PIB Backgrounder
যক্ষ্মামুক্ত ভারতের পথে
অগ্রগতি, উদ্ভাবন ও সামাজিক অংশগ্রহণ
প্রকাশিত:
13 OCT 2026 4:48PM by PIB Kolkata
নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
যক্ষ্মার বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে প্রতি বছর নতুন যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক স্তরে এই হ্রাসের হার ১২ শতাংশ। ভারতে যক্ষ্মার চিকিৎসার আওতা ৯২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক স্তরে এই হার ৭৮ শতাংশ। জোরদার TB Mukt Bharat Abhiyaan-এর মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত মোট ২৮.১ কোটি মানুষের যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে TB Preventive Treatment (TPT) দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ৫.৭ লক্ষ Ni-kshay Mitra যুক্ত হয়েছেন। ৪৬,১১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত যক্ষ্মামুক্ত শংসাপত্র পেয়েছে।
হাতে বহনযোগ্য যন্ত্রের সাহায্যে এক্স-রে পরীক্ষার সংখ্যা ৩৪ গুণ বৃদ্ধি, AI চ্যাটবট ‘Khushi’ সমন্বিত TB Mukt Bharat App-এর সূচনা এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীদের জন্য কম সময়ের, নিরাপদ BPaLM চিকিৎসাপদ্ধতি চালু করার মাধ্যমে জাতীয় উদ্যোগ আরও গতি পেয়েছে। BPaLM চিকিৎসাপদ্ধতিতে Bedaquiline, Pretomanid, Linezolid এবং Moxifloxacin ব্যবহার করা হয়। এর পাশাপাশি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রাথমিক রোগী বাছাইয়ের সরঞ্জামও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই অগ্রগতির ভিত্তিতে JOSH (Joint Squad for Health) প্রচারাভিযান তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকে একত্রিত করছে। যক্ষ্মা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি রোগটিকে ঘিরে সামাজিক কলঙ্ক দূর করাই এর লক্ষ্য। সামাজিক অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত উদ্যোগকে শক্তিশালী করে এই প্রচারাভিযান যক্ষ্মামুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে জন আন্দোলন পদ্ধতিকে আরও জোরদার করছে।
ভূমিকা
ভারত যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। World Health Organization-এর Global Tuberculosis Report 2025 অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে প্রতি বছর নতুন যক্ষ্মা আক্রান্তের সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই হ্রাসের হার ১২ শতাংশ। ভারতে যক্ষ্মার চিকিৎসার আওতা ৯২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক স্তরে এই হার ৭৮ শতাংশ।
যক্ষ্মা নির্মূলে সমাজকে একত্রিত করতে JOSH প্রচারাভিযান
যক্ষ্মা নির্মূলের এই অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে ২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর দেশজুড়ে একটি সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়। এর অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ১১টি রাজ্যের ৫৫টি জেলায় JOSH (Joint Squad for Health) Team গঠন করা হয়। প্রতিটি JOSH দলে MY BHARAT স্বেচ্ছাসেবক, National Cadet Corps-এর ক্যাডেট এবং একজন নির্দিষ্ট Class-I আধিকারিক রয়েছেন। সময়মতো যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের কাজ।
এই কাঠামোর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে তৃণমূল স্তরে সচেতনতা তৈরির কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। সমস্ত মন্ত্রক, বিভাগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান, MY Bharat স্বেচ্ছাসেবক, যুব সংগঠন, ছাত্রছাত্রী এবং নাগরিকদের এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, ছবি, ভিডিও এবং অনুপ্রেরণামূলক কাহিনির মাধ্যমে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্যোগ তুলে ধরে যক্ষ্মা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রোগমুক্ত সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যক্ষ্মা ও তার উপসর্গ
যক্ষ্মা কী?
Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে যক্ষ্মা বা Tuberculosis (TB) হয়। সাধারণত এই রোগ ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। তবে মস্তিষ্ক, বৃক্ক বা মেরুদণ্ডের মতো শরীরের অন্যান্য অংশেও যক্ষ্মা হতে পারে।
এই ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তা হয় না। নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মা বা সুপ্ত যক্ষ্মা সংক্রমণের ঘটনাও রয়েছে। নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সক্রিয় যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো সাধারণত অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়ান না। তবে তাঁদের যে কোনও সময় সক্রিয় যক্ষ্মা হতে পারে এবং তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। শিশু, সদ্যোজাত এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সংক্রমিত হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। যথাযথ চিকিৎসা না হলে সক্রিয় যক্ষ্মা প্রাণঘাতী হতে পারে।
যক্ষ্মার উপসর্গ
সক্রিয় যক্ষ্মার উপসর্গ সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা আক্রান্ত অঙ্গের উপর নির্ভর করে। তবে সব ধরনের যক্ষ্মার ক্ষেত্রেই কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা যেতে পারে।
সক্রিয় বা উপসর্গযুক্ত যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা অন্যদের মধ্যে যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারেন। তাঁরা কাশি দিলে, হাঁচি দিলে বা কথা বললে ব্যাকটেরিয়াযুক্ত অতি ক্ষুদ্র জলকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাছাকাছি থাকা অন্য ব্যক্তিরা শ্বাসের সঙ্গে সেই জলকণা গ্রহণ করলে সংক্রমিত হতে পারেন। বিশেষ করে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা দুর্বল এমন বদ্ধ স্থানে সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি।
যক্ষ্মা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ালেও নিম্নলিখিত উপায়ে সংক্রমণ ঘটে না:
- করমর্দন।
- সর্বসাধারণের শৌচাগার ব্যবহার।
- একসঙ্গে খাবার খাওয়া বা বাসনপত্র ভাগ করে ব্যবহার।
- দৈনন্দিন সামাজিক মেলামেশা।
ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত অন্তত দুই সপ্তাহ যথাযথ যক্ষ্মার ওষুধ গ্রহণের পর অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা হারান। ফুসফুস ছাড়া শরীরের অন্য অংশে যক্ষ্মা হলে সাধারণত সেই রোগীর মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
যক্ষ্মার উপসর্গ দেখা দিলে কী করবেন?
National TB Elimination Programme-এর অধীনে সারা দেশের সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বহু বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরিষেবা দেওয়া হয়। আপনার অথবা পরিচিত কারও মধ্যে যক্ষ্মার উপসর্গ দেখা দিলে:
- বিনামূল্যের Ni-kshay Sampark TB & Hepatitis হেল্পলাইনে ১৮০০-১১-৬৬৬৬ নম্বরে ফোন করে পরামর্শ নিন এবং নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সরকারি কর্মসূচির অধীনে যক্ষ্মা নির্ণয় ও চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
- উপসর্গ এবং কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে Android ফোনে TB Aarogya Sathi App ডাউনলোড করতে পারেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে যক্ষ্মা নির্ণয় ও চিকিৎসার নিকটবর্তী কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যায়। পাশাপাশি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং যক্ষ্মা রোগীদের পুষ্টি সংক্রান্ত পরামর্শও পাওয়া যায়।
ভারতে যক্ষ্মা নির্মূলের কৌশলগত পরিকল্পনা
সরকার Sustainable Development Goal 3 (SDG 3)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যক্ষ্মা নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যের উদ্দেশ্য সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা।
২০২০ সালের জুনে ঘোষিত National Strategic Plan to End TB in India 2020-25-এর লক্ষ্য চারটি স্তম্ভের মাধ্যমে যক্ষ্মা নির্মূল করা। এই চারটি স্তম্ভ হল Build, Prevent, Detect এবং Treat। পরিকল্পনায় দ্রুত রোগ নির্ণয়, সংক্রমণ হ্রাস, উপযুক্ত ওষুধ ও চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগীদের সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচি
২০২০ সালে ভারত সরকার Revised National Tuberculosis Control Programme (RNTCP)-এর নাম পরিবর্তন করে National TB Elimination Programme (NTEP) রাখে। ২০৩০ সালের আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রার আগেই যক্ষ্মা নির্মূল করার ভারতের লক্ষ্য এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
NTEP, National Strategic Plan-এর চারটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। সেগুলি হল Detect, Treat, Prevent এবং Build।
এই কর্মসূচির প্রধান কার্যক্রমগুলি হল:
- উন্নত মানের পরীক্ষার মাধ্যমে যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত না হওয়া রোগীদের খুঁজে পেতে সক্রিয়ভাবে সমাজের কাছে পৌঁছনো।
- ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা-সহ সব ধরনের যক্ষ্মার জন্য মাননিয়ন্ত্রিত ওষুধ এবং উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা।
- বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় গড়ে তোলা।
- সরাসরি আর্থিক সহায়তা এবং Ni-kshay Mitra উদ্যোগের মাধ্যমে রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুষ্টির ব্যবস্থা করা।
- পরিবারের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণ অনুসন্ধান এবং যক্ষ্মা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্য, শিশু, HIV-সহ বসবাসকারী ব্যক্তি (PLHIV) এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা অসুরক্ষিত জনগোষ্ঠী।
- বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ।
- রোগের সামাজিক নির্ধারকগুলি মোকাবিলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমন্বয়ে উদ্যোগ গ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রী যক্ষ্মামুক্ত ভারত অভিযান
NTEP-এর একটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর Pradhan Mantri-TB Mukt Bharat Abhiyaan বা TB-Free India Campaign শুরু হয়। সমাজের সব স্তরের মানুষকে জন আন্দোলনের মাধ্যমে একত্রিত করা এবং যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
এর প্রধান লক্ষ্যগুলি হল:
- চিকিৎসার ফল উন্নত করতে যক্ষ্মা রোগীদের অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান।
- সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
- Corporate Social Responsibility (CSR)-এর ব্যবহার।
নিক্ষয় পোষণ যোজনা এবং Ni-kshay Mitra কর্মসূচি
যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় রোগীদের উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া Nikshay Poshan Yojana-এর অধীনে নথিভুক্ত প্রত্যেক যক্ষ্মা রোগীকে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ১.৩৮ কোটি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মোট ৪,৪৫৪.৬৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
যক্ষ্মার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। অন্তত ছয় মাস চিকিৎসা চলে এবং কখনও কখনও তার থেকেও বেশি সময় লাগে। Ni-kshay Mitra হলেন একজন ‘যক্ষ্মা বন্ধু’ বা সহায়তাকারী, যিনি চিকিৎসার এই সময়ে যক্ষ্মা রোগীদের পাশে থাকেন। ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, কর্পোরেট সংস্থা, ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠী, সরকারি আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় Ni-kshay Mitra হতে পারেন।
১০০ দিনের যক্ষ্মামুক্ত ভারত অভিযান
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৩৪৭টি উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জেলায় ১০০ দিনের TB Mukt Bharat Abhiyaan শুরু করে। এটি ভারতের অন্যতম নিবিড় যক্ষ্মা নির্মূল অভিযান।
দ্রুত যক্ষ্মা শনাক্ত করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করা এবং পদ্ধতিগতভাবে তাঁদের পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জন আন্দোলনের মাধ্যমে ৩০,০০০-এরও বেশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং ২৪টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। Ni-kshay Mitra-দের সহায়তাও পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে যক্ষ্মা নির্মূলে সমগ্র সমাজ ও সমগ্র সরকারি ব্যবস্থাকে যুক্ত করার পদ্ধতি প্রতিফলিত হয়েছে। TB Mukt Bharat Abhiyaan-এর কৌশলগুলি এখন দেশের সমস্ত জেলায় সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই জোরদার অভিযানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ২৮.১ কোটিরও বেশি মানুষের যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয়েছে, ২০ লক্ষ মানুষকে TB Preventive Treatment (TPT) দেওয়া হয়েছে এবং ৫.৭ লক্ষ নতুন Ni-kshay Mitra যুক্ত হয়েছেন।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১.২ লক্ষ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাম ও ওয়ার্ডে ১.৭ লক্ষেরও বেশি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির আয়োজন করা হয়েছে। এই উদ্যোগে ৩২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং ১.৯ লক্ষ MY Bharat স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। TB Mukt Bharat Abhiyaan-এর অধীনে চিকিৎসার সাফল্যের হার বেড়ে ৯০ শতাংশ হয়েছে। আন্তর্জাতিক গড় ৮৮ শতাংশের তুলনায় এই হার বেশি।
নতুন উদ্যোগ
ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগীদের জন্য এই কর্মসূচির অধীনে নতুন, কম সময়ের, নিরাপদ এবং অত্যন্ত কার্যকর BPaLM চিকিৎসাপদ্ধতি শুরু হয়েছে। এতে Bedaquiline, Pretomanid, Linezolid এবং Moxifloxacin ব্যবহার করা হয়। এর ফলে চিকিৎসার সময় কমে ছয় মাস হবে। ১৫,০০০-এরও বেশি MDR/RR-TB রোগীর এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
যক্ষ্মা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা: প্রতিরোধের গুরুত্ব চিকিৎসার সমান, এই বিষয়টি স্বীকার করে যোগ্য উপভোক্তাদের TB Preventive Treatment (TPT) দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য যক্ষ্মার সংক্রমণকে সক্রিয় রোগে পরিণত হওয়া থেকে আটকানো। নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে পরিবারের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি এবং HIV-সহ বসবাসকারী মানুষকে (PLHIV) TPT দেওয়া হয়েছে। সক্রিয়ভাবে রোগী খোঁজার নিবিড় প্রচারাভিযানের সঙ্গেও এই উদ্যোগকে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের বৃহত্তর কাঠামোর অধীনে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির হল সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সকলের জন্য সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতে ১,৮৭,২৫০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, AYUSH কেন্দ্র এবং নগর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা কেন্দ্র। AYUSH-এর পূর্ণরূপ Ayurveda, Yoga & Naturopathy, Unani, Siddha and Homeopathy।
যক্ষ্মার উপসর্গ দেখা দিলে মানুষ এই কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে রোগ নির্ণয়ের পরিষেবা পেতে পারেন।
প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো
দ্রুত যক্ষ্মা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য ভারতে ৯,৮০০-রও বেশি দ্রুত আণবিক পরীক্ষাকেন্দ্র এবং ১০৭টি কালচার ও ওষুধের প্রতি সংবেদনশীলতা পরীক্ষাগার রয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্ক।
অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা হল:
- সমাজের মধ্যে পরীক্ষা চালানোর জন্য AI-সক্ষম ৫০০-রও বেশি হাতে বহনযোগ্য বুকের এক্স-রে যন্ত্র রয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে আরও ১,৫০০টি যন্ত্র পাঠানো হচ্ছে।
- Ni-kshay ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুষ্টি সহায়তার অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
- এক্স-রে পরীক্ষায় ৩৪ গুণ বৃদ্ধি: দেশজুড়ে ব্যাপক সংখ্যায় হাতে বহনযোগ্য এক্স-রে যন্ত্র ব্যবহারের ফলে এই বৃদ্ধি ঘটেছে।
- TB Mukt Bharat App ও ‘Khushi’ Chatbot: সম্প্রতি শুরু হওয়া এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে AI-চালিত চ্যাটবট যুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, উপসর্গ সম্পর্কে নাগরিকদের পরামর্শ এবং নিকটবর্তী রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের সন্ধান দেওয়া হয়।
- দক্ষতা বৃদ্ধি: Truenat ও CBNAAT রোগ নির্ণয় যন্ত্রের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মন্ত্রক National Health Mission-এর অধীনে রেডিওগ্রাফারের পদও বাড়িয়েছে।
AI-নির্ভর উদ্যোগ
স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পরিষেবার সুযোগ এবং গতি উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার যক্ষ্মা শনাক্তকরণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য AI ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত
ভারতে যক্ষ্মার সংক্রমণের হার ধারাবাহিকভাবে কমে আসা প্রমাণ করে, দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। ধারাবাহিক নজরদারি, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমে দেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে, যেখানে যক্ষ্মামুক্ত ভারত শুধু একটি লক্ষ্য নয়, বাস্তবায়নযোগ্য বাস্তবতা।
JOSH সামাজিক মাধ্যম প্রচারাভিযানের লক্ষ্য যক্ষ্মা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগ নির্মূলে সমাজকে একত্রিত করা। বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান, তরুণ প্রজন্ম এবং সমাজকে যুক্ত করে এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে ভারত একটি বিপজ্জনক ও বহুল প্রচলিত রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। এর বৃহত্তর লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলা।
তথ্যসূত্র
Ministry of Health and Family Welfare
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2189415
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2275402®=1&lang=1
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2114549
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=1808582
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2184456
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2081662
https://mohfw.gov.in/?q=en/basicpage-
https://tbcindia.mohfw.gov.in/national-strategic-plan-to-end-tb-in-india-2020-25/
https://dghs.mohfw.gov.in/national-tuberculosis-elimination-programme.php
https://tbcindia.mohfw.gov.in/concept-note/
https://aam.mohfw.gov.in/
https://tbcindia.mohfw.gov.in/wp-content/uploads/2024/10/TB-Report_for-Web_08_10-2024-1.pdf
https://mohfw.gov.in/?q=/press-info/7783
https://www.mohfw.gov.in/?q=en/pressrelease-217
https://tbcindia.mohfw.gov.in/wp-content/uploads/2023/05/4193711960Social-action-plan-2013-Final-7th-Jan-14.pdf
https://tbcindia.mohfw.gov.in/wp-content/uploads/2023/05/4773363959TOG-Chapter-1-Introduction.pdf
PIB Backgrounder
https://www.pib.gov.in/PressReleasePage.aspx?PRID=2244661®=3&lang=1
Click to see pdf
***
SSS/S SAHA.
(রিলিজ আইডি: 2323364)
ভিজিটরের কাউন্টার : 3