আদিবাসীবিষয়কমন্ত্রক
বনাধিকার আইনে ১১ লক্ষ দাবি বকেয়া, দ্রুত নিষ্পত্তিতে আট রাজ্যকে নিয়ে কলকাতায় বৈঠক
বকেয়া দাবি নিষ্পত্তি, স্বীকৃত অধিকার সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্তি এবং বনবাসী পরিবারগুলির জীবিকা ও উন্নয়নে জোর
প্রকাশিত:
10 OCT 2026 12:31PM by PIB Kolkata
নতুন দিল্লি, ১০ অক্টোবর ২০২৬
বনাধিকার আইনের আওতায় বকেয়া দাবির দ্রুত নিষ্পত্তিতে জেলাভিত্তিক সময়সীমা-নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দিল কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক। দেশে এখনও প্রায় ১১ লক্ষ দাবি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায়, এই কাজকে অগ্রাধিকার দিতে আটটি রাজ্যের আধিকারিকদের নিয়ে ৯ অক্টোবর কলকাতায় দ্বিতীয় আঞ্চলিক পর্যালোচনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে খারিজ হওয়া দাবির আইনানুগ পুনর্বিবেচনা, স্বীকৃত বনাধিকার সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সম্প্রদায়গত বনসম্পদের অধিকার ও বিশেষভাবে দুর্বল জনজাতীয় গোষ্ঠীগুলির বাসস্থান-সংক্রান্ত অধিকার স্বীকৃতির কাজ ত্বরান্বিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৫৪ লক্ষেরও বেশি দাবি জমা পড়েছে এবং প্রায় ২৫ লক্ষ স্বত্বপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এখনও প্রায় ১১ লক্ষ দাবি বিভিন্ন পর্যায়ে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে, ১৮ লক্ষেরও বেশি দাবি খারিজ হয়েছে।
সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বনাধিকার আইন, ২০০৬-এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন রাজ্যের অভিজ্ঞতা ও সেরা পদ্ধতিগুলি বিনিময় করাই ছিল এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। বনাধিকার স্বীকৃতির প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশকে তার অনুসরণযোগ্য উদ্যোগ ও সেরা পদ্ধতিগুলি তুলে ধরার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
বনাধিকার আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের আধিকারিকদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বকেয়া দাবিগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি, খারিজ হওয়া দাবির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পর্যালোচনা এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য দাবিদারদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজ্যগুলিকে উদ্যোগী হতে বলা হয়। পাশাপাশি, ইতিমধ্যে স্বীকৃত অধিকার যাতে সরকারি নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে বনাধিকার আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রথম আঞ্চলিক পর্যালোচনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কলকাতার সম্মেলনটি সেই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ারই দ্বিতীয় পর্ব। এর লক্ষ্য, বিভিন্ন রাজ্যের অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অভিন্ন সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা এবং কার্যকর সমাধানের পথ নির্ধারণ করা।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত ভাষণ, মূল বক্তব্য এবং বিশেষ ভাষণের মাধ্যমে বনাধিকার আইনের উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বন ও বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
সম্মেলনে সম্প্রদায়গত বনসম্পদের অধিকার স্বীকৃতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বনসম্পদের সংরক্ষণ, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় বননির্ভর সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সম্প্রদায়গত বনসম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রামসভা ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশেষভাবে দুর্বল জনজাতীয় গোষ্ঠীগুলির (PVTGs) বাসস্থান-সংক্রান্ত অধিকার স্বীকৃতির বিষয়টিও সম্মেলনের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল। এই গোষ্ঠীগুলির ঐতিহ্যগত বাসস্থান, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত অধিকারগুলি বনাধিকার আইনের আওতায় যথাযথভাবে চিহ্নিত ও স্বীকৃত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
স্বীকৃত বনাধিকারগুলিকে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বনাধিকার আইনের আওতায় প্রাপ্ত অধিকার যাতে ভূমি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সরকারি রেকর্ডে যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বনাধিকার সংক্রান্ত নথির ডিজিটাইজেশন এবং তথ্যের সহজলভ্যতা বাড়ানোর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়।
কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের যৌথ পরামর্শের ভিত্তিতে বনাধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়েও আলোচনা হয়। রাজ্যগুলিকে প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুসরণ করে স্বীকৃত অধিকার ও সংশ্লিষ্ট নথির মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে বলা হয়।
ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান (ডিএ-জেজিইউএ)-এর আওতায় বনাধিকার আইনের বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করার জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়। জেলা ও তৃণমূল স্তরের আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ, প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করা এবং যোগ্য দাবিদারদের কাছে অধিকার স্বীকৃতির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সম্মেলনে বনাধিকার আইনয় বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একাধিক পরামর্শ ও নির্দেশিকার বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ২৪ জুন এবং ৫ জানুয়ারি জারি করা পরামর্শগুলির উল্লেখ ছিল। বনাধিকার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়।
বনাধিকার আইন সংক্রান্ত তথ্যের ব্যবস্থাপনা ও পরিষেবা আরও কার্যকর করতে এপিআই, মোবাইল অ্যাপ এবং পোর্টালের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, নথি সংরক্ষণ, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা নিজ নিজ রাজ্যে বনাধিকার আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সাফল্য এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। দাবির নিষ্পত্তি, স্বত্বপত্র বিতরণ, সম্প্রদায়গত বনসম্পদের অধিকার স্বীকৃতি এবং সরকারি নথিতে অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে রাজ্যগুলির অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে বনাধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, বকেয়া দাবির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্বীকৃত অধিকারকে বাস্তবে কার্যকর করার ওপর পুনরায় জোর দেওয়া হয়। বনবাসী ও জনজাতীয় সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা ও উন্নয়নের সুযোগ প্রসারে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
SC/PM/AS
(রিলিজ আইডি: 2321736)
ভিজিটরের কাউন্টার : 10