পোস্ট করার দিনক্ষণ:
23 OCT 2026 11:42AM by PIB Agartala
নতুন দিল্লি, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেস মইনসে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার ফাউন্ডেশনের (WFPF) মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতের কৃষি গবেষণার উৎকর্ষ তুলে ধরলো ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস (NAAS), নতুন দিল্লি। ‘২০২৬ নরম্যান ই. বোরলগ আন্তর্জাতিক সংলাপ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল—‘ক্ষুধা জয়ী হওয়ার আগেই’ (Before Hunger Wins)।
বিশেষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে NAAS এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চের (ICAR) উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাগুলি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, গ্লোবাল ইয়ুথ ইনস্টিটিউট (GYI)-এ তরুণ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, কৃষি উচ্চশিক্ষা বিষয়ে একটি বিশেষ গোলটেবিল বৈঠক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল ফর অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (CAST)-এর সঙ্গে NAAS-এর একটি সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষর ছিল এই অংশগ্রহণের উল্লেখযোগ্য দিক।
NAAS-YUVA নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত সাতজন স্কুলপড়ুয়া বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার ফাউন্ডেশনের GYI কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে নিজেদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দেশের সমবয়সি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও সুস্থিত কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের সুযোগ পায়। আমিনা নাজরিন এ. এস. GYI পুরস্কার হিসেবে ৫০০ মার্কিন ডলার নগদ অর্থ জিতে নেন। তাঁর এই সাফল্য NAAS ও ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের তরুণ প্রতিভার সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।
NAAS-এর প্রদর্শনী স্টলে অ্যাকাডেমি ও ICAR-এর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাগুলি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারতের বৈজ্ঞানিক অবদান বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। এই উদ্যোগ ভারতীয় কৃষি গবেষণা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক পরিসরে গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়।
এর আগে, ২০২৬ সালের নরম্যান ই. বোরলগ আন্তর্জাতিক সংলাপের পাশাপাশি ‘কৃষি উচ্চশিক্ষা’ বিষয়ে একটি বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কৃষি শিক্ষার রূপান্তর ঘটানোর লক্ষ্যে ভারতীয় কৃষিবিদ ও কৃষি পেশাজীবীদের প্রবাসী সম্প্রদায়কে আলোচনায় যুক্ত করা হয়।
বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে NAAS-এর সভাপতি, কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা বিভাগের (DARE) সচিব এবং ICAR-এর মহাপরিচালক ড. এম. এল. জাত বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম ভবিষ্যৎ পেশাজীবী গড়ে তুলতে কৃষি উচ্চশিক্ষাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
ড. জাত উৎপাদনকেন্দ্রিক কৃষির প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিত কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা এবং মূল্যশৃঙ্খলভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সহযোগিতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক স্তরে জ্ঞান বিনিময় এবং ভারতীয় কৃষি পেশাজীবীদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। এই উদ্যোগগুলি শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কৃষি গবেষণা ও শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিগত আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে NAAS-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছিল NAAS ও CAST-এর মধ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর। কৃষি গবেষণা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য।
তরুণ অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে এবং অ্যাকাডেমির আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. জাত বলেন, সুস্থিত কৃষি ও বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্ভাবনী সমাধান গড়ে তুলতে তরুণ প্রতিভার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগ কৃষি গবেষণা, শিক্ষা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষত দক্ষিণী বিশ্বের দেশগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
*****
PS/AL