প্রকাশিত:
25 OCT 2026 11:45AM by PIB Kolkata
আমার প্রিয় দেশবাসী, ‘মন কি বাত’-এ আবারও আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। আজ থেকে ১২ বছর আগে, বিজয়াদশমীর পবিত্র তিথি উপলক্ষে, আমরা ‘মন কি বাত’ শুরু করেছিলাম। তখন থেকে এখন পর্যন্ত, আমাদের এই যাত্রা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। এই যাত্রার সহযাত্রীও আপনারা আর পথপ্রদর্শকও আপনারা। বন্ধুরা, আমার কাছে ‘মন কি বাত’ দেশের সাধারণ মানুষের পরিশ্রম, তার পরাক্রম, তার নিষ্ঠা, তার সমর্পণ এবং সেবাভাবের গৌরব গাথাকে তুলে ধরার একটি শুভ সুযোগ। আমাদের দেশে যুগ যুগ ধরে তীর্থযাত্রার ঐতিহ্য রয়েছে। আমার কাছে ‘মন কি বাত’ও দেশের মানুষের নানা প্রচেষ্টাকে কাছ থেকে জানার এবং তাদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি তীর্থযাত্রার থেকে কম নয়। বন্ধুরা, যাঁরা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বাঁচেন, তাঁরা নিজেরাই এক একটি তীর্থের স্বরূপ। বারো বছরে দেশের প্রতিটি কোণ থেকে এমন অনেক মানুষ সামনে এসেছেন যাঁদের অসাধারণ কাজগুলোর দিকে সাধারণভাবে সমাজের দৃষ্টি যায় না। এমন অগণিত প্রেরণাদায়ী কাহিনীকে আপনাদের সবার সামনে আনার কাজ করেছে ‘মন কি বাত’।
বন্ধুরা , আমি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক অর্থে দেশের জনগণের আরাধনা করি। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাই আমি। এমন শত শত বার্তা পাই আমি যেখানে মানুষ জানায় যে ‘মন কি বাত’ শুনে তাদের মনে হয়, যেন আমি তাদের মাঝে তাদের পরিবারে বসে একজন পরিবারের সদস্যের মত সবার সঙ্গে কথা বলছি। সকল শ্রোতার এই আত্মীয়তা, আপনাদের এই স্নেহ আমার কাছে অত্যন্ত অমূল্য সম্পদ।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের দেশে এমন অনেক যুগবাহিত দক্ষতা রয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে, এবং আনন্দের বিষয় হল এখন এইসব ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা ধরণের নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হচ্ছে, এগুলোকে আজকের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাঞ্জাবে এমনই একটি প্রচেষ্টা বেশ কিছু সময় ধরে চলছে, এখানে ‘খেতি বিরাসত মিশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান জৈবচাষ এবং ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করতে শুরু করেছে। এই দলের লোকেরা পাঞ্জাবের মালওয়া অঞ্চলে তুলোর প্রাকৃতিক চাষকে উৎসাহিত করতে চাইছিলেন। এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নব-ত্রিঞ্জন’। এর অধীনে এখানে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না করে জৈব তুলো চাষ করা হয়। এখানে প্রাকৃতিক রঙযুক্ত তুলোও চাষ করা হয়, এর ফলে তৈরি সুতো ও কাপড় রঙ করার জন্য আলাদা করে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। আপনি ভেবে দেখুন, এর ফলে পরিবেশের কত বড় উপকার হচ্ছে। বন্ধুরা, কয়েক বছর আগে বুনন শেখানোর একটি স্কুলও চালু করেছিল ‘নব-ত্রিঞ্জন’। এর লক্ষ্য হল বয়নশিল্পের দক্ষতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই স্কুল অনেক নারী-পুরুষের জীবন বদলে দিয়েছে। রমনদীপ কৌরজি এর একজন উদাহরণ। আগে তিনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন কিন্তু স্কুলে প্রশিক্ষণের পর আজ তাঁর পরিচয় একজন দক্ষ বয়নশিল্পী হিসাবে। রেখা রানীজি তো প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগে কখনো তাঁত দেখেনও নি। তাঁর তৈরি শাল ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতিজিকে উপহার দেওয়া হয়েছে।
এভাবেই সুনেহা দেবী জি আগে ঘরের কাজ করতেন কিন্তু আজ তিনি হ্যান্ডলুমে আশ্চর্য ফেব্রিক তৈরি করছেন। রজনী কৌর জি আগে ক্ষেতমজুরির কাজ করতেন, এখন নতুন দক্ষতার ফলে সংসার চালানোর ক্ষেত্রে তার অনেক সাহায্য হচ্ছে। স্কুলে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এমন বহু মহিলা এখন দেশীয় অর্গানিক তুলো থেকে তৈরি সুতো ব্যবহার করে শাল, তোয়ালে এবং অন্যান্য কাপড় তৈরি করছেন। এই প্রচেষ্টার ফলে তাদের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসছে।
কিছু মাস আগে জাতীয় হস্তচালিত তাঁত দিবসে (National Handloom Day) আমারও এই দলটির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। সে সময় কাজের প্রতি তাদের আবেগ ও নিষ্ঠা আমি অনুভব করেছিলাম। আমি সেই পুরো দলটিকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের এখানে প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার এক অতি প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। পূর্বপুরুষেরা আমাদের শিখিয়েছেন যে চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জলধারাগুলির যত্ন নেওয়া আমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। আমি আনন্দিত হই যখন দেখি দেশের কত মানুষ এই ভাবনাকে নিজেদের জীবনের অঙ্গ করে নিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের টিহরি গাড়োয়ালেও এই ভাবনার নিদর্শন দেখা যায়। এখানে মানুষ একসঙ্গে মিলে একটি নদীকে নতুন জীবন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই নদীটি হল ‘হেবল’ (Havel)।
কিছুদিন আগে হেবল (Havel) নদীতে জল কমে আসছিল। আশপাশের প্রাকৃতিক জলের উৎসগুলিও শুকিয়ে যাচ্ছিল। এমন অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামের মানুষ একসঙ্গে হেবল (Havel) নদীকে বাঁচানোর অভিযান শুরু করেন। এই সময়ে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়, মাটির নিচে জল পৌঁছনোর কাজ করা হয় এবং প্রচুর সংখ্যক গাছ লাগানো হয়। আজ এই প্রচেষ্টার ফলে হেবল (Havel) নদী নতুন জীবন পেয়েছে, এবং সেই সঙ্গে কয়েক ডজন প্রাকৃতিক জলের উৎসের পুনরুজ্জীবনেও সহায়তা মিলেছে।
বন্ধুরা, সমাজ যখন এমন ভাবনায় একজোট হয়, তখন পরিবর্তনের গ্যারান্টি নিশ্চিত হয়ে যায়। এর একটি ঝলক আমরা আমাদের উৎসবগুলিতেও দেখতে পাই। আর কয়েক দিন পরেই দীপাবলি ও পবিত্র ছট উৎসব আসছে। এর জন্য বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হচ্ছে। আমরা যেখানে বাস করি, সেখানকার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখা জরুরি। আমাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টাই আমাদের চারপাশে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, উৎসবের এই মরসুমে আপনারা সবাই নিশ্চয়ই নিজেদের চারপাশে একটি পরিবর্তন অনুভব করেছেন। এখন মানুষ কেনাকাটার সময় স্বদেশী পণ্যকে খুব গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। ‘ভোকাল ফর লোকাল’ (Vocal for Local)-এর এই ভাবনা এখন আমাদের পণ্যকে বিশ্বের বাজারে পৌঁছে দিচ্ছে। বিহারের পূর্ণিয়ার মাখানা এখন গ্রিসে পৌঁছে যাচ্ছে। কর্নাটকের কলবুর্গির অড়হর ডাল এখন মালদ্বীপে যাচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতের কৃষকদের জন্য বিশ্বে নতুন নতুন বাজার খুলে যাচ্ছে।
বন্ধুরা, স্থানীয় পণ্যের কথা বলতে গিয়ে আমি আরও একটি বিষয়ের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। যেকোনো পণ্যের গুণমানের পাশাপাশি তার প্যাকেজিংও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আমরা বাজারে কোনো জিনিস দেখলে তার সুন্দর প্যাকেজিং দেখেই সেটি হাতে তুলে নিই। প্যাকেজিং দেখেই আমরা সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে চাই। এই কথা বুঝেই এখন প্যাকেজিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বন্ধুরা, মহারাষ্ট্রে জনজাতি সম্প্রদায়গুলি নিজেদের তৈরি পণ্যের প্যাকেজিংয়ের ওপর অনেক মনোযোগ দিয়েছে। এখানে ‘শবরী ন্যাচারালস’ (Shabari Naturals)-এর মাধ্যমে মধু, মহুয়া, চিরঞ্জি এবং বাঁশ থেকে তৈরি পণ্য বাজারে আনা হচ্ছে।
এদের প্যাকেজিংয়ে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর শিল্পের ছাপ থাকে। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে এই প্যাকেজিংকে জাপানের উল্লেখযোগ্য গুড ডিজাইন অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। আমাদের যুব বন্ধুরাও এই বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন। যেমন কর্নাটকের বাম্বু স্টার্টআপ। বাঁশ এবং তার চাষের জমি থেকে পাওয়া অবশিষ্ট জিনিসপত্র দিয়ে প্যাকেজিং মেটেরিয়াল তৈরি করা হচ্ছে।
বন্ধুরা, যখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জিনিসপত্রের কথা হয় তখন খাদির সম্বন্ধে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। এই বছর গান্ধী জয়ন্তীতে শুধু ওই একটি দিনেই খাদি গ্রামোদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদিত জিনিসপত্রের বিক্রি হয়েছে ২৮ কোটিরও বেশি। গত বছরের থেকে এটা প্রায় দেড় কোটি টাকা বেশি অর্থাৎ খাদির জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর লাভ সেই সমস্ত মানুষদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে যাদের দক্ষতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে খাদি হ্যান্ডিক্রাফ্টের মতো অনেক জিনিসপত্র তৈরি হচ্ছে। বন্ধুরা, উৎসবের সময়ে আমরা আমাদের পরিবার এবং আপনজনদের জন্য অনেক কিছু কেনাকাটা করি। এইবারও কেনাকাটা করার সময় স্থানীয় কারিগরদের তৈরি জিনিসপত্রকে গুরুত্ব দিন । আপনাদের কেনাকাটার ফলে ওঁদের উৎসাহ বাড়বে। আপনাদের এই আত্মীয়তা ভোকাল ফর লোকাল অভিযানকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে অর্থাৎ যত ভোকাল ফর লোকাল অভিযান এগোবে তত দ্রুত আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নও পূরণ হবে এবং এই কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি যে আপনারা স্থানীয় কারিগরদের তৈরি জিনিসপত্রকে গুরুত্ব দিন, প্রাধান্য দিন।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের দেশের মানুষদের একটি বড় বিশেষত্ব রয়েছে। আমরা নতুন প্রযুক্তিকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পারি। আমরা সহজেই প্রযুক্তিকে নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ করে নিতে পারি। ই-সঞ্জীবনী যোজনা এর একটা বড় উদাহরণ। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপনকে সহজ করার জন্য প্রযুক্তির উন্নততর ব্যবহার কীভাবে করা যায়। এটা দেখে আমি শান্তি পাই যে এর মাধ্যমে এখনো পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ কোটি টেলিকনসালটেশন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট বড়। টেকনোলজির এই শক্তি, আমাদের চিকিৎসকদের এই সেবা মনোভাব এবং দেশবাসীর বিশ্বাসের এটা একটা চমৎকার উদাহরণ।
বন্ধুরা আজ ই-সঞ্জীবনী পরিষেবা নিজের বিরাট নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলিতেও পৌঁছে গেছে। এর মাধ্যমে লাভবান হওয়া লোকজনের গল্প আপনাদের আবেগতাড়িত করবে। আন্দামান-নিকোবরের বারাটাং দ্বীপে জারোয়া জনজাতির ওহো-তাহানের খুব জ্বর ছিল। ওর নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। এমন সময় স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা ই-সঞ্জীবনীর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছিল, এবং যখনই ও সঠিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এলো তখন ওর শারীরিক পরিস্থিতির অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উন্নতি হল।
বন্ধুরা লাক্ষা দ্বীপের কল্পেনিতে প্রায় ৬০ বছর বয়সী কুনহি কোয়াজির শরীরও একদিন হঠাৎ করে খারাপ হয়ে যায়। তখন সমুদ্রের অপরপ্রান্তে কবরেত্তিতে থাকা একজন ভালো চিকিৎসকের সঙ্গে ইসঞ্জীবনীর মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলো। এই চিকিৎসক স্থানীয় চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানকারী সদস্যদের গাইড করলেন এবং কুন্হি কোওয়াজির শরীর সুস্থ হল। লাদাখের যাঁস্করের কুনজং ডোলমাজির গর্ভাবস্থার সময়ে কিছু জটিলতা দেখা গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ইসঞ্জীবনীর সুবিধা ওর কাজে লেগেছিল এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে উনি দ্রুত সাহায্য পেয়েছিলেন। নাগাল্যান্ডের পেরেন এ ১২ বছরের মুশেমের কানে ইনফেকশন হওয়ার কারণে জ্বর ছিল। ইসঞ্জীবনীর মাধ্যমে ওরও সাহায্য হয়। অভিজ্ঞ চিকিৎসক তাড়াতাড়ি ওর রোগ নির্ণয় করেন এবং সঠিক ওষুধের পরামর্শ দেন।
বন্ধুরা, একটা সময় ছিল যখন ডাক্তার দেখাতে, বা সামান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেও অনেক সময় লেগে যেত, অনেক অসুবিধায় পড়তে হতো। আজ দেশব্যাপী প্রায় এক লক্ষ নব্বই হাজার আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির মানুষের জীবনে নতুন নতুন সুবিধা নিয়ে আসছে। এই আরোগ্য মন্দির এক প্রকারে পঞ্চায়েত গুলিকে wellness সেন্টার রূপে বিকশিত করছে। সব থেকে খুশির কথা এটাই যে এখন গ্রামের মানুষেরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছেন যাতে তারা সুস্থ থাকতে পারেন। আর এতে ই-সঞ্জীবনী অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, এই মাসের শুরুতে আমি চেন্নাই গিয়েছিলাম। দেশের অনেক বৈজ্ঞানিক, গবেষক, এবং তরুণ প্রতিভার সঙ্গে সেখানে আমার পরিচয় হয়। আমাদের যুবরা আজ এমন বিষয় এর উপর কাজ করছেন যা সমগ্র মানবজাতির ভবিষ্যৎকে পাল্টে ফেলতে পারে, আর এরকমই একটি ক্ষেত্র হলো ব্রেইন রিসার্চ। IIT Madras এর সঙ্গে যুক্ত সুধা গোপাল কৃষ্ণান ব্রেন সেন্টার উদ্বোধন করেছিলাম, এই সেন্টারটি একটি ব্রেইন ইমেজিং টেকনোলজি প্লাটফর্ম বানিয়েছে যা বিশ্ব দরবারে একটি অনন্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে মানব মস্তিষ্কের হাই রেজোলিউশন ডিজিটাল থ্রিডি চিত্র প্রস্তুত করা সম্ভব। ওদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে ১০০ টি হিউম্যান ব্রেনের থ্রিডি ম্যাপিং করে তার খুঁটিনাটি অধ্যয়ন করা। সমগ্র বিশ্বে এই ধরনের মিশন এই প্রথম। এই কাজে সুপার কম্পিউটার পরম শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্ধুরা, এই ব্রেন সেন্টার নির্মাণে দেশের ইন্ডাস্ট্রি সরকারের সঙ্গে মিলে বড় ভূমিকা পালন করেছে। আই আই টির অনেক প্রাক্তনী আর শিক্ষাবিদেরাও এই রিসার্চ সেন্টারের জন্য একত্রিত হয়েছেন। এই প্রজেক্টটি এতটা গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য, কারণ বিজ্ঞানের এত উন্নতি সত্ত্বেও মানব মস্তিষ্ক আজও একটি বড় বৈজ্ঞানিক ধাঁধা। আজও অ্যালঝাইমার এবং ডিমেনশিয়ার মত অসুখ আছে যার কোন প্রকৃত চিকিৎসা নেই। তাই বিজ্ঞান মানব মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়া কে যত গভীরতার সঙ্গে বুঝতে পারবে ভবিষ্যতে ততই নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এটাও ঠিক করা হয়েছে যে, ১০০ মানব মস্তিষ্কের এই তথ্য ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য ওপেন সোর্স হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
বন্ধুরা, এই ধরনের অ্যাডভান্স রিসার্চে অরগ্যান ডোনেশনের অনেক বড় ভূমিকা থাকে। যে সমস্ত মানুষ জীবন সম্পূর্ণ করার পর অঙ্গদান করে যান তারা আরো অনেক মানুষের জীবন যেমন বাঁচান তেমনি গবেষণাও সম্ভব করে তোলেন। এরকম একটি উদাহরণ হল মধ্যপ্রদেশের নর্মাদাপুরম এর শিবানীজির। শিবানী জি একটি পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। পরিবারের উপর বিপদ এসে পড়ে কিন্তু এই কঠিন সময়ও ওনার পরিবার একটি এমন সিদ্ধান্ত নেয় যা আমাদের সবার জন্য একটি প্রেরণা। এই সিদ্ধান্ত ছিল শিবানীজীর অঙ্গদান এর। শিবানীজীর পরিবারের এই সিদ্ধান্ত সমাজ এবং দেশের কাছে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেয়। মানবতার এমন একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে কোনো পরিবারে খুশি আবারো ফিরে আসতে পারে এবং এর সঙ্গে গবেষণার কাজেও অনেক বড় সাহায্য পাওয়া যায়।
আমার প্রিয় দেশবাসী চেন্নাই এ আমার সফরের আরো অনেক অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। আমার প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল মেট্রোতে যুবকদের সঙ্গে কথোপকথন। যদিও পরবর্তী প্রোগ্রাম ছিল আইআইটি মাদ্রাজে আমার সফর। এই সময় এটা দেখা অনেক বেশি আনন্দের ছিল যে আমাদের যুবশক্তি কিভাবে প্রবলেমের ইনোভেটিভ সলিউশনস এর উপর কাজ করছে।
যেই স্টার্ট-আপগুলির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি সোনার গুণমান পরীক্ষা করার কাজ করে। এর ফলে সোনা কেনার সময় যে প্রতারণা গুলি হয় তার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যুবদের একটি দল, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম নিয়েও কাজ করছে, যার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হবে। অন্য একটি দল সার্ভাইকাল ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে AI কীভাবে সাহায্য করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করছে। বন্ধুরা, IIT-এর সঙ্গে মতবিনিময় সম্পূর্ণভাবে ডিপ-টেকের উপর কেন্দ্রীভূত ছিল। এই স্টার্ট-আপগুলি IIT মাদ্রাজের ইনকিউবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাহায্য পেয়ে চলেছে। এদের মধ্যে একটি স্টার্ট-আপ সমুদ্রের উপর দিয়ে চলাচল করতে সক্ষম বৈদ্যুতিক যান তৈরি করছে। অন্য একটি স্টার্ট-আপ, ড্রোন এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য দ্রুত চার্জ হতে পারে, এমন ব্যাটারি তৈরি করছে। আর একটি দল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বা ডিফেন্স টেকনোলজিতে AI-এর ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে।
বন্ধুরা, আজ আমাদের যুবরা এত অসাধারণ কাজ করতে পারছে, কারণ তারা সঠিক পরিবেশ ও সহায়তা পাচ্ছে। নাহলে আমাদের দেশে প্রতিভার কখনও অভাব ছিল না। আর মাত্র কয়েক দিন পর, ৩১শে অক্টোবর, ভারতের অন্যতম মহান বিজ্ঞানী নরিন্দর সিং কাপানি জির ১০০তম জন্মজয়ন্তী। বিশ্ব তাঁকে ‘ফাইবার অপটিক্সের জনক’ হিসেবে চেনে। তাঁর জন্ম পাঞ্জাবের মোগা জেলায় হয়েছিল। আলোকরশ্মিকে সূক্ষ্ম ফাইবারের মাধ্যমে অনেক দূরে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তিতে তাঁর উন্নত গবেষণা যোগাযোগের জগতকে এক নতুন পথ দেখিয়েছিল। আজ ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের যে যুগে আমরা বাস করছি, ফাইবার অপটিক্স ছাড়া সেই যুগের কথা কল্পনা করাও অত্যন্ত কঠিন। আজ এই উপলক্ষে আমরা নরিন্দর সিং কাপানি জিকে প্রণাম জানাই। আমি চাই, আমাদের যুবরা কাপানি জির মতো বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে পড়ুক, জানুক এবং তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিক।
বন্ধুরা, আর কয়েক দিন পর, ৩১শে অক্টোবর, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল জির জন্মজয়ন্তী। এই দিনটি দেশে ‘জাতীয় ঐক্য দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এই উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘একতা দৌড়’ অর্থাৎ ‘রান ফর ইউনিটি’-র আয়োজন করা হয়। ‘রান ফর ইউনিটি’ আমাদের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার এবং দেশের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি অত্যন্ত বড় সুযোগ। আপনাদের সকলের কাছে আমার অনুরোধ, এ বছরও ‘রান ফর ইউনিটি’-তে আরও বেশি সংখ্যায় অংশ নিন। নিজেদের পরিবার, বন্ধু এবং কাছের মানুষদেরও এর সঙ্গে যুক্ত করুন।
বন্ধুরা, আপনাদের মনে আছে, ভারতের আহ্বানে ২০২৩ সালকে ‘আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হয়েছিল। এই উদ্যোগ সারা বিশ্বে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষ জানতে পেরেছিলেন, সুপারফুড শ্রীঅন্ন, অর্থাৎ মিলেট আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে কত গভীরভাবে যুক্ত। উত্তর-পূর্ব ভারতেও মিলেট চাষের এক ধারাবাহিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এই চাষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে।
বন্ধুরা, মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া হিলস জেলায় খন্দুলী নামে একটি গ্রাম রয়েছে। এখানে বহু প্রজন্ম ধরে মিলেট, স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু সময় ধরে এখানে মিলেট চাষ করা কৃষকের সংখ্যা কমে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে এখানকার দুই বান্ধবী একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁরা মিলেট থেকে নতুন খাদ্যপণ্য তৈরির উপর গুরুত্ব দেন। মিলেটের মূল্য সংযোজন করে তাঁরা কুকিজ, কেক ও মাফিনের পাশাপাশি মিলেট দিয়ে তৈরি শিশুখাদ্য তৈরি করেন।
এর ফলে মিলেট থেকে তৈরি জিনিসের বিক্রি বাড়ল, ফলে মিলেটের চাহিদাও বাড়তে শুরু করল, ফলে এখানকার কৃষকেরা আবার মিলেট চাষ শুরু করলেন। বন্ধুরা, মেঘালয়ের পশ্চিম গারো হিলস জেলায় সাদলপাড়া গ্রামে এক নতুন প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এখানকার কৃষক চেক জিং সাংমা জি মিলেটের গুরুত্ব বুঝে আধুনিক পদ্ধতিতে মিলেট চাষ শুরু করেছে। এতে তাঁর আয় বেড়েছে, পাশাপাশি গ্রামেও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। এভাবেই নাগাল্যান্ডে কোহিমার কাছে কেজোমা নামক গ্রাম আছে, এই গ্রামে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মিলেট চাষ বন্ধ ছিল, যার ফলে একটি পুরো প্রজন্ম এই পরম্পরাগত ফসল থেকে অজ্ঞ থেকে গেছে। ভাবুন, যে ফসল তাঁদের দাদু-ঠাকুরমারা উৎপাদন করতেন, তাকেই গ্রামবাসীরা ভুলতে বসেছিলেন। ২০২৪ সালে এখানকার মানুষেরা মিলেটের চাষ আবার শুরু করেন। ২০২৫-এ কেজোমা মিলেট উৎসব পালন করে। এখন এখানেও মিলেট থেকে তৈরি জিনিসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বন্ধুরা, মিলেট চাষের সঙ্গে যুক্ত উদাহরণ নিজেই বড় বার্তা দিচ্ছে, এই উদাহরণগুলো বলে, কীভাবে আমাদের যুব প্রজন্ম পরম্পরাগত ফসলগুলিকে নতুন সুযোগের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন, আর কিভাবে আমাদের গ্রাম ঐতিহ্যকে রক্ষা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, কাল ২৬ অক্টোবর মহর্ষি বাল্মীকি জয়ন্তী। হাজার হাজার বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু মহর্ষি বাল্মীকিজির রামায়ণ আজও আমাদের কিছু নতুন শিক্ষা দেয়। মহর্ষি বাল্মীকি রামায়ণের মাধ্যমে আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। একদিকে নিরন্তর চেষ্টা করে যাওয়ার বার্তা অন্যদিকে সেবা, করুণা, এবং সামাজিক ঐক্যের গুরুত্ব বোঝায়। বাল্মীকি রামায়ণে ভগবান রামের চরিত্র, এই সমস্ত মূল্যবোধের সুন্দর উদাহরণ। ভগবান রাম শবরী মায়ের ভালোবাসা এবং ভক্তিকে গ্রহণ করেছেন, নিষাদরাজের বন্ধুত্বকে সম্মান দিয়েছেন—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার এই আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায়। এই ভাবনার ছবি অযোধ্যার সুদৃশ্য রামমন্দিরে দেখা যায়, এখানে মহর্ষি বাল্মীকি, নিষাদরাজ এবং মাতা শবরীর মন্দির তৈরি করা হয়েছে। আমি ভীষণ খুশি যে অযোধ্যার Airport-এর নামও মহর্ষি বাল্মীকিজির নামে রাখা হয়েছে। এই প্রচেষ্টা আমাদের মহান পরম্পরাকে সমৃদ্ধ করে। যাতে সেবা, ঐক্য, আর করুণাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে।
আমার প্রিয় দেশবাসী, ভারতের মাটিতে এমন বহু মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে যাঁরা নিজেদের এক অমলিন ছাপ রেখে গেছেন। তেমনই এক মহান ব্যক্তিত্ব হলেন— ভাই পরমানন্দ জী। আর কয়েক দিন পরেই ৪ঠা নভেম্বর আমরা তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করব। ভাই পরমানন্দ জীর অনুপ্রেরণা ও আদর্শের এক অন্যতম প্রধান উৎস ছিল আর্য সমাজের সাথে তাঁর গভীর সংযোগ। বিংশ শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকেই ভাই পরমানন্দ জী আর্য সমাজের কাজের সূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। সেখানে শ্রদ্ধেয় বাপুজীর সাথেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি গায়ানায় গিরমিটিয়া সমাজের জন্যেও কাজ করেছিলেন, যা সেই সময় আর্য সমাজের একটি বড় কেন্দ্র ছিল। আমারও গায়ানা সফরের সময় আর্য সমাজের সেই স্মারকে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
বন্ধুরা, ভাই পরমানন্দ জী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে, ভাই পরমানন্দ জীই লালা হরদয়াল জীকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য রাজি করিয়েছিলেন। তিনি গদর পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন। স্বাধীনতার লড়াইয়ে তাঁর প্রভাব এতটাই বেশি ছিল যে ব্রিটিশরা তাঁকে কালাপানির সাজা দেন। তাঁর একটি বই রয়েছে— 'আপবীতী: কালে পানি কি কারাবাস কহানী' (আত্মকথা: কালাপানির বন্দিজীবনের কাহিনী)। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের গভীরতা উপলব্ধি করার জন্য এই বইটি অবশ্যই পড়া উচিত। সাজা সমাপ্ত হওয়ার পর ভাই পরমানন্দ জী শিক্ষার জগতে পা রাখেন। আপনারা জেনে অবাক হবেন যে তিনি বীর ভগৎ সিংকেও পড়িয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি কিছু বছর হিন্দু মহাসভার সাথেও যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ গান্ধী জী থেকে গায়ানা, আর গদর আন্দোলন থেকে আন্দামান পর্যন্ত তাঁর জীবন ও ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ী। আমি, ভাই পরমানন্দ জীকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করছি। তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, আপনারা তাঁর সম্পর্কে জানুন এবং অন্যদেরও জানতে অনুপ্রাণিত করুন।
আমার প্রিয় দেশবাসী, আগামী দিনগুলোতে দীপাবলি, ছট মহোৎসব এবং আরও অনেক উৎসবের আনন্দ ও আলো ছড়িয়ে পড়বে। আপনারা সুস্থ ও নিরাপদে থেকে পুরো পরিবারের সাথে উৎসব উদযাপন করুন, আর অন্যদেরও নিজেদের এই আনন্দে শামিল করে নিন। আমি আপনাদের সকলকে আসন্ন উৎসবগুলোর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। বরাবরের মতো এবারও আমি আপনাদের বার্তা ও মতামতের অপেক্ষায় থাকব। আপনাদের মতামতের মাধ্যমেই 'মন কি বাত' নতুন নতুন বিষয় খুঁজে পায়, পায় নতুন এক দিশা। আগামী মাসে আমরা আবারও মিলিত হব দেশবাসীর নতুন নতুন উদ্যোগ আর নতুন সব অনুপ্রেরণাদায়ী কাহিনী নিয়ে। অনেক অনেক ধন্যবাদ। নমস্কার।