প্রকাশিত:
26 OCT 2026 2:54PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি ২৬ অক্টোবর ২০২৬
উপরাষ্ট্রপতি শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন আজ অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় ড. এনটিআর ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আহ্বান জানান তারা যেন গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেয় এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত জরুরি চ্যালেঞ্জের সমাধানসুত্র বের করে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চার দশক অতিবাহিত করায় অভিনন্দন জানিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কিংবদন্তি নেতা ড. নান্দামুরি তারাকা রামা রাও-এর দূরদৃষ্টির প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারের ওপর আলোকপাত করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন যে, ভারতে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে—২০১৪ সালের আগে যেখানে ৩৮৭টি মেডিকেল কলেজ ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৬টিতে। এমবিবিএস আসন সংখ্যা প্রায় ৫১,০০০ থেকে ১৭২ শতাংশ বেড়ে ১ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে, অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর আসন সংখ্যা প্রায় ৩১,০০০ থেকে ১৭৭ শতাংশ বেড়ে ৮৬,০০০-এরও বেশি হয়েছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, তাঁরা যেন মানবজাতির স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় নিজেদের নিয়োজিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ড. এনটিআর ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস-এর গবেষকরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁদের অবদানের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারসহ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করবেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, টেলিমেডিসিন এবং উন্নত রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিচ্ছে—এই বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রী সি. পি. রাধাকৃষ্ণন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। এর উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীরা ও গবেষকরা যেন উন্নত গবেষণা এবং উদ্ভুত প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক বৈধতা, রোগীর নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং নৈতিক দায়িত্বকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো সহানুভূতি ও মানবিক সংযোগ—প্রযুক্তি কখনোই তার বিকল্প হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উপ-রাষ্ট্রপতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে একটি সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করে তিনি চিকিৎসা সম্প্রদায়কে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি স্মারক পত্রিকার আবরণ উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য শ্রী এস. আব্দুল নাজির, রাজ্যের আবাসন, তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী শ্রী কোলুস পার্থসারথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. পি. চন্দ্রশেখর, ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের মেডিকেল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ড সভাপতি ড. এম. কে. রমেশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিজয়ওয়াড়া বিমানবন্দরে পৌঁছালে উপরাষ্ট্রপতিকে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল শ্রী এস. আব্দুল নাজির, ক্যাবিনেট মন্ত্রী শ্রী নারা লোকেশ প্রমুখ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
SC/AB/CS