পরিবেশওঅরণ্যমন্ত্রক
azadi ka amrit mahotsav

এক দশকের নিরলস প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী জয়সলমেরের ডেজার্ট ন্যাশনাল পার্কে কৃত্রিম পরিবেশে লালিত-পালিত 'গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড' (জিআইবি)-কে বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেন

প্রকাশিত: 03 OCT 2026 3:14PM by PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ৩ অক্টোবর ২০২৬

 

অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির পাখি 'গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড' (জিআইবি) সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে, কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভজন লাল শর্মা (ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে) আজ একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার সূচনা করেন। এই প্রক্রিয়ার আওতায় আগামীকাল জয়সলমেরের ডেজার্ট ন্যাশনাল পার্কে কৃত্রিম পরিবেশে লালিত-পালিত দুটি জিআইবি-কে 'সফট-রিলিজ' কেন্দ্র থেকে একটি বড় ঘেরাওযুক্ত এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে। রাজস্থানের রাজ্য-পাখি জিআইবি-এর একটি পর্যাপ্ত সংখ্যা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গত এক দশক ধরে চলা কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণারই ফসল হলো এই 'রিওয়াইল্ডিং' বা বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। বিশিষ্ট অতিথিরা রামদেবরা ও সাম-এ অবস্থিত জিআইবি সংরক্ষণ ও প্রজনন কেন্দ্রের অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন এবং নবনির্মিত 'রিওয়াইল্ডিং অ্যাভিয়ারি' (পাখিদের বন্য পরিবেশে অভ্যস্ত করার বিশেষ খাঁচা)-র উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি, এই অঞ্চলে জিআইবি সংরক্ষণের এক দশকের যাত্রাপথ নিয়ে একটি প্রচারপত্রও প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে রাজস্থানের বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শ্রী সঞ্জয় শর্মার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

রাজস্থানে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জকভাবে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে গুজরাটেও একটি সফল ‘জাম্পস্টার্ট’ (প্রাথমিক গতিদানকারী) উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সম্প্রতি গুজরাটের কচ্ছ জেলার নালিয়ায় অবস্থিত ‘সফট রিলিজ’ (বন্য পরিবেশে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে ছাড়া) কেন্দ্র ও সংরক্ষণ সুবিধাটি পরিদর্শন করেছেন। পাখিটিকে আগামীকাল মুক্ত করার ঘটনাটি ভারতের জিআইবি সংরক্ষণ কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করবে। এর মাধ্যমে সংরক্ষণ-প্রজননের মাধ্যমে একটি টেকসই জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার পর্যায় থেকে সরে এসে প্রজাতিটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে পুনরায় বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনা (রিওয়াইল্ডিং) ও তাদের সংখ্যা বৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। পাখিদের ওপর মানুষের উপস্থিতিজাত ব্যাঘাত বা উপদ্রব ন্যূনতম রাখার লক্ষ্যে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং সীমিত সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচিটি পরিচালনা করা হয়েছে। এই পরীক্ষামূলকভাবে পাখি মুক্তকরণের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা পরবর্তী পর্যায়ে পাখি ছাড়ার প্রক্রিয়া বা প্রোটোকলগুলোকে আরও উন্নত ও নিখুঁত করতে কাজে লাগানো হবে।

 

 

সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের এই বিশেষ পাখিটিকে পুনরায় বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনার দিনটিকে সমগ্র রাজ্যের জন্য গর্বের দিন হিসেবে অভিহিত করেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে থর মরুভূমির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ জিআইবি-কে কীভাবে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে তিনি তা জানান। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী জিআইবি সংরক্ষণ কর্মসূচির জন্য রাজ্য সরকারের দেওয়া আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং সেই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গৃহীত অন্যান্য সফল পদক্ষেপগুলির কথাও উল্লেখ করেন।

 

উদ্বোধনী অধিবেশনে শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, থর মরুভূমি অঞ্চলের সঙ্গে 'গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড' (জিআইবি)-এর এক গভীর আবেগপূর্ণ ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী চিন্তাধারাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক ও রাজ্য বন দপ্তরের আধিকারিক, ডব্লিউআইআই-এর বিজ্ঞানী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগেই জিআইবি সংরক্ষণ কর্মসূচিতে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে এবং আজ এই পাখিটিকে পুনরায় বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনার পর্যায়ে উন্নীত হওয়া সম্ভব হয়েছে।

 

শ্রী যাদব বলেন, থর বাস্তুতন্ত্রের একটি 'ছাতা প্রজাতি' (umbrella species) হিসেবে জিআইবি-র সংরক্ষণের ফলে যে পরিবেশগত সুফল পাওয়া যাবে, তার পাশাপাশি এই কর্মসূচির সাফল্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন বা 'ইকো-ট্যুরিজম'-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধাও নিয়ে আসবে। মন্ত্রী তৃণভূমি সংরক্ষণ, ভূমির অবক্ষয় রোধ এবং মধ্য এশীয় পরিযায়ী পাখিদের যাত্রাপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরতিস্থল হিসেবে জিআইবি-র ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

 

পরিদর্শনকালে, ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো ও প্রজনন সংক্রান্ত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শ্রী যাদব এই সংরক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রামদেবরায় অবস্থিত ১৬০ মিটার × ৬৪ মিটার × ১৪ মিটার আয়তনের 'রিওয়াইল্ডিং এভিয়ারি' (বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতির জন্য বিশেষ খাঁচা)-টি রাজস্থান বন বিভাগ তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (ডব্লুআইআই)-র বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের পরামর্শক্রমে এবং রাজস্থান সরকারের ৯.২৫ কোটি টাকার অনুমোদিত বাজেটে 'রাজস্থান স্টেট রোড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেড'-এর মাধ্যমে এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্তম্ভবিহীন এই বিশাল পরিকাঠামোটি বন্দিদশায় প্রতিপালিত জিআইবি-দের ওড়ার পেশি শক্তিশালী করা, প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং স্বাভাবিক আচরণ প্রদর্শনের জন্য অবাধ ও বাধাহীন উড্ডয়নের সুযোগ করে দেয়। এইসবকিছুই তাদের শেষ পর্যন্ত বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়ক।

 

বাস্টার্ড পুনরুদ্ধার কর্মসূচি

 

এটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক, রাজস্থান বন বিভাগ এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (ডব্লুআইআই)-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। এতে 'ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর হাউবারা কনজারভেশন'-এর প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং 'ন্যাশনাল ক্যাম্পা'-র আর্থিক সহায়তা রয়েছে। চলমান জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় সংরক্ষণমূলক প্রজনন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি হ্রাস, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

সংরক্ষণমূলক প্রজনন কর্মসূচিটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে 'সাম' এবং 'রামদেবরা'-তে অবস্থিত জিআইবি কেন্দ্রগুলিতে ৯৭টি পাখি রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি বন্য পরিবেশে পাড়া ডিম থেকে এবং ৫৭টি কৃত্রিম প্রজনন বা বন্দিদশায় জন্ম নিয়েছে। এদের মধ্যে ৮৬টি পাখিকে কৃত্রিম প্রজননের জন্য রাখা হয়েছে এবং ১১টিকে বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ায় ২০২৫ সালে ২৪টি এবং ২০২৬ সালে ২৯টি জীবিত ছানা পাওয়া গেছে। এই কর্মসূচির আওতায় গৃহীত বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ - যেমন অভিনব 'জাম্পস্টার্ট' পদ্ধতি - প্রজাতিটির পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে। এই পদ্ধতিতে কৃত্রিম পরিবেশে পাড়া ডিম বন্য পাখির বাসায় স্থাপন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্ত্রী পাখি সেই ডিমগুলিকে তা দিয়ে ছানা ফোটায় (রাজস্থানে ছয়টি এবং গুজরাটে দুটি ছানা এভাবেই জন্ম নিয়েছে)।

 

জিআইবি-র সফল সংরক্ষণমূলক প্রজননের ফলে সম্ভব হওয়া এই পদক্ষেপগুলিকে আরও জোরদার করতে রাজস্থান বন বিভাগ আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে 'ডেজার্ট ন্যাশনাল পার্ক'-এর অভ্যন্তরে প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বেড়া-ঘেরা তৃণভূমি তৈরি করা। এটি ডব্লুআইআই-এর দীর্ঘমেয়াদী টেলিমেট্রি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী এই প্রজাতির প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এই প্রজাতির সংরক্ষণের কাজকর্মগুলি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। 

 

কৃত্রিম পরিবেশে জন্ম নেওয়া জিআইবি-গুলিকে বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়াটা এই পুনরুদ্ধার কর্মসূচির পরবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি কৃত্রিম পরিবেশে বেড়ে ওঠা পাখিদের তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বা প্রোটোকলগুলিকে আরও উন্নত ও নিখুঁত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। জয়সলমেরে জিআইবি সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে শ্রী যাদবের পরিদর্শনের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে সমগ্র রাজস্থান জুড়ে জনসচেতনতা ও প্রচারমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

 

 

 

SC/PM/AS


(রিলিজ আইডি: 2318682) ভিজিটরের কাউন্টার : 3
এই রিলিজটি পড়তে পারেন: Urdu , हिन्दी , English , Tamil , Telugu