কৃষিমন্ত্রক
প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনায় শীর্ষে থাকা জেলাগুলিকে সম্বর্ধনা জানালেন শিবরাজ সিং চৌহান
প্রকাশিত:
12 OCT 2026 7:05PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যখন নীতি প্রণয়ন করা হয় এবং সরকারের সব বিভাগ সেই লক্ষ্যপূরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে উন্নয়নের দৌড়ে কোনো জেলাকেই পিছিয়ে পড়তে হয় না। সোমবার এই কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তিনি নয়াদিল্লির পুসা ক্যাম্পাসে অবস্থিত ভারতরত্ন সি. সুব্রহ্মণ্যম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা নিয়ে এক জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দেন। দেশের ৫০টিরও বেশি জেলার জেলাশাসক, বিজ্ঞানী এবং নীতি-নির্ধারকদের শ্রী চৌহান নবরাত্রির শুভলগ্নে সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং অসাধারণ কর্মদক্ষতা প্রদর্শনকারী জেলাগুলিকে বিশেষ স্বীকৃতি ও অভিনন্দন জানান। তিনি আধিকারিকদের আহ্বান জানান যেন তাঁরা প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নত ও সমৃদ্ধ ভারত’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে চৌহান বলেন প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা-র রূপরেখাটি ক্ষেত্র পর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে জেলাশাসকদের দ্বারা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রক ও সংস্থার প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই সমন্বিত প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে — জল ব্যবস্থাপনার জন্য জল শক্তি মন্ত্রক, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের জন্য খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প মন্ত্রক, যৌথ উদ্যোগকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সমবায় মন্ত্রক ও কৃষক উৎপাদক সংগঠনসমূহ এবং পশুপালন, দুগ্ধ ও মৎস্যচাষ, এমএসএমই ও দক্ষতা উন্নয়ন ক্ষেত্র। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ’-এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৬,০০০ বিজ্ঞানীর গবেষণা এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, কৃষি প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কাজকর্ম সরাসরি কৃষকদের খেত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
শ্রী চৌহান বলেন যে, পিএমডিডিকেওয়াই-এর আওতায় এমন ১০০টি জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যেখানে কৃষি উৎপাদনশীলতা কম, অথবা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রাপ্তির হার অপর্যাপ্ত। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন মিশন মোড বা বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ধান কাটার পর পতিত থাকা জমিতে ডাল ও তৈলবীজ চাষের প্রসার ঘটানো হয়। এসব এলাকায় চাষাবাদ সম্প্রসারিত হলে জমির সঠিক ব্যবহার ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া তিনি কিষান ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের আওতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে পূর্ব ভারত ও অনুন্নত জেলাগুলিতে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদান ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং ভালো মানের বীজ ও সার ব্যবহারের জন্য কৃষকদের পুঁজির সংস্থান বা মূলধনের প্রয়োজন জানিয়ে শ্রী চৌহান বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর তৃতীয় মেয়াদে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে তিনগুণ গতি ও শক্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ এই প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য তার পূর্ণ সামর্থ্য প্রয়োগ করবে।
সম্মেলনে সেরা রূপায়ণকারী জেলাগুলিকে তাদের দৃষ্টান্তমূলক কাজের জন্য স্বীকৃতি জানানো হয়। জেলাগুলি হল – মহারাষ্ট্রের গডচিরোলি, অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারাম রাজু এবং বিহারের বাঁকা। এই জেলাগুলোর পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার, ছত্তিশগড়ের কোরবা এবং পাঞ্জাবের ফাজিলকায় গৃহীত কৃষি-উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগগুলিও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।
এই জাতীয় সম্মেলনে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী রাম নাথ ঠাকুর ও শ্রী ভাগীরথ চৌধুরী, গ্রামোন্নয়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ডঃ চন্দ্র শেখর পেম্মাসানি এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কৃষ্ণ পাল গুর্জর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, জল শক্তি এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
উপস্থিত বরিষ্ঠ আধিকারিকদের মধ্যে ছিলেন কৃষি সচিব অতীশ চন্দ্র; পশুপালন ও দুগ্ধচাষ বিভাগের সচিব নরেশ পাল গাংওয়ার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রকের সচিব অবিনাশ যোশী, ভূমি সম্পদ বিভাগের সচিব দিলীপ কুমার, গ্রামোন্নয়ন সচিব রোহিত কানসাল, জলসম্পদ সচিব অর্চনা ভার্মা এবং আইসিএআর-এর মহানির্দেশক তথা কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা বিভাগের (ডিএআরই) সচিব ডঃ এম. এল. জাট প্রমুখ। বিভিন্ন রাজ্যের কৃষি উৎপাদন কমিশনার ও প্রধান সচিবরা, ৫০টিরও বেশি জেলার জেলাশাসক এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বরিষ্ঠ ক্ষেত্র পর্যায়ের আধিকারিকরা এই আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ নেন।
SC/AB/DM
(রিলিজ আইডি: 2322686)
ভিজিটরের কাউন্টার : 5