। নতুন কোডে প্ল্যান্টেশন মালিকদের ESIC-এ যোগদানের বিকল্প দেওয়া হয়েছে।
6. কিছু অপরাধের অপরাধীকরণ বিলোপ:
বর্তমানে অপরাধের ক্ষেত্রে কম্পাউন্ডিং-এর কোনো বিধান নেই। আরও উল্লেখযোগ্যভাবে, আইন লঙ্ঘনের পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে চলার জন্য নোটিশ দেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল না। নতুন কোডে এই ঘাটতি দূর করে নির্ধারিত হয়েছে যে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে ৩০ দিনের ‘ইমপ্রুভমেন্ট নোটিশ’ প্রদান করতে হবে, যাতে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনানুগ সংশোধন করতে পারেন। এটি ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে, নিয়োগকর্তাকে অননুমতি সংশোধনের সুযোগ দেয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তে আইন-অনুসরণকে উৎসাহিত করে।
এছাড়া, কোডে ১৩-টি অপরাধের ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে আর্থিক জরিমানার বিধান আনা হয়েছে। এছাড়াও, যেসব সাতটি লঙ্ঘনের শাস্তি এক বছরের কম কারাদণ্ড ছিল, সেগুলোকেও জরিমানা বা দণ্ড দিয়ে কম্পাউন্ড করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কারাদণ্ডের পরিবর্তে জরিমানার ব্যবস্থা আনার ফলে শাস্তির ভয় কমে, কর্মীদের স্বার্থে স্বেচ্ছায় আইন মানার প্রবণতা বাড়ে, মামলা-মোকদ্দমা কমে এবং ‘Ease of Doing Business’-এ সহায়তা করে।
8. Inspector-cum-Facilitators:
Inspector cum facilitator ব্যবস্থাটি, যা পূর্ববর্তী inspector-এর পরিবর্তে আনা হয়েছে, এবং ওয়েব-ভিত্তিক পরিদর্শন পদ্ধতি ঐতিহ্যগত “ইনস্পেক্টর রাজ” কমানোর লক্ষ্য নিয়েই প্রণীত হয়েছে, যেখানে পরিদর্শন কার্যক্রমকে অনেক সময় অনধিকারচর্চা এবং বোঝা হিসেবে দেখা হতো। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুসরণ করার ফলে পরিদর্শন কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, কার্যকরী এবং দক্ষ হবে। Inspector-রা এখন শুধুমাত্র নজরদারির ভূমিকা পালন না করে facilitator হিসেবে কাজ করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হবে নিয়োগকর্তাকে আইন, বিধি ও বিধান মেনে চলতে সহায়তা করা। এই পরিবর্তন একটি আরও সুসমন্বিত ও সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলে এবং Ease of Doing Business উন্নত করে। (ধারা ৭২)
* এটি পরিদর্শন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করে এবং নির্দেশনার মাধ্যমে আইন মেনে চলাকে উৎসাহিত করে।
* পুরানো “Inspector Raj” ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর পরিদর্শন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে, যা যেকোনো ধরনের ইচ্ছামতো হয়রানি কমায়।
* কোনও নিয়ম ছাড়া, ওয়েব-ভিত্তিক পরিদর্শন নিশ্চিত করে, যা পক্ষপাতিত্ব প্রতিরোধ করে।
* Inspector-দের facilitator হিসেবে অবস্থান নির্ধারণ করে, যার অর্থ তাদের ভূমিকা হচ্ছে নিয়োগকর্তাকে শ্রম আইন মেনে চলতে নির্দেশনা দেওয়া, যা শেষ পর্যন্ত কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
* এটি একটি সুসমন্বিত কর্মপরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করে, যা অযথা সংঘাত এড়িয়ে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্যই উন্নততর অনুবর্তিতা নিশ্চিত করে।
9. অপরাধ কম্পাউন্ডিং (ধারা ১৩৮):
প্রথমবারের অপরাধ যেখানে শাস্তি হিসেবে জরিমানা নির্ধারিত থাকে, সেই অপরাধগুলি সর্বোচ্চ জরিমানার ৫০% পরিশোধের মাধ্যমে কম্পাউন্ড করা যাবে। আর যেখানে শাস্তি হিসেবে জরিমানা, বা কারাদণ্ড, অথবা উভয়ই নির্ধারিত আছে, সেই অপরাধগুলিও সর্বোচ্চ জরিমানার ৭৫% প্রদান করে কম্পাউন্ড করা যাবে, ফলে, আইনটি কম দণ্ডনীয় এবং আরও অধিক অনুবর্তিতা-কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। অনুমোদিত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অপরাধ কম্পাউন্ড করার সুযোগ দেওয়ার ফলে আইনি জটিলতা কমে, নিষ্পত্তির গতি বাড়ে এবং Ease of Doing Business উন্নত হয়। নিয়োগকর্তারা নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করে এবং আইন মেনে চলা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদী মামলার ঝামেলা এড়াতে পারেন। এই সময়সীমাবদ্ধ প্রশাসনিক পদ্ধতি দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রক দক্ষতা বৃদ্ধি করে। প্রথমবারের অপরাধ জরিমানার মাধ্যমে মীমাংসার সুযোগ দেওয়া আদালতের চাপ কমায়, দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করে এবং কঠোর শাস্তির পরিবর্তে ব্যবসাকে স্বেচ্ছায় অনুবর্তিতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করে।
কর্মসংস্থান সহযোগী বিধান
1. কেরিয়ার সেন্টারস:
The Code on Social Security, 2020 অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের ব্যবস্থা করেছে, যেখানে নিবন্ধন, বৃত্তিমূলক পথনির্দেশ এবং চাকরি-সহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান করা হবে। ডিজিটাল ও শারীরিক উভয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আধুনিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে এই সেন্টারগুলো, যা চাকরি–প্রত্যাশীদের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে শূন্যপদের তথ্য এই সেন্টারগুলোতে রিপোর্ট করতে হবে, ফলে, চাকরি–প্রত্যাশীদের জন্য কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া সহজ হবে এবং দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
2. ফিক্সড-টার্ম চাকরিকে নিয়মিত চাকরির সমতুল্য বিবেচনা:
কোডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্দিষ্ট মেয়াদে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োজিত ফিক্সড-টার্ম কর্মচারীরা স্থায়ী কর্মচারীদের মতোই সকল সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা (গ্রাচুইটি, পেনশন ইত্যাদি) পাওয়ার অধিকারী হবেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, একটি বড় সংস্কার হিসেবে এখন ফিক্সড-টার্ম কর্মচারীরাও এক বছরের ধারাবাহিক চাকরি সম্পন্ন করলে গ্রাচুইটির জন্য যোগ্য হবেন। পূর্বে এই সুবিধা শুধু স্থায়ী কর্মচারীদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল।
3. বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিকদের সর্বজনীন কভারেজ:
কোডটি সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের কভারেজ প্রসারিত করে নিম্নলিখিত শ্রেণিগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যারা এখনও পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার আওতার বাইরে ছিল:
(a) গিগ কর্মী ও প্ল্যাটফর্ম কর্মী: প্রথমবারের মতো এই দুই শ্রেণিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, এবং কোডে তাদের জন্য জীবনবিমা, প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত বিমা, স্বাস্থ্য, মাতৃত্ব, পেনশনসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীরা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।
(b) অসংগঠিত ক্ষেত্র / স্বনিয়োজিত কর্মী: কোড স্বনিয়োজিত বা অসংগঠিত শ্রমিকসহ অন্যান্য শ্রেণীর নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে তাদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প তৈরির অনুমতি দেয়।
Click here to see pdf
SSS/SS
******
(तथ्य सामग्री आईडी: 150496)
आगंतुक पटल : 5
Provide suggestions / comments