প্রকাশিত:
26 OCT 2026 7:55PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ডে উপলক্ষে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে সবপক্ষের কাছে অনুসরণযোগ্য জাহাজ চলাচল বিধির পক্ষে সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। জাহাজ শিল্পের প্রসারে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থাগুলির অংশীদারিত্বও চেয়েছেন তিনি।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ, দক্ষিণ কোরিয়ার সাগর ও মৎস্য দপ্তরের উপ-মন্ত্রী নাম জায়হিয়ন, নরওয়ের সমুদ্র নীতি ও মৎস্যমন্ত্রী মারিয়ানে সিভারস্টেন নায়েজ প্রমুখ।
সমুদ্রপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বিধি থাকা দরকার বলে শ্রী সোনোয়াল মনে করিয়ে দেন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে এক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিধি সকলেরই কঠোরভাবে অনুসরণ করা দরকার বলে তাঁর মন্তব্য। এক্ষেত্রে লোহিত সাগর সহ বিভিন্ন সাগর পরিসরে নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ উঠে আসছে, তার কথা তুলে ধরেন তিনি। সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ভারতে সমুদ্রপথ সংক্রান্ত পাঁচটি আইন ২০২৫ সালে প্রণীত হয়েছে এবং ২০২৬-এর মার্চে তা কার্যকর হয়েছে। এ দেশের মেরিটাইম সিঙ্গল উইন্ডো-র আওতায় রয়েছে ৬৯টি বন্দর ও টার্মিনাল। আলান-সোসিয়া ইয়ার্ডে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ১১৫টি কেন্দ্র রয়েছে বলে তিনি জানান – যেগুলি হংকং কনভেনশন এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিধি অনুযায়ী কাজ করে।
কোরিয়া মেরিটাইম ইক্যুইপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা কেওএমইএ-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রী সোনোয়াল। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থায় ৩০৪টি জাহাজ যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছে এইচডি হুন্ডাই, হানওয়া ওশন এবং স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের মতো সংস্থা। ৩০ অক্টোবর ভারতে কেওএমইএ-এর দপ্তর চালু হচ্ছে। এর ফলে ভারতে জাহাজ শিল্পের প্রসারে আরও গতি আসবে। কেওএমইএ-এর চেয়ারম্যান হো-ইল ক্যাং জানান, ভারতের বাজার ব্যবহার করতে ঐ সংগঠনের সদস্যরা খুবই আগ্রহী।
এই বৈঠকে ভারতে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রসারে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শ্রী সোনোয়াল। তিনি বলেন, ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে এই খাতে ৭.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদিত হয়েছে। এর ফলে, ভারতে জাহাজের যন্ত্রাংশ নির্মাণ ঐ বছরেই বেড়েছে ৪০ শতাংশ। ২০২৬ সালে বৃদ্ধির পরিমাণ ৮০ শতাংশের বেশি। সামগ্রিকভাবে ১২০টিরও বেশি জাহাজের জন্য ১.২৭ বিলিয়ন ডলার সরকারি সহায়তা অনুমোদিত হয়েছে। রপ্তানির বরাতের মূল্যমান বেড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি।
SC/AC/DM.