প্রকাশিত:
08 NOV 2026 11:44AM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক, অরুণাচল প্রদেশ সরকার এবং নতুন দিল্লির ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন (আইবিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত শাক্যমুনি বুদ্ধের পবিত্র অবশেষ জনসমক্ষে প্রদর্শনীর তাওয়াং পর্ব আজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। সাত দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী চলাকালীন মোট ৩১,০০০ ভক্ত ও দর্শনার্থী পবিত্র অবশেষ দর্শনের জন্য গাদেন নামগিয়াল লাৎসে গোম্পায় (তাওয়াং মঠ)সমবেত হয়েছিলেন।
৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যথাযথ প্রোটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নয়াদিল্লির জাতীয় সংগ্রহশালা থেকে এই পবিত্র অবশেষ তাওয়াং-এ নিয়ে আসা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের উপস্থিতিতে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পেমা খান্ডু আনুষ্ঠানিকভাবে এই পবিত্র অবশেষ গ্রহণ করেন।
এই পবিত্র প্রদর্শনীটি বৌদ্ধ ভিক্ষু, প্রবীণ নাগরিক এবং সাধারণ মানুষের জন্য শাক্যমুনি বুদ্ধের পবিত্র অবশেষের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রার্থনা করা এবং আশীর্বাদ গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। সাত দিন ধরে তাওয়াং মঠে দর্শনার্থী ভক্তদের গভীর ভক্তি ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়; তাওয়াং জেলার বিভিন্ন ব্লক এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অসংখ্য ভক্ত এখানে সমবেত হন। মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি এই অঞ্চলের জনগণের কাছে পবিত্র অবশেষের গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকেই তুলে ধরে।
এই প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী পেমা খান্ডু তাওয়াং মঠে দুটি বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন (আইবিসি) আয়োজিত ‘আনআর্থিং দ্য স্যাক্রেড পিপরাহওয়া: দ্য স্টোরি অফ দ্য হোলি বুদ্ধ রিলিকস অ্যান্ড দেয়ার ডিসকভারি (পবিত্র পিপরাহওয়া-র উন্মোচন: বুদ্ধের পবিত্র অবশেষ ও তার আবিষ্কারের কাহিনী) শীর্ষক প্রদর্শনীটিতে ১৮৯৮ সালে পিপরাহওয়া-তে বুদ্ধের অবশেষ আবিষ্কারের ঐতিহাসিক ঘটনাটি তুলে ধরা হয়। নয়াদিল্লির জাতীয় সংগ্রহশালা কর্তৃক আয়োজিত দ্বিতীয় প্রদর্শনীটি ‘ক্রসরোডস অফ ধম্ম: ক্লাসিক্যাল লিগাসিস, লিভিং আর্ট, অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল পারসপেক্টিভস’ (ধর্মের সংযোগস্থল: ধ্রুপদী ঐতিহ্য, জীবন্ত শিল্পকলা এবং নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি) - দর্শনার্থীদের বৌদ্ধধর্মের ঐতিহাসিক, শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়।
২০২৬ সালের ২রা নভেম্বর, ‘ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন’ তাওয়াং-এর কালাওয়াংপো কনভেনশন সেন্টারে ‘বৌদ্ধধর্ম: হিমালয় অঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় প্রসার শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। এই সম্মেলনে ভারত ও অন্যান্য কয়েকটি দেশের বৌদ্ধ পণ্ডিত, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে হিমালয় অঞ্চল ও তার বাইরে বৌদ্ধ শিক্ষা ও ঐতিহ্যের প্রসার এবং সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
৭ই নভেম্বর তাওয়াং-এ পবিত্র প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর, পবিত্র অবশেষগুলো পরবর্তী গন্তব্য বোমডিলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। ২০২৬ সালের ৮ই নভেম্বর, ভারতীয় বিমান বাহিনীর মাধ্যমে এই পবিত্র অবশেষগুলো বোমডিলায় নিয়ে যাওয়া হবে। আপার গোম্পায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর, অবশেষগুলো বোমডিলার টিজিএল মঠ বা লোয়ার গোম্পায় স্থাপন করা হবে। সেখানে ৮ই নভেম্বর থেকে ১৩ই নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য এগুলো উন্মুক্ত থাকবে।
এরপর, পবিত্র অবশেষগুলো নামসাই-এর গোল্ডেন প্যাগোডায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ১৪ই নভেম্বর থেকে ২০শে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সর্বসাধারণের দর্শনের সুযোগ থাকবে। পরিশেষে, ২১শে নভেম্বর ২০২৬ তারিখে এগুলো নয়াদিল্লির জাতীয় জাদুঘরে ফিরে আসবে।
এই প্রদর্শনীটি ভারতের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিফলন। একই সঙ্গে, এটি বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি প্রয়াস।
SC/SB/AS