প্রকাশিত:
29 OCT 2026 2:04PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ক্লাউড ব্যবস্থার প্রসার
ভারতে ডিজিটাল রূপান্তরে প্রশাসন, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জনপরিষেবার ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ তথ্য সৃষ্টি হচ্ছে। এবছর মার্চ মাসে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ১০৯২.৭৯ মিলিয়নে পৌঁছেছে। ডিজিটাল পরিষেবার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সঙ্গে তথ্যের চাহিদাও বাড়ছে। প্রতি গ্রাহকের মাসিক গড় বেতার তথ্য ব্যবহার বেড়ে হয়েছে ২৫.৫১ জিবি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট বেতার তথ্য ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৮৫,৩৭৬ পেটাবাইটে। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে লেনদেনের নথি, অনলাইন জনপরিষেবা থেকে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল নথি, পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগে বিপুল পরিমাণ তথ্য তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে। তথ্যের এই ক্রমবর্ধমান পরিমাণ দক্ষতার সঙ্গে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ, সম্প্রসারণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা।
এই প্রয়োজন মেটাতে শুধু তথ্য সংরক্ষণের জায়গা থাকলেই চলে না। তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা এবং নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজন কম্পিউটিং ক্ষমতাও। নিজস্ব সার্ভার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সাপেক্ষ। প্রয়োজন অনুযায়ী সেই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করাও কঠিন। ক্লাউড কম্পিউটিং ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রয়োজনমতো কম্পিউটিং সংস্থান ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করে। তবে, ক্লাউড পরিষেবার উপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা এবং তার সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার গুরুত্বও বাড়ছে। দেশীয় ক্লাউড ব্যবস্থা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সংস্থানের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করে তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য সংরক্ষণ, সার্ভার, সফটওয়্যার এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা-সহ বিভিন্ন কম্পিউটিং সংস্থান ব্যবহার করা যায়। নিজস্ব সার্ভার কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংস্থান কাজে লাগাতে পারে বিভিন্ন সংস্থা। উদাহরণস্বরূপ, গুগল ড্রাইভে নথি অনলাইনে সংরক্ষণ করে একাধিক যন্ত্র থেকে তা ব্যবহার করা যায়। একইভাবে, কোনও সরকারি দপ্তর নিজস্ব সমস্ত যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের পরিবর্তে ক্লাউড ব্যবস্থায় তাদের অ্যাপ্লিকেশন ও তথ্যভাণ্ডার রাখতে পারে। উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচালন কাঠামোর সহায়তায় দেশীয় ক্লাউড ব্যবস্থা সংবেদনশীল তথ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে পারে। এর পাশাপাশি, নির্ভরযোগ্য জনপরিষেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করতে পারে।
ভারতের ক্লাউড পরিষেবা প্রদায়ী ব্যবস্থা
এবছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতে ৩০টি ক্লাউড পরিষেবা প্রদায়ী সংস্থা (সিএসপি) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এদের ব্যবহৃত ব্যবস্থা মুম্বই, নবি মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর এবং জামনগর-সহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশীয় সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেড, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস লিমিটেড, ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল), আইটিআই লিমিটেড, রেলটেল কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড, আদানি কনেক্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইয়োটা ডেটা সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড। বিদেশি সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে গুগল ক্লাউড ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, ওরাকল ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড-সহ আরও কয়েকটি সংস্থা।
ক্লাউড কম্পিউটিং-এর প্রধান সুবিধা
ক্লাউড কম্পিউটিং ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ বাড়ায়। একই সঙ্গে তা ব্যবস্থাপনাকে আরও নমনীয় ও দক্ষ করে তোলে। নিজস্ব সার্ভার কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন কমিয়ে ব্যয় হ্রাস করে এই প্রযুক্তি।
সার্ভার কক্ষ হল এমন একটি নির্দিষ্ট স্থান, যেখানে তথ্য সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল পরিষেবা পরিচালনার জন্য কম্পিউটার রাখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনও বিদ্যালয় নিজস্ব কম্পিউটিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে পড়ুয়াদের নথি সংরক্ষণ করতে পারে।
ক্লাউডের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থা গড়ে তোলার অপেক্ষা না করেই দ্রুত ডিজিটাল পরিষেবা ও অ্যাপ্লিকেশন চালু করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনও হাসপাতাল নিজস্ব সার্ভার স্থাপন না করেই অনলাইনে চিকিৎসকের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে পারে।
ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের আরেকটি সুবিধা হল প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটিং সংস্থানের পরিমাণ বাড়ানো বা কমানো যায়। উদাহরণস্বরূপ, অনলাইন পরীক্ষার জন্য নাম নথিভুক্তির সময় কোনও পোর্টালের চাহিদা বাড়লে অতিরিক্ত সংস্থান ব্যবহার করা যায়। চাহিদা কমলে সেই সংস্থান আবার কমিয়ে দেওয়া সম্ভব।
বিভিন্ন স্থানে থাকা ব্যবহারকারীদের তথ্য দেখা, আদান-প্রদান ও একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়ে ক্লাউড কম্পিউটিং সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা অনলাইনে গবেষণার কাজে একসঙ্গে অংশ নিতে পারেন, অধ্যয়নের উপকরণ ভাগ করে নিতে পারেন এবং নথি সম্পাদনা করতে পারেন।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী প্ল্যাটফর্মের ক্লাউডে স্থানান্তর
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভাষিণী প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, দেশীয় ক্লাউড ব্যবস্থা তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি, ডিজিটাল পরিষেবার মানও উন্নত করতে সাহায্য করে। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক জানায়, ভাষিণীকে ইয়োটা ডেটা সার্ভিসেস পরিচালিত একটি ভারতীয় ক্লাউড ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে, ভাষা-সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল এবং নাগরিকদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা তথ্য ভারতের আইনগত এক্তিয়ারের মধ্যে থাকছে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর কর্মক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি, ব্যয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হ্রাস এবং ৯৯.৯৯ শতাংশ সময় পরিষেবা সচল থাকার কথা জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের মহাকুম্ভে ভাষিণী ১১টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ এবং কণ্ঠস্বরভিত্তিক সহায়তা দিয়েছে। এর বহুভাষিক পরিষেবা ভাষাগত বাধা সত্ত্বেও পুণ্যার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সাহায্য করেছে।
ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পর্কে মৌলিক ধারণা
ক্লাউড ব্যবস্থার বিভিন্ন ধরন
ক্লাউডের ধরন নির্ধারণ করে কম্পিউটিং ব্যবস্থা কোথায় থাকবে, কারা তা ব্যবহার করতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা কতটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে। সাধারণত তিন ধরনের ক্লাউড ব্যবস্থা দেখা যায়: পাবলিক ক্লাউড, প্রাইভেট ক্লাউড এবং হাইব্রিড ক্লাউড।
পাবলিক ক্লাউড: তৃতীয় পক্ষের পরিষেবা প্রদায়ীর ব্যবস্থায় গড়ে ওঠে পাবলিক ক্লাউড। একাধিক গ্রাহক সেই একই ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা ভিডিও স্ট্রিমিং সংস্থা একই সার্ভার ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ দর্শকের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিতে পারে।
প্রাইভেট ক্লাউড: একটি নির্দিষ্ট সংস্থার ব্যবহারের জন্য পৃথকভাবে নির্ধারিত থাকে এই ব্যবস্থা। উদাহরণস্বরূপ, কোনও রাজ্যের কোষাগার দপ্তর সংবেদনশীল প্রশাসনিক নথির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে প্রাইভেট ক্লাউডে অর্থপ্রদান এবং হিসাব-সংক্রান্ত তথ্য রাখতে পারে।
হাইব্রিড ক্লাউড: পাবলিক ও প্রাইভেট ক্লাউডের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এই ব্যবস্থা। উদাহরণস্বরূপ, কোনও পুরসভা সম্পত্তিকর প্রদানের পোর্টাল পাবলিক ক্লাউডে এবং নাগরিকদের নথি প্রাইভেট ক্লাউডে রাখতে পারে। নিরাপত্তা, ব্যয় ও কাজের প্রয়োজন বিবেচনা করেই উপযুক্ত ব্যবস্থা বেছে নেওয়া হয়।
ক্লাউড পরিষেবার বিভিন্ন ধরন
ক্লাউড পরিষেবায় ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ থেকে শুরু করে গঠিত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুবিধা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়। প্রধান চারটি বিভাগ হল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ আ সার্ভিস (আইএএএস), প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ আ সার্ভিস (পিএএএস), সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস (এসএএএস) এবং সার্ভারলেস কম্পিউটিং। একটির ওপর অন্যটি নির্ভর করে গড়ে ওঠে বলে এগুলিকে কখনও কখনও ক্লাউড কম্পিউটিং-এর ‘স্ট্যাক’ বলা হয়।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ আ সার্ভিস (আইএএএস): এই ব্যবস্থায় বাস্তব যন্ত্রপাতি কেনার পরিবর্তে ভার্চুয়াল সার্ভার, তথ্য সংরক্ষণ এবং নেটওয়ার্কের মতো কম্পিউটিং সংস্থান ভাড়া নেওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনও অনলাইন বিক্রয় সংস্থা তাদের ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য ক্লাউড সার্ভার ব্যবহার করতে পারে। উৎসবের মরশুমে বিক্রির সময় ওয়েবসাইটে দর্শকের সংখ্যা বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটিং ক্ষমতাও বাড়ানো যায়।
দেশীয় ক্লাউড ব্যবস্থার প্রসারে ভারতের অগ্রগতি
ডিজিটাল প্রশাসন, তথ্য পরিচালনা এবং নতুন প্রযুক্তির বিকাশে সহায়তার জন্য ভারত নিজস্ব ক্লাউড ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, বিশ্বস্ত ক্লাউড পরিষেবা প্রয়োগ এবং দেশীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মেঘরাজ ও মেঘরাজ ২.০: ভারত সরকারের ক্লাউড ব্যবস্থা
ভারত সরকারের ক্লাউড ব্যবস্থা মেঘরাজ ২০১৪ সালে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল ই-গভর্ন্যান্সের প্রসার এবং সরকারি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) ব্যয়ের সর্বোত্তম ব্যবহার। মেঘরাজ ২.০ হল এই জাতীয় ক্লাউড কম্পিউটিং উদ্যোগের দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যবস্থা। ডিজিটাল ইন্ডিয়া অভিযানের জন্য এটি একটি নিরাপদ ডিজিটাল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ক্লাউড ব্যবস্থার মাধ্যমে আইএএএস, পিএএএস এবং এসএএএস পরিষেবার নমনীয় সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে সরকারি দপ্তরগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারে।
গত এক দশকে এই ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এ বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর আওতায় এসেছে ২,৩৩০টি সরকারি দপ্তর। বর্তমানে মেঘরাজ ২.০ নিরাপদ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের উপযোগী হোস্টিং পরিষেবা দিচ্ছে। ডিজিলকার, মাইগভ, জাতীয় বৃত্তি পোর্টাল এবং ডাক বিভাগের অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি (এপিটি)-র মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এই ব্যবস্থার সহায়তা পাচ্ছে।
ভারতের ক্লাউড ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ তথ্যকেন্দ্র
তথ্যকেন্দ্রে থাকে ক্লাউড কম্পিউটিং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভার ও তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা। ডিজিটাল পরিষেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কম্পিউটিং চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ভারতে তথ্যকেন্দ্রের প্রসার দ্রুত হচ্ছে। এ বছর আগস্ট মাস পর্যন্ত দেশে তথ্যকেন্দ্রের ক্ষমতা ১.৫৭ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে প্রায় ৮ গিগাওয়াট হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মুম্বই, নবি মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর এবং জামনগরে তথ্যকেন্দ্রের ঘনত্ব বেশি। অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং পশ্চিমবঙ্গেও নতুন তথ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠার প্রবণতা বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিপুল পুঁজি প্রয়োজন। বর্তমানে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের কাজ চলছে। পাশাপাশি, আরও ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিনিয়োগ কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়াবে এবং ভারতের নিজস্ব ক্লাউড ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়াএআই মিশন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কম্পিউটিং ব্যবহারের সুযোগ সম্প্রসারণ
ক্লাউড ব্যবস্থা গবেষক ও নতুন উদ্যোগগুলিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সংস্থান দেয়। ১০,৩৭১.৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ-সহ অনুমোদিত ইন্ডিয়াএআই মিশন কম্পিউটিং সংস্থান ব্যবহারের সুযোগ বাড়াচ্ছে। একটি যৌথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য ৪৫,০০০-এরও বেশি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সংস্থান ভারতীয় নতুন উদ্যোগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাশ্রয়ী ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা দিচ্ছে। ফলে, নিজস্ব যন্ত্রপাতিতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন কমছে।
ভারতে ক্লাউড ব্যবহারে নীতিগত উদ্যোগ
ভারতের ক্লাউড কৌশলের মূল লক্ষ্য হল, সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ এবং নির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নতুন প্রযুক্তি ও তথ্যনির্ভর পরিষেবার প্রয়োজনে ক্লাউড এবং তথ্যকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভারতের ডিজিটাল ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই দুই-এর ভূমিকার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বৃহৎ ক্ষমতাসম্পন্ন তথ্যকেন্দ্রে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা ও দীর্ঘমেয়াদে ভারতের ডিজিটাল ক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য।
নিরাপদ ও মানসম্মত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থায় দিশা
জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স বিভাগ (এনইজিডি) কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরের ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্পে প্রযুক্তিগত ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেয়। প্রকল্পের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, প্রযুক্তিগত বিন্যাস, নিরাপত্তা, নির্ধারিত মানদণ্ড এবং যৌথ ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার পর্যালোচনা করাও বিভাগীয় দায়িত্বের অন্তর্গত। এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে ক্লাউড পরিষেবার প্রসার ঘটছে। এর ফলে, ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও ই-গভর্ন্যান্সের লক্ষ্য পূরণে গতি এসেছে।
ভারতের ক্লাউড ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ
ভারতে ক্লাউড ব্যবস্থার দ্রুত প্রসার ঘটছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ক্লাউডে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ডিজিটাল অনুশাসন, জনপরিষেবা প্রদান এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মে ক্লাউড ব্যবস্থার ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কম্পিউটিং সংস্থানের চাহিদাও বাড়ছে। তথ্যকেন্দ্রে বিনিয়োগ দেশের নিজস্ব ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ক্লাউড প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলি সম্মিলিতভাবে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে। ভারতের দীর্ঘমেয়াদী ডিজিটাল রূপান্তরে ক্লাউড কম্পিউটিংকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেও সহায়তা করছে।
তথ্যসূত্র
Rajya Sabha
Ministry of Electronics and IT
Ministry of Communications
Ministry of Skill Development & Entrepreneurship
NITI Aayog
PIB Headquarters
Network Readiness Index Report 2025
NASSCOM
Click to see pdf
**
SSS/S Saha.....